ঝাঁঝি হচ্ছে একপ্রকার জলজ গুল্ম।
'বিজন দেশ কূজন নাই'- পঙ্ক্তিটি দ্বারা কবি কলরবহীন জনশূন্য স্থানে ঝরনার বয়ে চলাকে বুঝিয়েছেন। যেখানে নীরব প্রকৃতির রাজত্ব সেখানকার নৈঃশব্দ্য-নিস্তব্ধতাকে উপস্থিত করতেই কবি আলোচ্য পঙ্ক্তিটির অবতারণা করেছেন।
নীরব-নির্জন পাহাড়ি অঞ্চলে ঝরনার উৎপত্তি। প্রাণচঞ্চল আনন্দের উচ্ছ্বাস নিয়ে ঝরনা উপর থেকে নিচে প্রবাহিত হয়। গভীর অরণ্য, নির্জীব-নিস্তব্ধ-নৈঃশব্দ্য নীরব প্রকৃতির কোল ঘেঁষে ঝরনা এগিয়ে যায়। যেখানে নেই মানুষ, নেই কণ্ঠস্বর- শুধু নীরবতা আর প্রবাহিত জলের একটানা বয়ে চলার ঐকতান। এরূপ নিসর্গময় জায়গাটিকেই কবি প্রশ্নোক্ত পঙ্ক্তিটির মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
পৃথিবীজুড়ে আনন্দের ধারা প্রবাহিত হচ্ছে যা মানবমনকেও আনন্দপিপাসু করে তুলছে- উদ্দীপকের এই ভাবটিই 'ঝরনার গান' কবিতাটির ভাবার্থের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নৈসর্গিক প্রকৃতি, মনোলোভা চিত্রকর্ম, সুরেলা সংগীত, ধ্বনিমাধুর্যময় কবিতা মানুষকে আনন্দিত করে তোলে। মানুষের মধ্যে সেই আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। মানুষের মননে-মগজে-সর্বাঙ্গে সেই আনন্দের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। তখন মানুষ আনন্দিত হয়ে ওঠে, আন্দোলিত হয়, নতুন কোনো সৌন্দর্য সৃষ্টিতে নিবেদিত হওয়ার তাড়না অনুভব করে।
'ঝরনার গান' কবিতাটিতে ঝরনার পুলকের অন্তরালে মূলত কবির আনন্দময় চেতনারই প্রকাশ ঘটেছে। কবি নীরব-নির্জন-নৈসর্গিক প্রকৃতি অবলোকন করে মুগ্ধ। ঝরনার বয়ে চলার মাঝে কবি সংগীত শুনতে পান, নৃত্যের ঝংকার অনুভব করেন। সেই আনন্দময় অনুভব থেকেই তিনি কবিতা রচনা করে যান। অন্যদিকে উদ্দীপকে কবির এ আনন্দময় অনুভব থেকেই যে তাঁর নান্দনিক সৃষ্টিকর্মের সূচনা, এখানে সেই দিকটিই উদ্ভাসিত হয়েছে। আনন্দধারা ভুবনময় বইছে। সব মানুষই আনন্দপিপাসু। তবে যারা আনন্দকে উপভোগ করতে পারে তারাই হয়ে উঠতে পারে সৃষ্টিশীল। আনন্দ প্রকাশই একেকটি মহৎ ও নান্দনিক শিল্পকর্ম। 'ঝরনার গান' কবিতার ভাবই হলো মানবমনে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ। উদ্দীপকটিতেও মানবমনের সৌন্দর্য চেতনার দিকটিই ফুটে উঠেছে। সুতরাং পূর্বোল্লিখিত ভাবটিই উদ্দীপকটিকে 'ঝরনার গান' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ করে তুলেছে।
"উদ্দীপকের পরিপ্রেক্ষিত থেকে বলা যায়, 'ঝরনার গান' কবিতায় কবির নিজস্ব সৌন্দর্যসচেতন মানসিকতাই ঝরনার রূপকে ফুটে উঠেছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
সৌন্দর্যপিপাসু মানুষ সৃষ্টিশীল। তারা নিজেদের অনুভব দিয়ে যে সৌন্দর্যকে ধারণ করেন তা প্রকাশের জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। তাদের এ সৌন্দর্যসচেতনতার ব্যাকুল প্রকাশেই নান্দনিক হয়ে ওঠে তাদের রচিত শিল্পকর্ম।
'ঝরনার গান' কবিতাটিতে স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দের পদচিহ্ন এঁকে যাওয়া ঝরনার চিত্রকল্প এঁকেছেন কবি। পাহাড় যেখানে দৈত্যের মতো ঘাড় ঘুরিয়ে ভয় দেখায়, যেখানে লোকজন নেই, যে জায়গা নীরব-নিভৃত সেখানে আনন্দময় পদধ্বনিতে নেমে আসে ঝরনার সেই সাদা জলরাশির ধারা। কবি তাঁর অনুভব দিয়ে ঝরনার আনন্দ টের পেয়েছেন এবং কবিতাটিতেও ঝরনার সেই আনন্দকেই প্রকাশ করেছেন। উদ্দীপকটিতে বিবৃত আনন্দের বহিঃপ্রকাশ মানুষের সৃষ্টিশীলতারই বাঙ্ময় প্রকাশ। মানুষ আনন্দকে অনুভব করে রূপ-রস-শব্দ-স্পর্শ-গন্ধ ইত্যাদির সাহায্যে। আর মানুষ নিজের আনন্দ সবসময়ই প্রকাশ করতে চায়। মানুষের এই আনন্দের বিবিধ প্রকাশই ফুটে ওঠে নানা শিল্পকর্মে। যেমন করে 'ঝরনার গান' কবিতায় কবি ফুটিয়ে তুলেছেন ঝরনার বয়ে চলার আনন্দকে। কবিচিত্তের চমৎকার আনন্দময় উপলব্ধিই ঝরনার মাধ্যমে কবিতাটিতে প্রকাশিত হয়েছে।
উদ্দীপকটিতে মানুষের সৃষ্টিশীলতার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মানুষের ব্যক্তিগত আনন্দ উপভোগের প্রকাশই নান্দনিক ও অপূর্ব হয়ে ওঠে তাদের সৃষ্টিকর্মে। 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার সাদা জলরাশির যে আনন্দ প্রকাশ পেয়েছে, তা তো ভাষিকভাবে মানুষের কাছে পৌছানো সম্ভব নয়। কিন্তু কবি ঝরনার সেই আনন্দকে প্রকাশ করতে পেরেছেন, কারণ কবি নিজেই প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখে আনন্দে বিভোর হয়েছেন। সুতরাং উদ্দীপকের পরিপ্রেক্ষিত থেকে এটা বলাই যায় যে, 'ঝরনার গান' কবিতায় কবির নিজস্ব সৌন্দর্যসচেতন মানসিকতাই ঝরনার রূপকে ফুটে উঠেছে।
Related Question
View Allঝরনা চপল পায়ে ছুটে চলে।
'শিথিল সব শিলার পর' বলতে কবি স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দচিহ্ন রেখে ঝরনার বয়ে চলাকে বোঝাতে চেয়েছেন।
'ঝরনার গান' কবিতায় কবি ঝরনার গতিময়তা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরেছেন। ঝরনা সমস্ত নীরবতা ভেঙে আপন ছন্দে বয়ে চলে। পাখির ডাকহীন নির্জন দুপুর, ভয়ংকর পাহাড়- সবকিছু উপেক্ষা করে সে শিথিল শিলা বেয়ে নিচে নেমে আসে। চলার পথে ঝরনা পাথরের উপর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আনন্দচিহ্ন রেখে চলে। এ প্রসঙ্গেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'ঝরনার গান' কবিতার রূপসৌন্দর্যের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রকৃতি অপূর্ব সুন্দর।
সবুজ-শ্যামল মাঠ, নদীতে নৌকা, তীরে কাশফুল, মাথার উপরে নীল আকাশ, বন-বনানী, নদী- সাগর, পাহাড়-পর্বত, পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঝরনা প্রভৃতি আমাদের মুগ্ধ করে।
উদ্দীপকে পলাশ সাহেবের গড়ে তোলা উদ্যানের সৌন্দর্য বর্ণনা করা হয়েছে। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যই মানুষের মনে সৌন্দর্যবোধ জন্ম দেয়। প্রকৃতির তুলিতে যে চিত্র ফুটে ওঠে তা-ই মানুষকে শিল্পসৃষ্টিতে অনুপ্রাণিত করে। তাই শিল্পীর নিজের খেয়ালে সাজানো প্রকৃতির সৌন্দর্য তার একার নয়, তা সব মানুষের আনন্দের উৎস। উদ্দীপকের এ সৌন্দর্য 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার সৌন্দর্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। পাহাড়িকন্যা ঝরনা সমস্ত নীরবতা ভেঙে ছন্দময় শব্দে চঞ্চল ছুটে চলে পাখির ডাকহীন দুপুরে, স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দচিহ্ন রেখে। চমৎকার তার ধ্বনিমাধুর্য। গিরি থেকে পতিত জলরাশি পাথরের বুকে আঘাত করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঝরনার এ মনোহর সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে। এভাবে উদ্দীপক ও 'ঝরনার গান' কবিতার রূপসৌন্দর্য পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার মূল বক্তব্যকে অনেকখানি ধারণ করে। বিশেষ করে সৌন্দর্যচেতনার দিকটি।
প্রকৃতির অপরূপ রূপ দেখে মানুষ মুগ্ধ হয়। সেই মুগ্ধতা থেকেই মানুষের মধ্যে শিল্পবোধ সৃষ্টি হয়। প্রকৃতির সৌন্দর্যই মানুষকে সৌন্দর্য সৃষ্টিতে আগ্রহী করে তোলে। নির্মল প্রকৃতিই তাকে এ কাজে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আর সেই সৌন্দর্য চেতনা থেকেই ব্যক্তিমানুষ নতুন নতুন শিল্পকর্ম সৃষ্টিতে অনুপ্রাণিত হয়।
উদ্দীপকে প্রকৃতির বিচিত্র সৌন্দর্যের বর্ণনা ও তার জন্য সামাজিক বাধা-নিষেধ উপেক্ষা করে পলাশ সাহেবের চেষ্টা ও উদ্যোগটি তুলে ধরা হয়েছে। এই নিপুণতার শিল্পী স্রষ্টা নিজে। স্রষ্টার সেই কর্মকৌশলে তৈরি মানুষ তার অনুভব দিয়ে সৌন্দর্য সৃষ্টি করে। উদ্দীপকে বর্ণিত অনিন্দ্য সৌন্দর্যের সঙ্গে 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার সৌন্দর্য সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে ব্যক্তিমানুষের শিল্পসৃষ্টির যে চেতনা প্রকাশ পেয়েছে তা 'ঝরনার গান' কবিতার ভয়ংকর পাহাড়কে উপেক্ষা করে ঝরনার ছুটে চলার চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই দিক থেকে সৌন্দর্য সৃষ্টিতে তারা পরস্পর এক ও অভিন্ন।
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন আমাদের মানসিক শান্তি দেয়, 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার সৌন্দর্যও তেমনই আমাদের বিমোহিত করে। ঝরনার প্রকৃতিতে সৌন্দর্য বিস্তার এবং উদ্দীপকে সৌন্দর্য বিস্তারের বর্ণনা অভিন্ন। এ কারণেই বলা যায় যে, 'ঝরনার গান' কবিতার মূল বক্তব্যকে উদ্দীপক অনেকখানি ধারণ করে আছে।
'চকোর চায় চন্দ্রমায়' বলতে চকোর পাখির স্নিগ্ধ জোছনালোক প্রত্যাশাকে বোঝানো হয়েছে।
'ঝরনার গান' কবিতায় কবি ঝরনার গতিময়তা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকটি তুলে ধরেছেন। ঝরনা প্রকৃতির সমস্ত নীরবতা ভেঙে আপন ছন্দে ছুটে চলে। পাখির ডাকহীন নির্জন দুপুর, ভয়ংকর পাহাড় সবকিছু উপেক্ষা করে ঝরনা স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দের পদচিহ্ন রেখে বয়ে চলে। কবি ঝরনার মনোহর দৃশ্যে মুগ্ধ, বিমোহিত। চকোর পাখি যেমন রাতের বেলা চাঁদের স্নিগ্ধ আলো চায়, কবিও তেমনই ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!