গত তিন দশকে কৃষি খাতের অবদান ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেয়েছে।
বাংলাদেশে মিশ্র অর্থনীতি চালু থাকলেও দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে বাজার অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার আওতায় বেসরকারি খাতের উন্নয়নের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা দরকার। এ উদ্দেশ্যেও ১৯৯৩ সালে বেসরকারিকরণ বোর্ড (বর্তমানে প্রাইভেটাইজেশন কমিশন) গঠন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন নীতি ও সংস্কার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
নিলু বাংলাদেশের অর্থনীতির যেসব বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছে সেগুলো হলো- কৃষি খাতের প্রাধান্য, জীবনযাত্রার ক্রমোন্নতি, বেকারত্ব ইত্যাদি।
কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত। কিন্তু অনুন্নত চাষ পদ্ধতি, উন্নত বীজ, সার, সেচ এবং কৃষিঋণের অভাব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদির কারণে উন্নত দেশের তুলনায় আমাদের দেশে কৃষি উৎপাদন অনেক কম। তবে, ক্রমান্বয়ে এ অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। উন্নত বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ সুবিধা বাড়ছে। সাথে সাথে উৎপাদনও বাড়ছে। ধীর গতিতে হলেও জীবনযাত্রার মান পূর্বাপেক্ষা উন্নত হওয়ায় বর্তমানে (২০১৯) মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ুষ্কাল ৭২ বছর। তবে দেশে প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাবে কৃষি ও শিল্প খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগের অভাবে ব্যাপক বেকারত্ব দেখা যায়।
উদ্দীপকে নিলুর আলোচনায় বাংলাদেশের অর্থনীতির কতিপয় বৈশিষ্ট্য তথা কৃষি খাতের প্রাধান্য, জীবনযাত্রার মানের ক্রমোন্নতি এবং ব্যাপক বেকারত্ব পরিস্থিতি ইত্যাদি ফুটে উঠেছে।
তপনের আলোচনায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কৃষিক্ষেত্রে উন্নত কৃষি উপকরণসমূহের ব্যবহার এবং শিল্পে বিনিয়োগযোগ্য পুঁজির প্রবাহ বৃদ্ধি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের কৃষি খাতের প্রায় সকল উপখাতে উৎপাদন বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এর ফলে কৃষকদের আয় বাড়ায় তারা ক্রমান্বয়ে বেশি মাত্রায় উচ্চ ফলনশীল বীজ, বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সার, কীটনাশক, নিয়মিত পানিসেচ, কৃষিকাজে ছোটখাটো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছে। ফলে শস্য উৎপাদনের পরিমাণ ধীরে হলেও বাড়ছে। এছাড়া প্রস্তুতকৃত গোখাদ্য, হাঁস-মুরগি ও মাছের খাবার, পশুপাখি পালন, মাছ চাষে উন্নত ও আধুনিক পদ্ধতির প্রয়োগ, সরকারি সহায়তা ও পরামর্শ ইত্যাদির ফলে দেশে আমিষ জাতীয় খাদ্যোৎপাদনের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।
কৃষির তুলনায় শিল্পে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান অনেক বাড়ানো যায় বলে শিল্পোন্নয়নের মাধ্যমেই দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। শিল্পোন্নয়নের জন্য আবার প্রয়োজনমাফিক পুঁজির যোগান অপরিহার্য। সাম্প্রতিককালে এদেশে দেশি ও বিদেশি পুঁজির প্রবাহ যথেষ্ট বেড়েছে। দেশে বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ (ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কর্পোরেশন প্রভৃতি) শিল্পে বিনিয়োগযোগ্য তহবিল-চাহিদার অনেকটাই পূরণ করছে।
উপরিউক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, তপনের ধারণার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
Related Question
View Allপ্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ বা প্রাথমিক দ্রব্যকে কারখানাভিত্তিক প্রস্তুত প্রণালির মাধ্যমে মাধ্যমিক বা চূড়ান্ত দ্রব্যে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে শিল্প বলে
আমাদের দেশের বেশিরভাগ জনগণের আয় খুব কম হওয়ায় তাদের সঞ্চয়ের ক্ষমতাও কম, ফলে উচ্চহারে পুঁজি গঠন করা সম্ভব হয় না
আয় ও ভোগ ব্যয়ের পার্থক্য থেকে সঞ্চয় সৃষ্টি হয়। কিন্তু নিম্ন আয়ের মানুষের সম্পূর্ণ বা বেশির ভাগ অর্থই ভোগ্য পণ্য ক্রয়ে ব্যয় করতে হয়। ফলে তারা পর্যাপ্ত পরিমাণে সঞ্চয় করে পুঁজি তথা মূলধন গঠন করতে পারে না। তাছাড়া সঞ্চয় সংগ্রহের অসুবিধা, বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা, দক্ষ উদ্যোক্তার অভাব, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, কারিগরি জ্ঞানের অভাব ইত্যাদি কারণেও এদেশে মূলধন গঠনের হার কম।
উদ্দীপকে 'A' খাত বলতে কৃষি খাতকে নির্দেশ করা হয়েছে। এদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কৃষি খাতের উন্নয়নের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বলতে বোঝায় কোনো দেশের জাতীয় আয়ের ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাওয়া। বাংলাদেশের জিডিপিতে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে কৃষি খাত থেকে। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৯ অনুসারে, বর্তমানে (২০১৮-১৯ অর্থবছরে) দেশের GDP-তে কৃষি খাত (ফসল, বন, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য) এর অবদান ১৩.৬০ শতাংশ। আবার এদেশের বর্ধিত জনগোষ্ঠীর খাদ্যের
চাহিদা পূরণেও কৃষি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের মোট উৎপাদন হবে ৪১৫.৭৪ লক্ষ মেট্রিক টন (লক্ষ্যমাত্রা), যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল ৪১৩.২৫ লক্ষ মেট্রিক টন। কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে এর পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব। তাহলে অচিরেই আমাদের দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি উদ্বৃত্ত অংশ রপ্তানি করতে সমর্থ হবে। যা দেশে বৈদেশিক মুদ্রার যোগানে সহায়তা করবে। তাছাড়া কৃষি খাত উন্নত হলে অন্যান্য খাত যেমন- শিল্প, সেবা ইত্যাদির ক্ষেত্রেও এর ধনাত্মক প্রভাব পড়বে। কারণ বাংলাদেশের অধিকাংশ শিল্পের কাঁচামাল আসে কৃষি খাত থেকে। আবার এ যাত বহুলোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে বেকার সমস্যা কিছুটা হলেও কমিয়ে আনে। [তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৯।
কাজেই আমরা বলতে পারি, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন কৃষি ৩. খাতের উন্নয়নের সাথে ওতপ্রোতোভাবে জড়িত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' খাত কৃষি খাত এবং 'B' খাত হলো শিল্প খাত।
কৃষি ও শিল্প খাত পরস্পর নির্ভরশীল। কৃষি খাতের উন্নতি ও আধুনিকায়নের জন্য বিভিন্ন কৃষি সরঞ্জাম ও সারের যোগান দেয় শিল্প খাত। তেমনি শিল্পের প্রসারের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও শিল্পজাত দ্রব্যের বাজার সৃষ্টিতে সহায়তা করে কৃষি খাত
কৃষি ও শিল্প খাতের পারস্পরিক নির্ভরশীলতার অনেক কারণ রয়েছে। আমাদের দেশের অধিকাংশ শিল্প কৃষিভিত্তিক। এদেশের উল্লেখযোগ্য শিল্প যেমন- পাট, চিনি, সার, কাগজ, বস্ত্র প্রভৃতি শিল্পের প্রধান কাঁচামালের জন্য কৃষির ওপর নির্ভর করতে হয়। আবার বিভিন্ন শিল্পের প্রসারের ফলে কাঁচামালের বর্ধিত চাহিদার কারণে কৃষি উৎপাদন বাড়ে এবং কৃষক উৎপাদিত পণ্যের জন্য ন্যায্য দাম পায়, ফলে কৃষকদের আয় বাড়ে এবং জীবনযাত্রার মানও উন্নত হয়। তাছাড়া কৃষি শিল্পজাত দ্রব্যের বাজার বিস্তৃত করে শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কৃষকদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিল্প খাতের অন্যান্য দ্রব্যের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়, যা শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের জন্য দুটি খাতের
একই সঙ্গে উন্নতি একান্তভাবে কাম্য। উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, কৃষি ও শিল্পের উন্নয়ন পরস্পর নির্ভরশীল এবং একে অপরের পরিপূরক।
প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ কাঁচামালকে কারখানাভিত্তিক প্রস্তুতপ্রণালির মাধ্যমে মাধ্যমিক বা চূড়ান্ত দ্রব্যে রূপান্তর করাকে শিল্প বলে।
এদেশের সিংহভাগ গ্রামীণ জনগণের প্রধান পেশা কৃষি। তাই কৃষির অগ্রগতির সাথে গ্রামীণ অর্থনীতি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠেছে কৃষিকে কেন্দ্র করে। এদেশের বেশির ভাগ মানুষ গ্রামে বসবাস করে এবং তারা কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। এ বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ইত্যাদি কৃষির অগ্রগতির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!