"আপনি এখন আমার কোনো কথাই বিশ্বাস করবেন না"-মেজর এজাজ আহমেদ কর্তৃক রফিককে বিশ্বাস না করার কারণ কী? বিস্তারিত আলোচনা কর।

Updated: 5 months ago
উত্তরঃ

'১৯৭১' হুমায়ূন আহমেদের বিখ্যাত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। এ উপন্যাসের আখ্যানভাগ গড়ে উঠেছে নীলগঞ্জ নামক প্রত্যন্ত এক অঞ্চলে হানাদার বাহিনীর কর্মতৎপরতার মধ্য দিয়ে। পাকিস্তানি মিলিটারির একটি দল মেজর এজাজের নেতৃত্বে নীলগঞ্জ গ্রামে আসে মুক্তিবাহিনীর একটি দলের খোঁজে। তখন তার সঙ্গে দোভাষী হয়ে আসে রফিক। রফিক ছিল এজাজের দোসর। রফিক শুরু থেকেই মিলিটারির সহযোগী হিসেবে থেকেছে। কিন্তু সে নিজেকে তাদের একজন হিসেবে পরিচয় দেয়নি, বরং দিয়েছে একজন বাঙালি হিসেবে, প্রতিনিধিত্ব করেছে বাংলাদেশের মানুষের। মিলিটারি কমান্ডার এজাজের বিভিন্ন মতের সঙ্গেও সে দ্বিমত পোষণ করেছে।
মেজর এজাজ শুরু থেকেই রফিককে বিশ্বাস করতেন না। তার ধারণা, যারা বাঙালিদের বিশ্বাস করেছে তারা সবাই মারা পড়েছে। যেমনটা হয়েছিল তার বন্ধু মেজর বখতিয়ারের সঙ্গে। তাছাড়া শুরু থেকেই রফিকের মেজর এজাজের কথা অমান্য করার প্রবণতা থেকেও এজাজ তাকে সন্দেহ করতে শুরু করেছিলেন।

এর প্রমাণ আমরা পাই যখন সে নিজামকে পরিচয় করিয়ে দেয় একজন পাগল হিসেবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে ছিল মুক্তিবাহিনীর মিত্র। আবার যখন এজাজ তাকে আজিজ মাস্টারের বিশেষ অঙ্গে ইট ঝুলিয়ে দিতে বলেন তখন রফিক তার বিবেকবোধের কারণে সেই কাজ করে না। আবার আমরা শেষ দিকে বুঝতে পারি রফিক মুক্তিবাহিনী সম্পর্কে অনেক কিছুই জানত। যেমন সে জানত মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা কৈবর্তপাড়ায় অবস্থান করছে। কিন্তু মেজর এজাজ সেখানে তল্লাশি চালাতে চাইলে সে বলেছিল প্রয়োজন নেই। এর মাধ্যমে সে প্রকৃতপক্ষে মুক্তিবাহিনীকে বাঁচানোর চেষ্টাই করেছে। রফিক পদে পদে বিভ্রান্ত করেছে এজাজকে।

আবার ঝড়ের সময় নিজাম পাগলকে বনের ভেতর প্রবেশ করতে। দেখে তার উল্লসিত হওয়া দেখে মেজর এজাজ বুঝতে পারেন সে অনেক কিছুই জানত। কিন্তু শেষ দিকে গিয়ে মেজর এজাজের সন্দেহ তীব্র হয়ে ওঠে এবং তিনি বুঝতে পারেন রফিক সত্যিই তাকে এতদিন মিথ্যা তথ্য দিয়েছে।

মূলত এসব কারণেই এজাজ রফিককে আর বিশ্বাস করতেন না। তাই উপন্যাসের শেষ দিকে এজাজ যখন মুক্তিবাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন তখনও এজাজ ভেবেছেন রফিক তাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাই রফিক এজাজকে বলেছে, "আপনি এখন আমার কোনো কথাই বিশ্বাস করবেন না।"

233

Related Question

View All
উত্তরঃ

পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের হাত থেকে বাঁচার জন্য কৈবর্তপাড়ার লোকজন পাড়া ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। কারণ ইতোমধ্যে গ্রামে মিলিটারি কর্তৃক ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাগুলো সম্পর্কে প্রায় সবাই জেনে গেছে। মেজর এজাজের নেতৃত্বে পাকিস্তানি সেনারা নির্বিচারে মনা কৈবর্তকে মেরে ফেলেছে, সঙ্গে তার ছোট ভাই বিরুকেও হত্যা করেছে। শুধু হিন্দু হওয়ার অপরাধে নীলু সেনকে মেরে ফেলা হয়েছে। এছাড়া ইমাম সাহেবের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতন সম্পর্কেও গ্রামের সবাই জেনে গিয়েছিল। ফলে তাদের মাঝে একধরনের ভয়ের সৃষ্টি হয়েছিল, জীবন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল। এর ওপর সেদিন রাতের বেলায় মিলিটারি জঙ্গলে আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। ফলে ভীত হয়ে কৈবর্তপাড়ার সবাই নিজেদের জীবন ও মালামালের নিরাপত্তার জন্য গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছিল। তারা নিঃশব্দে অন্ধকারে জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়ে সরে পড়ে। আমরা উপন্যাসে দেখতে পাই, সেই রাতেই কৈবর্তপাড়ায় আগুন দেওয়া হয়।

69
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews