'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীমউদ্দীনের কাহিনিকাব্য।
গায়ের রং কালো বলে কাউকে অবহেলা করতে নেই বলেই কবি প্রকৃত সত্যটা বোঝাতে চেয়েছেন।
কৃষকের ছেলে বলে তাদের যারা অবহেলা করে কবি তাদেরকে প্রকৃত সত্যটা বোঝাতে চেয়েছেন। কবি মনে করেন গায়ের রং কালো বলে কাউকে অবহেলা করতে নেই। কারণ কালো চোখ দিয়েই আমরা এই পৃথিবীর সৌন্দর্য অবলোকন করি। আমরা যে কেতাব-কোরান পড়ি তা কালো কালি দিয়েই লেখা। তাই কৃষকের ছেলের গায়ের রং কালো বলে যারা অবহেলা করে কবি তাদের প্রকৃত সত্যটা বোঝাতে চেষ্টা করেছেন।
কিশোর বয়সের উদ্দামতার দিক থেকে উদ্দীপকটি 'রূপাই' কবিতার রূপাইয়ের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
কর্মের মধ্য দিয়েই মানুষ দেশ ও জাতির উন্নতি করে। দেশের কর্মদক্ষ ছেলেরাই উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে। তাই তাদের কর্ম ও কর্মসাধনাকে আমাদের অবশ্যই শ্রদ্ধা জানানো উচিত।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কিশোর বয়সের উদ্দামতা প্রতিফলিত হয়েছে। নবীন কিশোরেরা কচি প্রাণের ছোঁয়ায়, উষার আলোয় স্নান করে সফলতা আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। সব বাধা দূর করে তারা নবীন গৌরবে ছড়িয়ে দেবে সফলতার সৌরভ। 'রূপাই' কবিতায়ও কবি কৃষকসন্তান রূপাইয়ের কর্মদক্ষতার কথা প্রকাশ করেছেন। কবির মতে কৃষকের এই কালো ছেলে তার কাজের মধ্য দিয়ে সবার মন জয় করেছে। তার কর্মদক্ষতা, খেলার পারদর্শিতা সবার গর্বের বিষয়। কবি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই রূপাই তার উদ্দামতা দিয়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করবে। আর এদিক থেকেই উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার রূপাইয়ের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপকটি 'রূপাই' কবিতার একটি বিশেষ অংশই প্রতিফলিত করে, সামগ্রিক বিষয় নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
কৃষিপ্রধান আমাদের এই দেশে কৃষকদের ভূমিকা অনেক। তাদের উদ্যমী কর্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশ উন্নতির পথে এগিয়ে যায়। তাই দেশের সার্বিক মঙ্গল সাধন করার লক্ষ্যে আদর্শবাদী, কর্মদক্ষ ছেলের একান্ত প্রয়োজন।
উদ্দীপকের কবিতাংশে দেশের সার্বিক উন্নতি ও কল্যাণ সাধনে কিশোর বয়সের উদ্দামতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। কবি মনে করেন কিশোরেরা উষার আলোয় স্নান করে দেশকে আলোর পথে নিয়ে যেতে চায়। তাদের কর্মোদ্যমী মনোভাব সব বাধা দূর করে গৌরবের সৌরভছড়িয়ে দেবে। 'রূপাই' কবিতায়ও কবি কৃষকসন্তান রূপাইয়ের কর্মোদ্যমী মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন। রূপাই সারা দিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে মাঠে কাজ করে সোনার ফসল ফলায়। শুধু কৃষি কাজ নয়, রূপাই গানে যেমন দক্ষ তেমনই সব কাজে পারদর্শী।
'রূপাই' কবিতায় কবি রূপাইয়ের কর্মদক্ষতা ছাড়াও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বাংলার গ্রামের বর্ণনা দিয়েছেন। মূলত শস্য-শ্যামল বাংলার অপরূপ রূপের প্রকাশ ঘটেছে রূপাইয়ের শারীরিক বর্ণনার মধ্য দিয়ে। এসেছে কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম করার কথা। রূপাই বাংলার সমস্ত কৃষকের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলায় স্থান করে নিয়েছে। আর উদ্দীপকে আলোচ্য কবিতার সঙ্গে মিল রেখে কিশোর বয়সের উদ্দামতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allচাষির ছেলের 'গা-খানি' দেখতে শাওন মাসের তমাল তরুর মতো।
আলোচ্য চরণটির মধ্য দিয়ে কবি বোঝাতে চেয়েছেন সভ্যতা নির্মাণে চাষির ছেলের কৃতিত্ব।
কৃষক সভ্যতার নির্মাতা। দেশের অর্থনীতির চালক। কালো কৃষকরা সারা দিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ফসল ফলিয়ে পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে যান। চাষির ওই কালো ছেলে রূপাইও তার শ্রম দিয়ে সবকিছু জয় করেছে।
উদ্দীপক ও 'রূপাই' কবিতার আলোকে বলতে পারি আমার দেখা পল্লিগ্রামটি অতি মনোরম।
বাংলাদেশ গ্রামপ্রধান দেশ। এদেশের মানুষ প্রকৃতির নিবিড় বন্ধনে জড়িয়ে রয়েছে। বাংলার মাটে-ঘাটে ছড়ানো অবারিত সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করে।
'রূপাই' কবিতায় শস্য-শ্যামল বাংলার অপরূপ রূপের প্রকাশ ঘটেছে রূপাইয়ের শারীরিক বর্ণনার মধ্য দিয়ে। অন্যদিকে উদ্দীপকেও গ্রাম বাংলার ছায়াময় মায়াময় অবস্থার কথা প্রকাশ পায় গ্রাম্য বালক ছমির শেখের কাজে-কর্মে ও অবস্থায়। আমার নানাবাড়ির গ্রামটি ঠিক একই রকম। চারদিক সবুজে ঘেরা। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নদী। সোনালি ফসল মাঠে বাতাসে দোল খায়। কৃষকরা সারা দিন মাঠে পরিশ্রম করে ফসল ফলান। এককথায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর গ্রামটি।
"উদ্দীপকটি 'রূপাই' কবিতার মূলভাবের খন্ডাংশ মাত্র"-মন্তব্যটি যথার্থ।
বাংলাদেশের গ্রামীণ প্রকৃতি মনোমুগ্ধকর। এদেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে। পেশাজীবীদের মধ্যে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ হচ্ছে কৃষিজীবী। কৃষকরা সরাসরি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। তারা এ দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে নিরলস পরিশ্রম করেন।
উদ্দীপকে গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা একজন দুরন্ত বালকের কর্মতৎপরতা ও মানবিক গুণের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়টি 'রূপাই' কবিতায় প্রতিফলিত গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রূপাইয়ের কর্মতৎপরতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে তা সব দিক থেকে সমানভাবে নয়। কারণ কবিতায় রূপাইয়ের বাহ্যিক গড়ন ও মানসিক গঠনের যে পরিচয় দেওয়া হয়েছে অনুরূপ পরিচয় উদ্দীপকের বালকটির বেলায় দেওয়া হয়নি। রুপাইকে নিয়ে খেলার দলে টানাটানির বিষয়টিও অনুপস্থিত। কবিতায় কবি 'কালো' রঙের কৃষকের বিশেষত্বের কথাও প্রকাশ করেছেন যা উদ্দীপকে নেই।
'রূপাই' কবিতায় কবি গ্রাম-বাংলার প্রকৃতি, কৃষকের রূপ ও কর্মোদ্যোগ অসাধারণ ভাষায় প্রকাশ করেছেন। গ্রাম-বাংলার প্রকৃতির মধ্যে কালো ভ্রমর, রঙিন ফুল, কাঁচা ধানের পাতা, জালি লাউয়ের ডগার মতো চাষার ছেলের বাহু ইত্যাদি বিষয় আছে, যা আলোচ্য উদ্দীপকে নেই। উদ্দীপকে বর্ণিত বালকটি ফসলের বীজ বোনা ও যাত্রাদলায় অভিনয় করায় দক্ষ। তবে তা কবিতায় বর্ণিত কালো চাষার ছেলের মানবিকতা, পরিশ্রমী মনোভাব ও আখড়ায় লাঠি খেলায় বা জারির গানের দক্ষতাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
কবিতায় 'মরণ'-এর রং কালো।
কর্মদক্ষ এবং সাহসী বলে কবিতায় রূপাইকে 'বাপের বেটা' বলা হয়েছে।
'রূপাই' কবিতায় রূপের বর্ণনাসহ রূপাইয়ের স্বভাব বৈশিষ্ট্যের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। কৃষকের ছেলে রূপাইয়ের গায়ের রং কালো। সে বৃষ্টিতে ভিজে, রোদে পুড়ে মাঠে সোনার ফসল ফলায়। এ কাজে তার ক্লান্তি নেই। শুধু কৃষিকাজই নয়, রূপাই খেলার মাঠেও দূরন্ত খেলোয়াড়। সবাই তাকে দলে নিতে টানাটানি করে। রূপাই আখড়াতে বাঁশের বাঁশি বাজায়, জারির গান গায়। গাঁয়ের বৃদ্ধরা রূপাইকে অনেক ভালোবাসেন। তারা রূপাইয়ের মঙ্গল কামনা করেন। রূপাইয়ে কর্মদক্ষতা ও সাহসে তারা মুগ্ধ। এ মুগ্ধতা থেকেই তারা প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!