মানুষ তার শ্রম ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদে যে বিনিময়যোগ্য বাড়তি উপযোগ সৃষ্টি করে তাকে উৎপাদন বলে।
কোনো জিনিসের আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে যে বাড়তি উপযোগ সৃষ্টি করা হয় তাকে রূপগত উপযোগ বলে।
এক্ষেত্রে দ্রব্যের রূপগত পরিবর্তন ঘটে বিধায় একে রূপগত উপযোগ নামে অভিহিত করা হয়। যেমন- কাঠ থেকে আসবাবপত্র, মাটি
থেকে ইট, লোহা থেকে যন্ত্রপাতি এভাবে হাজারো জিনিসের রূপগত উপযোগ সৃষ্টি করে মানুষের ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে। সেবাদানকারী শিল্প ব্যতীত প্রস্তুত, নির্মাণ, নিষ্কাশন সব ধরনের শিল্পই এ ধরনের উপযোগ সৃষ্টি বা উৎপাদনের কাজে জড়িত থাকে।
কৃত্রিম উপায়ে ইলিশ উৎপাদন রূপগত উপযোগ সৃষ্টি করে।
কোনো জিনিসের আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে যে বাড়তি উপযোগ সৃষ্টি করা হয় তাকে রূপগত উপযোগ বলে। এ প্রক্রিয়ায় একজন উৎপাদক প্রকৃতি প্রদত্ত কাঁচামাল সংগ্রহ করে শ্রম, মূলধন ও সংগঠনের মাধ্যমে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্য প্রস্তুত করে থাকে। সেবাদানকারী শিল্প বাদে প্রস্তুত, নির্মাণ, নিষ্কাশন, প্রজনন সব ধরনের শিল্পই রূপগত উপযোগ সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আমাদের দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম - একটি খাত হলো মৎস্য চাষ। বর্তমানে কৃত্রিম উপায়ে ইলিশ উৎপাদনের চেষ্টা করা হচ্ছে। অর্থাৎ রেণু সংগ্রহ করে কৃত্রিম উপায়ে শ্রম, মূলধন ও সংগঠন ব্যবহার করে মানুষের ভোগের উপযোগী করে ইলিশ উৎপাদিত হচ্ছে। এছাড়া ইলিশ উৎপাদন তথা মৎস্য চাষ প্রজনন শিল্পের অন্তর্গত যা রূপগত উপযোগ সৃষ্টি করে। সুতরাং কৃত্রিম উপায়ে ইলিশ উৎপাদনকে রূপগত উপযোগ হিসেবে গণ্য করা যায়।
খাঁচায় উৎপাদিত ইলিশ উপযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে- এ বিষয়ের সাথে আমি একমত।
সাধারণ অর্থে উপযোগ বলতে কোনো দ্রব্যের অভাব পূরণের ক্ষমতাকে বোঝানো হয়। অর্থাৎ বিভিন্ন ধরনের বস্তুগত ও অবস্তুগত সামগ্রীর মধ্যে মানুষের অভাব পূরণের যে ক্ষমতা ও গুণ বিদ্যমান। থাকে তাকে ঐ সামগ্রীর উপযোগ বলে। কোনো দ্রব্য উপাদনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের উপযোগ যেমন- রূপগত, স্বত্বগত, সময়গত, ঝুঁকিগত, অর্থগত ইত্যাদি উপযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
উদ্দীপকে মৎস্য চাষ আমাদের দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম একটি খাত হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় বর্তমানে কৃত্রিম উপায়ে ইলিশ উৎপাদনের চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যান্য মাছ চাষের মতো সহজ না হলেও নানাবিধ গবেষণার পর মৎস্য বিভাগ ইলিশের নিষিক্ত রেণু সংগ্রহ করে খাঁচায় উৎপাদন শুরু করেছে যা মৌসুম ছাড়াও বাজারজাত করা যাবে। এক্ষেত্রে প্রথমেই ইলিশ উৎপাদনের মাধ্যমে রূপগত উপযোগ সৃষ্টি হয়। এখন খাঁচায় উৎপাদন সম্ভব হলে মৌসুম ব্যতীত সময়েও ভোক্তারা ইলিশ মাছ ভোগের উদ্দেশ্যে ক্রয় করতে পারবে সেক্ষেত্রে সময়গত উপযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া ভোক্তাদের নিকট বিক্রয়ের মাধ্যমে স্বত্বগত উপযোগও সৃষ্টি হবে। এভাবে বিভিন্ন কার্যক্রমের ফলে বিভিন্ন ধরনের উপযোগ সৃষ্টি হবে।
সুতরাং বলা যায়, খাঁচায় উৎপাদিত ইলিশ বিভিন্ন ধরনের উপযোগ সৃষ্টি ও উপযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আমি মনে করি।
Related Question
View Allমানুষ তার শ্রম ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদের যে বিনিময়যোগ্য বাড়তি উপযোগ সৃষ্টি করে তাকে উৎপাদন বলে।
উৎপাদনের উপকরণগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে চূড়ান্ত পণ্য তৈরি করাকে উৎপাদন বলে।
উৎপাদনের মাধ্যমে রূপগত, স্বত্বগত, স্থানগত, সময়গত, ঝুঁকিগত, অর্থগত ইত্যাদি উপাযোগ সৃষ্টি করা হয়। এসব উপযোগ সৃষ্টি করার মাধ্যমে উৎপাদক একদিকে যেমন তার নিজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে, অন্যদিকে বেকার জনগোষ্ঠীকে নিয়োগ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। আবার পরোক্ষভাবে উৎপাদিত পণ্য বণ্টন, শিল্পোন্নয়ন ও সরকারের আয় বৃদ্ধিতে অবদান রাখার মাধ্যমেও উৎপাদন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'একতা কৃষক সমিতি' প্রথমে সমাগত উপযোগ সৃষ্টি করে।
কোনো দ্রব্য এক সময় হতে অন্য সময় পর্যন্ত সংরক্ষণের ফলে যে উপযোগ সৃষ্টি হয় তাকে সময়গত উপযোগ বলে। যেমন- উৎপাদিত
আলু, পিঁয়াজ, টমেটো ইত্যাদি পণ্যসামগ্রী হিমাগারে সংরক্ষণ করে সারা বছর ধরে বিক্রয় করা হয়।
উদ্দীপকে একতা কৃষক সমিতি উৎপাদন মৌসুমে পিঁয়াজের দাম কমলেও অনুৎপাদন মৌসুমে অস্বাভাবিকভাবে দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে এ বিষয়টি চিন্তা করে উৎপাদন মৌসুমে অধিক পরিমাণে পিঁয়াজ সংগ্রহ করে রাখে। অতঃপর তা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে। এই সংরক্ষণের ব্যবস্থা সময়গত উপযোগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত 'একতা কৃষক সমিতি' প্রথমে রূপগত উপযোগ সৃষ্টি করে।
সদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে একতা কৃষক সমিতির অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কৃষকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং নিজেদের অর্থনৈতিক কল্যাণের জন্য যে সমিতি গঠন করা হয় তাকে কৃষক সমবায় সমিতি বলে। সমিতির ! মাধ্যমে কৃষকরা মধ্যস্থ ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য থেকে নিজেদেরকে। রক্ষা করতে পারবে।
| উদ্দীপকে একতা কৃষক সমবায় সমিতি উৎপাদন মৌসুমে পিঁয়াজ | সংগ্রহ কলে অনুৎপাদন মৌসুমে ন্যায্যমূল্যে ক্রেতাদের নিকট সরববাহ করে। সমিতির সদস্যরাই সমিতির যাবতীয় কার্য সম্পাদন করে। ফলে তাদের খরচ কম হওয়ায় তাদের লাভের পরিমাণও বেশি হয়। সমিতির সদস্যরাই লাভ-লোকসান সমান ভাগে ভাগ করে নেয়। এতে সমিতির সদস্যদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রার মানেরও উন্নতি হচ্ছে।
উদ্দীপকের কৃষক সমিতির মাধ্যমে সমিতির সদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে। কারণ একটা সময় ছিল যখন পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু বিক্রয় পর্যন্ত সমস্ত কাজে মধ্যস্থ ব্যবসায়ীদের হস্তক্ষেপ ছিল। এতে করে তাদের লাভের বড় অংশই মধ্যস্থ ব্যবসায়ীদের দিয়ে দিতে হতো। অথচ এখন সমিতির মাধ্যমেই পণ্য উৎপাদন ও বিক্রয় করছে। যা লাভ হচ্ছে তা তারা নিজেরাই ভাগ করে নিচ্ছে। এতে সমিতির সদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে। তাই বলা যায়, সদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে একতা কৃষক সমিতির অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
যে সকল বস্তুগত ও অবস্তুগত উপাদান মানুষের অভাব মেটানোর ক্ষমতা রাখে তাকে উপযোগ বলে।
উৎপাদনের উপকরণ ব্যবহার করে যে পরিমাণ দ্রব্য বা সেবা উৎপাদিত হয় তার অনুপাতকে উৎপাদনশীলতা বলে।
উৎপাদনশীলতার সাথে মুনাফার ধনাত্মক সম্পর্ক বিদ্যমান। কেননা প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেলে প্রতিষ্ঠানের মুনাফার পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। একটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সাধারণত শ্রমের উৎপাদনশীলতা, কাঁচামালের উৎপাদনশীলতা, যন্ত্রের উৎপাদনশীলতা ইত্যাদি নির্ণয় করে। এসকল উৎপাদনশীলতা দ্বারা স্ব-স্ব উপাদান ব্যয়ের অনুপাত নির্ণয় করা যায়। এক্ষেত্রে কোনো উপাদানের উৎপাদনশীলতা বেশি হলে তা এককপ্রতি ব্যয় হ্রাসকে নির্দেশ করে। ফলে এককপ্রতি ব্যয় হ্রাস পেলে এককপ্রতি মুনাফার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তাই বলা যায়, উৎপাদনশীলতার ওপর প্রতিষ্ঠানের মুনাফা নির্ভরশীল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!