আবহাওয়া হলো কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের নির্দিষ্ট সময়ের বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা, বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত ইত্যাদি সামগ্রিক গড় অবস্থা।
কোনো একটি স্বল্পপরিসর স্থানের দৈনিক বা কয়েক ঘণ্টার বায়ুর তাপ, বায়ুর চাপ, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুর আর্দ্রতা, বারিপাত প্রভৃতি উপাদানের গড় অবস্থাকে ঐ দিনের ঐ স্থানের আবহাওয়া (Weather) বলে। বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা সর্বদা পরিবর্তনশীল বিধায় আবহাওয়া সর্বদা পরিবর্তনশীল।
অন্যদিকে পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার ওপর নির্বর করে কোনো একটি ব্যাপক এলাকার বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, বারিপাত প্রভৃতির ৩০-৪০ বছরের সামগ্রিক অবস্থাকে (গড় অবস্থা) ঐ স্থানের বা দেশের জলবায়ু (Climate) বলে। মোটকথা, আবহাওয়ার দীর্ঘদিনের গড় অবস্থাই হচ্ছে জলবায়ু।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'C' চিহ্নিত নিয়ামক হলো সমুদ্র হতে দূরত্ব।
এটি জলবায়ুর একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক।
সমুদ্রের নিকটবর্তী অঞ্চল সামুদ্রিক জলবায়ু দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়। সামুদ্রিক জলবায়ুর প্রভাবে উপকূলবর্তী স্থানে শীত ও গ্রীষ্মের প্রখরতা অনেক কম থাকে। এ কারণে একই সমাক্ষরেখায় অবস্থিত স্থানসমূহের মধ্যে যে স্থান সমুদ্র হতে যত দূরে সে স্থান গ্রীষ্মকালে তত অধিক গরম এবং শীতকালে তত অধিক শীতল হয়। সমুদ্রের নিকটবর্তী স্থানসমূহের জলবায়ু সমভাবাপন্ন, কারণ সমুদ্র হতে প্রবাহিত আর্দ্র বায়ু শীতকালে বায়ুকে উষ্ণ ও গরমকালে বায়ুকে শীতল করে।
বাংলাদেশ সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে আবহাওয়া চরম হয় না অর্থাৎ শীত ও গ্রীষ্মের প্রখরতা অধিক নয়। কিন্তু আফগানিস্তান সমুদ্র হতে দূরে বলে সেখানকার জলবায়ু চরমভাবাপন্ন অর্থাৎ শীতকালে অধিক শীত এবং গ্রীষ্মকালে অধিক গরম অনুভূত হয়। মস্কো সমুদ্র হতে দূরে অর্থাৎ মহাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত বলে সেখানে শীত ও গ্রীষ্মকালের তাপমাত্রার ব্যবধান প্রায় ১০° সেলসিয়াস।
অথচ দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের উপকূলবর্তী দেশগুলোয় শীত ও গ্রীষ্মকালের তাপমাত্রার পার্থক্য ০.৭° সেলসিয়াস-এর অধিক নয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' অর্থাৎ অক্ষাংশকে নির্দেশ করে। অক্ষাংশ অনুযায়ী সূর্যরশ্মির অবস্থান নির্ভর করে বিধায় জলবায়ু ভিন্ন হয়ে থাকে।
অক্ষাংশ অনুযায়ী সূর্যরশ্মি কোথাও লম্বভাবে আবারও কোথাও হেলে পড়ে। নিরক্ষরেখায় সূর্যরশ্মি সারা বছর প্রায় লম্বভাবে পড়ে সেজন্য নিরক্ষীয় অঞ্চল সর্বাপেক্ষা উষ্ণ হয়। নিরক্ষরেখা হতে যতই উত্তরে বা দক্ষিণে যাওয়া যায় ততই সূর্যরশ্মি অধিকতর তির্যকভাবে পড়ে এবং দিন ছোট ও রাত বড় হতে থাকে। ফলে নিরক্ষরেখা হতে উত্তর ও দক্ষিণে তাপমাত্রা ক্রমেই কমতে থাকে। এ কারণে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে অধিক শীত এবং এ অঞ্চল দুটি সর্বদা বরফে ঢাকা থাকে।
সূর্যের অবস্থান ও অক্ষাংশভেদে বায়ুমণ্ডলে সূর্যতাপের তারতম্য ঘটে। নিরক্ষরেখার উত্তরে কর্কটক্রান্তি (২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা) ও দক্ষিণে মকরক্রান্তি (২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা) এর মধ্যে সূর্য সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেয়। সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের সময় এই দুই সীমানার মধ্যে প্রতিটি স্থানে বছরে সূর্য দুইবার লম্বভাবে কিরণ দেয়। ক্রান্তীয় অঞ্চল থেকে যতই মেরু অঞ্চলের দিকে যাওয়া যায় সূর্যের তির্যকভাবে কিরণ ততই বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর তাপমাত্রাও তত কমতে থাকে। লম্বভাবে পতিত সূর্যকিরণ স্বল্প গভীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে স্বল্প পরিসরে ভূমণ্ডলে পতিত হয়, এতে উত্তাপের প্রখরতা অধিক থাকে। আর সূর্যরশ্মি তির্যকভাবে পড়লে অধিক পরিমাণে বায়ুমণ্ডলের গভীরতা ভেদ করে বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে যায়। এতে তাপমাত্রার প্রখরতা কমে যায়। এ সব অবস্থার ওপর নির্ভর করে সৃষ্টি হয়েছে উষ্ণমণ্ডল, নাতিশীতোষ্ণমণ্ডল ও হিমমণ্ডল।
তাই বলা যায় 'A' অর্থাৎ অক্ষাংশ পরিবর্তনে জলবায়ুর ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।
Related Question
View Allবায়ুর অনুভূমিক গতিকে বায়ুপ্রবাহ বলে।
সমুদ্রস্রোত এবং বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। এ বেঁকে যাওয়াই ফেরেলের সূত্র নামে পরিচিত।
ফেরেলের সূত্র দ্বারা প্রমাণ করে যে, আহ্নিক গতিতে পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে। এ সূত্র অনুসারে অয়ন বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে থাকে। নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্র অনুসারে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ুর গতি বেঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। অর্থাৎ দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রবাহ-২ এ স্থানীয় বায়ুর কথা বলা হয়েছে।
পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে এক ধরনের বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয়, একে স্থানীয় বায়ু বলে। উত্তর আমেরিকার রকি পর্বতের পূর্বপার্শ্বের উষ্ণ ও শুষ্ক প্রবাহিত চিনুক বায়ু; পার্বত্য অঞ্চলের শীতল বায়ু পাহাড়ের উপত্যকার মধ্য দিয়ে সমভূমির দিকে প্রবাহিত ফন বায়ু; ফ্রান্সের রোন নদীর উপত্যকা দিয়ে শীতকালে দক্ষিণে সমভূমি ও দ্বীপ এলাকার দিকে প্রবাহিত মিস্টাল বায়ু; ভূমধ্যসাগরের ওপর দিয়ে যে নিম্নচাপ পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয় তার পুরাভাগের সিরক্কো বায়ু এবং মিসরের দক্ষিণ দিক হতে মিশরে প্রবাহিত খামসিন বায়ু প্রভৃতি স্থানীয় বায়ু।
প্রত্যেকটি বায়ু স্থানীয় ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণ দ্বারা প্রভাবিত হয়। তেমনি উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রবাহ-২ স্থানীয় বায়ুর বৈশিষ্ট্য দ্বারা প্রভাবিত। সুতরাং উল্লিখিত প্রবাহ-২ স্থানীয় বায়ু।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রবাহ-১ দ্বারা নিয়ত বায়ুকে নির্দেশ করে।
যেসব বায়ু পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো নিয়ন্ত্রিত হয়ে বছরের সবসময় একই দিকে নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হয় তাদের নিয়ত বায়ু বলে। ভূপৃষ্ঠের চাপবলয়গুলোর অবস্থান লক্ষ্য করলে বায়ুপ্রবাহের দিক সহজেই জানা যায়। বায়ুপ্রবাহ উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হওয়ার সময়, উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় হতে উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরে ওঠে গেলে কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় হতে অয়ন নিয়ত বায়ু শীতল ও ভারী বায়ু নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে, কর্কটীয় ও মকরীয় বলয় হতে আরও দুটি বায়ুপ্রবাহ সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়ের দিকে পশ্চিমা নিয়ত বায়ু প্রবাহিত হয়। আবার, মেরু অঞ্চলের উচ্চচাপ বলয় হতে অতি শীতল ও ভারী বায়ু উত্তর গোলার্ধে নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। এ বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়।
কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০ – ৪০ বছরের আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
বায়ুর উষ্ণ ও শীতল অবস্থাকে বায়ুর তাপমাত্রা বলে।
তাপমাত্রার পরিমাপের উপর কোনো স্থানের জলবায়ু বহুলাংশে নির্ভরশীল। তাপমাত্রা বেশি হলে অঞ্চলটিতে উষ্ণ জলবায়ু বিরাজ করে। আবার তাপমাত্রা খুব কম বা মধ্যম হলে অঞ্চলটিতে যথাক্রমে মেরুদেশীয় অথবা নাতিশীতোষ্ণ বায়ুর সৃষ্টি হয়। এজন্য তাপমাত্রা জলবায়ুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।হসেবে বিবেচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!