একজন কৃষক ফসল ফলানোর জন্য যে জমি ব্যবহার করে থাকে তা-ই কৃষি খামার।
কৃষি খামারে একটি মাত্র ফসলের পরিবর্তে একাধিক ফসল উৎপাদন করাকে বলা হয় শস্য বহুমুখীকরণ। এ ক্ষেত্রে একই জমিতে বছরের নানা সময়ে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করা হয়। ১৯৯০-এর দশকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সরকার শস্য বহুমুখীকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করে
আবু সাঈদ মৎস্য চাষ, হাঁস-মুরগি পালন ও বনায়নের কাজ করেন যা কৃষিখাতের অন্যতম উপখাত মৎস্যসম্পদ, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি এবং বনজ সম্পদ উপখাতের অন্তর্ভুক্ত। নিচে এ উপখাতের অবদান ব্যাখ্যা করা হলো-
বাংলাদেশের কৃষিখাতের মোট উৎপাদনের ১১% আসে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগী উপখাত থেকে। ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য, মাংসনির্ভর শিল্প এ উপখাতের উপর নির্ভরশীল। এছাড়া বনজ সম্পদকে কৃষিখাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপখাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পাহাড়ি এলাকা, নদীর পাড়, রাস্তার দুই ধার, বাড়ির আশ-পাশে জমির আইলেও বর্তমানে গাছ লাগানো হয়। বাংলাদেশের কৃষিখাতের প্রায় ১১% আসে বনজ উপখাত থেকে। বাংলাদেশের জন্য মৎস্য একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। নদীমাতৃক দেশে প্রচুর মৎস্যসম্পদ থাকায় এ দেশের মানুষকে মাছে-ভাতে বাঙালি বলা হয়। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জিডিপিতে মৎস্যখাতের অবদান ছিল ৩.৬৯% যা কৃষির অবদানের ২৩%। অতএব মৎস্য, বনায়ন ও হাঁস-মুরগি পালন উপখাতের অবদান ৪৫%, যা কৃষিখাতে অনেক অবদান রাখে।
তাই বলা যায় যে, আবু সাঈদ যে কাজ করেন দেশের অর্থনীতিতে তার অবদান অনেক।
আবু সাঈদের ভাইয়েরা ধান উৎপাদনের কাজ করেন, যা কৃষি উৎপাদনে সর্বোচ্চ। নিচে এ বিষয়ে মূল্যায়ন করা হলো-
মূলত চারটি উপখাতের উৎপাদনের সমষ্টিই হচ্ছে মোট কৃষি উৎপাদন। এর মধ্যে ফসল উৎপাদন হচ্ছে অন্যতম।
কৃষিজমিতে ধান, পাট, ডালসহ নানা ধরনের শস্য উৎপাদনের খাতকে বাংলাদেশে কৃষির ফসল উপখাত বলে। এটি কৃষির সবচেয়ে বড় উপখাত। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১.৯৭ কোটি একর জমিতে ফসল উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয় ৯০% জমিতে এবং বাকি ১০% জমি ব্যবহার করা হয় অর্থকরী ফসল উৎপাদনে। খাদ্যশস্য উৎপাদনে ব্যবহৃত জমির প্রায় ৮০% ব্যবহার হয় ধান চাষে। এ খাতে উৎপাদিত প্রধান শস্য ও ফসলগুলো হলো: ধান, পাট, গম, ডাল, তৈলবীজ, আখ, আলু, শাকসবজি, তামাক, যব, ভুট্টা, চা, রেশম ইত্যাদি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট জাতীয় আয়ে কৃষির অবদান ১৫.৩৫ শতাংশ। কৃষি উৎপাদনের প্রায় ৫৬% ফসল উপখাতে উৎপাদিত হয়।
তাই বলা যায়, আবু সাঈদের ভাইয়েরা ধান উৎপাদনের কাজ করেন, যা কৃষি উৎপাদনে সর্বোচ্চ, উক্ত কথাটি যথার্থ।
Related Question
View Allসেচ হলো কৃত্রিমভাবে কৃষিজমিতে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা।
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪৫.১% কৃষি খাতে নিয়োজিত। কিন্তু এ দেশের অধিকাংশ কৃষক ভূমিহীন ও দরিদ্র। ফলে কৃষিকাজের সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য ঋণ গ্রহণ করতে হয়। তাই কৃষকরা বিভিন্ন উৎস থেকে কৃষিঋণ গ্রহণ করে।
উদ্দীপকের ঘটনা অনুসারে আব্দুল করিম কৃষিপণ্যের বিপণন বা বাজারজাতকরণের সাথে জড়িত। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-উৎপাদিত ফসল ভোক্তার নিকট তথা ক্রেতার নিকট পৌঁছে দেওয়ার যাবতীয় কার্যক্রম বা প্রক্রিয়াকে কৃষিপণ্যের বিপণন বা বাজারজাতকরণ বলে। এ ধরনের পেশার লোকদের দালাল বা ফড়িয়া বলে। বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ক্রেতা বা ভোক্তার চাহিদামতো কৃষিপণ্য উৎপাদন করা বাজারজাতকরণের প্রথম ধাপ। বিপুল কৃষিপণ্য একসাথে বিক্রি করা যায় না। ফলে কৃষিপণ্য গুদামজাত ও সংরক্ষণ করতে হয়। বিক্রির উদ্দেশ্যে কৃষিপণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌছানোর জন্য পরিবহনের প্রয়োজন হয়। ক্ষেত থেকে ফসল ক্রয় করা, গুদামজাতকরণ, পরিবহন ইত্যাদির জন্য বিপণনের কাজে ব্যবসায়ী/কৃষকের অর্থের যোগান থাকতে হয়। অতঃপর উক্ত কৃষিপণ্যসমূহ বাজারে বিক্রয় করতে হয়। আব্দুল করিমও ফসলের মৌসুমে কৃষকদের অগ্রিম টাকা দিয়ে রাখেন তাদের ফসল কেনার জন্য। কৃষকদের থেকে সংগৃহীত ফসল তিনি শহরের বাজারে সরবরাহ করেন। এই মধ্যপন্থী কার্যক্রম, অর্থাৎ বাজারজাতকরণের মাধ্যমে আয় করে তার সংসার চালান।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, বাজারজাতকরণ বা বিপণন পেশা আমাদের দেশে প্রয়োজনীয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হলেও এ দেশের অধিকাংশ কৃষক অশিক্ষিত। তারা অনেক পরিশ্রম করে শস্য ফলায়। তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রি করলে ভালো দাম পায় না। তাই তারা দালাল বা ফড়িয়াদের কাছে সাধারণ দামের চেয়ে একটু বেশি দামে তাদের উৎপাদিত ফসল বিক্রির চেষ্টা করে। দালাল বা ফড়িয়ারা ওই ফসল শহরে আরও বেশি দামে বিক্রি করে। এতে তারা নিজেরাও লাভবান হয়, আবার কৃষকরাও সাধারণের থেকে একটু বেশি লাভবান হয়। এই দালাল বা ফড়িয়াদের মাধ্যমে বাংলাদেশের গ্রাম থেকে গঞ্জে এবং গঞ্জ থেকে শহরে বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য ভোক্তার কাছে আসে। বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্য বিদেশে রপ্তানি করার কাজেও এ ধরনের দালাল বা ফড়িয়াদের অবদান রয়েছে। আমাদের দেশে এই ধরনের দালাল ও ফড়িয়ারা আছে বলেই কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সঠিক সময়ে বিক্রি করতে পারছে। তবে বর্তমানে কিছু ভুয়া দালাল ও ফড়িয়া কৃষকদের ঠকিয়ে তাদের কষ্টে উৎপাদিত পণ্য আত্মসাৎ করছে। যার ফলে সরকার ওই দালাল ও ফড়িয়াদের দূর করতে নিজেরাই কৃষকদের কাছ থেকে ধান/চাল কিনছে। কিন্তু এ দেশে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে দালাল ও ফড়িয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই আমি মনে করি, আমাদের দেশে এ ধরনের পেশা প্রয়োজন।
একজন কৃষক ফসল ফলানোর জন্য যে জমি ব্যবহার করে থাকে তা-ই কৃষি খামার।
কৃষি খামারে একটি মাত্র ফসলের পরিবর্তে একাধিক ফসল উৎপাদন করাকে বলা হয় শস্য বহুমুখীকরণ। এ ক্ষেত্রে একই জমিতে বছরের নানা সময়ে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করা হয়। ১৯৯০-এর দশকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সরকার শস্য বহুমুখীকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করে
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!