আব্দুল্লাহ ব্যবসার ক্ষেত্রে সততা অবলম্বন করেন। ইসলামে এর গুরুত্ব ও ফজিলত অনেক। ব্যবসা-বাণিজ্য একটি পবিত্র পেশা। ইসলামে ব্যবসায়ীদেরকে সৎ ও বিশ্বস্ত থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী মুসলিম ব্যবসায়ীদেরকে শহিদদের সাথে তুলনা করা হয়েছে। রাসুল (স) বলেন, 'বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী মুসলিম ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন শহিদদের সাথে থাকবে' (মুসতাদরাক হাকিম)। উদ্দীপকে বর্ণিত আব্দুল্লাহ বর্তমানে কাপড়ের ব্যবসা করেন। ব্যবসার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত সৎ। মানুষকে কোনোরূপ প্রতারণা করেন না। হাদিস অনুযায়ী তিনি কিয়ামতের দিন শহিদদের সাথে অবস্থান করবেন। ব্যবসায়ের পদ্ধতি ও প্রকৃতিই এমন যে, ব্যবসায়ী ইচ্ছা করলে এর মধ্যে প্রতারণা করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। সেজন্য ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ায় বিশ্বস্ত ও সৎ থাকা তুলনামূলকভাবে একটু বেশি কঠিন। এজন্যই সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত মুসলিম ব্যবসায়ীর জন্য পুরস্কারের ঘোষণাও বিপুল। তারা কিয়ামতের কঠিন দিনে শহিদদের সাথে আনন্দে আরশের ছায়ার নিচে অবস্থান করবে।
পরিশেষে বলা যায় যে, আব্দুল্লাহর ব্যবসায় নীতি ইসলামের পরিপন্থি নয়। ব্যবসার ক্ষেত্রে সততা অবলম্বন করার কারণে কিয়ামতের দিন তিনি শহিদদের সাথে আরশের ছায়ার নিচে অবস্থান করবেন।
Related Question
View All'নিফাক' অর্থ- কপটতা, ভণ্ডামি ইত্যাদি।
'হুরুফে মুকাত্তায়াত' বলতে কুরআনে সংযোজিত বিচ্ছিন্ন বর্ণসমূহকে বোঝায়। কুরআন মাজিদের মোট ২৯টি সুরার শুরুতে হুরুফে মুকাত্তায়াত রয়েছে। প্রত্যেক গ্রন্থেই কিছু গোপন বিষয় থাকে, আর আল- কুরআনের গোপন বিষয় হলো হরফে মুকাত্তায়াত। তাফসিরকারগণের মতে যেসব বর্ণের প্রকৃত অর্থ ও যথার্থ মর্ম আল্লাহ ছাড়া আর কেউ অবহিত নয় তাকেই 'হুরুফে মুকাত্তায়াত' বলে। যেমন- এর অর্থ আল্লাহ ছাড়া আর কেউ অবগত নয়।
মিথ্যাচার করা মুনাফিকের স্বভাব। মুনাফিক বলতে তাদেরকে বোঝায়, যারা মৌখিকভাবে ইমানের ঘোষণা দেয়, নামাজ, রোজাও পালন করে, কিন্তু অন্তরে কুফরি পোষণ করে। এদের মুখের ভাষা এক রকম কিন্তু অন্তর অন্যরকম। উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১ এ দেখা যায় রাইয়্যান এ স্বভাবের অধিকারী।
উদ্দীপকের রাইয়্যান মিথ্যাচারের মাধ্যমে মুনাফিকি করে। সুরা আল বাকারায় দ্বিতীয় রুকুতে আল্লাহ তায়ালা মুনাফিকদের করুণ পরিণতির কথা তুলে ধরেছেন। মুনাফিকরা ইমান আনার কথা বলে আল্লাহ ও মুমিনদের ঠকাতে চায়। কিন্তু তাদের এ কাজের কারণে নিজেরাই ঠকে। তাদের এরূপ কাজের কারণে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রকৃতপক্ষেই মুনাফিকদের অন্তরে থাকে নিফাক, কুফর, শিরকের ব্যাধি। তাদের এসব স্বভাবের কারণে পাপপ্রবণতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত থেকে বঞ্চিত হয়। তারা পৃথিবীতে অসম্মান ও অবিশ্বাসের পাত্রে পরিণত হয়। তাছাড়া পরকালীন জীবনেও তাদের কল্পনাতীত শাস্তি পেতে হবে। হাদিসেও নবি (স) মুনাফিকদের শাস্তির কথা বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া মুনাফিকদের তিনটি গুণের মধ্যে মিথ্যাচার একটি। মিথ্যাচারকে মহানবি (স) সব পাপের মূল হিসেবে অবহিত করেছেন।
ওপরের আলোচনার আলোকে বলতে পারি, রাইয়্যান মিথ্যাচার করার মাধ্যমে মুনাফিকির স্বভাব পোষণ করছে। যার জন্য পরকালে তাকে কঠোর শাস্তি পেতে হবে।
উম্মাহর ঐকমত্যের জন্য বর্তমানে ইজমার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। ইজমা হচ্ছে সমকালীন বিজ্ঞ আলেমদের কোনো বিষয়ের ওপর ঐকমত্য। ধর্মীয় বা পার্থিব যেকোনো বিষয়ের বিধান উদ্ভাবন, প্রবর্তন বা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেকোনো যুগের মুসলিম মুজতাহিদ আলেমদের ঐকমত্যের মাধ্যমেই ইজমা হয়ে থাকে।
উদ্দীপকের দৃশ্যপট-২ এ রফিক ইসলামিক স্টাডিজ নিয়ে অধ্যয়ন করার কারণে ইজমার ব্যাপারে জানতে পারে। সে মুসলিম উম্মাহর ঐকমত্যের জন্য উদগ্রীব। বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন বৈপরীত্য মাসয়ালার সুন্দর সমাধানে ইজমার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। ইসলামি আইনের উৎসসমূহের মধ্যে কুরআন ও হাদিসের পরেই এর অবস্থান হওয়াতে এর দ্বারা শরিয়তের বিভিন্ন মাসয়ালা প্রণয়নে এর প্রয়োজন পড়ে। কুরআন ও হাদিসে যে পরিমাণ সমস্যার সমাধান পেশ করা হয়েছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অনেকগুণ বেশি বিষয়ে কোনো সমাধান দেওয়া হয়নি। এক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিধান প্রবর্তন করতে ইজমার বিকল্প নেই। নবোদ্ভাবিত সব সমস্যার সমাধানে ইজমা অনিবার্য। তাছাড়া মহানবি (স) বলেছেন- 'আমার উম্মত বিভ্রান্তির ওপর এক হবে না।' রাসুল (স) এর এ বাণীর মধ্যেই ইজমার গুরুত্ব বিদ্যমান। কেননা রাসুল (স) নিজেই ইজমার প্রতি ইঙ্গিত করে আলেমদের ঐকমত্যে পৌঁছানোর উপদেশ দিয়েছেন।
ওপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলতে পারি, বর্তমান বিশ্বে নতুন নতুন যেসব ধর্মীয় বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে তা ইজমার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।
রুখসাত অর্থ অবকাশ, ঐচ্ছিক বা হালকা।
যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিরাই ইজমা করতে পারবে। ইজমা সম্পাদনে যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের 'আহলুল ইজমা' বলা হয়। রাসুল (স)-এর ইন্তেকালের পর সাহাবিরা ছিলেন ইজমার আহল। কেননা রাসুলের পর তারাই ছিলেন ইসলামি শরিয়ত সম্পর্কে অভিজ্ঞ, রাসুল (স)-এর পছন্দনীয় এবং সমাজে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। সাহাবিদের যুগের পরে অভিজ্ঞ আলিমগণ ইজমা প্রদান করতে পারবেন। এভাবে শরিয়ত সম্পর্কে অভিজ্ঞ এবং সর্বজন গ্রহণযোগ্য মানুষ, যারা ইজমা প্রদান করলে তা শরিয়তের বিধানে পরিণত হবে সে ধরনের ব্যক্তি বা মানুষদের আহলুল ইজমা বা ইজমার আহল বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!