আফাজ উদ্দিন যেন কবি সুফিয়া কামালের প্রত্যাশা পূরণে তৎপর। মন্তব্যটি সঠিক।
প্রকৃতিকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে বৃক্ষের অবদান অপরিসীম। কেননা বৃক্ষ তার ফুল, ফল, পাতা, শেকড় প্রভৃতির মাধ্যমে পৃথিবীকে সজীব রাখে। শুধু তাই নয়, বৃক্ষের কাছ থেকে প্রাণিকুল সরাসরি উপকৃত হয়। বৃক্ষ তাই পৃথিবীর জন্য অন্যতম আশীর্বাদ।
বৃক্ষহীন প্রকৃতি শুষ্ক, নিরস ও প্রাণহীন হয়ে ওঠে। 'জাগো তবে অরণ্য কন্যারা' কবিতায় কবি সুফিয়া কামাল তাই অরণ্যকন্যা বৃক্ষদের জেগে উঠতে আহ্বান করছেন। বৃক্ষ যেন তার শাখায় শাখায় আগুনরঙা ফুল ফুটিয়ে নিজেকে প্রকাশ করে কবির এই প্রত্যাশা। এই প্রত্যাশারই বাস্তব প্রয়োগ লক্ষ করা যায় উদ্দীপকের আফাজ উদ্দিনের কর্মকাণ্ডে। তিনি কিশোর বয়স থেকে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত গ্রামের রাস্তার ধার, খোলা মাঠ, বাজারের চারপাশসহ বিভিন্ন জায়গায় গাছ লাগিয়েছেন এবং আজও সেই কাজ তিনি নিরলসভাবে করে যাচ্ছেন।
'জাগো তবে অরণ্য কন্যারা' কবিতায় কবি বৃক্ষকে জেগে উঠে মরুময় ও মুমূর্ষু প্রকৃতিকে সরস ও প্রশান্ত করার প্রত্যাশা করেছেন। উদ্দীপকে আফাজ উদ্দিন সারা জীবন গাছ লাগিয়ে গ্রামের মানুষের অশেষ উপকার করে সে প্রত্যাশাই পূরণ করেছেন। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allগাছের নতুন পাতাকে পল্লব বলে।
'বৃক্ষের বক্ষের বহ্নিজ্বালা' বলতে বৃক্ষনিধনে বৃক্ষের বুকে সৃষ্টি হওয়া যন্ত্রণার আগুনকে বোঝানো হয়েছে।
'জাগো তবে অরণ্য কন্যারা' কবিতায় কবি চারদিকে বৃক্ষনিধনে শূন্যতার হাহাকার ধ্বনি শুনতে পেয়েছেন। মানুষ তার প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত বৃক্ষনিধন করে চলছে। ফলে বন উজাড় হচ্ছে। চারদিকে রুক্ষতা, শূন্যতা বিরাজ করছে। তাই বৃক্ষের বুকে যন্ত্রণার আগুন জ্বলছে। প্রশ্নোক্ত চরণটির মাধ্যমে বৃক্ষের এই যন্ত্রণাকেই বোঝানো হয়েছে।
দোয়েলের অভিব্যক্তিতে 'জাগো তবে অরণ্য কন্যারা' কবিতার কবির মানসিকতার দিকটি ফুটে উঠেছে।
বৃক্ষ মানুষ ও পরিবেশের জন্য অতি উপকারী একটি উপাদান। মানুষ তার ক্ষুদ্র স্বার্থে নির্বিচারে বৃক্ষনিধন করছে। এতে মানুষ ও প্রকৃতির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।
উদ্দীপকের দোয়েলের চোখে-মুখে বাসা হারানোর বেদনা। দোয়েল আর গান গায় না। এ দোয়েল যেন কবি সুফিয়া কামালের মানসিকতার বৈশিষ্ট্যই ধারণ করেছে। কারণ কবি চারপাশের অরণ্য নিধন লক্ষ করে ব্যথিত। মৌসুমি ফুলের গান আর তাঁর কণ্ঠে জাগে না। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের দোয়েলের অভিব্যক্তিতে 'জাগো তবে অরণ্য কন্যারা' কবিতার কবির সেই মানসিকতাই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের নিলয়ের কর্মকাণ্ডের মধ্যেই কবির প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে। বক্তব্যটি যথার্থ।
বৃক্ষ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বৃক্ষ আছে বলে এ পৃথিবীর বুকে জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাচ্ছে।
উদ্দীপকের নিলয় বাড়ির আঙিনার খালি জায়গায় ফল ও অন্যান্য গাছ রোপণ করে। গাছগুলোকে সে ভালোবাসে, যত্ন নেয়। পাখিরা নিলয়ের বাগানে চলে আসে। তারা গাছে গাছে ঘুরে বেড়ায়। নিলয়ের বাগান দেখে অনেকে গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ হয়। আলোচ্য কবিতার কবিও চান পৃথিবীর বুকে গাছপালা ধ্বংস না হয়ে প্রচুর পরিমাণে জন্মাক। তিনি চান দিকে দিকে আবার সবুজ বৃক্ষের সমারোহ সৃষ্টি হোক, পৃথিবী ফুলে ও ফসলে ভরে উঠুক।
পরিবেশের ভারসাম্য তথা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রাখতে বৃক্ষের কোনো বিকল্প নেই। তাই বৃক্ষনিধন না করে প্রচুর পরিমাণে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। বৃক্ষকে ভালোবাসতে হবে, ধ্বংস করা যাবে না। কবি আলোচ্য কবিতার মধ্য দিয়ে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যা উদ্দীপকে নিলয়ের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি যথার্থ।
কবি সুফিয়া কামাল এখন আর ফুল-ফসলের গান শুনতে পান না।
'ক্ষুধার্ত ভয়ার্ত দৃষ্টি' বলতে কবি ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থাকে বুঝিয়েছেন।
মানুষ নিজের প্রয়োজনে প্রকৃতিকে ধ্বংস করছে, বৃক্ষনিধনের মধ্য দিয়ে মানুষ প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সঙ্গে রূঢ় আচরণ করছে। প্রকৃতিও এ কারণে মানুষের সঙ্গে বিরূপ আচরণ শুরু করছে। প্রকৃতিতে ফুল ও ফসলের সম্ভার কমে যাওয়ায় মানুষের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় মানুষ ভীত। 'ক্ষুধার্ত ভয়ার্ত দৃষ্টি' বলতে
কবি সেই ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থাকেই বুঝিয়েছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!