নীরব ভাষায় বৃক্ষ আমাদের সার্থকতার গান শোনায়।
জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক দৈহিক বৃদ্ধির পাশাপাশি আত্মিক বিকাশের উপর বিশেষ জোর দিয়ে আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
থিবীর সব প্রাণীরই দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে। তবে মানুষকে দৈহিক বৃদ্ধির পাশাপাশি আত্মিক বিকাশও ঘটাতে হয়। এই সর্বাঙ্গীণ বৃদ্ধি বা কাশে মানুষের নিজের ভূমিকা রয়েছে। প্রাবন্ধিক মনে করেন, সুখ-দুঃখ বা আনন্দ-বেদনার উপলব্ধির ফলে অন্তরের যে পরিপক্কতা তৈরি য় সেটাই আত্মা। এই আত্মা মানুষকে সৃষ্টি করে নিতে হয়। জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা, প্রেম ও গভীর অনুভূতির মাধ্যমে মানুষ দৈহিক দির পাশাপাশি আত্মারও বিকাশ ঘটাতে পারে, যা প্রশ্নোক্ত উত্তিটিতে উন্মোচিত হয়েছে।
জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে অন্যের জন্য আত্মনিবেদনের দিকটি বিশেষভাবে উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।
'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে পরার্থে আত্মনিবেদনই মানবজীবনের মহত্তম প্রত্যাশা হওয়া উচিত বলে লেখক মনে করেন। তিনি দেখিয়েছেন, বৃক্ষ কেমন করে ফুলে-ফলে পরিপূর্ণতা পায়, আর সেসব অন্যকে দান করে সার্থকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। মানবজীবনের সার্থকতার জন্য মানুষকেও নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে অন্যের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে উঠতে হবে। তাহলেই স্বার্থপর, বিবেকহীন ও নিষ্ঠুর জবরদস্তিপ্রবণ মানুষের জায়গায় দেখা দেবে প্রেমে, সৌন্দর্যে ও সেবায় বিকশিত বিবেকবান পরিপূর্ণ মানুষ।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, নিজেকে দীন-দুঃখীদের মাঝে বিলিয়ে দিলেই প্রকৃত সুখী হওয়া যায়। যে মানুষ সমাজের নিরীহ ও বিপন্ন মানুষদের জন্য কাজ করে তাদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে নিজেকে উজাড় করে দেয় তিনিই পৃথিবীতে প্রকৃত মানুষ। মূলত, অন্যের জন্য মহৎ কিছু করার মধ্যে প্রকৃত সুখ নিহিত। তাই বলা যায়, অপরের জন্য নিজের স্বার্থ ত্যাগ করার মহত্ত্বের দিকটি 'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধের পাশাপাশি উদ্দীপকেও ফুটে উঠেছে।
জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে লেখক বহুমুখী বিষয়ের অবতারণা করেছেন যা উদ্দীপকের কবিতাংশে সম্পূর্ণভাবে ফুটে উঠেনি।
'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে লেখক পরার্থে আত্মনিবেদিত ও বিবেকবোধসম্পন্ন মানবজীবনের মহত্তম প্রত্যাশা থেকে জীবন কাঠামোকে তুলনা করেছেন বৃক্ষের সাথে। তিনি দেখিয়েছেন নদী নয়, বৃক্ষের নীরব সাধনার সাথে মানুষের জীবনের সাদৃশ্য রয়েছে। বৃক্ষ যেমন পশু, পাখি ও মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ, তেমনি মানবজীবনের সার্থকতার জন্যও পরার্থে কাজ করতে হয়। মানুষের ভিতরের স্বল্পপ্রাণ ও জবরদস্তিপ্রিয় মানুষটিকে দমন করতে হলে মানবপ্রেমে নিজেকে উজ্জীবিত করতে হবে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জীবন সংসারে নিজের জন্য নয়, অন্যের জন্য কাজ করতে হবে। সমাজের গরিব-দুঃখী মানুষদের স্বার্থের কথা ভেবে তাদের মুখে হাসি ফোটা নোই জীবনের চরম সার্থকতা। কেবল এভাবেই আত্মার সুখ উপলব্ধি করা যায়। মানুষের জন্ম নিজের জন্য নয় বরং অন্যের মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়াই মানবজন্মের সার্থকতা।
'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধে লেখক মানুষের স্বার্থসন্ধানী বিবেকবর্জিত অহংকারী আত্মাকে পরাস্ত করে মানবপ্রেমে বিকশিত হওয়ার ডাক দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি মানুষকে বৃক্ষের আদর্শ অনুসরণ করতে বলেছেন। তিনি রবীন্দ্রনাথের সাথে একমত হতে পারেননি। তিনি মনে করেন, নদী নয় মানুষের জীবনকাঠামোকে বৃক্ষের সাথে তুলনা করাই অধিক যুক্তিযুক্ত। অর্থাৎ প্রবন্ধে বহুমুখী যুক্তিনিষ্ঠ আলোচনার মধ্য দিয়ে মানুষের দায়িত্ব-কর্তব্য নির্ধারিত হয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে কেবল অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপক আলোচ্য প্রবন্ধের সমগ্র ভাবকে বহন করে না।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!