রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
কবি তার সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে চান। তাই কবি নতুন নতুন সংগীত সৃষ্টি করেন।
কবি 'প্রাণ' কবিতায় মানবজীবনের অস্থিরতা এবং নানান দুঃখ-সুখের মাঝেও কিছু সৃজনশীল কাজ করার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। 'নব নব সংগীতের কুসুম ফুটাই এখানে একটি মেটাফোর, যার মাধ্যমে কবি নতুন নতুন সৃষ্টির কথা বলছেন। 'নব নব সংগীত' বলতে তিনি নতুন, সতেজ এবং জীবনমুখী সৃষ্টির কথা বলেছেন, যা মানুষের হৃদয়ে আনন্দ এবং আনন্দের অনুভূতি সৃষ্টি করে। 'কুসুম' ফুলের প্রতীক, এবং এটি আরও স্পষ্টভাবে জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলোর প্রতীক হিসেবে আসে।
উদ্দীপকের প্রত্যাশিত বিষয়টি 'প্রাণ' কবিতার ভাবের সঙ্গে চেতনাগত দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
জীবনের প্রতি অসীম মমত্ববোধ থেকে মানুষ যেকোনো প্রকারে পৃথিবীর মাঝে থাকার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে। তারা সৃষ্টিশীল মহৎকর্মের মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে চান।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি যে ধানসিঁড়িটির তীরে ফিরে আসার কথা বলেছেন, সেখানে তিনি মানুষের দেহে অথবা অন্য কোনো প্রাণী, যেমন শঙ্খচিল বা শালিকের রূপে আসতে চান, যা প্রাকৃতিক জগতের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। এটি একধরনের অস্তিত্বের ধারাবাহিকতা বা পুনর্জন্মের প্রতীক। অন্যদিকে 'প্রাণ' কবিতায় কবি মানবসমাজে বাঁচতে চান এবং চিরকালীন সংগীত রচনার মাধ্যমে মানুষের সুখ-দুঃখে অংশ নিতে চান। এখানে তিনি জীবনের অস্থিরতার মধ্যে চিরকালীন সুর তৈরি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এভাবে উদ্দীপকের সঙ্গে 'প্রাণ' কবিতাটি চেতনাগত দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
"উদ্দীপকটি 'প্রাণ' কবিতার সমগ্রতা প্রকাশ করে না।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
জগতে মানুষের মধ্যে চিরন্তন হয়ে থাকার আকাঙ্ক্ষার মূল কারণ জীবনের প্রতি অসীম মমত্ববোধ। এই মমত্ববোধের কারণেই মানুষ মৃত্যুভয়ে ভীত ও শঙ্কিত হয়ে ওঠে এবং পৃথিবীতে টিকে থাকতে চান।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি পুনর্জন্মের প্রত্যাশা করেছেন, যেখানে তিনি শঙ্খচিল বা শালিকের মতো পাখির রূপে ফিরে আসতে চান। এটি প্রকৃতির এক নিরবধি চক্রের মধ্যে জীবন ও মৃত্যুর সংযোগের ভাবনা তুলে ধরে। এখানে কবি আত্মার পুনর্জন্মের যে ধারণা দেয় তা কোনো নির্দিষ্ট মানবিক অস্তিত্ব নয়, বরং প্রকৃতির সাথে একাত্ম হওয়া। অন্যদিকে 'প্রাণ' কবিতাটি মানবিক অস্তিত্বের মধ্যেই বাঁচাতে চাওয়া এবং প্রেম, দুঃখ, হাসি, অশ্রু ও জীবনের সংগীত রচনার ইচ্ছা প্রকাশ করে, যা উদ্দীপকের কবিতাংশ থেকে অনেক গভীর ও বিস্তৃত ভাব প্রকাশ করে।
উদ্দীপকের কবিতাটি যেখানে প্রকৃতি ও পুনর্জন্মের ভাবনা তুলে ধরে, সেখানে 'প্রাণ' কবিতার মূল ভাবনা হলো সৎ ও শুভ কর্মের মাধ্যমে অমরত্ব অর্জন করার ইচ্ছা। 'প্রাণ' কবিতায় আত্মার মুক্তির এবং মানুষের অনুভূতির স্বীকৃতি চায়, যেখানে উদ্দীপকের কবিতা প্রকৃতি এবং জীবনের চিরন্তন হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। এ দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allকবি মানবের মাঝে বাঁচতে চান।
কবি এ পৃথিবীতে অমর-আলয় রচনা করতে চান মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে তাদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়ার জন্য।
'প্রাণ' কবিতায় জনকল্যাণকর কাজের মাধ্যমে জগৎসংসারে দীর্ঘ জীবন লাভের সংকল্প ব্যক্ত হয়েছে। মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, আবেগ-ভালোবাসা ছেড়ে কবি অন্য কিছুর লোভ না করে আনন্দের সংগীত নিয়ে মানুষের কাছে আদৃত হতে চান। আলোচ্য চরণটিতে কবি মূলত মানবতার স্বার্থে তাঁর আত্মনিবেদনের দিকটি প্রকাশ করেছেন।
উদ্দীপকে প্রত্যাশিত বিষয়টি 'প্রাণ' কবিতার ভাবের সাথে পৃথিবীর বিচিত্র প্রকৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ নিয়ে এক হয়ে মিশে আছে।
ফুলে-ফলে-ফসলে সুশোভিত আমাদের এই পৃথিবী। মানুষ এখানে গড়ে তুলেছে মায়াময় এক আশ্চর্য জগৎ। প্রেম-প্রীতি, স্নেহ-ভালোবাসা, আদর-সোহাগ দিয়ে মানুষ বেঁধে রাখে একে অপরকে। এ বন্ধন ছেড়ে মানুষ সহজে চলে যেতে চায় না।
উদ্দীপকে কবি তার সমগ্র সত্তা দিয়ে জন্মভূমি বাংলাদেশকে ভালোবেসেছেন। এই ভালোবাসা এমনই পরিপূর্ণ যে পৃথিবীর অন্য কোথাও বাংলাদেশের প্রকৃতি ও পরিবেশ, ঐতিহ্য ও ঐশ্বর্যের কোনো বিকল্প আছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। তাঁর কাছে বাংলার সত্যিকারের এই পরিচয়টির সাথে 'প্রাণ' কবিতার ভাবের ঐক্য লক্ষ করা যায়। এই কবিতায় পৃথিবীর প্রতি কবির গভীর মমত্ব ফুটে উঠেছে। তিনি পৃথিবীকে, পৃথিবীর মানুষকে ভালোবেসেছেন অকৃত্রিমভাবে। মৃত্যু যে অমোঘ বিধান তা জেনেও তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে চান। কারণ মৃত্যুকে জয় করা বা মৃত্যুর পর আপন কর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা মানুষের চিরন্তন।
"উদ্দীপকটি 'প্রাণ' কবিতার আংশিক ডারমাত্র, পূর্ণরূপ নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষ মরণশীল। একথা জানা সত্ত্বেও মানুষ এ জগৎসংসার ছেড়ে হারিয়ে যেতে চায় না। জগতের মোহে মানুষ নশ্বর পৃথিবীতে অমরত্ব লাভ করতে চায়।
উদ্দীপকটিতে বাংলার অপরূপ সৌন্দর্যের সঙ্গে মানুষের গভীর বন্ধনের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। জন্মভূমিকে উদ্দীপকের কবি তাঁর সমগ্র সত্তা দিয়ে ভালোবেসেছেন, অনুভব করেছেন। কবির অনুভবের এই বিষয়টি 'প্রাণ' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও কবিতার মূলভাব আরও, বিস্তৃতপূর্ণ। সেখানে কেবল পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রতি মুগ্ধতা নয়, তা মানুষের জন্য মনোমুগ্ধকর করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও যত্নবান হওয়ার ইঙ্গিত আছে। 'প্রাণ' কবিতায় কবি জনকল্যাণকর কাজের মাধ্যমে জগৎসংসারে দীর্ঘজীবন লাভের সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। তিনি তাঁর সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে নব নব সংগীতের কুসুম ফোটাতে চেয়েছেন। তিনি মানবতার স্বার্থে আত্মনিবেদন করতে চেয়েছেন।
'প্রাণ' কবিতায় কবি সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, মিলন-বিরহ, আবেগ-ভালোবাসায় পরিপূর্ণ পৃথিবী রেখে মরতে চান না। আর উদ্দীপকে বাংলার রূপমুগ্ধ কবি পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের রূপ দেখতে চান না। এই না চাওয়া এক রকম হলেও বিষয় বিন্যাস এক রকম য়। উদ্দীপকে মানবকল্যাণে আত্মনিবেদনের কোনো বিষয় নেই। কিন্তু 'প্রাণ' কবিতায় কবি সর্বমানবের সুখ-দুঃখের সংগীত গেঁথে মানব হৃদয়ে অমর-আলয় রচনা করতে চেয়েছেন। এসব কারণে উদ্দীপকটি 'প্রাণ' কবিতার আংশিক ভাব মাত্র, পূর্ণরূপ নয়- মন্তব্য যথার্থ।
'প্রাণ' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
কবি মৃত্যুর পরও মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে আগ্রহী। তাই তিনি সৃষ্টির মাধ্যমে অমর আলয় রচনা করতে চান।
'প্রাণ' কবিতায় কবি জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে এই পৃথিবীতে অমর আলয় রচনা করতে চেয়েছেন। মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার সংগীত রচনা করতে চান। বস্তুত মানবের হাসি-কান্না, আবেগ-ভালোবাসায় পরিপূর্ণ এই পৃথিবীই কবির কাছে আকাঙ্ক্ষিত। তাই তিনি অমর আলয় সৃজনের কথা বলেছেন যেন মৃত্যুর পরেও তিনি মানবের মাঝে বেঁচে থাকতে পারেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!