বাংলাদেশে পেশাদার সমাজকর্ম শিক্ষার যাত্রা শুরু হয় ১৯৫৩ সালে।
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সঠিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত সেবামূলক কর্মসূচিই গ্রামীণ সমাজসেবা নামে পরিচিত।
গ্রামের অধিকাংশ মানুষ অনগ্রসর, বঞ্চিত দরিদ্র ও সমস্যাগ্রস্ত এসব জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সম্পদ ও সামর্থের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত সমন্বিত উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে
গ্রামীণ সমাজসেবা বলা হয়। শিশু, যুবক, মহিলা, ভূমিহীন পরিবার এবং অন্যান্য অসুবিধাগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে যারা সরাসরি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয় তারা গ্রামীণ সমাজসেবার প্রধান লক্ষ্যভুক্ত।
জাউদ্দীপকে উল্লিখিত সমাজকর্ম পেশার প্রয়োগক্ষেত্র হিসেবে সংশোধনমূলক কার্যক্রম এবং হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রমকে চিহ্নিত করা যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ১২ বছর বয়সী কিশোর আদিবের অপরাধপ্রবণতা সংশোধনের জন্য তাকে সরকারি সমাজসেবা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা হয়, যা কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে সংশোধনমূলক কার্যক্রমকে নির্দেশ করে। মূলত শিল্পায়ন ও শহরায়নের ক্রমাগত প্রভাব অপরাধ ও কিশোর অপরাধ প্রবণতাকে বৃদ্ধি করছে। এই প্রবণতা দমনের ক্ষেত্রে শাস্তির পরিবর্তে সংশোধনের প্রতি অধিক গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। কিশোর অপরাধী ও অপরাধীদের সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রবেশন, প্যারোল, আফটার কেয়ার সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উদ্দীপকে আরও দেখা যায়, সমাজসেবা প্রতিষ্ঠানের কিছু সমস্যার কারণে আদিব অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা হয়। এ ক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠানটি সমাজকর্মের প্রয়োগ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত হয় তা হলো হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম। এ কার্যক্রমের ক্ষেত্রে রোগীর রোগ নিরাময়ের সাথে সাথে তার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। একজন সমাজকর্মী এ সমস্ত প্রাসঙ্গিক বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধান করে চিকিৎসককে রোগ নির্ণয় ও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণে সাহায্য করতে পারে।
উদ্দীপকে ইঙ্গিকৃত প্রয়োগক্ষেত্রে অর্থাৎ সংশোধনমূলক কার্যক্রম এবং হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রমে সমাজকর্ম পেশার সফল প্রয়োগে পেশাগত মূল্যবোধ ও মানদণ্ড রাষ্ট্রীয় নীতি এবং পেশাগত সংগঠনের অভাব রয়েছে।
উদ্দীপকের আদিবের সমস্যা মোকাবিলায় সংশোধনমূলক কার্যক্রম ও হাসপাতালে সমাজসেবার উল্লেখ আছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রগুলোতে এখনো সমাজকর্ম পেশার সফল প্রয়োগ হচ্ছে না। মূলত, সমাজকর্ম পেশার বিকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট বই, সাময়িকী, পত্রপত্রিকা আমদানি করতে হয় বিদেশ থেকে। যার ফলে এখনো মানুষের মধ্যে এ পেশা সম্পর্কিত চিরাচরিত ধারণা বিদ্যমান, যা প্রয়োগ ক্ষেত্রগুলোতে সমাজকর্মের সফল প্রয়োগের অন্তরায়। এছাড়া এদেশে পেশাদার সমাজকর্মের কোনো কার্যকর পেশাগত সংগঠন নেই। উপরন্তু সমাজসেবা বিভাগে সমাজসেবা কর্মকর্তা পদটি ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত সমাজকর্মের স্নাতকদের জন্য সংরক্ষিত থাকলেও পরে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। যার কারণে হাসপাতালে সমাজসেবা ও সংশোধনমূলক কার্যক্রমগুলো অপেশাদার লোকদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা দেয় যার ইঙ্গিত উদ্দীপকেও পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রয়োগ ক্ষেত্রগুলোর আরেকটি বড় সমস্যা হলো প্রচারণা সংকট। আমাদের দেশে প্রচলিত কিশোর অপরাধ, পারিবারিক সমস্যাজনিত মানসিক বিপর্যস্ততা কিংবা হাসপাতাল সমাজসেবার মতো কার্যক্রমগুলোর তেমন কোনো প্রচারণা নেই। ফলে জনগণ তাদের সমস্যা মোকাবিলায় এ ক্ষেত্রগুলোর সাহায্য নেয় না, যা সমাজকর্মের বিকাশের পথে বড় বাধা।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রয়োগক্ষেত্রগুলোতে সমাজকর্ম পেশার সফল প্রয়োগে বেশ কিছু সমস্যা বিদ্যমান। এ সমস্যাগুলোর সমাধান না করা হলে ভবিষ্যতেও সমাজকর্মের মূল দর্শন কাগজপত্রেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।
Related Question
View Allবাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো- অদক্ষ জনশক্তি।
দানশীলতা বলতে শর্তহীনভাবে স্বার্থ ত্যাগ করে অন্যের কল্যাণে কোনো কিছু দান করার রীতিকে বোঝায়।
দানশীলতা মানবপ্রেম থেকে সৃষ্ট একটি কল্যাণমূলক ব্যবস্থা। এটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাপ্রণোদিত। তবে প্রত্যেক ধর্মই দুস্থ ও অসহায়দের কল্যাণে ধনী বা সম্পদশালীদের দান করার জন্য উৎসাহিত করে। সুতরাং দানশীলতা হলো মানবপ্রেম থেকে সৃষ্ট একটি মহৎ গুণ, যা দুস্থদের কল্যাণকে ত্বরান্বিত করে।
উদ্দীপকে সমাজকর্মের সাথে সমাজসেবার যৌথ সমন্বয় ঘটেছে।
সমাজসেবা ও সমাজকর্মের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য বিধানে তাকে সহায়তা করাই সমাজসেবার মূল লক্ষ্য। বর্তমানে সমাজসেবামূলক কার্যক্রম সংগঠিত ও পরিকল্পিত উপায়ে পরিচালিত হয়। সমাজের সামগ্রিক কল্যাণে এ দুটি বিষয় পরস্পর নির্ভরশীল। সমাজকর্ম ও সমাজসেবা উভয়ই সুসংগঠিতভাবে সমাজের মানুষের সেবা দিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিকল্পনা করে। এ দুটি বিষয়ই ব্যক্তির সামাজিক ভূমিকা পালন ক্ষমতার পুনরুদ্ধার, সংরক্ষণ ও উন্নয়নে সচেষ্ট এবং কার্যকর মানবীয় সেবা সৃষ্টিতে কাজ করে।
তাই বলা যায়, সমাজকর্মের সাথে সমাজসেবার যৌথ সমন্বয় রয়েছে এবং উভয়ই একে অপরের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের মাধ্যমে চীনের সমাজকর্ম শিক্ষার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
চীনে সর্বপ্রথম সমাজকর্ম শিক্ষার সূত্রপাত হয় ১৯২০ সালে। পেশাদার সামাজিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে চীনে 'Yanjing University' তে ১৯২২ সালে সর্বপ্রথম সমাজকর্ম বিভাগ খোলা হয়। পরবর্তীতে ১৯২৫ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত আটটি বিশ্ববিদ্যালয় সমাজসেবা ও সমাজকর্ম সংশ্লিষ্ট কোর্স চালু করে। ১৯৪৯ সাল
থেকে ১৯৮০-এর দশকের প্রথম দিক পর্যন্ত সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে 'Civil Affairs Division' এর মাধ্যমে সরকার নিজেই বিভিন্ন সমাজকর্ম ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত। কিন্তু সময়ের প্রেক্ষিতে এই Division সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে নতুনভাবে সমাজকর্ম পেশার আবশ্যকতা দেখা দেয়। CCP, The State council এবং Central Government এর যৌথ উদ্যোগে সমাজকর্ম পেশাকে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর সার্বিক লক্ষ্য ছিল একটি কাঙ্ক্ষিত সমাজব্যবস্থা গঠন করা।
তাই বলা যায় যে, চীনের সমাজকর্মের শিক্ষাকে সেদেশের দ্রুত উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ইংল্যান্ডকে সমাজকর্মের সূতিকাগার বলা হয়।
যেসব দেশ প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বাধিক ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকৃত মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে সেসব দেশই উন্নত দেশ হিসেবে পরিচিত।
উন্নত দেশগুলোতে সাধারণত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি হয় এবং এসব দেশের মানুষ উন্নত জীবন যাপনে অভ্যস্ত। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের মধ্যে রয়েছে- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, চীন প্রভৃতি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!