সাধারণত পরিবারেই শিশুরা ধর্মীয় শিক্ষা পায়।
পরিবারের উৎপত্তির প্রাচীনতা ও সর্বজনীনতার কারণে পরিবারকে চিরস্থায়ী সামাজিক সংগঠন হিসেবে অভিহিত করা হয়।
পরিবার থেকেই মানবজাতির বিকাশ লাভ ঘটেছে এবং তার সাথে সমাজেরও অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। একই সঙ্গে বিয়ে, আত্মীয়তা অথবা পিতা-মাতার সূত্রের বন্ধনে এটি একটি সামাজিক সংগঠন। এমন কোনো সমাজের সন্ধান পাওয়া যায়নি যেখানে পরিবার প্রথা নেই বা কখনো ছিল না। এ কারণেই পরিবারকে বলা হয় চিরস্থায়ী সামাজিক সংগঠন।
আনিকার এরূপ আচরণের ক্ষেত্রে পরিবারের একক রূপ অনেকাংশেই দায়ী।
সাধারণত স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তান নিয়ে একক পরিবার গঠিত হয়। এ ধরনের পরিবারে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থাকলেও শিশুর সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে এটি যৌথ পরিবারের চেয়ে এক ধাপ পিছিয়ে। একক পরিবারে সদস্য সংখ্যা কম থাকার কারণে শিশু সদস্যদের সাথে মেলামেশার সুযোগ কম পায়। আবার অনেক সময় পিতা-মাতার ব্যস্ততা শিশুকে একাকিত্বের মধ্যে ফেলে দেয়, যা তার সামাজিকীকরণে বাধা সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আনিকার বাবা চাকরি নিয়ে অন্যত্র বদলি হলে আনিকা মা-বাবার সাথে চলে যায়। এর আগে সে দাদা-দাদিসহ যৌথ পরিবারে বাস করত। কিন্তু ইদানীং আনিকার আচরণে পরিবর্তন লক্ষণীয়। কেননা, একক পরিবারে হওয়ায় সে পরিবারের সদস্যদের সাথে মেলামেশার সুযোগ কম পেয়েছে। ফলে তার সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ হয়নি। সুতরাং বলা যায়, আনিকার এরূপ আচরণের কারণ হচ্ছে সুষ্ঠু সামাজিকীকরণের অভাব, যার পেছনে পরিবারের একক রূপ কাজ করেছে।
হ্যাঁ, আরিশার আচরণে যৌথ পরিবারের অবদান সর্বাধিক- এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত।
পরিবারের কর্তার সাথে যদি তার বাবা-মা এবং এক বা একাধিক ভাই, বোন ও তাদের সন্তান-সন্ততি বা দাদা-দাদি, চাচা-ফুফু একত্রে বসবাস করে তাকে যৌথ পরিবার বলে। সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে যৌথ পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
যৌথ পরিবারেই শিশু পিতা-মাতা, কিংবা দাদা-দাদি বা অন্যান্য সদস্যদের কাছ থেকে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা, সহযোগিতা, সহিষ্ণুতা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা, নিরাপত্তাবোধ, সমান ভাগের অংশীদার, মেলামেশার প্রবণতাসহ বিভিন্ন গুণ অর্জন করার সামাজিক শিক্ষা পায়, যা শিশুর সামাজিকীকরণে প্রভাব ফেলে। উদ্দীপকের আরিশা তার দাদা-দাদিসহ অন্যান্য সদস্যদের সাথে বাস করে। সে সকলের সাথে মিলেমিশে থাকে। সবাইকে সহযোগিতা করতে চায়। সবাই তাকে পছন্দও করে। অর্থাৎ আরিশা যৌথ পরিবারে থাকার ফলে ও পরিবারের সদস্যদের সাহচর্যের কারণে তার মধ্যে সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ ঘটেছে।
উল্লিখিত আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, আরিশার আচরণে যৌথ পরিবারের অবদান সর্বাধিক।
Related Question
View Allযে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানবশিশু ক্রমশ সামাজিক মানুষে পরিণত হয় তাকে সামাজিকীকরণ বলে।
শিশুর সবচেয়ে কাছের মানুষ হলেন মা-বাবা। আবার এই দুজনের মধ্যে অধিকতর কাছের মানুষ হলেন মা। শিশুর সামাজিকীকরণের প্রথম সূত্রপাত ঘটে মার কাছ থেকেই। শিশুর ভাষা শিক্ষার প্রথম মাধ্যম 'মা'। মা যেভাবে শিশুকে বর্ণ, শব্দ, ছড়া ইত্যাদি শেখাবেন, শিশু ঠিক সেভাবেই শিখবে। এ কারণেই 'মা'-কে শিশুর ভাষা শিক্ষার প্রথম মাধ্যম বলা হয়।
জেরিনদের পরিবার একটি একক পরিবার।
পরিবার একটি চিরস্থায়ী সামাজিক সংগঠন। এই পরিবারের রয়েছে বিভিন্ন রূপ। এর মধ্যে অন্যতম রূপ হলো একক পরিবার ব্যবস্থা। সাধারণত স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তান নিয়ে একক পরিবার গঠিত হয়। আবার সন্তান উপযুক্ত হলে বিয়ে করে আলাদা পরিবার গঠন করে। তখন আরেকটি নতুন একক পরিবার গঠিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জেরিনদের বাসায় তার মা-বাবা ও ছোটো ভাই থাকে। অর্থাৎ জেরিনের বাবা-মা এবং তারা দুই ভাইবোন মিলে একটি পরিবারে বাস করে। জেরিনদের এই পরিবারের রূপটি একক পরিবার ব্যবস্থাকেই নির্দেশ করে। সুতরাং বলা যায়, জেরিনদের পরিবার একটি একক পরিবার।
সামাজিকীকরণ হচ্ছে এমন প্রক্রিয়া, যা মানব শিশুকে ক্রমশ সামাজিক মানুষে পরিণত করে। শিশুর এই সামাজিকীকরণে বিভিন্ন মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তেমনই একটি মাধ্যম হচ্ছে পরিবার। আকারের ভিত্তিতে পরিবার একক ও যৌথ প্রকৃতির হয়। আর সদস্য সংখ্যার তারতম্যের কারণে শিশুর সামাজিকীকরণে উক্ত দুই ধরনের পরিবারের ভূমিকায়ও পার্থক্য দেখা যায়।
সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেই শিশুর 'নিজ' ও 'অপর' সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয়। যা তার আত্মপরিচয় গঠনে সহায়তা করে। তাই পরিবারের সদস্য সংখ্যা যত বেশি হয়। শিশুর ভাবের আদান-প্রদানও তত বেশি হয়। ফলে সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ ঘটে। এ প্রেক্ষিতে উদ্দীপকের জেরিন একক পরিবারে বাস করায় কেবল তার বাবা-মা ও ভাইয়ের কাছ থেকে বিভিন্ন গুণ শিখতে পারবে। অন্যদিকে, মেহরিমাদের বাসায় তার চাচা-চাচি, দাদা-দাদিসহ অনেকে একত্রে বাস করে। রক্তের সম্পর্কের ভিত্তিতে কয়েকটি পরিবারের এই একত্রে বসবাস যৌথ পরিবারকে নির্দেশ করে।
যৌথ পরিবারে দাদা-দাদি, চাচা-চাচিসহ অন্যান্য সদস্যদের সাথে শিশুর পারস্পরিক আচার-আচরণিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এসব আচার-আচরণিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে শিশু সহযোগিতা, সহিষ্ণুতা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ইত্যাদি গুণ অর্জন করার সামাজিক শিক্ষা পায়। যা শিশুর সামাজিকীকরণে প্রভাব ফেলে। আকারের ভিত্তিতে জেরিন ও মেহরিমাদের পরিবার যথাক্রমে একক ও যৌথ প্রকৃতির হওয়ায় সামাজিকীকরণে পরিবার দুটির ভূমিকায় পার্থক্য রয়েছে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, জেরিনদের পরিবারের তুলনায় মেহরিমাদের পরিবার শিশুর সামাজিকীকরণে বেশি ভূমিকা রাখে।
শিশু একটি পরিবারে তথা সমাজে যেভাবে সামাজিক হয়ে গড়ে ওঠে তাকেই সামাজিকীকরণ বলা হয়।
বর্তমান সময়ে পরিবার ছোটো হয়ে যাওয়ায় এবং বাবা-মা উভয়ের ব্যস্ততার কারণে সন্তানদের ধর্ম শিক্ষার ক্ষেত্রে পরিবারগুলোর ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
আগে সাধারণত পরিবারের মধ্যেই শিশুর ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হতো। সম্প্রতি দেখা যায়, ইউটিউবে বা ফেসবুকের অসমর্থিত সূত্র থেকে শিশুকে ধর্মশিক্ষা দিতে হচ্ছে। এতে শিশুর মধ্যে প্রকৃত ধর্মীয় মূল্যবোধ তৈরি হচ্ছে না। ফলে ধর্ম মানুষের জীবনে যে মানবিক, নৈতিক গুণ তৈরি করে সে গুণ তৈরি হচ্ছে না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!