একজন ভন্ডনবির নাম হলো মুসাইলামাতুল কায্যাব।
সর্বপ্রথম লাওহি মাহফুজ থেকে আল-কুরআন কদরের রাতে প্রথম আসমানের 'বায়তুল ইয্যাহ' নামক স্থানে এক সাথে অবতীর্ণ হয়। এর পর প্রয়োজন অনুসারে প্রথম আসমান থেকে পুরো কুরআন মজিদ প্রিয় নবি (স.)-এর ওপর নাযিল করা হয়। মহানবি (স.) যখন হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন ছিলেন তখন জিব্রাইল (আ.) সর্বপ্রথম সূরা আলাকের প্রথম ৫ আয়াত নাযিল করেন। পরবর্তীতে-অন্যান্য সূরা নাযিল করা হয়।
কুরআন সংকলনের ব্যাপারে হযরত উসমান (রা.)-এর অবদান বেশি বলে প্রতীয়মান হয়।
ইয়ামামার যুদ্ধে বহু সংখ্যক হাফিজে কুরআন শহিদ হলে সর্বপ্রথম হযরত উমর (রা.) কুরআন সংকলনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তাঁর পরামর্শে হযরত আবু বকর (রা.) পবিত্র কুরআন সংকলনের উদ্যোগ নেন এবং হযরত যায়িদ (রা.) মাধ্যমে তা সম্পন্ন হয়। তাদের এ অবদান অনস্বীকার্য।
কিন্তু তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর আমলে কুরআনের পাঠরীতি নিয়ে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দেয়। এমনকি এ নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে নানা অনৈক্যের সৃষ্টি হয়। এমতাবস্থায় হযরত উসমান (রা.) বিশিষ্ট সাহাবিগণের সাথে পরামর্শ করে আল-কুরআনের একক ও পাঠরীতি প্রচারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এজন্য তিনি হযরত যায়দ (রা.)-এর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেন। এ কমিটি হযরত হাফসা (রা.)-এর নিকট সংরক্ষিত মূল পাণ্ডুলিপি থেকে আরও সাতটি অনুলিপি প্রস্তুত করেন। এরপর বিভিন্ন প্রদেশে আল-কুরআনের এক এক কপি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ফলে কুরআনের পাঠরীতি নিয়ে মুসলমানদের অনৈক্য দূর হয়। আল-কুরআনের সংরক্ষণের এরূপ অসামান্য অবদানের জন্য হযরত উসমান (রা.)-কে জামিউল কুরআন বলা হয়।
আল-কুরআন মহান আল্লাহর পবিত্র বাণী। এটি সংরক্ষণ করার দায়িত্বও তারই। তিনি স্বয়ং আল-কুরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এজন্য আল্লাহ তায়ালা নিজেই বলেছেন। এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই।" (সূরা আল কিয়ামাহ: ১৭)
আল-কুরআনের সংরক্ষক স্বয়ং মহান আল্লাহ। এজন্য আজ পর্যন্ত এটির কোনোরূপ পরিবর্তন হয়নি। আর ভবিষ্যতেও হবে না। এটি সকল প্রকার পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংস্কার হতে মুক্ত। কেউ এতে নতুন কোনোকিছু সংযোজন বা বিয়োজন করতে পারবে না। আল-কুরআনের প্রতিটি হরকত, নুকতা, শব্দ সবকিছুই অপরিবর্তিত। যদি সংরক্ষণের দায়িত্ব মহান আল্লাহ না নিতেন তাহলে এ গ্রন্থটি এরূপ অপরিবর্তিত অবস্থায় থাকত না, পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবগুলোর কোনোটি বিলুপ্ত হয়েছে আবার কোনোটি বিকৃত হয়েছে। ফলে মানুষ সত্য পথ হতে বিচ্যুত হয়েছে কিন্তু পবিত্র কুরআনে এমনটি হয়নি। যদি পৃথিবীর সকল বই নষ্ট হয়ে যায় সেই সাথে পবিত্র কুরআনের সব কপিও বিলুপ্ত হয় তবুও কুরআন হারিয়ে যাবে না। কারণ লক্ষ লক্ষ হাফিজে কুরআনের অন্তরে এ কুরআন হুবহু একইভাবে সংরক্ষিত রয়েছে। যা করেছেন মহান আল্লাহ তায়ালা। আর এটাই প্রশ্নে ইঙ্গিত
Related Question
View Allআরবি হরফ উচ্চারণের স্থানকে মাখরাজ বলে।
পবিত্র কুরআন মুখস্থ তিলাওয়াত করা যায়। আবার দেখেও পাঠ করা যায়। দেখে দেখে তিলাওয়াত করাকে নাযিরা তিলাওয়াত বলে। নাযিরা তিলাওয়াত একটি উত্তম ইবাদত। আল্লাহ তায়ালা এরূপ তিলাওয়াতকারীকে আখিরাতে অত্যধিক সম্মান ও মর্যাদা দান করবেন।
নাবিহা দ্বিতীয় পর্যায়ে فِيهَا )ফিহা) তিলাওয়াতের সময়ে ও বর্ণ এবং বর্ণ (তাজবিদ অনুযায়ী) সঠিক নিয়মে পড়েনি। এখানে নাবিহা মাদ্দ-এর নিয়ম অমান্য করেছে।
আমরা জানি, মাদ্দের হরফ মোট তিনটি- আলিফ, ওয়াও, ইয়া )۱...ي( এ তিনটি হরফ নিম্নলিখিত অবস্থায় মাদ্দের হরফ হিসেবে উচ্চারিত হয়-
১.। (আলিফ) এর পূর্বের হরফে যবর থাকলে। যেমন-
২. , (ওয়াও) এর ওপর জযম এবং তার ডান পাশের হরফে পেশ থাকলে। যেমন-
৩. ৬ (ইয়া) এর ওপর জযম এবং এর ডান পাশের অক্ষরে যের থাকলে। যেমন-
উপরিউক্ত তিনটি অবস্থায় ডু...। মাদ্দের হরফ হিসেবে গণ্য হয়। ফলে এর পূর্বের অক্ষর একটু দীর্ঘ করে পড়তে হয়। সুতরাং নাবিহা দ্বিতীয় পর্যায়ে তাজবিদের মাদ্দের বিষয়টি ত্যাগ করেছে।
উদ্দীপকে নারিহাকে তার বাবা নির্ভুল তিলাওয়াতের প্রতি তাগিদ দিয়েছেন।
আমরা জানি, কুরআন তিলাওয়াত সর্বশ্রেষ্ঠ নফল ইবাদত। কুরআন তিলাওয়াতে ফজিলত অপরিসীম। কুরআন তিলাওয়াতের এসব ফজিলত লাড করা যায় শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে তিলাওয়াতের মাধ্যমে। এজন্য তাজবিদ অনুযায়ী কুরআন তিলাওয়াত করা অত্যন্ত জরুরি। তাজবিদ সহকারে কুরআন পড়া আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ। তিনি বলেছেন-
وَرَيْلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا অর্থ : আপনি কুরআন আবৃত্তি করুন ধীরে ধীরে ও
সুস্পষ্টভাবে। (সূরা মুয্যাম্মিল: ৪)
তাজবিদ না জেনে কুরআন পাঠ করলে তা শুদ্ধ হয় না। আর কুরআন পাঠ শুদ্ধ না হলে নামায সঠিকভাবে আদায় হয় না। এরূপ তিলাওয়াতকারী কোনো সওয়াবও লাভ করবে না।
সুতরাং বলা যায়, মাওলানা আহমাদ সাহেব তার মেয়ে নাবিহাকে যে বিষয়টি তাগিদ দিয়েছেন, সেটি হচ্ছে তাজবিদ অনুসরণ। কাজেই নাবিহা তাজবিদ মেনে শুদ্ধ ও সুন্দরভাবে কুরআন পাঠ করবে। আর এজন্য প্রথমেই তাজবিদ শিক্ষা করবে। এরপর কুরআন পাঠের সময় এ নিয়মগুলোর অনুশীলন করবে।.
বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থকে একত্রে সিহাহ সিত্তাহ বলা হয়।
আমাদের সমাজে ধনী-গরিব, সাদা-কালো, সুস্থ-অসুস্থ, হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবরকমের লোকদের নিয়েই আমাদের সমাজ। সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। সকলের মধ্যে = ঐক্য ও সহযোগিতা না থাকলে কোনো সমাজ উন্নতি লাভ করতে - পারে না। আর এর জন্য প্রয়োজন মানুষের প্রতি প্রীতি, দয়া-মায়া, ভালোবাসা। আর এটাই মানবপ্রেম, যা মহৎ গুণ হিসেবে বিবেচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!