'আধুনিক জীবন ও সংবাদপত্র' শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লিখুন।

Updated: 2 months ago
উত্তরঃ
সংবাদপত্র হলো সমাজের দর্পণ এবং সভ্যতার আলোকবর্তিকা।

আধুনিক সভ্যতা ও সংবাদপত্র আজ একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সভ্যতার অগ্রযাত্রায় তথ্য ও জ্ঞান হলো প্রধান চালিকাশক্তি। এই তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে সংবাদপত্র যে ভূমিকা পালন করে, তা অতুলনীয়। আদিম মানুষ যখন গুহায় বাস করত, তখন তাদের যোগাযোগের মাধ্যম ছিল ইশারা বা সংকেত। কিন্তু কালক্রমে মানুষের বুদ্ধি ও চিন্তার প্রসারে জন্ম নেয় সমাজ, রাষ্ট্র এবং বিশ্বায়ন। এই বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সংবাদপত্র হয়ে উঠেছে আধুনিক মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের দর্পণ। আধুনিক সভ্যতা ও সংবাদপত্র আজ একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংবাদপত্র কেবল সমসাময়িক ঘটনার বিবরণ নয়, বরং এটি ইতিহাসের খসড়া এবং জনমতের অতন্দ্র প্রহরী। আধুনিক জীবন ও সংবাদপত্র আজ এমনভাবে মিশে গেছে যে, একটিকে ছাড়া অন্যটির অস্তিত্ব কল্পনা করা দুঃসাধ্য।

সংবাদপত্রের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বিবর্তন: সংবাদপত্রের ইতিহাস মানব সভ্যতার বিবর্তনেরই প্রতিচ্ছবি। প্রাচীন রোমে অ্যাক্টা ডিউরনা নামক পাথরে খোদাই করা সরকারি ঘোষণা থেকে শুরু করে আজকের ডিজিটাল ই-পেপার সংবাদপত্রের যাত্রা অত্যন্ত দীর্ঘ। ১৪৫০ সালে জোহানেস গুটেনবার্গের মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কার সংবাদপত্রের ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক মোড় নিয়ে আসে। এরপর ১৬০৫ সালে জার্মানি থেকে প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়। আমাদের এই উপমহাদেশে ১৭৮০ সালে জেমস অগাস্টাস হিকির বেঙ্গল গেজেট প্রথম আধুনিক সংবাদপত্রের সূচনা করে। পরবর্তীতে উনিশ শতকের রেনেসাঁ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সংবাদপত্রের ভূমিকা ছিল অনন্য। আজ আধুনিক জীবন বলতে আমরা যা বুঝি, তার প্রতিটি স্তরে সংবাদপত্রের প্রভাব অনস্বীকার্য। আধুনিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সংবাদপত্র আধুনিক মানুষের দিন শুরু হয় চায়ের কাপে চুমুক আর সংবাদপত্রের পাতায় চোখ বুলানোর মধ্য দিয়ে। ঘুম থেকে ওঠার পর বিশ্বজুড়ে কী ঘটছে, তা জানার যে অদম্য কৌতূহল, তার একমাত্র সমাধান সংবাদপত্র। এটি কেবল রাজনীতি বা বিদেশের খবর নয়, বরং শিক্ষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান, বিনোদন, খেলাধুলা ও ধর্মীয় আলোচনার এক বিশাল ভাণ্ডার। আধুনিক জীবন যান্ত্রিক ও গতিশীল; এই গতিশীলতার সাথে তাল মেলাতে সংবাদপত্র আমাদের তথ্য দিয়ে সমৃদ্ধ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।

গণতন্ত্রের সুরক্ষা ও চতুর্থ স্তম্ভ (The Fourth Estate): গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সংবাদপত্রের ভূমিকা অনস্বীকার্য। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় সংবাদপত্রকে বলা হয় চতুর্থ স্তম্ভ। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের তিনটি প্রধান বিভাগ আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ যদি ভুল পথে পরিচালিত হয়, তবে সংবাদপত্র তার ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে সেই ভুলগুলো আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। সংবাদপত্র জনমত গঠন করে এবং শাসক ও শাসিতের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। সংসদীয় বিতর্কের সংবাদ থেকে শুরু করে সরকারি নীতির সমালোচনা সবই সংবাদপত্রের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছায়। নির্ভীক সাংবাদিকতা ছাড়া একটি সুস্থ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা টিকে থাকা অসম্ভব। নির্ভীক সাংবাদিকতা ছাড়া কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পূর্ণতা পায় না।

শিক্ষার প্রসার ও মেধা বিকাশে সংবাদপত্র: সংবাদপত্রকে বলা হয় শোকাতুর মানুষের পাঠশালা এবং জীবন্ত বিশ্বকোষ। বিসিএসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য একজন পরীক্ষার্থীর প্রধান অস্ত্র হলো নিয়মিত সংবাদপত্র পাঠ। আন্তর্জাতিক পাতার বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে সম্পাদকীয় কলামের তাত্ত্বিক আলোচনা সবই মানুষের জ্ঞানের পরিধিকে বিস্তৃত করে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি, শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধকরণ এবং যুক্তিনির্ভর চিন্তাচেতনা গড়ে তুলতে সংবাদপত্রের কোনো বিকল্প নেই। এটি মানুষকে কেবল শিক্ষিত করে না, বরং সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সংবাদপত্র: বর্তমান যুগকে বলা হয় অর্থনৈতিক কূটনীতির যুগ। আধুনিক মানুষের জীবন জীবিকার সাথে অর্থনীতির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সংবাদপত্র নিয়মিতভাবে শেয়ার বাজারের খবর, মুদ্রা বাজারের উঠানামা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের পরিস্থিতি এবং বাজেট বিশ্লেষণ প্রকাশ করে। একজন উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী প্রতিদিনের সংবাদপত্রের মাধ্যমে বিশ্ব বাজারের চাহিদা ও যোগান সম্পর্কে ধারণা পান। এছাড়া বিজ্ঞাপন ও শ্রেণিবদ্ধ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংবাদপত্র অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করে তোলে। শিক্ষার প্রসার ও মেধা বিকাশে সংবাদপত্র সংবাদপত্রকে বলা হয় শাকাতুর মানুষের পাঠশালা এবং জীবন্ত বিশ্বকোষ। আন্তর্জাতিক পাতার বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে সম্পাদকীয় কলামের তাত্ত্বিক আলোচনা সবই মানুষের জ্ঞানের পরিধিকে বিস্তৃত করে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধি, শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধকরণ এবং যুক্তিনির্ভর চিন্তাচেতনা গড়ে তুলতে সংবাদপত্রের কোনো বিকল্প নেই। এটি মানুষকে কেবল শিক্ষিত করে না, বরং সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।

সামাজিক সংস্কার ও গণসচেতনতা: সমাজকে কলুষমুক্ত করতে সংবাদপত্রের ভূমিকা চিরকালই প্রশংসিত। সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার, নারী নির্যাতন, যৌতুক প্রথা, দুর্নীতি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদপত্র নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যায়। কোনো অন্যায় বা অবিচারের খবর যখন সংবাদপত্রে গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়, তখন সমাজ ও প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি (যেমন- কোভিড-১৯) বা জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে সঠিক তথ্য ও দিকনির্দেশনা দিয়ে সংবাদপত্র লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করে।

সংবাদপত্র ও প্রযুক্তির সমন্বয়: তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির ফলে সংবাদপত্রের চরিত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে আধুনিক মানুষ কেবল কাগজের পত্রিকার ওপর নির্ভরশীল নয়; অনলাইন পোর্টাল, ই-পেপার এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মুহূর্তেই খবর পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের হাতের মুঠোয়। এই ডিজিটাল রূপান্তর সংবাদ পরিবেশনকে দ্রুত ও বৈশ্বিক করেছে। তবে এই গতির যুগে তথ্যের সত্যতা যাচাই বা ফ্যাক্ট চেকিং আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষ আর দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সমন্বয়ই আধুনিক জীবনের সংবাদ প্রবাহকে নিরাপদ রাখতে পারে।

নাগরিক সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ: সংবাদপত্র একজন মানুষকে কেবল তথ্যসমৃদ্ধ পাঠক হিসেবে নয়, বরং একজন প্রজ্ঞাবান ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। নিয়মিত সংবাদপত্র পাঠের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তার সাংবিধানিক অধিকার ও রাষ্ট্রপ্রদত্ত কর্তব্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করেন। এটি নাগরিকের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে তাকে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভুলত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সাহস দেয়, যা মূলত নাগরিক ক্ষমতায়ন-এর একটি অংশ। সংবাদপত্র পাঠের এই অভ্যাস ব্যক্তিকে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি সংবেদনশীল করে তোলে এবং তাকে একজন সক্রিয় নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলে জাতীয় উন্নয়নে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করে। সামাজিক সংস্কার ও শুদ্ধাচার কৌশল সমাজকে কলুষমুক্ত করতে সংবাদপত্রের ভূমিকা চিরকালই প্রশংসিত। যৌতুক প্রথা, নারী নির্যাতন, মাদকাসক্তি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদপত্র জনমত গড়ে তোলে। রাষ্ট্রীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংবাদপত্র প্রশাসনের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। মহামারির সময় সঠিক স্বাস্থ্যবার্তা পৌঁছানো কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে সতর্কবার্তা প্রদান সবই আধুনিক জীবনে সংবাদপত্রের অপরিহার্যতার প্রমাণ।

চ্যালেঞ্জ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট: অস্তিত্বের লড়াই ও আধুনিক সমন্বয়-প্রযুক্তির এই স্বর্ণযুগে সংবাদপত্রের ধরণ ও চরিত্রে এক আমূল পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে মানুষের জীবনযাত্রা এতই দ্রুতগামী যে, তারা সংবাদের জন্য পরের দিনের সকালের কাগজের অপেক্ষা করতে নারাজ। হাতের স্মার্টফোনে অনলাইন নিউজ পোর্টাল, সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা স্কুল নিউজের মাধ্যমে মুহূর্তের সংবাদ মুহূর্তেই পাঠকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় মুদ্রণ বা প্রিন্ট মিডিয়ার জনপ্রিয়তা কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে কথা সত্য। তবে এই চ্যালেঞ্জের বিপরীতে প্রিন্ট মিডিয়ার গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা বিন্দুমাত্র কমেনি। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংবাদের দ্রুততা থাকলেও সেখানে সংবাদের গভীরতা এবং তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা অনেক সময় প্রশ্নবিদ্ধ হয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্যের কোনো সুনির্দিষ্ট ফিল্টার না থাকায় 'ভুয়া সংবাদ' বা Fake News-এর প্রাদুর্ভাব প্রবল। পক্ষান্তরে, একটি মুদ্রিত সংবাদপত্র প্রকাশিত হওয়ার আগে কয়েক স্তরের সম্পাদনা ও তথ্য যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যায়, যা এর বিশ্বাসযোগ্যতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে। আধুনিক জীবন আজ মূলত একটি হাইব্রিড সংবাদ ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। যেখানে ব্রেকিং নিউজের জন্য মানুষ অনলাইন মাধ্যমের ওপর নির্ভর করে, আর সেই সংবাদের বিস্তারিত বিশ্লেষণ এবং সত্যতা নিশ্চিত করতে মুদ্রিত কাগজের শরণাপন্ন হয়। অর্থাৎ, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল মাধ্যম এবং প্রিন্ট মিডিয়া একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে।

হলুদ সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠতার সংকট: এক সামাজিক ব্যাধি

সংবাদপত্রের লেখনী যেমন একটি জাতিকে জাগ্রত করতে পারে, তেমনি এর অপপ্রয়োগ একটি সমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে। বর্তমান সময়ে সংবাদপত্রের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো হলুদ সাংবাদিকতা। ভিত্তিহীন, অতিরঞ্জিত এবং চাঞ্চল্যকর সংবাদ পরিবেশন করে কাটতি বাড়ানো বা কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করার প্রবণতা আজ একটি মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। যখন কোনো সংবাদপত্র কোনো বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয় কিংবা কর্পোরেট স্বার্থে সত্য গোপন করে, তখন তা আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়ায়। একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদপত্রের প্রধান দায়বদ্ধতা হলো জনগণের কাছে সত্য পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু সংবাদপত্রের মালিকানা যখন কতিপয় ব্যবসায়িক বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর হাতে কুক্ষিগত হয়, তখন বস্তুনিষ্ঠতা হুমকির মুখে পড়ে। এই সংকট উত্তরণে বর্তমানে ফ্যাক্ট-চেকিং বা তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের সংস্কৃতি অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। একজন সাংবাদিকের নৈতিক দায়িত্ব হলো আবেগ বা পক্ষপাতিত্বের ঊর্ধ্বে উঠে ঘটনার নির্মোহ বিশ্লেষণ করা। কারণ, সংবাদপত্রের বস্তুনিষ্ঠতার ওপরই নির্ভর করে একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর সুস্থতা।

উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, সংবাদপত্র হলো আধুনিক সভ্যতার নাড়ি স্পন্দন। এটি কেবল কালি আর কাগজের সংমিশ্রণ নয়, এটি একটি জাতির বিবেক। নেপোলিয়ন বোনাপার্টের সেই কালজয়ী উক্তিটি আজও প্রাসঙ্গিক "I fear three newspapers more than a hundred thousand bayonets." আধুনিক জীবনের জটিলতা ও দ্রুততার সাথে পাল্লা দিয়ে সংবাদপত্র নিজেকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলছে। সত্যের পথে অবিচল থেকে এবং মিথ্যার অন্ধকার দূর করে সংবাদপত্র যদি তার নির্ভীক অভিযাত্রা অব্যাহত রাখে, তবেই একটি সুন্দর, দুর্নীতিমুক্ত ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন সম্ভব হবে। আধুনিক মানুষ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো কেবল সংবাদ পড়া নয়, বরং সংবাদপত্রের গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করে নিজেকে একজন সচেতন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।

38

লেখক তার নিজের কল্পনাশক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিকে কাজে লাগিয়ে কোনো মননশীল ভাব কিংবা তথ্য বা তত্ত্ব উপযুক্ত ভাষার মাধ্যমে যুক্তি পরম্পরায় উপস্থাপনের মাধ্যমে যে নাতিদীর্ঘ সাহিত্য রচনা করেন তাকে প্রবন্ধ রচনা বলে। এর সাধারণত তিনটি অংশ থাকে। যথা:

০১। ভূমিকা: ভূমিকা হচ্ছে প্রবন্ধের প্রারম্ভিক অংশ যেখানে লেখার মূল বিষয়গত ভাবের প্রতিফলন ঘটে। ভূমিকা যত আকর্ষণীয় হবে রচনাটিও পাঠকের কাছে ততো হৃদয়গ্রাহী হবে। ভূমিকাতে অপ্রাসঙ্গিক ও অনাবশ্যক বিষয়ের অবতারণা করা উচিত নয়।

০২। মূল অংশ: এ অংশে প্রবন্ধের মূল বক্তব্য উপস্থাপিত হবে। পরিবেশনের আগে বিষয়টিকে প্রয়োজনীয় সংকেত (Points) এ ভাগ করে নিতে হবে। সংকেতের বিস্তার কতখানি হবে তা ভাব প্রকাশের পূর্ণতার ওপর নির্ভরশীল। এর আয়তনগত কোনো নির্দিষ্ট পরিমাপ নেই।

০৩। উপসংহার: এটি প্রবন্ধের সিদ্ধান্তমূলক বা সমাপ্তিসূচক অংশ। এখানে লেখক তার আলোচনার সিদ্ধান্তে উপনীত হন এবং তার নিজস্ব অভিমত বা আশা-আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন।

Related Question

View All
উত্তরঃ

একজন লেখক তিনিই যিনি লেখেন। তবে সব লেখা লিখেই লেখক হওয়া যায় না। লেখক সব ধরনের হতে পারে। তবে সৃজনশীল লেখকই হচ্ছে আমাদের মূল কেন্দ্রবিন্দু। লেখক হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম একটি স্বাধীন সত্ত্বা।

একজন লেখক পুরোপুরি তার নিজের সত্ত্বার ওপরে বেঁচে থাকে। অনেকেই লেখক হবার সহজ উপায় খোঁজ করে। কিন্তু পড়তে পড়তে আর লিখতে লিখতেই শুধুমাত্র লেখক হওয়া যায়। এছাড়া আর কোনো উপায় নেই। লেখক অনেক ধরনের হতে পারে।

একজন সাংবাদিকও একজন লেখক। উপন্যাস, গল্প, কবিতা, ছড়া, সাহিত্য, প্রবন্ধ, রম্য, ব্লগ সব ধরনের লেখা যারা লেখে তারাই লেখক। অনেকেই মস্তিষ্কের মধ্যে ওকটা লেখার শক্তি পেয়ে যায় আর অনেকে হয়ত শিখে শিখে লেখক হয়।

সমাজ সভ্যতা কখনোই পুরোপুরি একজন লেখকের পক্ষে থাকে না। বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিপক্ষে চলে যায়। স্বাভাবিকভাবেই একজন লেখক তার কলমের আঘাতে জর্জরিত করতে চায় সকল অন্যায়, অপবাদ। তাই হয়ত বেঁধে যেতে পারে সংঘাত। কলমই হচ্ছে একজন লেখকের দাঁড়ানোর জায়গা। কলম ছাড়া লেখকের অস্তিত্ব বিলীন। তবে সবাইকে যে প্রতিবাদ লিখতে হবে এমন কোনো কথা। কেউ কেউ মনোরঞ্জনের জন্যও লেখে। অনেকে আবার চাটুকারিতা করতে লেখে। কেউ আবার কীভাবে পুরষ্কার তুলে নেওয়া যায় সেই ধান্দা করার জন্য লেখে।

একজন লেখক হয়ে উঠতে পারে ন্যায় অন্যায়ের পার্থক্যকারী। সে কলমের ছোঁয়ায় প্রতিবাদ করতে অন্যায়ের আর ফুটিয়ে তুলবে ন্যায়ের কথা। লেখকের কলমের কালি প্রেরণার সুর হয়ে গান গাইবে। আর অশ্রুসিক্ত নয়নে হাসির ঝলক আনবে লেখকের কলম। একজন লেখকের প্রাণ তার লেখা, তার লেখার ভঙ্গি। সে তার লেখা দিয়ে বাঁচিয়ে তুলতে পারবে অসুস্থ কোনো সভ্যতাকে। লেখক তার কলম দিয়ে জাগ্রত করতে পারবে মানুষের ভীতরে লুকিয়ে থাকা অদম্য সাহস।

একজন লেখক কল্পনাকে নিয়ে আসতে পারে বাস্তবে। আমাদের নিয়ে যেতে পারে কল্পনার গহীন বনে। লেখক আমাদের সবাক যুগ থেকে অবাক যুগে নিয়ে যেতে পারে মুহূর্তের মাঝেই। লেখক জাগাতে পারে প্রেম, লেখক জাগাতে পারে নতুন কাজের স্পৃহা।

অনেকেই মনে করে লেখকের সকল বিষয়ে দ্বায় আছে। কিন্তু লেখকের মূলত কারো কাছেই কোনো দ্বায় নেই। তার দ্বায় থাকে শুধু নিজের মনের কাছে, নিজের বিবেকের কাছে, নিজের সুপ্ত চেতনার কাছে। সমাজ কি ভাববে তা নিয়ে লেখক মাথা ঘামাবে না। লেখক ভয়ে নাথা নোয়াবে না। লেখক যতদিন বাঁচবে বীরের মতোই বাঁচবে।

সারা বিশ্বেই লেখকরা নির্যাতনের শিকার হয়। অনেকেই বলে থাকে লিখে কিছুই হয় না। তাই যদি হতো তাহলে লেখার জন্য লেখকের শাস্তি হতো না। লেখকের ফাঁসি হতো না।

লেখকের কলমে অনেক জোর। সেই জোর ভেঙে চুরে গুড়িয়ে দিতে পারে যেকোনো কিছু। বিশেষ করে সাংবাদিকরা বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত হয় অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে। শাস্তি, সাজা বহু কিছু তাদের সহ্য করতে হয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখলে হুমকি আসে, হামলা মামলা বহু ঘটনাই ঘটে। কারণ শাসক, শোষক আর অন্যায়কারীদের অনেক ক্ষমতা। লেখকের সমাজের দায়মুক্তির জন্য জীবনও দিতে হয়। তাইতো একজন লেখক সমাজের শক্তি, সমাজের সম্পদ।

3.7k
উত্তরঃ

সাহিত্য হচ্ছে মানুষের চিন্তা-ভাবনা, অনুভূতি তথা মানব-অভিজ্ঞতার কথা বা শব্দের বাঁধনে নির্মিত নান্দনিক বহিঃপ্রকাশ। এই অর্থে গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ইত্যাদি উচ্চতর গুণাবলি সমন্বিত বিশেষ ধরনের সৃজনশীল মহত্তম শিল্পকর্ম। সাহিত্য-শিল্পীগণ যখন ‘অন্তর হতে বচন আহরণ’ করে আত্মপ্রকাশ কলায় ‘গীতরস ধারা’য় সিঞ্চন করে ‘আনন্দলোকে’ নিজের কথা- পরের কথা- বাইরের জগতের কথা আত্মগত উপলব্ধির রসে প্রকাশ করেন- তখনই তা হয়ে ওঠে সাহিত্য। রবীন্দ্রনাথের কথায় “বহিঃপ্রকৃতি এবং মানব-চরিত্র মানুষের মধ্যে অনুক্ষণ যে আকার ধারণ করিতেছে, যে-সঙ্গীত ধ্বনিত করিয়া তুলিতেছে, ভাষা-রচিত সেই চিত্র এবং সেই গানই সাহিত্য।…সাধারণের জিনিসকে বিশেষভাবে নিজের করিয়া – সেই উপায়ে তাহাকে পুনরায় বিশেষভাবে সাধারণের করিয়া তোলাই হচ্ছে সাহিত্যের কাজ।” [রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাহিত্য] সাহিত্য সত্য-সুন্দরের প্রকাশ হিসেবে প্রবহমাণ সময়ে যা ঘটে – সে-সবের মধ্য থেকে যা মহৎ, যা বস্তুসীমাকে ছাড়িয়ে বাস্তবাতীত প্রকাশ করে, যা জীবনের জন্য কল্যাণময় এবং মহৎ আদর্শের দ্যোতক তাকেই প্রকাশ করে। আসলে মহৎ সাহিত্য তাই- যা একাধারে সমসাময়িক-শাশ্বত-যুগধর্মী-যুগোপযোগী-যুগোত্তীর্ণ। সাহিত্য কেবল পাঠককে আনন্দ দেয় না- সমানভাবে প্রভাবিত করে পাঠক এবং সমাজকে।

আভিধানিকভাবে ‘সহিতের ভাব’ বা ‘মিলন’ অর্থে ‘সাহিত্য’ হলো কাব্য, নাটক, গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি সৃজনশিল্পের মাধ্যমে এক হৃদয়ের সঙ্গে অন্য হৃদয়ের সংযোগ স্থাপন; সাহিত্য¯্রষ্টা-সাহিত্যের সাথে পাঠকের এক সানুরাগ বিনিময়। কিন্তু আভিধানিক অর্থের নির্দিষ্ট সীমায় সাহিত্যের স্বরূপ-গতি-প্রকৃতি-বৈচিত্র্য ও বিস্তৃতির সম্যক ধারণা দেওয়া যেমন অসম্ভব, কোনো বিশেষ সংজ্ঞায় তাকে সুনির্দিষ্ট করে দেওয়াও তেমন দুঃসাধ্য। বাচ্যার্থ ও ব্যঞ্জনার্থর সীমাকে অতিক্রম করে নানা রূপে, রসে, প্রকরণ ও শৈলীতে সাহিত্যের নিরন্তর যাত্রা সীমা থেকে অসীমে। প্রত্যক্ষ সমাজপরিবেশ তথা সমকালীন বাস্তব পারিপার্শ্বিক, নিসর্গপ্রীতি ও মহাবিশ্বলোকের বৃহৎ-উদার পরিসরে ব্যক্তিচৈতন্য ও কল্পনার অন্বেষণ ও মুক্তি- আর এইভাবেই শ্রেণিবিভাজন, নামকরণ ও স্বরূপমীমাংসার প্রচেষ্টাকে ছাপিয়ে উঠে সাহিত্যের যাত্রা সীমাহীনতায়। প্রকৃত সাহিত্য তাই যেমন তার সমসময় যা যুগমুহূর্তের, তেমনই তা সর্বকালের সর্বজনের। মার্কসবাদী সাহিত্যতত্ত্বে বাস্তব সমাজজীবনকে ‘ভিত্তি’ আর শিল্প-সাহিত্যকে সমাজের উপরিকাঠামোর [ঝঁঢ়বৎংঃৎঁপঃঁৎব] অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। সাহিত্যের মৌল উপকরণসামগ্রী আহৃত হয় জীবনের ভা-ার থেকে- সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বৈরিতার বিচিত্র-অনিঃশেষ ভা-ার থেকে। সাহিত্যসৃষ্টির মূলে সক্রিয় যে সৃজনী-ব্যক্তিত্ব তা নিছক বিমূর্ত কোনো সত্তা নয়; আত্মপ্রকাশ ও মানবিক সংযোগ ও বিনিময়ের বাসনায় অনুপ্রাণিত সে সত্তা তার ভাব-ভাবনা, বোধ ও বিশ্বাসকে এক আশ্চর্য কৌশলে প্রকাশ করে জনসমক্ষে কোনো একটি বিশেষ রূপ-রীতি-নীতির আশ্রয়ে। ব্যক্তিক অনুুভূতি-যাপিতজীবন-মিশ্রকল্পনার জগৎ থেকেই সৃষ্টি হয় সাহিত্যের; যুগান্তরের আলোকবর্তিকা হিসেবে সাহিত্য সত্যের পথে সবসময় মাথা উঁচু করে থেকেছে- সত্যকে সন্ধান করেছে। আসলে সাহিত্য এমনি এক দর্পণ- যাতে প্রতিবিম্বিত হয় মানবজীবন, জীবনের চলচ্ছবি, পরিবেশ-প্রতিবেশ, সমাজজীবনে ঘটমান ইতিহাস- ইতিহাসের চোরাস্রােত নানাবিধ কৌণিক সূক্ষ্মতায়।

সাধারণত আত্মপ্রকাশের বাসনা, সমাজ-সত্তার সঙ্গে সংযোগ কামনা, অভিজ্ঞতার আলোয় কল্পলোক নির্মাণ এবং রূপপ্রিয়তা- এই চতুর্মাত্রিক প্রবণতাই মানুষের সাহিত্য-সাধনার মৌল-উৎস। চতুর্মাত্রিক প্রবণতার [আত্মপ্রকাশের কামনা, পারিপার্শ্বিকের সাথে যোগাযোগ বা মিলনের কামনা, কল্প-জগতের প্রয়োজনীয়তা এবং সৌন্দর্য-সৃষ্টির আকাক্সক্ষা বা রূপমুগ্ধতা] মধ্যে সমাজসত্তার সঙ্গে সংযোগ-কামনা এবং অভিজ্ঞতার আলোয় কল্পলোক নির্মাণ- এই উৎসদ্বয়ের মধ্যে নিহিত রয়েছে সাহিত্য ও সমাজের মধ্যে আন্তর-সম্পর্কের প্রাণ-বীজ। সমাজ শিল্পীকে সাহিত্য-সাধনায় প্রণোদিত করে। ‘সহৃদয়-হৃদয় সংবাদ’এর মাধ্যমে সাহিত্যিকগণ লেখক-পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করেন- উভয়ের হৃদয়বীণার তারগুলোকে একই সুতায় গেঁথে দেন। এর কারণে সাহিত্য দেশ-কাল-সমাজের সীমা অতিক্রম করে সর্বসাধারণের হৃদয়কে আকর্ষণ করে। এর ফলে সাহিত্য হয়ে ওঠে সার্বজনীন-সর্বকালের মানুষের হৃদয়ের সামগ্রী এবং সাহিত্য¯্রষ্টাও হয়ে ওঠেন অনেক বড়। কিন্তু বর্তমান বাংলা সাহিত্যচর্চার গতি-প্রকৃতি, সমস্যা-সংকট-সমাধান কোন দিকে? এসব বিষয়ের সন্ধান- এ প্রবন্ধের অন্বিষ্ট।

3.1k
উত্তরঃ

আমাদের লোকশিল্প প্রবন্ধটি আমাদের লোককৃষ্টি গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে। লেখক এ প্রবন্ধে বাংলাদেশের লোকশিল্প ও লোক-ঐতিহ্যের বর্ণনা দিয়েছেন । এ বর্ণনায় লোকশিল্পের প্রতি তার গভীর মমত্ববোধের পরিচয় রয়েছে।
আমাদের নিত্যব্যবহার্য অধিকাংশ জিনিসই এ কুটিরশিল্পের ওপর নির্ভরশীল ।

শিল্পগুণ বিচারে এ ধরনের শিল্পকে লোকশিল্পের মধ্যে গণ্য করা যেতে পারে । পূর্বে আমাদের দেশে যে সমস্ত লোকশিল্পের দ্রব্য তৈরি হতো তার অনেকগুলোই অত্যন্ত উচ্চমানের ছিল। ঢাকাই মসলিন তার অন্যতম। ঢাকাই মসলিন অধুনা বিলুপ্ত হলেও ঢাকাই জামদানি শাড়ি অনেকাংশে সে স্থান অধিকার করেছে।

বর্তমানে জামদানি শাড়ি দেশে-বিদেশে পরিচিত এবং আমাদের গর্বের বস্তু। নকশি কাথা আমাদের একটি গ্রামীণ লোকশিল্প। এ শিল্প আজ বিলুপ্তপ্রায় হলেও এর কিছু কিছু নমুনা পাওয়া যায়। আপন পরিবেশ থেকেই মেয়েরা তাদের মনের মতো করে কীথা সেলাইয়ের অনুপ্রেরণা পেতেন । কাঁথার প্রতিটি সুচের ফোঁড়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক-একটি পরিবারের কাহিনী, তাদের পরিবেশ, তাদের জীবনগাঁথা ।

আমাদের দেশের কুমোরপাড়ার শিল্পীরা বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র ছাড়াও পোড়ামাটি দিয়ে নানা প্রকার শৌখিন দ্রব্য তৈরি করে থাকে। নানা প্রকার পুতুল, মূর্তি ও আধুনিক রুচির ফুলদানি, ছাইদানি, চায়ের সেট ইত্যাদি তারা গড়ে থাকে।
খুলনার মাদুর ও সিলেটের শীতলপাটি সকলের কাছে পরিচিত। আমাদের দেশের এই যে লোকশিল্প তা সংরক্ষণের দায়িত আমাদের সকলের । লোকশিল্পের মাধ্যমে আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারি।

arif
arif
3 years ago
3.7k
উত্তরঃ

আমাদের অর্থনৈতিক সম্পদ

 

বাংলাদেশ, একটি দ্রুত উন্নতি লক্ষ্য নির্ধারণ করা দেশ, যা প্রচুর অর্থনৈতিক সম্পদের বেশিরভাগ সম্পদ নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই দেশের অর্থনৈতিক সম্পদ মৌলিকভাবে চারটি প্রধান উৎস থেকে আসে: জমি, কাজ, উদ্যোগ, এবং মানুষের কাজের দক্ষতা। এই সম্পদের বিকাশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, আর্থিক এবং সামাজিক পরিবর্তনের ভূমিকা রয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদের মূল স্তম্ভ হল কৃষি। দেশটি একটি প্রধানত কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির মূল হিসেবে প্রধানত শস্য ও ফসল চাষ প্রসঙ্গে বিকাশ হয়েছে। বাংলাদেশে প্রধানত ধান, পাট, মশুর ডাল, আখ, পটল, পেঁপে, তেল সহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। অত্যন্ত উচ্চ মানের খাদ্য সামগ্রী উৎপাদনের ফলে এই খাদ্য পণ্য রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সম্পদের গড়াতে সাহায্য করে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উৎস হল প্রবৃদ্ধি ও শিক্ষাগত উন্নতি। বাংলাদেশে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অভাব কমে আসছে এবং মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি করছে। বিশেষত, প্রযুক্তির আগমন এবং বিনিয়োগে বৃদ্ধি নেওয়া হচ্ছে, যা অর্থনৈতিক সম্পদের উন্নতির পথে সাহায্য করছে।

অন্যান্য উৎস হিসেবে প্রযুক্তিবিদ্যা এবং সেবা অংশ গুলির অগ্রগতি আছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সম্পদ হল তার মানুষের চাকরিভার্থী শ্রমিকেরা। তাদের দক্ষতা, উদ্যোগ, ও সামর্থ্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যদিও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদ উন্নতির পথে অনেক উত্সাহজনক প্রগতি হয়েছে, তবে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ র

য়েছে। প্রধানতঃ গরিব মানুষের জন্য আর্থিক সম্পদের অগ্রগতি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখনও বেশিরভাগ লোকের মধ্যে বৃদ্ধির অভাব আছে। তাছাড়া, পরিবেশের সম্পদ সংরক্ষণের জন্য সঠিক প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন।

পুনর্নির্মাণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পদের বিস্তার ও উন্নতি নিশ্চিত করতে পারে। সঠিক নীতি নির্ধারণ, উদ্যোগের বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত প্রবর্তন এবং শিক্ষাগত উন্নতি এমন পরিবর্তন নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে।

শেষ কথায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা দেশটির সমৃদ্ধি ও উন্নতির সাথে অবিভাজ্যভাবে সংযোগিত। একটি দ্রুত বৃদ্ধির উপায় হল সঠিক পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা এবং উদ্যোগের বৃদ্ধি করা। এই প্রস্তুতি নেওয়ার মাধ্যমে, বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক সম্পদ উন্নতির পথে আরও এগিয়ে যেতে পারে এবং তার মানুষের জন্য আরো উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।

2.4k
উত্তরঃ

"বিক্ষুব্ধ পূর্ব ইউরোপ" বলতে পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ১৯৮৯ সালের পর সাম্যবাদী শাসনের পতন এবং এর ফলে উদ্ভূত রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে বোঝায়। এই সময়কালে, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো গণতন্ত্র ও বাজার অর্থনীতির দিকে ধাবিত হয়, যার ফলে নতুন জাতীয়তাবাদ, অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সামাজিক পরিবর্তন দেখা যায়। 

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কারণ: 

সাম্যবাদের পতন:

১৯৮৯ সালের ঐতিহাসিক বছরটি পূর্ব ইউরোপে সাম্যবাদী ব্যবস্থার পতন ঘটায়, যা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এই পরিবর্তনের ফলে দেশগুলো তাদের সাম্যবাদী অতীত থেকে মুক্তি পেতে শুরু করে।

গণতন্ত্রের পথে যাত্রা:

সাম্যবাদের পতনের পর পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও মুক্ত বাজার অর্থনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ে।

বিক্ষোভ ও অস্থিতিশীলতার কারণসমূহ: 

অর্থনৈতিক সংকট:

সাম্যবাদী অর্থনীতি থেকে বাজার অর্থনীতিতে উত্তরণ অনেক দেশে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে। বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, এবং ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য বাড়ে, যা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করে।

জাতীয়তাবাদের উত্থান:

অনেক দেশে সাম্যবাদী শাসনের অবসানের পর বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে জাতীয়তাবোধ তীব্র হয়, যা নতুন করে জাতিগত সংঘাতের জন্ম দেয়।

রাজনৈতিক অস্থিরতা:

নতুন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুসংহত হতে সময় লাগে, ফলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। অনেক দেশে ক্ষমতা ও আদর্শের লড়াইয়ের কারণে সহিংসতাও ঘটে।

সামাজিক পরিবর্তন:

পুরনো সাম্যবাদী নীতি ও ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন সামাজিক কাঠামো ও মূল্যবোধের জন্ম হতে থাকে, যা সমাজের বিভিন্ন স্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক: 

  • এই বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে এক নতুন যুগের সূচনা করে, যেখানে তারা তাদের নিজস্ব পথে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ পায়।
  • যদিও এই পরিবর্তন প্রক্রিয়াটি কঠিন ছিল, এটি এই অঞ্চলে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এইভাবে, "বিক্ষুব্ধ পূর্ব ইউরোপ" মূলত সেই সময়ের পরিবর্তন, অস্থিরতা এবং নতুন করে গড়ে ওঠার জটিল প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে, যা সাম্যবাদের পতন ও গণতান্ত্রিক যাত্রার ফলস্বরূপ ঘটেছিল। 

Satt Team 10
Satt Team 10
10 months ago
2.2k
উত্তরঃ

পররাষ্ট্রনীতি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতির সম্প্রসারণ। পররাষ্ট্রনীতি হলো কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের গৃহীত সেসব নীতি যা রাষ্ট্র তার রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে সম্পাদন করে থাকে। অন্য রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতাকে তুলে ধরে।

১৯৭১ সালে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। স্বাধীনতা লাভের পরবর্তী সময়ে ভৌগোলিক অবস্থান, স্বল্প পরিসরের ভূখন্ড এবং সীমিত অর্থনৈতিক সম্পদ ইত্যাদি বিভিন্ন নিয়ামক বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের সুযোগকে সীমাবদ্ধ করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি মূলত বহিঃশক্তির প্রভাব থেকে  দেশের সাবভৌমত্ব ও ভূখন্ডকে রক্ষা করার মতো বিষয়েই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।

পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কীয় সাংবিধনিক বিধান  বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নির্দেশনা রয়েছে। এই নির্দেশনাসমূহ বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে। এগুলি হলো:

জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অপর রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা, এ সকল নীতিই হবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এ সকল নীতির ভিত্তিতে-

১. রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকা এবং সাধারণ ও পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবে; প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করবে; এবং সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ বা বর্ণ্যবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবে।

২. রাষ্ট্র ইসলামী সংহতির ভিত্তিতে মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক সংহত, সংরক্ষণ এবং জোরদার করতে সচেষ্ট হবে। সংবিধানের ৬৩ অনুচ্ছেদে যুদ্ধ-ঘোষণা সংক্রান্ত নীতি উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে সংসদের সম্মতি ব্যতিত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না, কিংবা প্রজাতন্ত্র কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক)তে বৈদেশিক চুক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে: ‘বিদেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হবে, এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করবেন। তবে শর্ত হচ্ছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট অনুরূপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হবে।’

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতিসমূহ  পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কিছু মূলনীতি অনুসরণ করে থাকে। জাতিসংঘ এবং ন্যামের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ এসব সংগঠনের মূলনীতিসমূহ মেনে চলে, এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান নীতিসমূহ এসব সংগঠনের নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান চারটি মূলনীতি হলো:

সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়  একটি দরিদ্র রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল হবার কারণে বাংলাদেশকে বিভিন্ন মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হতে হয়। এ কারণেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি হিসেবে বলেছিলেন, ‘আমাদের একটি ক্ষুদ্র দেশ, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়, আমরা চাই সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব’।

অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখন্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন  বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য। জাতিসংঘ সনদের ২(৪) ধারায় বলা হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সকল সদস্য-রাষ্ট্র আঞ্চলিক অখন্ডতার বিরুদ্ধে কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের ভীতি প্রদর্শন থেকে এবং জাতিসংঘের উদ্দেশ্যের সংঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কোনো উপায় গ্রহণ করা থেকে নিবৃত্ত থাকবে’।

অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করা  জাতিসংঘ সনদের ২(৭) ধারায় বলা হয়েছে যে,  ‘বর্তমান সনদ জাতিসংঘকে কোনো রাষ্ট্রের নিছক অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অধিকার দিচ্ছে না বা সেরূপ বিষয়ের নিষ্পত্তির জন্য কোনো সদস্যকে জাতিসংঘের দারস্থ হতে হবে না; কিন্তু সপ্তম অধ্যায় অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে এই নীতি অন্তরায় হবে না’। জাতিসংঘের একটি সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এই মূলনীতির উপর তার পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করেছে, যা অন্য রাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রকাশিত।

২০০৯ সালে পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে, এবং প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনয়নের কথা ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ধারণা বিবেচনায় রেখে প্রায় তিন দশক পর ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি সরকার রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে রাশিয়ার সাহায্যে দেশে পারমাণবিক প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যত অর্জনের সম্ভাবনা অনেকটা ক্ষীণ হয়ে পড়ছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ তার প্রতিবেশী এবং আঞ্চলিক রাষ্ট্রসমূহের সাথে এবং বিশ্বের আরো কিছু রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়’ একটি সত্তুরের দশকের ধারণা, যা প্রায় ৪০ বছরের পুরনো। বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব প্রেক্ষাপটে পুরনো ধারার পরররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত তার অর্জনের সম্ভাবনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সুতরাং পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য নিয়ে নতুন কৌশল-পরিকল্পনা করা উচিত, যার মাধ্যমে পরিবর্তিত বিশ্বে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে।  [ঊর্মি হোসেন]

Md. Aminul Islam
Md. Aminul Islam
2 years ago
4.5k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews