সুলতানা তারুবা ছিলেন স্পেনের উমাইয়া শাসক দ্বিতীয় আব্দুর রহমানের (আসওয়াত) স্ত্রী।
মধ্যযুগে ইউরোপীয় জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল বলে কর্ডোভাকে ইউরোপের বাতিঘর বলা হয়।
উমাইয়া রাজত্বকালে স্পেনের সার্বিক উন্নয়নের মূলকেন্দ্র ছিল কর্ডোভা নগরী। একে কেন্দ্র করেই মধ্যযুগে স্পেনে জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সংস্কৃতি, স্থাপত্য শিল্পের বিকাশ ঘটেছিল। এটি ইউরোপের সবচেয়ে সৌন্দর্যপূর্ণ নগরী ছিল। কর্ডোভার কারুকার্যখচিত প্রাসাদ, সুনির্মিত অট্টালিকা পৃথিবীর ইতিহাসে অদ্বিতীয় ছিল। মসজিদ, মাদ্রাসা, স্নানাগার, বিপণি, উদ্যান, দুর্গ, প্রাসাদ দ্বারা সুসজ্জিত ছিল বলেই কর্ডোভাকে ইউরোপের বাতিঘর বলা হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত ম্যানেজিং ডাইরেক্টরের বক্তব্যটি স্পেনের উমাইয়া শাসক তৃতীয় আব্দুর রহমানের বক্তব্যের অনুরূপ।
৯১২ খ্রিষ্টাব্দে তৃতীয় আব্দুর রহমান স্পেনের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। এ সময়ে স্পেনে নানারকম রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা বিরাজমান ছিল। তিনি সমগ্র স্পেনে শান্তি-শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ঘোষণা করেন, তার অধীনে কোনো বিদ্রোহী, সন্ত্রাসী, জুলুমবাজের স্থান হবে না। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তিনি শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এভাবে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমনসহ রাজ্যের উন্নতিতে তার ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। যা উদ্দীপকের ঘটনায় লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'আমর এ সঙ্গ' কোম্পানির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর কোম্পানির উন্নতির জন্য শ্রমিকদের নিয়মিত কাজ করা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি ঘোষণা করেন। একইভাবে তৃতীয় আব্দুর রহমান রাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন, বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ ও বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে স্পেনকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেন। তিনি বিদ্রোহীদের দমনে স্নাভ বাহিনী গঠন করেন। উমর বিন হাফসুনের বিদ্রোহ দমনসহ সেভিল ও কারমেনির বিদ্রোহ দমনে এ বাহিনী বিশেষ ভূমিকা রাখে।
মধ্যযুগীয় মুসলিম স্পেনের ইতিহাসে তৃতীয় আব্দুর রহমানের রাজত্বকাল সর্বাপেক্ষা গৌরবময় অধ্যায়। তিনি বিশৃঙ্খলাপূর্ণ স্পেনে শান্তি-প্রতিষ্ঠা ও সমৃদ্ধিতে যে কৃতিত্বের পরিচয় দেন এজন্য তাকে স্পেনের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক বলা হয়ে থাকে। তার সুশাসনের ফলে মুসলিম স্পেন একটি সুখী-সমৃদ্ধিশালী দেশে পরিণত হয়।
সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে তৃতীয় আব্দুর রহমানের স্পেন রক্ষার ঘোষণা সাদৃশ্যপূর্ণ।
আমর এ সন্স' কোম্পানির ম্যানেজিং ডাইরেক্টরের কর্মকাণ্ডের নিরিখে উক্ত শাসক অর্থাৎ তৃতীয় আব্দুর রহমান ছিলেন মুসলিম স্পেনের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক।
তৃতীয় আব্দুর রহমানের সুশাসনের ফলে মুসলিম স্পেন একটি সুখী সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হয়। তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণ শাসক ছিলেন। তিনি শত্রুদের কঠোর হস্তে দমন করেন। সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়ে তোলার জন্য তিনি কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি সাধনকল্পে অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। অবিরত যুদ্ধের ফলে স্পেনের মৃতপ্রায় অর্থনীতিতে তৃতীয় আব্দুর রহমান প্রাণের সঞ্চার করেছিলেন এবং শূন্য রাজকোষকে পরিপূর্ণ করে তোলেন। তার রাজ্যের বার্ষিক আয় সকল খ্রিষ্টান রাজাদের মিলিত রাজস্বের চেয়েও বেশি ছিল। তিনি শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নতির জন্য কর্ডোভা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বহু বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন। ন্যায়পরায়ণ, কর্তব্যনিষ্ঠ ও মহানুভব এই শাসক একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে স্পেনের সিংহাসনে আরোহণ করে রাষ্ট্রে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও সমৃদ্ধি অর্জনে বিশেষ অবদান রাখেন, যা তাকে মুসলিম স্পেনের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ শাসকের মর্যাদা দান করেছে।
পরিশেষে বলা যায়, তিনি বিশৃঙ্খলাপূর্ণ স্পেনে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সমৃদ্ধি আনয়নে যে কৃতিত্বের পরিচয় দেন সেজন্য তাকে মুসলিম স্পেনের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক বলা হয়।
Related Question
View Allস্পেন ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত।
প্রথম আব্দুর রহমানের অনন্য কৃতিত্ব ও গুণাগুণের জন্য ঘোর প্রতিদ্বন্দ্বী আব্বাসি খলিফা আল মনসুর তাকে 'কুরাইশদের বাজপাখি' বলে অভিহিত করেন।
প্রথম আব্দুর রহমান জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। কিন্তু বিদ্রোহীদের প্রতি নিষ্ঠুর ব্যবহার প্রদর্শনে তিনি কুণ্ঠাবোধ করতেন না। তার চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তিনি তার গতিপথের যাবতীয় প্রতিবন্ধকতাকে একক শক্তি দিয়ে নির্মূল করতেন। আব্দুর রহমান আদ-দাখিলের বিরুদ্ধে খলিফা আল মনসুর একটি অভিযান প্রেরণ করেন। আদ-দাখিল আল মনসুরের সেনাপতিকে পরাজিত করে তার ছিন্ন মস্তক ও একটি চিঠিসহ আল মনসুরের দরবারে প্রেরণ করেন। তার এ অনন্য কৃতিত্ব ও গুণাগুণের জন্য ঘোর প্রতিদ্বন্দ্বী আব্বাসি খলিফা আল মনসুর তাকে 'কুরাইশদের বাজপাখি' বলে অভিহিত করেছেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিহিংসার স্বরূপ প্রথম আব্দুর রহমানের ক্ষেত্রেও একই রকম ছিল।
উমাইয়া ও আব্বাসি দ্বন্দ্ব ছিল দীর্ঘদিনের। তাদের যে কোনো এক গোষ্ঠী ক্ষমতায় আসলে অন্যদের চরমভাবে দমন-পীড়ন চালাত। উমাইয়াদের সরিয়ে আব্বাসীয়রা ক্ষমতায় আসলে আব্দুর রহমান ভাগ্য বিপর্যয়ের শিকার হন।
উমাইয়া খিলাফতের পতন ঘটিয়ে আব্বাসীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হলে আব্বাসীয়রা উমাইয়াদের নৃশংসভাবে হত্যা শুরু করে। এই নৃশংসতার হাত থেকে কেবল উমাইয়া যুবরাজ আব্দুর রহমান রক্ষা পান। তিনি পালিয়ে গিয়ে উত্তর আফ্রিকার সিউটায় মামার আশ্রয় লাভ করেন এবং একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গঠন করে স্পেনে উমাইয়া আমিরাত প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে যুবরাজ আলাল যেমন রাজ্য হারা হন, একইভাবে আব্বাসিদের রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি ও নৃশংসতার শিকার হয়ে প্রথম আব্দুর রহমান নিজ বাস্তুভূমি ত্যাগ করে পলায়ন করতে বাধ্য হন। দীর্ঘকাল পথে-প্রান্তরে ঘুরে নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে তিনি নিজেকে সুসংগঠিত করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, যুবরাজ আলালের প্রতিহিংসার শিকার হওয়া এবং আব্বাসিদের ষড়যন্ত্র ও নিষ্ঠুরতায় প্রথম আব্দুর রহমানের ভাগ্য বিপর্যয়ের ঘটনা একই ধারায় প্রবাহিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত যুবরাজ আলালের মতো প্রথম আব্দুর রহমানও নিজ প্রচেষ্টা ও একাগ্রতায় আমিরাত প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছিলেন।
আব্দুর রহমান আদ-দাখিলের অন্যতম কৃতিত্ব হচ্ছে স্পেনে স্বাধীন উমাইয়া আমিরাত প্রতিষ্ঠা করা। বর্বর ইয়েমেনি ও খ্রিস্টানদের দ্বারা বহুবার আক্রান্ত হলেও নিজ বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা এবং সামাজিক দক্ষতার বলে এ সকল বিপদ হতে তিনি মুসলিম রাজ্য স্পেনকে মুক্ত করতে সমর্থ হন। যদিও তিনি একসময় আব্বাসীয়দের অত্যাচারের শিকার হয়ে পালিয়ে স্পেনে এসেছিলেন। উদ্দীপকের আলালও এমন পরিস্থিতির শিকার হয়ে রাজ্যহারা হন এবং পুনরায় নিজেকে সুসংগঠিত করে রাজ্য প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হন।
উদ্দীপকে আলাল রাজ্য দখলের ক্ষেত্রে যে ধরনের কৌশল অবলম্বন করেন ঠিক একই ধরনের কৌশলের মাধ্যমে আব্দুর রহমানও স্পেন দখল করেন। শুধু কৌশল বা শান্তি প্রস্তাব নয়, আব্দুর রহমান আদ-দাখিলকে 'মাসারা' নামক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয়। এ যুদ্ধে স্পেনের শাসক ইউসুফ আল ফিহরি পরাজিত হলে আব্দুর রহমান স্পেন দখল করেন। স্পেনের তৎকালীন মুদারীয় শাসনকর্তা ইউসুফ আল ফিরির কুশাসনে রাজনৈতিক অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। সিমারীয়রা অতিষ্ঠ হয়ে আব্দুর রহমানকে স্পেন আক্রমণের আমন্ত্রণ জানায়। এ প্রেক্ষিতে তিনি ৭৫৫ খ্রিষ্টাব্দে স্পেনে যান। তিনি বাবার, নির্যাতিত মুদারীয়দের ঐক্যবন্ধ করেন। ফলে তার শক্তি বৃদ্ধি পায় ও মুন্যে জয়লাভ করে স্পেনে আমিরাত প্রতিষ্ঠা করেন। আব্দুর রহমান যেমন রাজ্য দখল ও জনগণের মন জয় করেছিলেন, উদ্দীপকের আলালের ক্ষেত্রেও তা লক্ষণীয়।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের আলাল খলিফা আব্দুর রহমান আদ-দাখিলের ন্যায় বিজিত অঞ্চলে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে আমিরাত প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছিলেন।
স্পেনে উমাইয়া আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম আব্দুর রহমানকে আদ-দাখিল বলা হয়।
মুসলিম সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে স্পেনের রাজা রডারিককে পরাজিত করে ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীন করে ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন।
স্পেনের সিউটা দ্বীপের শাসক কাউন্ট জুলিয়ানের আমন্ত্রণ পেয়ে খলিফা আল ওয়ালিদের অনুমতিক্রমে ৭১০ খ্রিষ্টাব্দে মুসা ইবনে নুসায়ের সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদকে স্পেনে পাঠান। ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে তারিক রাজা রডারিকের সম্মুখীন হন। সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধের পর তারিক বিজয় লাভ করেন এবং রডারিক পরাজিত হয়ে নদীতে ডুবে প্রাণ হারান। তারিকের সুদক্ষ রণকৌশল আর সাহসী মনোভাবে স্পেনে ইসলামের পতাকা উত্তোলিত হয়। এ কারণেই তিনি ইতিহাসে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!