আফাজের জমিতে কয়েক বছর যাবত ফসলের ফলন কম হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তার জমির মাটি মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে পিএইচ মিটার দিয়ে পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, তার জমির মাটির অম্লমান ৪। কৃষি কর্মকর্তা জৈবিক ও রাসায়নিক পদ্ধতিতে মাটির অম্লত্ব দূর করার পরামর্শ দিলেন।

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

AWD হলো Alternate Wetting and Drying, যা বর্তমানে ধান চাষের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পানি সাশ্রয়ী পদ্ধতি।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

যদি কোনো মাটিতে অম্লত্ব বা ক্ষারত্বের কারণে ফসলের উৎপাদন কমে যায় বা চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ে তা হলে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি ও তাকে চাষোপযোগী করে গড়ে তোলাকেই মাটি সংশোধন বলে।প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম উভয় কারণে মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈব গুণাবলি নষ্ট হয়। বিভিন্ন কারণে মাটি দূষিত হয় এবং মাটিতে ক্ষতিকর জীবাণু দ্বারা বীজ, গাছের চারা ও গাছ আক্রান্ত হয়। মাটিবাহিত ক্ষতিকর ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাকসহ বিভিন্ন জীবাণু গাছে রোগ সৃষ্টি করে। এসব কারণে মাটি সংশোধন করা হয়ে থাকে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের কৃষি কর্মকর্তা মি. রিপনের জমির অম্লত্ব সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। অম্লীয় মাটি বিভিন্ন উপায়ে সংশোধন করা যায়। যেমন-

i. চুন ব্যবহার: চুন অম্লীয় মাটিতে আয়রন ও অ্যালুমিনিয়ামের দ্রবণীয়তা কমিয়ে ফসফরাসের প্রাপ্যতা বাড়ায়। তাছাড়া মাটিতে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম যুক্ত হলে তা হাইড্রোজেন আয়নকে প্রতিস্থাপন করে হাইড্রোক্সিল আয়নের পরিমাণ বাড়ায়। ফলে মাটির অম্লত্ব কমে। 

ii. জৈব সার ব্যবহার: মাটিতে জৈব সার যেমন- কম্পোস্ট, বায়োফার্টিলাইজার, ট্রাইকোডার্মা কম্পোস্ট, জৈব বালাইনাশক প্রয়োগ করে অম্লত্ব কমানো যায়। 

iii. সবুজ সার ব্যবহার: সবুজ সার প্রয়োগ করা হলে তা মাটিতে পচে জৈব সার উৎপন্ন হয়, যা মাটিতে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম সরবরাহ করে। ফলে মাটির অম্লত্ব হ্রাস পায়। 

iv. অণুজীব সার ব্যবহার: অণুজীব সার হিসেবে রাইজোবিয়াম ব্যবহার করেও অম্লত্ব কমানো যায়। রাইজোবিয়াম বাতাসের নাইট্রোজেনকে মাটিতে সংবন্ধন করে। এগুলো মাটির জৈব পদার্থকে সংরক্ষণ করে এবং মাটির বাফার ক্ষমতা বাড়ায়। এই সার ব্যবহারে মাটিতে অম্লত্ব সৃষ্টিকারী সার বিশেষ করে ইউরিয়া প্রদানের প্রয়োজন পড়ে না। এতে মাটির অম্লত্ব হ্রাস পায়।

V. সেচের পানির মান উন্নয়ন: আয়রন ও অ্যালুমিনিয়াম মুক্ত পানি দ্বারা সেচ প্রদান করে মাটির অম্লত্ব রোধ করা যায়।

vi. সুষম সারের ব্যবহার: ফসলের জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে বিভিন্ন জৈব ও অজৈব সারের সমন্বয়ে সুষম সার ব্যবহার করলে অম্লত্ব বাড়ার সম্ভাবনা থাকে না। 

vii. অম্লীয় সারের ব্যবহার কমানো: যেসব সার অম্লত্ব সৃষ্টি করে সেসব সারের ব্যবহার কমিয়ে বিকল্প সার ব্যবহার করতে হবে। যেমন- অ্যামোনিয়াম সালফেট সারের পরিবর্তে সোডিয়াম নাইট্রেট ব্যবহার করা যেতে পারে। 

viii. ঝিনুকের গুঁড়া ব্যবহার: ঝিনুকের গুঁড়ায় প্রচুর ক্যালসিয়াম কার্বনেট থাকে যা প্রয়োগে অম্লত্ব হ্রাস পায়।

পরিশেষে বলা যায়, যেহেতু মাটির অম্লমানের ওপর ফসলের ফলন নির্ভর করে। তাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করে মাটি সংশোধন করে ফলন বৃদ্ধি করা যায়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে মুজিবের জমির মাটিতে অম্লমান ৬.০ এর নিচে নেমে গেছে অর্থাৎ তার মাটিতে অম্লত্ব দেখা দিয়েছে। যে মাটির অম্লমান যত কম সে মাটির অম্লত্ব তত বেশি। অম্লত্বের ফলে তার জমির মাটিতে নিম্নোক্ত প্রতিক্রিয়াসমূহ দেখা যাবে-

i. মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধির সাথে সাথে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সালফার প্রভৃতি মুখ্য পুষ্টি উপাদানের দ্রবণীয়তা বৃদ্ধি পাবে অর্থাৎ, প্রাপ্যতা কমবে। 

ii. মাটিতে আয়রন, জিংক, বোরন, কপার, ম্যাঙ্গানিজ প্রভৃতি গৌণ পুষ্টি উপাদানের সহজলভ্যতা বৃদ্ধি পাবে। 

iii. ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের সহজলভ্যতা হ্রাস পাবে। 

iv. আয়রন ও অ্যালুমিনিয়ামের দ্রবণীয়তা বৃদ্ধি পেয়ে মাটিতে বিষাক্ততা সৃষ্টি হবে। 

V. মাটিস্থ অণুজীবসমূহ বিশেষ করে অ্যাক্টিনোমাইসিটিস, ব্যাকটেরিয়ার সক্রিয়তা হ্রাস পাবে এবং ছত্রাকের কার্যকারিতা বেড়ে যাবে। 

vi. মাটিতে বিভিন্ন প্রকার পুষ্টি উপাদানের সহজলভ্যতা মাটির অম্লত্বের তীব্রতার সাথে সম্পর্কযুক্ত। অম্লত্ব তীব্রতর হলে অণুপুষ্টির দ্রবণীয়তা কমে যায়। 

vii. অম্ল মাটিতে বীজের অঙ্কুরোদগম ভালো হয় না (ব্যতিক্রম- চা, আনারস, কমলালেবু)।

অতএব বলা যায়, pH ৬.০ এর নিচে নেমে গেলে অধিক অম্লত্বের সৃষ্টি হয়ে উল্লিখিত প্রতিক্রিয়াসমূহ দেখা দিবে যা ফসলের উৎপাদনকে ব্যাহত করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
148

Related Question

View All
উত্তরঃ

যেসব ফসল সাধারণত বিস্তীর্ণ মাঠে বেড়াবিহীন অবস্থায় সমষ্টিগতভাবে পরিচর্যার মাধ্যমে চাষ এবং প্রক্রিয়াজাত করে খাওয়া হয় সেগুলোকে মাঠ ফসল বলে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1.4k
উত্তরঃ

উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও তথ্য নিয়ে মতবিনিময় হয়।

কৃষি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের ফলে কৃষকদের জ্ঞান ও তথ্য আরো সমৃদ্ধ হয়। মতবিনিময়ের ফলে কৃষকদের জ্ঞান এবং কাজের স্পৃহা বাড়ে। এ ছাড়া হঠাৎ সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার প্রতিকার ব্যবস্থা জানা যায়। তাই কৃষিতে উঠোন বৈঠকের প্রয়োজন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
806
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত আফসার আলীর জমির মাটি কাদাযুক্ত এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এজন্য বলা যায়, জমির মাটি এঁটেল প্রকৃতির।

নিচে এঁটেল মাটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-

i. এঁটেল মাটি ভারী মাটি নামে অভিহিত। 

ii. এ মাটিতে কমপক্ষে ৩৫% বা তার বেশি কর্দম বা এঁটেল কণা থাকে। 

iii. এ মাটিতে সূক্ষ্ম রন্দ্রের সংখ্যা খুব বেশি, তাই এর পানি ধারণ ক্ষমতা খুব বেশি, কিন্তু নিষ্কাশন ক্ষমতা কম। 

iv. এ মাটির বায়ু ও পানি চলাচল ক্ষমতা কম। 

V. এঁটেল মাটি আঙুলে ঘষলে ট্যালকম পাউডারের মতো পিচ্ছিল মনে হয়। 

vi. এ মাটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর সংযুক্তি (cohesion) খুব বেশি। 

vii. আর্দ্র এঁটেল মাটি আঠালো ও চটচটে হয়, কিন্তু শুষ্ক অবস্থায় খুব শক্ত হয়। ফলে সহজে কর্ষণ করা যায় না। 

viii. এ প্রকার মাটির ধনাত্মক আয়ন বিনিময় ক্ষমতা খুব বেশি। উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যাবলী থেকে এঁটেল মাটির প্রকৃতি জানা যায়।

 

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
355
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি হলো বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট যা গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে অবস্থিত।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উচ্চ ফলনশীল এবং হাইব্রিড জাতের ধান উদ্ভাবন করে। এছাড়াও মৃত্তিকা, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা, চাষাবাদ পদ্ধতি, পোকা-মাকড় ও রোগ দমন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মূল্যবান প্রযুক্তি ও কৃষি যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করে। এদের উদ্ভাবিত জাতগুলো তুলনামূলকভাবে রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। আবার এসকল জাতের ফলন স্থানীয় জাতের ফলনের তুলনায় অনেক বেশি। উদ্ভাবিত জাতের মধ্যে বন্যা, খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল, সুগন্ধি ও বিদেশে রপ্তানি উপযোগী জাতও রয়েছে। এসকল জাতসমূহ কৃষকদের কাছে সহজলভ্য করে তোলার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে, রয়েছে প্রদর্শনী প্লট ও মডেল কৃষক। এছাড়াও কৃষি তথ্য সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পুস্তিকা, ম্যানুয়াল, প্রতিবেদন, জার্নাল প্রভৃতি প্রকাশ করে। এ প্রতিষ্ঠানটি কৃষকদের উন্নত প্রযুক্তি প্রদর্শনের জন্য মাঠ দিবসের আয়োজন এবং কৃষি উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। এসকল কার্যক্রমের ফলে কৃষকগণ সহজেই কৃষি সংশ্লিষ্ট তথ্য ও জ্ঞান লাভ করতে পারে। ফলে কৃষক মাঠ পর্যায়ে এসব জ্ঞান কাজে লাগিয়ে অল্প খরচে ফসল উৎপাদন করে লাভবান হয়। সর্বোপরি ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উল্লিখিত কার্যক্রমসমূহ পরিচালনা করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
470
উত্তরঃ

অভিজ্ঞ 'কৃষক হলো একজন স্থানীয় নেতা ও কৃষকদের পরামর্শদাতা যিনি নিজ উৎসাহে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন ও নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1.4k
উত্তরঃ

কোনো মাটিতে হাইড্রোজেন আয়ন (H') ও হাইড্রোক্সিল আয়নের (OH) পরিমাণ সমান থাকলে তাকে নিরপেক্ষ মাটি বলে। নিরপেক্ষ বা প্রশম মাটির অম্লমান ৭। এই ধরনের মাটিতে সব ধরনের পুষ্টি উপাদান সহজলভ্য থাকে বিধায় ফসল চাষে সর্বাধিক উপযোগী। নিরপেক্ষ মাটিতে জৈব পদার্থ সহজে বিয়োজিত হয়। নিরপেক্ষ মাটিতে বীজের অঙ্কুরোদগম ভালো হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
706
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews