আমাদের দেশে জনশক্তি গঠন না হওয়ার পেছনে বেশ কিছু প্রধান কারণ রয়েছে। এসব কারণ সমাজ, অর্থনীতি, শিক্ষা এবং অন্যান্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। নিচে এর কিছু মূল কারণ ব্যাখ্যা করা হলো:
১. শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি
জনশক্তি গঠনে মূল উপাদান হলো সঠিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ। আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রায়শই তত্ত্বগত শিক্ষার দিকে মনোযোগ দেয়, যার ফলে ব্যবহারিক দক্ষতার অভাব থেকে যায়। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সীমিত থাকায় নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষতা অর্জন কঠিন হয়ে পড়ে।
২. বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের সুযোগের অভাব
জনশক্তির সঠিকভাবে গঠন হওয়ার জন্য প্রয়োজন সঠিক কর্মসংস্থান। আমাদের দেশে চাকরির সুযোগের ঘাটতির কারণে অনেকেই তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগাতে পারছে না। ফলে তারা প্রয়োজনীয় দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হারাচ্ছে।
৩. অর্থনৈতিক সংকট
অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকে। ফলে তারা কর্মমুখী শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারে না, যা জনশক্তি গঠনের অন্যতম বাধা।
৪. প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব
বিশ্ব আজ দ্রুত প্রযুক্তিগতভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তবে আমাদের দেশে প্রযুক্তির সঙ্গে কর্মশক্তির সমন্বয় তুলনামূলকভাবে কম। আধুনিক প্রযুক্তি এবং নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগের অভাব জনশক্তি গঠনে বাধা সৃষ্টি করছে।
৫. পরিকল্পনার অভাব
জনশক্তি গঠনে পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাব রয়েছে। বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মাঝে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে সঠিক মানের কর্মী গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা চিহ্নিত করা এবং সেগুলোর প্রশিক্ষণ প্রদানের ক্ষেত্রেও পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।
৬. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাধা
কিছু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণও জনশক্তি গঠনে বাধা সৃষ্টি করে। অনেক ক্ষেত্রেই সমাজের কিছু অংশে নারীদের কর্মমুখী শিক্ষার প্রতি নিরুৎসাহিত করা হয়, যা নারীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে।
উপরোক্ত কারণগুলো আমাদের দেশে জনশক্তি গঠনে বাধা সৃষ্টি করছে। এই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হলে প্রয়োজন সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, এবং পরিকল্পিত উদ্যোগ।
Related Question
View Allব্যক্তির সমষ্টিকে এক কথায় জাতি বলা হয়
ব্যক্তির সমষ্টিকে এক কথায় জাতি বলা হয়।
উদ্দীপকের মজুর, মুটে ও কুলি 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের তথাকথিত 'ছোটলোক' সম্প্রদায়ের সমার্থক।
দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নতি ও অগ্রগতি নির্ভর করে মানুষের সম্মিলিত কর্মপ্রচেষ্টার উপর। কোনো একটি বিশেষ শ্রেণি বা গোষ্ঠীর পক্ষে এককভাবে উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব নয়। যুগে যুগে যত উন্নতি ও অগ্রগতি হয়েছে তা সবার ঐক্যবদ্ধ শ্রমের মাধ্যমেই হয়েছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি সমাজের নিম্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ জয়গান গেয়েছেন। কবি এখানে বড়লোক বলে আত্মপরিচয়দানকারী তথাকথিত ভদ্র সম্প্রদায়ের উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করতে যারা দিন-রাত পরিশ্রম করে চলেছে সেই শ্রমজীবী মানুষের অবদানের কথা তুলে ধরেছেন। এসব মানুষ 'উপেক্ষিত শক্তির উদবোধন' প্রবন্ধে উল্লেখকৃত তথাকথিত ছোটলোক সম্প্রদায়ের সমার্থক। আলোচ্য প্রবন্ধে লেখক বলেছেন এসব মানুষের ওপরই আমাদের দেশের দশ আনা শক্তি নির্ভর করে। এই তথাকথিত 'ছোটলোক' সম্প্রদায়ের অন্তর কাচের মতো স্বচ্ছ। তাদের অবহেলা করার কারণেই দেশ আজ অধঃপতনের দিকে ধাবিত। দেশে জনশক্তি বা গণতন্ত্র গঠিত হতে পারছে না। প্রবন্ধের এই উপেক্ষিত মানুষেরা উদ্দীপকের মুটে-মজুর-কুলিদের সমার্থক।
উদ্দীপকের মূলভাব 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের খণ্ডাংশ মাত্র। মন্তব্যটি যথার্থ।
যুগে যুগে শোষিত-বঞ্চিতরাই সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে এসেছে; মানবসভ্যতার বিকাশ ও উন্নয়ন ঘটিয়েছে। অথচ তারাই তথাকথিত ভদ্র সমাজের চোখে ছোটলোক, ছোট জাত বলে অবহেলিত, নির্যাতিত। আভিজাত্যবোধ ও বংশগৌরবকে পুঁজি করে আমাদের সমাজে যে তথাকথিত ভদ্র সমাজ গড়ে ওঠে তাদের দ্বারা দেশ ও জাতির প্রকৃত উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব নয়। কারণ তারা স্বার্থপর, শোষক।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি নিম্নশ্রেণির মানুষের অবদান তুলে ধরেছেন। তারাই যে সভ্যতা নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে, তাদের চেষ্টা ও ঐক্যবদ্ধ শক্তি দ্বারাই যে সভ্যতা এগিয়ে চলে- সেই সত্যটি উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে। এই বিষয়টি 'উপেক্ষিত শক্তির উদ্বোধন' প্রবন্ধের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকের এই চেতনা ছাড়াও প্রবন্ধে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে, যেখানে প্রাবন্ধিক সব জাত-ধর্মের মানুষের ঐক্যবদ্ধ জাগরণ কামনা করেছেন।
উপেক্ষিত শক্তির উদ্দ্দ্বোধন' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বলেছেন, আমাদের সমাজের বৃহৎ অংশ অর্থাৎ কৃষক, শ্রমিক, চণ্ডাল, মুচি আজ অবহেলিত। দেশের মোট শক্তির হিসাবে তারা দশ আনা শক্তি। এই দশ আনা শক্তি বিভিন্ন বৈষম্যের শিকার হয়ে ছয় আনা শক্তির কাছে অবহেলিত, নির্যাতিত। অথচ জগতের বড় বড় যত অর্জন আছে সেগুলোর পেছনে এই শক্তির অবদান সবচেয়ে বেশি। এই দশ আনা শক্তির উদবোধন ও প্রয়োজনীয়তার যেসব দিক আলোচ্য প্রবন্ধে প্রতিফলিত হয়েছে সেগুলো উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। সেখানে একটি বিশেষ দিকই প্রতিফলিত হয়েছে। এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!