WTO-এর পূর্ণরূপ World Trade Organisation.
যেসব কাজের জন্য পূর্ব মজুরি নির্ধারিত নয়, করের আওতায় আনাও কঠিন এবং সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত নয়, সেসব কাজকে অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম বলে।
নিজের জমি, দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ, গৃহস্থালি কর্ম, হকারি, দিনমজুরি প্রভৃতি অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাজ। অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশের বেশির ভাগ কাজ এ খাতে হয়ে থাকে। অতীত কাল থেকে চলে আসছে বলে অনেকে এসব কাজকে অর্থনীতির প্রথাগত খাতও বলে।
উদ্দীপকে কুটিরশিল্প ও বৃহৎ শিল্পের কথা বলা হয়েছে।
যে শিল্পে উৎপাদন ও বিপণনের কাজাট প্রধানত মালিক নিজে বা তার পরিবারের সদস্যরা করে থাকে সেগুলোকে কুটিরশিল্প বলে। আমাদের দেশে তাঁতবস্ত্র, মাটির তৈরি জিনিসপত্র, বাঁশ, বেত ও কাঠের কাজ, আগরবাতি ইত্যাদি কুটিরশিল্পের কয়েকটি উদাহরণ। অন্যদিকে যে সব শিল্প প্রতিষ্ঠানে প্রচুর মূলধন ও লোকবলের প্রয়োজন হয় এবং উৎপাদন ক্ষমতা বেশি থাকে সেগুলোকে বৃহৎ শিল্প বলা হয়। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এ শিল্পে উৎপাদিত সামগ্রীর একটা বড় অংশ বিদেশে রপ্তানি করা হয়। তাই এ শিল্পগুলো দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকের আমজাদ আলী আগে নিজে তাঁতবস্ত্র তৈরি করে হাটে বিক্রি করতেন। তাঁতবস্ত্র, মাটির তৈরি জিনিসপত্র, বাঁশ, বেত ও কাঠের কাজ, আগরবাতি ইত্যাদি কুটিরশিল্পের অন্তর্গত। আমজাদ আলী এখন কয়েকটি কারখানার মালিক। দেশের চাহিদা মিটিয়ে তিনি পণ্য বিদেশেও রপ্তানি করছেন। অর্থাৎ এ কারখানাগুলো বৃহৎ শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে কুটিরশিল্প ও বৃহৎ শিল্পের কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আমজাদ আলীর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহ অর্থাৎ বৃহৎ শিল্পের অবদান অপরিসীম।
পাট, বস্ত্র, চিনি, সিমেন্ট, সার, ইঞ্জিনিয়ারিং, বিদ্যুৎ প্রভৃতি বৃহৎ শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এ শিল্পে উৎপাদিত সামগ্রীর একটা বড় অংশ বিদেশে রপ্তানি করা হয়। তাই এ শিল্পগুলো দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে। নগরের বিকাশ ও মানুষের জীবনমান বৃদ্ধির ফলে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও শিল্পের ভূমিকা ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কৃষির পর দেশের বিরাট সংখ্যক মানুষের জীবিকার সংস্থানও হচ্ছে এই শিল্পখাত থেকেই। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পের প্রসার লক্ষ লক্ষ মানুষ বিশেষ করে নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে রপ্তানি আয় হয়েছে ৫৫,৫৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর সিংহভাগই শিল্পখাত থেকে এসেছে।
উদ্দীপকের আমজাদ আলী বর্তমানে কয়েকটি কারখানার মালিক। হাজার হাজার শ্রমিক তার কারখানায় কাজ করে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে তিনি বিদেশেও পণ্য রপ্তানি করছেন। অর্থাৎ জাতীয় অর্থনীতিতে তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৃহৎ শিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
Related Question
View AllSAFTA-এর পুরো নাম 'South Asian Free Trade Area' বা দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য এলাকা।
মাঝারি শিল্প বলতে সেসব শিল্পকে বোঝায়, যেখানে দেড় কোটি টাকার অধিক মূলধন খাটানো হয়।
মাঝারি শিল্পের উদাহরণ হলো হাল্কা ইঞ্জিনিয়ারিং, সিল্ক, সিরামিক, কোন্ড স্টোরেজ বা হিমাগার ইত্যাদি। দেশের চাহিদা পূরণ ও অনেক লোকের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এ ধরনের শিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তমিজ উদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের কাজ অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কার্যাবলির আওতাভুক্ত।
সাধারণত যেসব অর্থনৈতিক কাজের জন্য মজুরি নির্ধারিত নেই, করের আওতায় আনা কঠিন এবং যা সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় না তাকে অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাজ বলে। যেমন- নিজের জমি, দোকান বা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে কাজ করা, গৃহস্থালি কর্ম, হকারি, দিনমজুরি ইত্যাদি। আবহমানকাল থেকে চলে আসছে বলে অর্থনীতিবিদরা এসব কাজকে অর্থনীতির প্রথাগত খাতও বলে থাকেন।
উদ্দীপকের তমিজ উদ্দিন ও তার ছেলেরা জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করেন। আবার অবসর সময়ে তিনি একটি মুদির দোকান চালান। এ প্রেক্ষিতে বলা যায়, তমিজ উদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদের কাজ অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাজের আওতাভুক্ত। কারণ তাদের এ কাজের জন্য কোনো নির্ধারিত মজুরি নেই, তা করের আওতায় আনা কঠিন এবং সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিতও নয়।
তমিজ উদ্দিনের মতো মানুষের কাজ তথা অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কার্যাবলি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে- বক্তব্যটি যথার্থ।
বিশ্বের অন্য যেকোনো উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও অনানুষ্ঠানিক খাত অন্যতম ভূমিকা পালন করছে। গ্রামের একজন কৃষক ও তার পরিবারের সদস্যরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমিতে কাজ করেন। তাদের এ অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। f এমনিভাবে কামার-কুমোরের কাজসহ বিভিন্ন কুটিরশিল্প, মুদির দোকান ও অন্যান্য ছোটখাটো ব্যবসাও অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাজ হিসেবে জাতীয় অর্থনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একইভাবে শহরাঞ্চলে বসবাসকারী স্বল্প ও মাঝারি আয়ের অনেক মানুষও অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাজে নিয়োজিত থেকে অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।
সামগ্রিক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার পরও আমাদের অর্থনীতির অগ্রগতিতে প্রথাগত বা অনানুষ্ঠানিক কার্যাবলি তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য হচ্ছে, শিল্পায়নের মাধ্যমে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন এবং বিদেশি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা।
অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম বলতে এমন অর্থনৈতিক কাজকে বোঝায়, যা করের আওতায় আনা কঠিন এবং সরকার কর্তৃক যাতে কোনো নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয় না।
আবহমানকাল থেকে চলে আসছে বলে অর্থনীতিবিদরা একে 'প্রথাগত খাত' হিসেবেও অভিহিত করেন। এ ধরনের কাজের উদাহরণ হচ্ছে-নিজের জমি, দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ, গৃহস্থালি কর্ম, হকারি ইত্যাদি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!