বনি ইসরাইল জাতি হযরত ইয়াকুব (আ)-এর বংশধর।
বায়তুল ইজযায় কুরআন সংরক্ষিত আছে বলে এটি তাৎপর্যপূর্ণ। বায়তুল ইযযাহ বায়তুল্লাহ বরাবর পৃথিবীর নিকটতম আসমানে অবস্থিত। এটি ফেরেশতাদের ইবাদত গৃহ। কদর রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা এখানে সমগ্র কুরআন নাজিল করেন। এখানে একদল ফেরেশতা আল্লাহর নির্দেশে কুরআন সংরক্ষণের কাজে নিয়োজিত আছেন। তাই এ স্থানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকের রিরি সম্প্রদায়ের সাথে বনি ইসরাইল জাতির শিরক করার দিক থেকে সাদৃশ্য বিদ্যমান। শিরক করা অর্থ আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরিক করা। মহান আল্লাহ তায়ালা এই বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তা ও নিয়ন্ত্রক। তাই তিনিই একমাত্র ইবাদতের যোগ্য। তাঁর কোনো সৃষ্টির কাছে মাথা নত করা বা পূজা করাই শিরক। আলোচ্য সম্প্রদায় দুটি এরূপ পাপাচারের সাথেই যুক্ত।
উদ্দীপকে উল্লেখিত রিরি সম্প্রদায় বুনো ছাগলের পূজা করে। তারা বুনো ছাগলের মধ্যেই সৃষ্টিকর্তা আছে বলে বিশ্বাস করে। সুরা আল বাকারায় আল্লাহ তায়ালা বনি ইসরাইল জাতির গোবৎস পূজা করার ঘটনা উদ্ধৃত করেছেন। হযরত মুসা (আ) শরিয়ত আনার জন্য ত্রিশ দিনের জন্য তুর পাহাড়ে গমন করেন। কিন্তু ত্রিশ দিন পর তিনি ফিরে না এলে সামেরি নামের এক স্বর্ণকার সোনা দিয়ে একটি গোমূর্তি নির্মাণ করে। তারপর মূর্তিটির মধ্যে জিবরাইল (আ) এর ঘোড়ার খুরের মাটি ঢুকিয়ে দেয়। ফলে মূর্তিটি জীবিত হয়ে ওঠে। এই অবস্থায় বনি ইসরাইল জাতি গোবৎসের পূজা করার মাধ্যমে শিরকের গুনাহে লিপ্ত হয়। সুতরাং, রিরি সম্প্রদায়ের এরূপ বিশ্বাস বনি ইসরাইলের উক্ত ঘটনার ন্যায় শিরকেরই প্রমাণ বহন করে।
কোনো মুসলমান জ্ঞান অন্বেষণে বের হলে তার বের হওয়া আল্লাহর পথে গমন হিসেবে গণ্য হয়। ইসলাম ধর্মে জ্ঞানার্জনের ওপর সবিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মূলত জ্ঞানার্জনকে ইসলাম ধর্মে ফরজ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণে আল্লাহর পথে বের হয়, সে যতক্ষণ না ফিরে আসে ততক্ষণ আল্লাহর পথে থাকে (সুনানে তিরমিযি ও দারিমি)। হাদিস থেকে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। জ্ঞান অন্বেষণ করা মূলত আল্লাহর পথে বিচরণ করা। জ্ঞানের পথ আল্লাহর পথ। জ্ঞান অন্বেষণ করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ কাজ। জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ (ইবনে মাজাহ)
উদ্দীপকের মং এই মর্যাদাপূর্ণ পথেই নিজেকে নিবেদিত করেছেন। তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে জ্ঞান অন্বেষণের জন্য বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আলোচ্য হাদিসের আলোকে তাই বলা যায়, তিনি আল্লাহর পথে আছেন। পরিশেষে বলা যায় যে, আমাদের সবারই উচিত মং-এর মতো ইসলামি জ্ঞান অন্বেষণে মনোযোগী হওয়া।
Related Question
View All'সিহাহ সিত্তাহ' হলো- বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থ।
আলোচ্য হাদিসের অর্থ হলো- 'লজ্জাশীলতা ইমানের একটি বিশেষ অঙ্গ'। উল্লেখিত হাদিসটি সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরিফে সংকলিত হয়েছে। এ হাদিসে রাসুল (স) লজ্জাশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। একজন মুমিন তার আচার-আচরণ, কথাবার্তা, কাজকর্মে অবশ্যই লজ্জাশীল হবেন। কারণ লজ্জাশীলতা ইমানের অপরিহার্য একটি দিক। তাই মান-সম্মান রক্ষা করার জন্য ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেক মুমিনের লজ্জাশীল হওয়া প্রয়োজন। আলোচ্য হাদিসে ইমানের সাথে লজ্জার সম্পর্কের দিকটিই ফুটে উঠেছে।
হাবিবের বক্তব্যে ওহিয়ে মাতলু তথা পবিত্র কুরআনের পরিচয় ফুটে উঠেছে। কুরআন মাজিদ আল্লাহর বাণী। এটি সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব যা সর্বশ্রেষ্ঠ নবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল। উদ্দীপকের হাবিব ওহির বিভিন্ন প্রকার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রথমোক্ত ওহির মাধ্যমে পবিত্র কুরআনকে বুঝিয়েছে। উদ্দীপকের তিন বন্ধু ইসলামি শরিয়ার উৎস সম্বন্ধে আলোচনা করছিল। হাবিব এ সময় বলে, কিছু ওহির ভাব ও ভাষা সরাসরি আল্লাহর, যা পাঠ করা ইবাদত এবং নামাজেও এর তিলাওয়াত আবশ্যক। এর মাধ্যমে হাবিব পবিত্র কুরআনকে বুঝিয়েছে। ওহি দুই প্রকার। যথা- ওহিয়ে মাতলু ও ওহিয়ে গায়রে মাতলু। ওহিয়ে মাতলু বা পঠিত ওহি হলো কুরআন মাজিদ। এটি লাওহে মাহফুজ থেকে জিবরাইল (আ)-এর মাধ্যমে নবুওয়তের দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে মহানবি (স)-এর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে।
কুরআন সন্দেহাতীতভাবে অদ্যাবধি অবিকল ও অবিকৃত অবস্থায় সুরক্ষিত হয়ে আসছে। এর শব্দ, অর্থ, মর্ম উপস্থাপনা, বিন্যাস সবই আল্লাহ তায়ালার নিজস্ব। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ছাড়া নামাজ আদায় হয় না। নামাজে কুরআন থেকে তিলাওয়াত করা ফরজ। সুতরাং উদ্দীপকের হাবিব প্রথমোক্ত ওহির মাধ্যমে কুরআন মাজিদের দিকেই ইঙ্গিত করেছে।
হাসানের উল্লেখিত বিষয়টি ওহিয়ে গায়রে মাতলু তথা হাদিস; যার সাথে হাদিসে কুদসির কতিপয় সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য রয়েছে। ওহি দুই প্রকার- যার মধ্যে একটি 'ওহি গায়রে মাতলু' অর্থাৎ অপঠিত ওহি বা হাদিস। মহানবি (স)-এর কথা, কাজ এবং মৌন সম্মতি তথা রাসুল (স)-এর বাস্তব জীবনের প্রতিটি কাজ ও সমর্থনই হাদিস। হাসানের বক্তব্যে হাদিসের কথাই প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের হাসান ইসলামি শরিয়ার দ্বিতীয় উৎস হাদিসের প্রসঙ্গে কথা বলছিল। সে বলে, হাদিস নামাজে তিলাওয়াত করতে হয় না এবং অপবিত্র অবস্থায়ও এটি স্পর্শ করা যায়। হাসানের উল্লেখিত ওহি গায়রে মাতলু বা হাদিসের বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে হাদিসে কুদসি অন্যতম। হাদিসে কুদসি অন্যান্য হাদিসের মতই, তবে এ প্রকার হাদিসের ভাব স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এবং ভাষা রাসুল (স)-এর নিজের। অপরদিকে সাধারণ হাদিসের ভাব ও ভাষা উভয়টিই রাসুল (স)-এর নিজস্ব। তাছাড়া হাদিসে কুদসিও অপবিত্র অবস্থায় স্পর্শ করা যায়। 'রাসুল (স) বলেছেন', একথা অন্যান্য হাদিসের প্রারম্ভে থাকে। কিন্তু হাদিসে কুদসি শুরু হয় 'আল্লাহ বলেছেন' এ কথা দিয়ে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, হাসানের উল্লিখিত বিষয়টি হচ্ছে রাসুলের (স) বাণী বা কাজ তথা হাদিস। আর হাদিসে কুদসি এরই একটি ধরন।
সম্পূর্ণ কুরআন সর্বপ্রথম সংরক্ষিত হয় লাওহে মাহফুজে।
কুরআনকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করে কুরআন পাঠের অভিন্ন রীতি চালু করায় হযরত উসমান (রা) কে জামিউল কুরআন বলা হয়। হযরত উসমান (রা) এর সময় ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে কুরআন পাঠের ফলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কুরআনের প্রথম পাণ্ডুলিপিটি থেকে সাতটি কপি তৈরি করা হয়। এবং সেগুলো বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয় যাতে সবাই একই রীতিতে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!