মানসম্মত বীজ উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা, ও সংরক্ষণকে বীজ উৎপাদন প্রযুক্তি বলে।
প্রত্যয়িত বীজ কৃষকদের নিকট বিক্রি করা হয়। কারণ এই বীজ ভিত্তি বীজ হতে উৎপাদিত হয়। বীজ অনুমোদন সংস্থার নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে বীজ উৎপাদনের নিয়মকানুন মেনে উৎপাদন করা হয় এবং মাঠে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন প্রাপ্ত।
উদ্দীপকে আবীর হাসান শীতকালীন সবজি চাষ করেন।
শীতকালীন সবজির জন্য আশ্বিন-কার্তিক মাসে বীজতলা তৈরি করতে হয়। বীজতলার আকার (৩০১) বর্গমিটার হলে ভালো হয়। একটি বীজতলার জন্য ১০-১২ গ্রাম বীজ নিতে হবে। বীজতলায় প্রায় ২০ সেমি ইট ভাঙা সুড়কি দিয়ে এর ওপর উর্বর মাটি উঁচু করে দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন বীজতলা মূল জমি থেকে কমপক্ষে ১০ সেমি ে উঁচুতে থাকে। বীজতলার মাটির সাথে পচা গোবর ও ১০ গ্রাম ইউরিয়া মিশিয়ে দিতে হবে। অতঃপর সাবধানে ২ সেমি গভীরে বীজ ছিটিয়ে তক্তার সাহায্যে উপরিভাগ সমান করে মাটি চেপে দিতে হবে।
আবীর হাসান উপরিউক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করে সবজির বীজতলা তৈরি করবেন।
আবীর হাসানের বীজতলায় রোগ ও পোকার আক্রমণ ঘটে।
কৃষি কর্মকর্তা আবীর হাসানের সবজির বীজতলার সমস্যা সমাধানে যে পরামর্শ দিয়েছিলেন তা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো-
কৃষি কর্মকর্তা আবীর হাসানকে ১০ লিটার পানিতে ৪ চা চামচ ম্যালাথিয়ন-৫৭ ইসি গুলিয়ে বীজতলায় ছিটিয়ে দিতে বলেন। আর রোগাক্রান্ত চারাগুলোকে তুলে মাটিতে পুঁতে ফেলতে অথবা পুড়িয়ে ফেলতে বলেন। বীজতলায় রোগবালাইয়ের আক্রমণ হওয়ার পূর্বেই ব্যবস্থা নিতে হবে। বীজতলা তৈরির সময় বীজতলার মাটি শোধন করে নিতে হবে এবং বীজতলার আশেপাশের পরিবেশ ভালো রাখতে হবে। উত্তমভাবে বীজতলা তৈরি না করলে ভালো চারা পাওয়া যাবে না। কৃষি কর্মকর্তা উল্লিখিত উপায়ে সবজির বীজতলার সমস্যা সমাধান করার পরামর্শ দেন।
Related Question
View Allবীজ ছাড়া উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গ (যেমন- মূল, পাতা, কান্ড ইত্যাদি) দিয়ে চারা উৎপাদনকে উদ্ভিদের অঙ্গজ বংশবিস্তার বলে।
অঙ্গজ বংশবিস্তারের একটি সুবিধা হলো তাড়াতাড়ি ফল পাওয়া যায়। বীজ রোপণ করে চারা উৎপন্ন করলে ফল পেতে অনেক সময় লাগে, যা অঙ্গজ প্রজননের ক্ষেত্রে লাগে না। এতে দ্রুত অর্থ আয় হয় ও খাদ্যের চাহিদা পূরণ করা যায়।
গোলাপের বংশবিস্তারের ক্ষেত্রে 'ক' চিত্রের পদ্ধতিটি হলো দাবা কলম এবং 'খ' পদ্ধতিটি হলো কর্তন বা ছেদ কলম।
দাবা কলম পদ্ধতিতে মাতৃগাছের মাটির নিকটে অবস্থিত শাখা নিচে নামিয়ে দুই গিটের মাঝখানের বাকল কেটে নিতে হয়। বাকলের নিচের সবুজ অংশ ছুরির ভোতা 'পাশ দিয়ে চেছে ফেলতে হয়। এরপর কাটা অংশ মাটিতে চাপা দিতে হয়। কিছুদিন পর কাটা অংশ থেকে শিকড় ও নতুন চারা গজায়। গজানো অংশ কেটে ২-৩ সপ্তাহ পর সাবধানে মাটিসহ অন্যত্র রোপণ করতে হয়। অপরদিকে কর্তন, বা ছেদ কলম পদ্ধতিতে শাখা, মূল, পাতা ইত্যাদি মাতৃগাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ছায়াযুক্ত স্থানে টবে বা নার্সারি বেডে রোপণ করতে হয়। ১৫ দিনের মধ্যে তা থেকে নতুন চারা উৎপন্ন হয়। অতঃপর চারাটি অন্যত্র মূল জমিতে রোপণ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় খুব সহজে ও কম সময়ে গোলাপের বংশবিস্তার করা যায়। তাছাড়া কাণ্ড বাঁকানোর ফলে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
অর্থাৎ, কর্তন বা ছেদ কলম পদ্ধতি গোলাপের বংশবিস্তারের ক্ষেত্রে অমিত কার্যকরী।
চিত্রের পদ্ধতিগুলো হলো দাবা কলম ও কর্তন বা ছেদ কলম যা কৃত্রিম অঙ্গজ বংশবিস্তারের প্রকারভেদ।
অঙ্গজ পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করলে নতুন বৃক্ষ তার মাতৃবৃক্ষের সকল গুণাগুণ বিশুদ্ধভাবে বহন করে। অর্থাৎ, যদি কোনো গাছের আম খুব বড় এবং মিষ্টি হয় তবে তার অঙ্গ দিয়ে উৎপাদিত গাছের আমের স্বাদ ও - আকার হুবহু এক হবে। আবার কোনো গাছের যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকে, তবে সে গাছ থেকে উৎপাদিত চারা গাছও একই গুণ পাবে। এ পদ্ধতি ব্যবহার করে উদ্ভিদে বিভিন্ন গুণগত পরিবর্তন আনা যায়। মাতৃগাছের গুণাগুণের সুবিধা ছাড়াও অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমে চারা থেকে খুব তাড়াতাড়ি ফল পাওয়া যায়। ফলে ফসল উৎপাদন যেমন দ্রুত হয়, তেমনি দ্রুত আয় এবং খাদ্য ঘাটতিও হ্রাস করা যায়।
অতএব বলা যায়, উপরের চিত্রের পদ্ধতিগুলো কম সময়ে অধিক ফসল উৎপাদনে ভূমিকা রাখতে পারে।
ফসলের পানির চাহিদা পূরণ ও ফলন বৃদ্ধির জন্য কৃত্রিমভাবে পানি সেচ দেওয়া হয়।
সেচের পানির কার্যকারিতা বৃদ্ধির একটি প্রযুক্তি হচ্ছে উপযুক্ত পদ্ধতিতে সেচ প্রদান। যেমন- বৃত্তাকার সেচ পদ্ধতিতে বহুবর্ষজীরী ফলগাছের সমস্ত জমিতে সেচ না দিয়ে যে স্থানে গাছ রয়েছে শুধু সেখানেই পানি সরবরাহ করা হয়। এতে পানি নিয়ন্ত্রণ সহজ ও পানির অপচয় কম হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
