আন্তর্জাতিক সংগঠনের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিনিধিগণ ঢাকায় এসেছেন। বক্তৃতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে মি. 'X' নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, আমি এমন এক দেশের নাগরিক যে দেশ আপনাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে জাতিসংঘে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবের বিপক্ষে 'ভেটো' প্রদান করেছিলো।

অপরদিকে মি. 'Y' বলেন, মুক্তিযুদ্ধে তার দেশ শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়, অস্ত্রও প্রশিক্ষণ দেয়, এমন কি যুদ্ধেও সরাসরি অংশ গ্রহণ করেন।

Updated: 2 months ago
উত্তরঃ

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, প্রকৌশলী, সাহিত্যিক ও শিল্পীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গৌরবময় ও অনন্য। তারা নিজস্ব পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠন, সেবা প্রদান এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সহায়তা করে স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পেশাজীবীরা সংগঠিত হয়ে 'বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি' এবং 'পেশাজীবী পরিষদ' গঠন করেন। চিকিৎসকেরা শরণার্থী শিবির ও যুদ্ধক্ষেত্রে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের দিনরাত চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। শিল্পী ও সাংবাদিকেরা 'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র' থেকে বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান, চরমপত্র ও খবরের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব ও মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দেন। এছাড়া শিক্ষক, গবেষক ও সাহিত্যিকেরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে বিশ্ব জনমত গঠনে ও তহবিল সংগ্রহে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

Satt AI
Satt AI
2 days ago
উত্তরঃ

মি. 'Y'-এর বক্তব্য অনুযায়ী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের পরম বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের ঐতিহাসিক ও সাহসিকতাপূর্ণ ভূমিকা ফুটে উঠেছে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ছিল অবিস্মরণীয় ও অপরিসীম। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর অমানবিক গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে প্রায় এক কোটি বাঙালি ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করে। ভারত সরকার এই বিপুল সংখ্যক শরণার্থীকে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে আশ্রয় দিয়েছিল। শুধু মানবিক সহায়তাই নয়, ভারত বাংলাদেশি মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র ও আধুনিক সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদান করে শক্তি বৃদ্ধি করেছিল। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতের সামরিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালালে ভারত সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং ভারতীয় মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সমন্বয়ে 'যৌথ বাহিনী' গঠন করা হয়। শেষ পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর তীব্র আক্রমণের মুখেই ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।

উদ্দীপকের আন্তর্জাতিক সংগঠনের অনুষ্ঠানে মি. 'Y' তার বক্তব্যে বলেন যে, মুক্তিযুদ্ধে তার দেশ শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ প্রদান করে এবং যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণও করে। তার এই বক্তব্যটি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সর্বাত্মক ভূমিকার সাথেই সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়। ভারত সরকারের আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন, মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং প্রদান এবং মিত্রবাহিনী হিসেবে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের দ্রুত স্বাধীনতা অর্জনে সাহায্য করার বিষয়টিই মি. 'Y'-এর বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে।

Satt AI
Satt AI
2 days ago
উত্তরঃ

স্বাধীনতা অর্জনে মিত্রশক্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে বন্ধুপ্রতিম দেশ ভারতের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য এবং তা আমাদের চূড়ান্ত বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল।

উদ্দীপকে মি. 'Y' তার দেশের যে ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন, যেমন—শরণার্থীদের আশ্রয় প্রদান, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করা—তা ভারতকেই নির্দেশ করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের এই বহুমুখী সহযোগিতা আমাদের বিজয়কে সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছিল।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অবদান ছিল বহুমুখী ও সুদূরপ্রসারী। প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে ভারত মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। একই সাথে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ আশ্রয় প্রদান করে, যা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য অপরিহার্য ছিল। ভারত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জোরালো সমর্থন জানায় এবং শেষ পর্যন্ত ডিসেম্বরে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়ে মিত্রবাহিনী গঠন করে পাকিস্তানি বাহিনীকে দ্রুত আত্মসমর্পণে বাধ্য করে। এই সামরিক হস্তক্ষেপ যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং আমাদের বিজয়ে চূড়ান্ত ভূমিকা রাখে।

উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, মি. 'Y' এর দেশের (ভারত) সার্বিক সহযোগিতা, সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থন এবং সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ আমাদের চূড়ান্ত বিজয়ে এক অবিস্মরণীয় ও অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেছিল। ভারতের সক্রিয় সমর্থন ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন অনেক বেশি কঠিন ও দীর্ঘস্থায়ী হতো।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
40

Related Question

View All
উত্তরঃ

মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী। স্বাধীনতার পর অর্থমন্ত্রী ছিলেন - তাজউদ্দীন আহমদ।

Akbar Samir
Akbar Samir
2 years ago
1.2k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews