একই ক্লাসে যুগ যুগ ধরে আটকে থাকতে থাকতে আদুভাই হয়ে উঠেছেন ক্লাসের স্থায়ী অংশ। লেখক তাঁকে ক্লাসের পুরাতন টেবিল ব্ল্যাকবোর্ডের মতোই নিতান্ত অবিচ্ছেদ্য ও অত্যন্ত স্বাভাবিক অঙ্গ হিসেবেই বিবেচিত করেছেন।
'আদুভাই' গল্পে স্কুলে আদুভাইয়ের সময়কাল সম্পর্কে কেউই জানে না। তিনি কবে থেকে স্কুলে আছেন, সেভেন ভিন্ন অন্য কোনো ক্লাসে কখনো পড়েছেন কি না এসব ব্যাপারে বলতে পারে না। এমনকি শিক্ষকগণও জানেন না। স্কুলে এমন অনেক শিক্ষক আছেন, যাঁরা আদুভাইয়ের সাথেই ক্লাস সেভেনে পড়েছেন। আদুভাইয়ের প্রাচীনত্ব ও স্থায়িত্ব স্কুলের অবকাঠামোর মতো। বছর বছর নতুন শিক্ষার্থী আসে-যায়, অবকাঠামো থেকে যায়। স্কুলের দালান, ক্লাসরুম, চেয়ার-টেবিল, ব্ল্যাকবোর্ড এসব স্থায়ী বস্তুর মতো আদুভাইকেও লেখক স্কুল বা ক্লাসের স্থায়ী অঙ্গ হিসেবেই বিবেচনা করেছেন। আদুভাইয়ের এ নিয়ে কোনো বিকার নেই। তিনি প্রমোশনের জন্য ব্যাকুল নন। সব সাবজেক্টে পাকা হয়ে উঠেই তিনি প্রমোশনে বিশ্বাসী ।
প্রমোশনের জন্য নয়, জ্ঞানার্জনের জন্যই তাঁর বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া। তাঁর বিশ্বাস, একদিন তিনি ঠিকই সব সাবজেক্টে পাকা হয়ে উঠবেন ও প্রমোশন পাবেন। সেই বিশ্বাসেই তিনি শিক্ষকদের কাছে অনুরোধ কিংবা অন্য কোনো উপায়ে প্রমোশনের চিন্তা করেন না। ফলে তাঁকে আটকে থাকতে হয় ক্লাস সেভেনেই। এভাবে একই ক্লাসে আটকে থাকতে থাকতে তিনি সেই ক্লাসের পুরাতন টেবিল ব্ল্যাকবোর্ডের মতোই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গে পরিণত হন।
আদুভাই প্রমোশনে নয়, জ্ঞানার্জনে বিশ্বাসী। প্রমোশন তাঁকে টানেনি। সব সাবজেক্টে পাকা হয়ে ওঠাই তাঁর জীবনের লক্ষ্য। এভাবেই তিনি প্রমোশন না পেয়ে একই ক্লাসে আটকে যেতে গিয়ে সেই ক্লাসেরই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে ওঠেন।
Related Question
View Allলেখক ও আদুভাইয়ের মধ্যে একধরনের স্নেহ, ভালোবাসা ও সহানুভূতির সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। উভয়ই একে অন্যের প্রতি ছিলেন শ্রদ্ধাশীল।
'আদুভাই' গল্পে ক্লাস সেভেনে আদুভাইয়ের সঙ্গে লেখকের দেখা। আদুভাই লেখককে নিতান্ত আপনার লোক বলে ধরে নেন। লেখকের উপর যেন তাঁর কতকালের দাবি। লেখক প্রমোশন পেয়ে অন্য ক্লাসে চলে গেলে আদু ভায়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। প্রমোশনের জন্যও তিনি লেখকেরই শরণাপন্ন হন। প্রমোশন প্রাপ্তির উৎসবে দীর্ঘদিনে যোগাযোগহীনতায়ও তিনি লেখককে নিমন্ত্রণ করেন। লেখকও আদুভাইকে সম্মান ও সহানুভূতির চোখে দেখেন। তাঁর প্রমোশনের জন্য শিক্ষকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ান। যদিও যোগাযোগ নেই, তবুও তিনি আদুভাইকে স্মরণ করেন বিশেষ শ্রদ্ধায়। এভাবেই লেখক ও আদুভাইয়ের মধ্যে এক আত্মিক বন্ধন গড়ে ওঠে।
লেখক ও আদুভাই পরস্পরকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার চোখে দেখতে গিয়ে যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, আদুভাইয়ের মৃত্যু পর্যন্ত তা অটুট ছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!