ট্রুম্যান ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩তম প্রেসিডেন্ট।
১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১২টি দেশের প্রতিনিধিসহ ন্যাটো জোট গঠন করে। এ রাষ্ট্রগুলো হলো- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে, ডেনমার্ক, পর্তুগাল, আইসল্যান্ড ও লুক্সেমবার্গ। ১৯৫২ সালে গ্রিস ও তুরস্ক এবং ১৯৫৫ সালে পশ্চিম জার্মানি এ জোটের সদস্য নিযুক্ত হয়। স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে, সামরিক দিক থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নকে অবরোধ করে রাখার জন্য ন্যাটো গঠিত হয়েছিল।
উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধটি হলো স্নায়ুযুদ্ধ। স্নায়ুযুদ্ধ অবসানে মিখাইল গর্বাচেভের ভূমিকা অপরিসীম।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্নায়বিক উত্তেজনা বেড়েছিল। বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে, সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভের প্রচেষ্টায় স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটে। ক্ষমতা লাভের পর গর্বাচেভ স্থবির অর্থনীতি, শাসক দলের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি, সোভিয়েত সমাজব্যবস্থার অবক্ষয় লক্ষ করেন। এসব অবস্থা মোকাবিলার জন্য তিনি পেরেস্তোইকা ও গ্লাসনস্ত নীতি গ্রহণ করেন। ১৯৯১ সালের জুন মাসে তিনি অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও কৌশলগত পরিবর্তনের মাধ্যমে জানান যে, সোভিয়েত ইউনিয়ন পশ্চিমের প্রতি সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে আগ্রহী। ১৯৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ এবং সোভিয়েত নেতা। মিখাইল গর্বাচেভ মাল্টায় শীর্ষ বৈঠকে সরকারিভাবে উভয় দেশের মধ্যকার দীর্ঘকালের স্নায়ুযুদ্ধ অবসানের ঘোষণা দেন। তবে স্নায়ুযুদ্ধের চূড়ান্ত অবসান ঘটে ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে। তবুও স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের সব কৃতিত্ব গর্বাচেভের প্রাপ্য।
উদ্দীপকে দুটি রাজ্যের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিলে একটি শক্তির পতনের মধ্য দিয়ে এর অবসান ঘটে। যা ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে স্নায়ুযুদ্ধের অবসানকে নির্দেশ করে। স্নায়ুযুদ্ধ অবসানে মিখাইল গর্বাচেভের ভূমিকা অপরিসীম।
উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধটি হলো স্নায়ুযুদ্ধ। ১৯৪৫-১৯৫০ সাল পর্যন্ত সময়কাল স্নায়ুযুদ্ধের প্রথম পর্যায়।
১৯৪৫-১৯৫০ সাল পর্যন্ত স্নায়ুযুদ্ধের সাথে জড়িত ঘটনাবলির মধ্যে ছিল ট্রুম্যানের নীতি, মার্শাল পরিকল্পনা, বার্লিন সংকট ও ন্যাটো জোট গঠন। ১৯৪৭ সালের ১২ মার্চ মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ট্রুম্যানের ভাষণের মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিরোধের নীতি ঘোষিত হয়। ট্রুম্যান ঘোষণা করেন যেসব স্বাধীন দেশের মানুষ অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংখ্যালঘু এবং বাইরের চাপ প্রতিরোধ করছে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাহায্যে এগিয়ে যাবে। তার এ ঘোষণা সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিপন্থি ছিল। এ অবস্থায় স্নায়ুযুদ্ধ থেকে ২০° তে উন্নীত হয়।
১৯৪৭ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব জর্জ সি. মার্শাল ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন সম্পর্কে মতুন নীতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলে, ইউরোপকে অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বাবলম্বী করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্মসূচি গ্রহণ করবে। মার্শালের বক্তব্যের মাধ্যমে সোভিয়েত বিরোধিতা ফুটে উঠেছে। ১৯৪৯ সালে বার্লিনের অবরোধকে কেন্দ্র করে স্নায়ুযুদ্ধের পরিবেশ ঘনীভূত হয়েছিল। ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক দিক থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নকে অবরোধ করে রাখার নীতি কার্যকর করার জন্য NATO গঠন করেছিল। NATO গঠনের মাধ্যমে স্নায়ুযুদ্ধের প্রথম পর্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
Related Question
View Allগ্লাসনস্ত নীতির প্রবক্তা সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান মিখাইল গর্বাচেভ
মার্শাল পরিকল্পনা ও ট্রুম্যান তত্ত্বের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের পদক্ষেপ হলো বার্লিন অবরোধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর রাজধানী বার্লিনকে ৪ ভাগে ভাগ করে শাসন শুরু হয়।আমেরিকা, ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ড তাদের অধিকৃত পশ্চিম বার্লিনে সংযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র গঠনের উদ্যোগ নিলে রাশিয়ার স্ট্যালিন ক্ষুব্ধ হয়ে পশ্চিমের সাথে পূর্বের সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়। এ অবরোধ প্রায় ১১ মাস ধরে চলার পর স্ট্যালিন প্রত্যাহার করে নেয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত অবস্থানটি আমার পাঠ্যবইয়ের ন্যাটো এবং ওয়ারশ জোট গঠনের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।
স্নায়ুযুদ্ধকালীন সময়ে শক্তির মহড়া দিতে এবং পুঁজিবাদী ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রসারের মাধ্যমে সমাজতন্ত্রকে প্রতিহত করতে ১৯৪৯ সালে ন্যাটো গঠিত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সে সময় ১২টি দেশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল ন্যাটো সামরিক জোট। এ জোটের সব দেশ ছিল পুঁজিবাদের সমর্থক এবং সমাজতন্ত্রের বিরোধী। সামরিক দিক থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নকে চাপে রাখা এর মূল উদ্দেশ্য ছিল।
অপরদিকে, সামরিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে ন্যাটোর বিরুদ্ধে সমাজতান্ত্রিক দেশসমূহ পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ওয়ারশ কোট গঠন
করে। প্রকৃতপক্ষে, ন্যাটোর কার্যাবলি চ্যালেঞ্জ করার জন্য ওয়ারশ জোট গঠিত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহের আত্মরক্ষামূলক প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করার জন্য ১৯৫৫ সালে এ জোট গঠিত হয়।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের যমুনা নদীর তীরবর্তী সালেমপুর ও মকসুদপুর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই গ্রামের সাথে পাঠ্যবইয়ের ন্যাটো ও ওয়ারশ জোটের সাদৃশ্য রয়েছে।
উক্ত অবস্থাটি অর্থাৎ স্নায়ুযুদ্ধ বিশ্বকে দুটি মেরুতে বিভক্ত করেছিল বলে আমি মনে করি।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৭ সালে বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে রাশিয়ায় বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা পায়। এরপর লেনিন ও স্ট্যালিনের দক্ষ নেতৃত্বে সাম্যবাদ শুধু রাশিয়ায় নয়, বিশ্বের অনেক দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়। এজন্য সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে। অল্প সময়ে পার্শ্ববর্তী ১৫টি রাষ্ট্র নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠিত হয়। এর পরিধি ক্রমেই বাড়তে থাকে। অপরদিকে, পুঁজিবাদী রাষ্ট্রসমূহ নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্যই সাম্যবাদের গতিরোধ করতে গিয়ে স্নায়ুযুদ্ধের জন্ম দেয়। স্নায়ুযুদ্ধ ধীরে ধীরে প্রকট আকার ধারণ করতে শুরু করে। এর ফলে Bipolar System প্রতিষ্ঠিত হয়। যার মূল ধারণা ছিল দ্বিমেরুকরণ। বৈশ্বিক রাজনীতিতে এ দ্বিমেরুকরণের প্রভাব বহু বছর ধরে বিদ্যমান থাকে।
সুতরাং বলা যায়, উক্ত বিষয়টি অর্থাৎ- স্নায়ুযুদ্ধ বিশ্বকে দুটি মেরুতে বিভক্ত করেছিল।
জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের সূচনা হয় যুগোস্লাভিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে।
গ্লাসনস্ত শব্দের অর্থ মুক্তাবস্থা বা Open Air. ১৯৯০ সালে সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ মানবাধিকার ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য যে মুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন, ইতিহাসে তাই গ্লাসনস্ত নামে পরিচিত। বিদ্যমান সোভিয়েত ইউনিয়ন থাকবে কিনা বা এর পতনের পক্ষে-বিপক্ষে মুক্ত আলোচনার লক্ষ্যে ঐতিহাসিক এ পদক্ষেপটি গৃহীত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!