শিক্ষার আরবি প্রতিশব্দ تَعَلَّمَ তাআল্লুম مَعْرِفَةً (মাআরিফাহ)।
ইসলামি নীতিমালা, অনুশাসন ও বিধি মোতাবেক মানুষের জ্ঞান, কর্মদক্ষতা, চরিত্র ও মানসিক শক্তি বিকাশের প্রয়াসকে ইসলামি শিক্ষা বলে।
ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামকে একটি পরিপূর্ণ জীবনাদর্শ হিসেবে শিক্ষা দেওয়া হয়। এ শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীর মন- মানসিকতা এমনভাবে গড়ে তোলে যাতে, সে ইসলামের আদর্শে জীবনের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার যোগ্যতা অর্জন করে।
জায়েদের উক্তিতে ইসলামি শিক্ষার স্বরূপ ফুটে উঠেছে, যা সম্পূর্ণ সঠিক।
ইসলামি শিক্ষা দুনিয়া ও আখিরাতের সমন্বিত শিক্ষা। এ শিক্ষায় পার্থিব জগতের কল্যাণকে গুরুত্বহীন মনে করা হয় না। সাথে সাথে আখিরাতের জীবনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দোয়া শিক্ষা, দিয়েছেন- হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়ার জীবনে কল্যাণ দাও, পরকালেও দাও আর রক্ষা কর জাহান্নামের আজাব থেকে। (সুরা বাকারা: ২০১)
এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ইসলামি শিক্ষা দুনিয়া ও আখিরাতের সমন্বিত শিক্ষা, যা জায়েদের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে। তাছাড়া জায়েদের বক্তব্য অনুযায়ী এ শিক্ষা তাওহিদ ও রিসালাতভিত্তিক। তার এ বক্তব্য সঠিক। কারণ এ শিক্ষার মূলকথা হলো- আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (স) আল্লাহর রাসুল। এ কালিমার প্রথম অংশে আমরা তাওহিদের ঘোষণা দেই আর শেষাংশে ঘোষণা দেই রিসালাতের।
তাছাড়া এ শিক্ষা ইবাদতকেন্দ্রিক। এ শিক্ষা আমাদেরকে অবহিত করে যে, আল্লাহ আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য। সুতরাং বলা যায়, জায়েদের উক্তিটিতে মূলত ইসলামি শিক্ষার এ শাশ্বত স্বরূপটিই ফুটে উঠেছে।
আব্দুল্লাহ ইসলামি শিক্ষার গুরুত্ব ও তাৎপর্যগত দিকটি উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়নি। তাই তার বক্তব্যটির সাথে আমি একমত নই। ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। মানুষের জীবনের প্রতিটি দিক ও বিভাগের সামগ্রিক দিক নির্দেশনা এতে রয়েছে। আর ইসলামি শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমেই মানুষ এ নির্দেশনা পেতে পারে। এ শিক্ষা মানুষকে পার্থিব ও বৈষয়িক উন্নতির নির্দেশনা প্রদান করে।
ইসলামি শিক্ষা অধ্যয়ন করে পার্থিব জগতে উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছা সম্ভব। একই সাথে এ শিক্ষা অধ্যয়নের মাধ্যমে | আখিরাতের শান্তি ও মুক্তি লাভ করা যায়। ইসলামি শিক্ষা আমাদেরকে পার্থিব জগতের উন্নতি করতে নিরুৎসাহিত করে না, বরং উৎসাহিত করে।
এ শিক্ষা অধ্যয়নের মাধ্যমে বৈধ পন্থায় উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করতে কোনো বাধা নেই। উদ্দীপকের আব্দুল্লাহ পার্থিব জীবনে উন্নতির শিখরে পৌঁছে যায় এমন একটি বিষয় নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক অধ্যয়ন করতে চায়। সে ইসলাম শিক্ষা বিষয় নিয়ে পড়তে অনাগ্রহ প্রকাশ করে, যা অনুচিত। উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ইসলামি শিক্ষা একটি সমন্বিত শিক্ষা। এ শিক্ষা অর্জন করে একজন ব্যক্তি বৈষয়িক কল্যাণ অর্জনের পাশাপাশি আখিরাতে মুক্তি অর্জন করতে পারে। কিন্তু আব্দুল্লাহর উক্তিটি এ চরম সত্যকে অস্বীকার করে। তাই তার বক্তব্যটি আমি সমর্থন করি না।
Related Question
View Allকযে শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামকে একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা দেওয়া হয় তাকে ইসলাম শিক্ষা বলে। বলে
ইসলাম শিক্ষা আল্লাহর একত্ববাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় একে তাওহিদভিত্তিক শিক্ষা বলা হয়।
'তাওহিদ' শব্দের অর্থ একত্ববাদ। ইসলাম শিক্ষার মূলকথা হলো- لا اله الا الله অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা এবং ইবাদত ও আনুগত্যের যোগ্য এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে মুখে স্বীকার ও অন্তরে বিশ্বাস করার নাম তাওহিদ। পৃথিবীতে যত নবি- রাসুল এসেছেন তাদের প্রত্যেকেই এই তাওহিদের দাওয়াত দিয়েছেন। তাওহিদে বিশ্বাস ছাড়া কোনো ব্যক্তিই মুমিন বা মুসলমান হতে পারে না। এজন্যই ইসলাম শিক্ষা তাওহিদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
ছকে 'ক' দলের আলোচিত বিষয়গুলো ইসলাম শিক্ষার ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যকে বোঝায়।
ইসলাম শিক্ষায় ইসলামকে একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা দেওয়া হয়। এ শিক্ষার সাধারণত দুই ধরনের উদ্দেশ্য রয়েছে। যথা- ধর্মীয় ও সামাজিক। ধর্মীয় উদ্দেশ্যগুলো হলো- আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করা, তাঁর ওপর ইমান আনা এবং ইবাদতের পদ্ধতি ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানা। যথাযথভাবে আল্লাহর ইবাদত করা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের ক্ষেত্রে ইসলামের বিধিবিধান মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে বান্দার সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। ছকে 'ক' 'দলের শিক্ষার্থীদের আলোচনায় এ বিষয়গুলোই ফুটে উঠেছে।
ইসলাম শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো ইসলামকে সঠিকভাবে জানা এবং বাস্তব জীবনে তা মেনে চলার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি সৃষ্টিকর্তা, রিজিকদাতা, আইন প্রণেতা এবং সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী একমাত্র সত্তা। তিনি অনাদি এবং অনন্ত। আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ এবং তার পূর্ণ আনুগত্যের শিক্ষা দেওয়াও ইসলাম শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' দলের আলোচিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে ইসলাম শিক্ষার ধর্মীয় উদ্দেশ্যগুলোই বোঝানো হয়েছে।
'খ' দলের আলোচনায় ইসলাম শিক্ষার দু'ধরনের উদ্দেশ্যের মধ্যকার সামাজিক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আর আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীতে মানুষের বিশেষ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। ইসলাম শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ সেসব দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানলাভ করতে পারে। যা ছকের 'খ' দলের আলোচনায় ফুটে উঠেছে।
ইসলাম শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর দীন ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করা। তাছাড়া এ শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো- মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া, ভালো কাজের আদেশ দেওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা। সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করা মুসলমানদের পবিত্র দায়িত্ব। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, 'তোমরা উত্তম জাতি। মানুষের কল্যাণের জন্যই তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে ও মন্দকাজে নিষেধ করবে' (সুরা আলে ইমরান: ১১০)। ইসলাম শিক্ষার অন্যতম সামাজিক উদ্দেশ্য হলো হালাল-হারাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানার্জন করা। এর ফলে ব্যক্তি হালাল উপার্জন করতে উৎসাহিত হবে এবং হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকবে। কেননা হালাল উপার্জন, ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত। ইসলামের শিক্ষা সঠিকভাবে মেনে চলার মাধ্যমে পরকালীন মুক্তির পাশাপাশি দুনিয়ার জীবনেও কল্যাণ লাভ করা যায়।
উদ্দীপকের 'খ' দলের শিক্ষার্থীদের আলোচনায় উপরের বিষয়গুলোই ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, তাদের আলোচনায় ইসলাম শিক্ষার সামাজিক উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে।
ইসলামি সংস্কৃতির উৎস হলো- কুরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াস।
দুনিয়ার কল্যাণ ও আখিরাতের মুক্তির জন্য ইসলামে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব অপরিসীম।
ইসলামে জ্ঞানার্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত মানুষ ও পূর্ণাঙ্গ মুসলিম হওয়ার জন্য জ্ঞানার্জনের বিকল্প নেই। আল-কুরআনের বহু আয়াতে এবং রাসুলুল্লাহ (স)-এর বিভিন্ন হাদিসে জ্ঞানার্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসলামের মৌলিক জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ। সৃষ্টির শুরুতে ফেরেশতাদের ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার মূলেও ছিল জ্ঞান। ইসলামের সঠিক জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজেকে পাপমুক্ত করে জান্নাতের উপযুক্ত করে গড়ে তোলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!