বীজ সংগ্রহ, প্যাকেজ করা, বিক্রিপূর্ব সংরক্ষণ, বিজ্ঞপ্তি, বিক্রি এসব কাজকে বীজ বিপণন বলে।
বীজের জীবনীশক্তি ও অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা বাড়াতে এবং পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য আর্দ্রতার মাত্রা সঠিক হওয়া জরুরি। ক্ষেত থেকে যখন ফসল কাটা হয় তখন এর আর্দ্রতা থাকে ১৮% থেকে ৪০% পর্যন্ত। এই আর্দ্রতা বীজের জীবনীশক্তি নষ্ট করে ফেলে। তাই আর্দ্রতার মাত্রা ১২% যা তার নিচে নামিয়ে আনলে সেই বীজ পরবর্তী মৌসুমে নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যায়।
উদ্দীপকে প্রতিকূল পরিবেশে গরুর খাদ্য হিসেবে ঘাস সংরক্ষণের জন্য হে এবং সাইলেজ তৈরির কথা বলা হয়েছে।
হে তৈরির মাধ্যমে সবুজ ঘাস সংরক্ষণ করা হয়। হে তৈরির জন্য শিম গোত্রীয় ঘাস বেশি উপযোগী। হে তৈরির জন্য ফুল আসার সময় ঘাস কাটতে হয়। ঘাস রোদে শুকিয়ে আর্দ্রতা ১৫-২০% এর মধ্যে রাখা হয়। ঘাস শুকিয়ে মাচার উপর স্তূপাকারে বা চালাযুক্ত ঘরে সংরক্ষণ করা হয়। আবার সাইলেজ তৈরির মাধ্যমেও সবুজ ঘাস সংরক্ষণ করা হয়। সাইলেজ তৈরির জন্য ভুট্টা ও আলফা-আলফা বেশি উপযোগী। সাইলেজ তৈরির জন্য ফুল আসার সময় রসাল অবস্থায় ঘাস কাটতে হয়। ঘাস কেটে বায়ু নিরোধক স্থানে বা সাইলোপিটে রাখা হয়। সাইলোপিটে ঘাস রাখার সময় ঝোলা গুড়ের দ্রবণ ছিটিয়ে দিতে হয়। তারপর বায়ু চলাচল বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
উল্লিখিত উপায়ে ঘাস সংরক্ষণ করে পরবর্তীতে গরুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
কৃষি কর্মকর্তা আবির সাহেবকে তার খামারের গরুর জন্য প্রতিকূল পরিবেশে খাদ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেন ও দিক নির্দেশনা দিলেন।
কোনো খাদ্যের গুণাগুণ ও পুষ্টিমান ঠিক রেখে ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য খাদ্যকে প্রক্রিয়াজাত করে রেখে দেওয়াকে খাদ্য সংরক্ষণ বলে।
বাংলাদেশে প্রাপ্ত গবাদিপশুর খাদ্যের বেশিরভাগ কৃষি শস্যের উপজাত। বর্ষা মৌসুমে অনেক ঘাস উৎপাদিত হয়, যা গবাদিপশুকে খাওয়ানোর পরও অতিরিক্ত থেকে যায়। আবার শীতকালেও অতিরিক্ত শিম গোত্রীয় ঘাস উৎপাদিত হয়। কিন্তু প্রকৃতিতে যখন প্রতিকূল পরিবেশ বিরাজ করে যেমন খরা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি তখন ঘাসের উৎপাদন হ্রাস পায়। আবার অনেক সময় ঘাসের অভাব দেখা দেয়। এ সময় গবাদিপশুকে কাঁচা ঘাসের বিকল্প খাবার খাওয়ানো হয়। প্রতিকূল আবহাওয়ায় খাদ্যের অভাবে গবাদিপশু নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়। তাই এই সময় আগে থেকে সংরক্ষিত করে রাখা ঘাস পশুকে খাওয়ানো হয়। ফলে পশুর পুষ্টিজনিত সমস্যা দূর হয়।
তাই বলা যায়, কৃষি কর্মকর্তার আবির সাহেবকে দেওয়া পরামর্শ খাদ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার বিভিন্ন দিক নির্দেশ করে।
Related Question
View Allভূ-পৃষ্ঠের নরম স্তর যেখানে ফসল জন্মায়, বন সৃষ্টি হয়, গবাদিপশু বিচরণ করে তাকে মাটি বলে।
FCR (Food Conversion Ratio) হলো প্রয়োগকৃত খাদ্য ও খাদ্য গ্রহণের ফলে জীবের দৈহিক বৃদ্ধির অনুপাত। অর্থাৎ, ১ কেজি মাছ পেতে যত কেজি খাবার খাওয়াতে হয়, তাই FCR। FCR-এর মান কম হওয়ার অর্থ অল্প পরিমাণ খাদ্য প্রয়োগ করে অধিক উৎপাদন। যদি কম খাবার খেয়েও মাছের দ্রুত বৃদ্ধি হয় তবে বুঝতে হবে খাদ্যের গুণগত মান ভালো। সুতরাং, FCR-এর মান যত কম খাদ্যের গুণগত মান তত ভালো।
বীজ থেকে আর্দ্রতা বের করে দিয়ে তাতে কতটুকু আর্দ্রতা আছে তা নির্ণয় করার পদ্ধতিকে বীজের আর্দ্রতা পরীক্ষা বলে।
সফিক সাহেবের সংগ্রহকৃত নমুনা বীজের ওজন = ১০০ গ্রাম। আর্দ্রতা বের করার পর ওজন = ৯০ গ্রাম।
সুতরাং, সফিক সাহেবের বীজের আর্দ্রতার হার
= নমুনা বীজের ওজন – নমুনা বীজ শুকানোর পর ওজন/নমুনা বীজের ওজন × ১০০
অতএব, সফিক সাহেবের বীজের আর্দ্রতার হার ছিল ১০%।
সফিক সাহেব গমের আবাদ করার জন্য বীজের আর্দ্রতা, অঙ্কুরোদগম ও সতেজতা পরীক্ষা করেন।
সফিক সাহেবের বীজ পরীক্ষার কার্যক্রমটি তার সচেতনতার পরিচয় বহন করে। এই সচেতনতার কারণেই তিনি ভালো মানের বীজ বপন করে কাঙ্ক্ষিত ফলন পান। মূল জমিতে বপনের পূর্বে তিনি বীজের আর্দ্রতা পরীক্ষা করে নেন। গমের ক্ষেত্রে বীজের আর্দ্রতা ১২-১৩% রাখা ভালো। বীজের আর্দ্রতার হার যত বেশি হবে বীজের গজানোর ক্ষমতা ও তেজ ততই হ্রাস পাবে। তাই বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা ও জীবনীশক্তি বাড়াতে উপযুক্ত আর্দ্রতায় শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর তিনি বীজের অঙ্কুরোদগম ও সতেজতা পরীক্ষা করেন। নমুনা বীজের শতকরা যতটি বীজ গজায় তাই বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা। ভালো বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা থাকে প্রায় ৮০% এর উপরে। অপরদিকে বীজের সতেজতা হলো প্রতিকূল পরিবেশে বীজের অঙ্কুরিত হওয়ার ক্ষমতা।
বীজের সতেজতা ও অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা কাঙ্ক্ষিত মানের না হলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে না।
পরিশেষে বলা যায়, সফিক সাহেব উল্লিখিত পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে বীজের মান নির্ধারণ করে উন্নত বীজ ব্যবহার করতে সক্ষম হন এবং কাঙ্ক্ষিত ফলন পান। অর্থাৎ, তার বীজ পরীক্ষার কার্যক্রমটি যথার্থ ছিল।
প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি মাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য যে অতিরিক্ত খাদ্য দেওয়া হয় তাকে সম্পূরক খাদ্য বলে।
দেহের বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার জন্য মাছ পুকুরের প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে ফাইটোপ্লাংকটন (উদ্ভিদকণা) ও জু-প্লাংকটন (প্রাণীকণা) খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। কিন্তু, মাছ চাষের ক্ষেত্রে অধিক উৎপাদন পাওয়ার জন্য পুকুরে অধিক ঘনত্বে পোনা ছাড়া হয়। এ অবস্থায় শুধু প্রাকৃতিক খাদ্য মাছের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটাতে পারে না। এমনকি সার প্রয়োগ করে প্রাকৃতিক খাদ্য বৃদ্ধি করলেও তা যথেষ্ট হয় না।
মাছকে প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশপাশি সম্পূরক খাদ্য দিতে হয়। সম্পূরক খাদ্যে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের মাত্রা চাহিদা অনুযায়ী থাকে। যা মাছের দ্রুত দৈহিক বৃদ্ধি ঘটিয়ে অধিক মুনাফা অর্জনে সহযোগিতা করে। অর্থাৎ, মাছ চাষে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক উৎপাদন পাওয়ার জন্য প্রাকৃতিক খাদ্য যথেষ্ট নয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!