আবিদ ও আসিফ দু'জনেই গত ঈদে শার্ট কিনতে একটি পোশাকের দোকানে গেল। আবিদ লাল রঙের এবং আসিফ সাদা রঙের শার্ট কিনল। আবিদ এক হাজার টাকার একটি নোটের মাধ্যমে তার পছন্দের শার্টটি কিনল। কিন্তু আসিফ তার শার্টের মূল্য বাবদ এক হাজার টাকার প্রাইজবন্ড দিলে বিক্রেতা তা গ্রহণ করতে রাজি হয়নি।

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

যা বিনিময়ের মাধ্যম, মূল্যের পরিমাপক ও সঞ্চয়ের বাহন হিসেবে কাজ করে তাকে অর্থ বলে।

উত্তরঃ

অভাবের অমিল হচ্ছে দ্রব্য বিনিময় প্রথার সবচেয়ে বড় অসুবিধা।
দ্রব্য বিনিময় প্রথায় বিনিময় সংঘটিত হওয়ার জন্য দুজন ব্যক্তির অভাবের মধ্যে মিল থাকা আবশ্যক। যেমন: 'ক' একজন ব্যক্তি। তার কাছে ডাল আছে। সে এ ডালের বিনিময়ে লবণ পেতে চায়। 'খ' ব্যক্তির কাছে লবণ আছে। এখন 'খ' ব্যক্তি যদি ডাল পেতে চায় তাহলে আমরা বুঝব, উভয়ের অভাবের মিল আছে। বাস্তবে অভাবের এ ধরনের মিল খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সেজন্য অভাবের অমিলকে দ্রব্য বিনিময় প্রথার সবচেয়ে বড় অসুবিধা হিসেবে গণ্য করা হয়।

উত্তরঃ

আবিদের প্রদত্ত অর্থটি ছিল বিহিত মুদ্রা (Legal Money)।

গ্রহণসীমার ভিত্তিতে বিহিত মুদ্রাকে দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা- অসীম বিহিত মুদ্রা ও সসীম বিহিত মুদ্রা। যে মুদ্রা দ্বারা আইনত যেকোনো পরিমাণ লেনদেন করা যায় তাকে অসীম বিহিত মুদ্রা (Unlimited Legal Money) বলে। ৫০ টাকা, ১০০ টাকা, ৫০০ টাকা, ১০০০ টাকার নোট প্রভৃতি অসীম বিহিত মুদ্রা। এসব নোটের যেকোনো একটি দ্বারা যেকোনো পরিমাণ দেনা পরিশোধ করলে পাওনাদার তা গ্রহণে বাধ্য থাকবে। আবার, যে মুদ্রা দ্বারা একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত লেনদেন করা যায় এবং আইনগতভাবে অধিক গ্রহণে জনগণকে বাধ্য করা যায় না তাকে সসীম বিহিত মুদ্রা (Limited Legal Money) বলে। যেমন, ২৫ পয়সা, ৫০ পয়সা, ১ টাকা, ২ টাকা ও ৫ টাকার ধাতব মুদ্রা সসীম বিহিত মুদ্রা। এ সব অর্থ জনগণ তাদের ইচ্ছানুযায়ী গ্রহণ করতেও পারে, আবার নাও গ্রহণ করতে পারে। উদ্দীপকের আবিদ শার্ট কিনতে গিয়ে শার্টের মূল্যবাবদ বিক্রেতাকে ১০০০ টাকার একটি নোট দিল আর বিক্রেতাও তা গ্রহণ করতে বাধ্য ছিল। কাজেই বলা যায়, আবিদের দেওয়া ১০০০ টাকার নোটটি অসীম বিহিত মুদ্রা

উত্তরঃ

আসিফ শার্টটির মূল্য বাবদ এক হাজার টাকার প্রাইজবন্ড দিয়েও পছন্দের শার্টটি ক্রয় করতে পারে নি, কারণ প্রাইজবন্ড একটি ঐচ্ছিক মুদ্রা।

যে মুদ্রা গ্রহণ করতে কাউকে বাধ্য করা যায় না অথচ ব্যবসায়িক লেনদেনে লোক তা বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে তাকে ঐচ্ছিক মুদ্রা বলে। ঐচ্ছিক মুদ্রা লোকে গ্রহণ করতে পারে আবার নাও করতে পারে। যদি কেউ ঐচ্ছিক মুদ্রা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়, তবে তাকে বাধ্য করা যাবে না। চেক, ব্যাংক ড্রাফট, প্রাইজবন্ড প্রভৃতি হলো ঐচ্ছিক মুদ্রা। উদ্দীপকে আসিফ সমপরিমাণ অর্থ দিয়েও পছন্দের শার্টটি ক্রয়ে ব্যর্থ হওয়ার কারণ হলো তার প্রদত্ত প্রাইজবন্ড একটি ঐচ্ছিক মুদ্রা, যা কেউ গ্রহণ করতে পারে আবার নাও পারে। সেজন্য বিক্রেতা প্রাইজবন্ড গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় ফলে আসিফ পছন্দের শার্টটি ক্রয় করতে পারেনি। উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রাইজবন্ড এক ধরনের ঋণপত্র এবং এটি ঐচ্ছিক মুদ্রা হওয়ায় বিক্রেতা তা গ্রহণ করতে বাধ্য নয়। এক্ষেত্রে মুদ্রা গ্রহণে অপরাগতার জন্য বিক্রেতাকে দোষ দেওয়া যায় না। কারণ এ ধরনের ঋণপত্র মুদ্রার মতো কাজ করলেও এগুলো মুদ্রা নয়। কেননা এ ধরনের ঋণপত্রের প্রচলন গতি কম এবং জনগণও গ্রহণ করতে আইনগত বাধ্য নয়। তাই এগুলোকে প্রায় মুদ্রা বা ঐচ্ছিক মুদ্রা বলে। এ কারণে আসিফ সমপরিমাণ টাকা দিয়েও পছন্দের শার্টটি ক্রয় করতে ব্যর্থ হয়।

72

নাবিলের বাবা একজন চাকরিজীবী। মাসের শেষে বেতন পান ২০,০০০ টাকা। তিনি পারিবারিক ব্যয়ের জন্য কিছু টাকা নগদ রাখেন এবং কিছু টাকা ব্যাংকে আমানত রাখেন। কিছুদিন পর তিনি ঠিক করলেন মুরগির খামার দেবেন। এজন্য তিনি ব্যাংক থেকে ঋণ নিলেন। ব্যাংক তাকে ১০% সুদে ৩৬ মাসে পরিশোধ করার শর্তে এই ঋণ প্রদান করে। তাঁর আয়-ব্যয়, সঞ্চয় ও ঋণ সবই অর্থের মাধ্যমে হয়ে থাকে । অর্থ ও ঋণের ব্যবসা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হয়ে থাকে। ব্যাংক জনগণের উদ্বৃত্ত অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহণ করে ঋণগ্রহীতাকে ঋণ হিসেবে প্রদান করে। আমাদের দেশের কৃষি উন্নয়ন, শিল্পায়ন, আত্মকর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

Related Question

View All
উত্তরঃ

মানুষের এক দ্রব্যের পরিবর্তে সরাসরি অন্য দ্রব্য বিনিময় করে অভাব পূরণ করার ব্যবস্থাকে বিনিময় প্রথা বলে।

535
উত্তরঃ

অধিকাংশ দ্রব্যসামগ্রী পচনশীল এবং দীর্ঘকালে সংরক্ষণ উপযোগী না হওয়ায় সঞ্চয়ের বাহন হিসেবে অর্থকেই অধিক উপযুক্ত বলে বিবেচনা করা হয়।

আবার এমন কিছু দ্রব্যসামগ্রী রয়েছে (স্বর্ণ, রূপা) যেগুলো মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হলেও সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এদের মূল্যমানের পরিবর্তন ঘটে। এমতাবস্থায় সঞ্চিত দ্রব্যের বর্তমান মূল্য ও ভবিষ্যৎ মূল্যের মধ্যে তারতম্য দেখা দিতে পারে। কিন্তু অর্থ দ্বারা সবকিছু ক্রয়-বিক্রয় তথা সহজেই বিনিময় করা যায়। তাছাড়া সময়ের বিবর্তনের সাথে এর বিনিময় মূল্যের সামঞ্জস্যতা বজায় থাকায় সঞ্চয়ের বাহন হিসেবে অর্থকেই অধিকতর নিরাপদ ও সুবিধাজনক বলা যায়। তাই অর্থ সঞ্চয়ের উৎকৃষ্ট বাহন হিসেবে কাজ করে।

576
উত্তরঃ

রত্না যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে পরিচিত।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো একটি দেশের শ্রেষ্ঠতম আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যা সরকারি মালিকানার অধীনে দেশের মুদ্রা বাজারের প্রাণকেন্দ্র রূপে কাজ করে। এটি একটি দেশের সকল ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক, পরিচালক ও অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। এ ব্যাংক নোট ও ধাতব মুদ্রা প্রচলন, সরকার ও অন্যান্য ব্যাংকের ব্যাংকার, বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ কর্তৃক সৃষ্ট ঋণ নিয়ন্ত্রণ, আন্তঃব্যাংকের দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি, অর্থের অভ্যন্তরীণ ও বহির্মুল্যের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সরকারের আর্থিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে। অন্যান্য ব্যাংকের মতো কেবল মুনাফা অর্জনই এ ব্যাংকের উদ্দেশ্য নয়; বরং দেশের উন্নয়নের স্বার্থে মুদ্রা ও ঋণ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, উন্নয়ন ও জনকল্যাণ সাধনই এর মুখ্য উদ্দেশ্য।

উদ্দীপকের রত্নার কর্মরত প্রতিষ্ঠানটি জনগণকে ঋণ দিতে পারে না, কিন্তু এটি অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিচালনার ক্ষেত্রে পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে। তার ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকের ঋণ তদারকি করে। অন্যান্য ব্যাংকগুলো তারল্য সমস্যার মুখোমুখি হলে এ ব্যাংক ঋণ আকারে অর্থ প্রদান করে এসব সমস্যা সমাধান করে।

290
উত্তরঃ

রত্না যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তা হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক; আর তার বান্ধবী যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তা হলো একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।

নিচে এ দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করা হলো-কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশে কাগজি নোট ও ধাতব মুদ্রা প্রচলনকারী একমাত্র আর্থিক প্রতিষ্ঠান; কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংক কাগজি নোট ও ধাতব মুদ্রা বাদে বিনিময়ের অন্যান্য মাধ্যম তথা চেক, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার ইত্যাদি প্রচলন করতে পারে। প্রত্যেক দেশে একটি মাত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংক থাকে; কিন্তু একটি দেশে অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংক থাকতে পারে। জনসেবা ও দেশের সার্বিক কল্যাণ সাধন করাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য; কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ সৃষ্টি করে না; কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংক নিজেদের কাছে গচ্ছিত আমানতের বিপরীতে ঋণ সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান; কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো পরস্পর প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান। তাছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংক জনগণের সাথে প্রত্যক্ষ লেনদেন করে না; কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংক জনসাধারণের সাথে আর্থিক লেনদেনের জন্যই সৃষ্ট। এভাবে রত্নার প্রতিষ্ঠানের সাথে তার বান্ধবীর প্রতিষ্ঠানের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা যায়। এক্ষেত্রে রত্নার প্রতিষ্ঠান তার বান্ধবীর প্রতিষ্ঠানের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক হয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।

225
উত্তরঃ

যে অর্থ দেশের জনসাধারণ গ্রহণ করতে আইনগতভাবে বাধ্য থাকে তাকে বিহিত অর্থ বলে।

961
উত্তরঃ

নিকাশ ঘর হলো এমন একটি স্থান বা প্রতিষ্ঠান, যেখানে একটি নিকাশ পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট এলাকা বা অঞ্চলের ব্যাংকসমূহ পরস্পরের মধ্যে দেনা-পাওনা সংক্রান্ত হিসাবের নিষ্পত্তি করে। নিকাশ ঘর বলতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক বিভিন্ন ব্যাংকের দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে বোঝায়। বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ বিভিন্ন চেক, ড্রাফট, হুন্ডি প্রভৃতি ভাঙানোর মাধ্যমে একে অন্যের নিকট পাওনাদার হয়। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ লেনদেনের 'নিকাশ ঘর' হিসেবে পারস্পরিক দেনা- পাওনার হিসাব পরিশোধ করে।

592
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews