যে হিসাবের মাধ্যমে আমানতকারী সঞ্চয়ী হিসাবের সুবিধা ভোগ করার পাশাপাশি বিমার সুবিধা ভোগ করে তাকে বিমা সঞ্চয়ী হিসাব বলে।
যে হিসাবে দিনে যতবার খুশি টাকা জমা দেওয়া গেলেও টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা থাকে এবং ব্যাংক গ্রাহককে সুদ বা লাভ প্রদান করে তাকে সঞ্চয়ী হিসাব বলে।
ব্যবসায়ী ছাড়া সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব খোলে। গ্রাহকগণ এ হিসাবে অর্থ জমা রেখে সঞ্চয় বৃদ্ধির চেষ্টা চালায়। এ থেকে কিছু আয়ের প্রত্যাশা করে এবং ব্যাংকিং সেবাও পেতে চায়। এজন্য সাধারণ শ্রেণি ও পেশার মানুষ সঞ্চয়ী হিসাবকেই পছন্দ করে। তাই এরূপ হিসাবের গ্রাহকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হয়।
আফজাল সাহেবের XYZ ব্যাংক লিমিটেডে চলতি হিসাব আছে বলে আমি মনে করি।
যে হিসাবে দিনে যতবার খুশি টাকা জমাদান ও উত্তোলন করা যায় এবং যে হিসাবের বিপক্ষে কোনো সুদ পাওয়া যায় না তাকে চলতি হিসাব বলে। এই হিসাবের গ্রাহকদের ব্যাংক জমাতিরিক্ত উত্তোলনের সুযোগ দেয়।
আফজাল সাহেব কিছু এনটিক ফার্নিচার কেনার জন্য ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে গেলে দেখলেন তার প্রয়োজনের তুলনায় ২০,০০০ টাকা কম আছে। কিন্তু ভালো লেনদেন থাকার কারণে ব্যাংক তাকে জমার অতিরিক্ত ২০,০০০ টাকা উত্তোলন করার সুযোগ দেয়। চলতি হিসাব হলো এমন একটি হিসাব, যেখানে দিনে যতবার ইচ্ছে টাকা জমাদান ও উত্তোলন করা যায় এবং ভালো লেনদেন থাকার কারণে হিসাবে জমার অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করা যায়। এ জমার অতিরিক্ত উত্তোলনের সুযোগ চলতি হিসাব ছাড়া অন্য কোনো হিসাবে নেই। সুতরাং বলা যায়, XYZ ব্যাংকে আফজাল সাহেবের হিসাবটি চলতি হিসাব।
আফজাল সাহেব ব্যাংক থেকে যে সুবিধাটি পেলেন তা হলো জমাতিরিক্ত উত্তোলন বা ঋণ।
র্যাংক চলতি হিসাবে গ্রাহককে তার জমার অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দিলে তাকে জমাতিরিক্ত ঋণ বলে। এই সুবিধার বিপরীতে ব্যাংক গ্রাহকদের হিসাব থেকে সুদ কেটে নেয়।'
XYZ ব্যাংকে আফজাল সাহেবের চলতি হিসাব ছিল। তিনি কিছু এনটিক ফার্নিচার কম মূল্যে পেয়ে যান। কিন্তু ব্যাংকে টাকা তুলতে গিয়ে দেখেন তার প্রয়োজনের তুলনায় ২০,০০০ টাকা কম আছে। কিন্তু তার হিসাবটি চলতি হওয়ায় এবং ব্যাংকে ভালো লেনদেন থাকায় ব্যাংক তার অতিরিক্ত টাকাটা জমাতিরিক্ত ঋণ হিসেবে ব্যবস্থা করে দেয়। এখানে হিসাবটি চলতি না হলে আফজাল সাহেব অতিরিক্ত ২০,০০০ টাকা উত্তোলন করতে পারতেন না।
ব্যবসায়িক কাজে অনেক সময়ই অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে টাকার দরকার হয়ে পড়ে, যেমনটি হয়েছিল আফজাল সাহেবের। ওই সময় চলতি হিসাবের বিপক্ষে ব্যাংক প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই জমাতিরিক্ত ঋণ দিয়ে গ্রাহকের ব্যবসায় সচল রাখতে সাহায্য করে। আফজাল সাহেবকেও ব্যাংক ২০,০০০ টাকার তাৎপর্যপূর্ণ ঋণ দিয়ে তাকে এনটিক ফার্নিচার কিনতে সাহায্য করেছে।
Related Question
View Allঋণ দেওয়ার সময় ব্যাংক ঋণগ্রহীতার নামে যে হিসাব খুলে মঞ্জুরকৃত ঋণের অর্থ প্রদান করে তাকে ঋণ আমানতী হিসাব বলে।
নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যাংক হিসাবে গোপনীয়তা রক্ষা করার প্রয়োজন হয়।
ব্যাংকে হিসাব খোলার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বা গোপনীয়তার বিষয়টি প্রত্যেক গ্রাহকই বিবেচনা করে থাকেন। কারণ, প্রত্যেক আমানতকারীই চান তার হিসাবের গোপনীয়তা বজায় থাকুক। আমানতকারী ব্যাংককে গোপনীয়তা রক্ষার উৎস হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। এজন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষও গ্রাহকের হিসাব সংক্রান্ত' যাবতীয় তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়। তাই ব্যাংক হিসাবে গোপনীয়তা রক্ষা করা প্রয়োজন।
উদ্দীপকে সুমনের জন্য সঞ্চয়ী হিসাব খোলা উপযোগী।
ব্যাংকিং লেনদেনের পাশাপাশি সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে এ হিসাব খোলা হয়। এ হিসাবে যতবার খুশি অর্থ জমা দেওয়া যায়। তবে সপ্তাহে দু'বার বা নিয়ম মেনে অর্থ উত্তোলন করতে হয়। সাধারণত ছাত্র বা নির্দিষ্ট আয়ের লোকদের জন্য এ হিসাব উপযোগী।
উদ্দীপকে সুমন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। সে ঢাকার হোস্টেলে থেকে পড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য সে বাবার সাথে ব্যাংক যায়। 'এখানে সুমন ছাত্র হিসেবে পরিবার থেকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পাবে। যা থেকে তাকে নিয়মিত কিছু খরচ সম্পাদন করতে হবে। এক্ষেত্রে সে ব্যাংকের এটিএম বা অন্যান্য অনলাইন সেবা গ্রহণ করতে পারবে। অব্যবহৃত অর্থ ব্যাংকে জমা রেখে সঞ্চয় সৃষ্টি করতে পারবে। আর এ সকল সুবিধা কেবলই সঞ্চয়ী হিসাবে বিদ্যমান। তাই জনাব সুমনের জন্য সঞ্চয়ী হিসাব খোলা উপযোগী।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সুমনকে প্রদত্ত ফর্মটি হলো KYC ফর্ম।
এ ফর্মের মাধ্যমে ব্যাংক গ্রাহক সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে। জালিয়াতি ও অবৈধ লেনদেন রোধে ব্যাংক বাধ্যতামূলকভাবে গ্রাহকের কাছ থেকে এ ফর্ম পূরণ করিয়ে নেয়। এ ফর্মে মূলত গ্রাহকের নাম, পেশা, ঠিকানা, কাজের ধরন, লেনদেনের ধরন ও অন্যান্য তথ্য থাকে। উদ্দীপকে সুমন ঢাকার হোস্টেলে থেকে পড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য সে বাবার সাথে ব্যাংকে যায়। ব্যাংক ম্যানেজার তাকে হিসাব খোলার মূল আবেদন ফর্ম সরবরাহ করেন। তবে সাথে একটি কার্ড ও অপর একটি ফর্ম পূরণ করতে বলেন যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে গুরুত্বপূর্ণ ফর্মটি, হলো KYC ফর্ম।
উদ্দীপকে KYC ফর্মের মাধ্যমে ব্যাংক সুমনের মতো গ্রাহকদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে পারে। ব্যাংক সহজেই গ্রাহকের পরিচয় শনাক্ত ও বিশ্লেষণ করতে পারে। ব্যাংকের পরিচিত অন্য গ্রাহকের মাধ্যমে উক্ত গ্রাহকের পরিচয়ের সত্যতা প্রমাণ করা যায়। গ্রাহক মুদ্রা পাচার বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কাজের সাথে যুক্ত আছে কিনা তা জানতে পারে। সর্বোপরি সকল প্রকার ভূয়া গ্রাহক চিহ্নিতকরণ ও অবৈধ লেনদেন বন্ধ করতে পারবে। তাই বলা যায়, উল্লিখিত কারণেই সুমনকে প্রদত্ত KYC ফর্মটি গুরুত্বপূর্ণ।
যে ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিশেষায়িত ব্যাংকের কাজসমূহ একত্রে পালন করে তাকে মিশ্র ব্যাংকিং বলে।
যে হিসাবের মাধ্যমে আমানতকারী সঞ্চয়ী হিসাবের ও বিমার সুবিধা ভোগ করে তাকে বিমা সঞ্চয়ী হিসাব বলে।
এ হিসাবের বিপরীতে সঞ্চয়ী হিসাবের সব সুবিধা পাওয়া যায়। এ হিসাবের বিপরীতে ব্যাংক চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আমানতকারীকে বিমার সুবিধাও প্রদান করে। তবে হিসাবগ্রহীতাকে সবসময় নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ তার হিসাবে জমা রাখতে হয়। বিমা সুবিধা প্রদান করা ব্যাংকের 'আয়ের অন্যতম উৎস।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!