কবি বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশকে নির্জনতম কবি বলে অভিহিত করেছেন।
পৃথিবীতে মানুষের আলোকিত ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পরম আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতাকে কবি শেষ সত্য বলে মনে করেন না।
পৃথিবীতে সভ্যতার বিকাশের পাশাপাশি বহু যুদ্ধ-রক্তপাত-প্রাণহানি সংঘটিত হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। অর্থাৎ মানুষের জীবনের বিফলতা ও সফলতা অতীতেও ছিল, এখনো আছে। কিন্তু কবির স্থির বিশ্বাস রণ রক্তের বীভৎসতা থেকে ভবিষ্যতে পৃথিবীর মানুষের মুক্তি মিলবে। আর এই আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতাকে কবি শেষ সত্য বলে মনে করেন না।
উদ্দীপকের কবিতাংশে হিংসা-বিদ্বেষের বিপরীতে ভালোবাসার জয়গান গাওয়া হয়েছে, যা 'সুচেতনা' কবিতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
'সুচেতনা' কবিতায় কবি তাঁর প্রার্থিত ও আরাধ্য' এক চেতনাকে শিল্পিত রূপ দিয়েছেন। কবির বিশ্বাসমতে, সুচেতনা দূরতম নির্জন দ্বীপসদৃশ একটি ধারণা, যা পৃথিবীর ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের বিপরীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। আর এই চেতনাগত সত্যই পৃথিবীর ক্রমমুক্তির আলোকে প্রজ্বলিত রাখবে, মানবসমাজের অগ্রযাত্রাকে নিশ্চিত করবে।
উদ্দীপকের কবি নেতিবাচক সত্তার বিপরীতে ইতিবাচক উদার সত্তার পরিচয় দিয়েছেন। যে নেতিবাচক পাষাণ সত্তা তাঁর ঘর ভেঙেছে কবি তার ঘরই বেঁধে দিয়েছেন। যে কবিকে পথের বিবাগী করেছে কবি তাকে ফিরিয়ে আনতে পথে পথে ঘুরেছেন। যার জন্য কবির ঘুম নষ্ট হয়েছে কবি তার মঙ্গলের জন্যই রাতের পর রাত জেগে থেকেছেন। এমনই শুভ চেতনার প্রকাশ লক্ষ করা যায় 'সুচেতনা' কবিতায়। এখানেও কবি ভালোবাসাপূর্ণ পৃথিবী প্রতিষ্ঠায় আশাবাদী। তিনি মনে করেন, পৃথিবীর ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডই শেষ সত্য নয়। কেননা যেকোনো মহৎ কাজে যুদ্ধ-রক্ত-প্রাণহানি থাকবেই। কিন্তু রক্তাক্ত পথ পাড়ি দিয়েই পৌঁছাতে হয় ভালোবাসার পরিণামে। সুতরাং উদ্দীপকের কবিতাংশে 'সুচেতনা' কবিতার হিংসার বিপরীতে প্রেম, প্রীতি ও ভালোবাসার দিকটি ফুটে উঠেছে
উদ্দীপক ও 'সুচেতনা' কবিতার কবিদ্বয়ের একমাত্র কামনা ভালোবাসাপূর্ণ পৃথিবী গড়ে তোলা।
'সুচেতনা' কবিতায় কবি সুচেতনা নামক এক মহান অনুভূতির কথা তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন, পৃথিবীব্যাপ্ত গভীর অসুখ বা বিপর্যয় থেকে মুক্তির পথই শুভচেতনা। ইতিবাচক এ চেতনার আলো প্রজ্বালনের মাধ্যমেই সকল বিপর্যয় থেকে পৃথিবী ও মানুষের মুক্তি ঘটবে। এক সময় কবি সমস্যাসংকুল এ পৃথিবীতে জন্ম নেওয়াকেই অনাকাঙ্ক্ষিত মনে করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে এই পৃথিবী ও শুভচেতনা থেকে প্রাপ্তি তাঁকে গভীরভাবে প্রাণিত করেছে।
উদ্দীপকে মানবতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান ধ্বনিত হয়েছে। কবি তাঁর শত্রুকে ক্ষমা করেই ক্ষান্ত হননি, বরং শত্রুতার প্রতিদানস্বরূপ তার উপকারে মনোনিবেশ করেছেন। যে তাঁকে ঘরছাড়া করেছে কবি তার ঘরই গড়ে দিয়েছেন। আবার যার কারণে তাঁকে পথের বিবাগী হতে হয়েছে, তাকেই তিনি পথে পথে খুঁজে ফিরেছেন। 'সুচেতনা' কবিতাতেও আমরা এমনই এক চেতনার সাক্ষাৎ পাই যা পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার মন্ত্রে উজ্জীবিত।
উদ্দীপকের কবি তাঁর শত্রুর উপকার করার মাধ্যমে সমাজে শান্তি আনতে চেয়েছেন। কেননা তিনি মনে করেছেন, এই পথ ধরেই আমাদের মধ্যে বিরোধ দূর করা সম্ভব। তিনি তাই সামাজিক সুখ-শান্তি আনয়ন করতে আত্মত্যাগের মহান পথকেই বেছে নিয়েছেন। 'সুচেতনা' কবিতার কবির ভাবনাতেও একই চেতনা ক্রিয়াশীল হয়ে উঠেছে। তিনিও মনে করেন, প্রেম, সত্য ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েও পৃথিবীতে অগণিত প্রাণহানি, রক্তপাতের ঘটনা ঘটে। আর এই রক্তাক্ত পথ পাড়ি দিয়েই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। সুতরাং ভালোবাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পৃথিবীতে শান্তি আনয়নে উভয় কবির প্রত্যাশা এক ও অভিন্ন।
Related Question
View All'সুচেতনা' কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ থেকে চয়ন করা হয়েছে।
পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন'- উক্তিটিতে কবির সমসাময়িক পৃথিবীতে বিরাজমান ধ্বংসোম্মুখ অবস্থার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
মানবপ্রেমী কবি তাঁর সমকালীন পৃথিবীতে মানুষে মানুষে বিরাজমান অসহিষ্ণুতার ভয়ংকর রূপ প্রত্যক্ষ করেছেন। অগণিত প্রাণহানি, রক্তপাতের ঘটনা তাঁকে মর্মাহত করেছে। এই ধ্বংসাত্মক রূপকে তিনি পৃথিবীর 'গভীর গভীরতর অসুখ' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন; যার পরিসমাপ্তিই কবির একমাত্র প্রত্যাশা।
উদ্দীপকটিতে 'সুচেতনা' কবিতায় বর্ণিত পৃথিবীতে বিদ্যমান অশুভ চেতনার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'সুচেতনা' কবিতাটিতে কবি অশুভ চেতনার স্থলে শুভ চেতনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। কবি প্রত্যক্ষ করেছেন পৃথিবীতে অন্ধকার তথা অশুভ শক্তির ভয়ংকর বিস্তার। স্বার্থের দ্বন্দ্বে মানুষ লিপ্ত, ভালোবাসার পরিণামে পৌছাতে স্বীকার করতে হয় বহু আত্মত্যাগ। পৃথিবীব্যাপ্ত এ গভীর অসুখ বা বিপর্যয় থেকে মানুষের মুক্তি প্রয়োজন। আর একমাত্র শুভচেতনার আলো প্রজ্বালনের মাধ্যমেই তা সম্ভব।
উদ্দীপকের কবিতাংশে পৃথিবীব্যাপী অশুভ শক্তির প্রতাপ পরিলক্ষিত হয়। সমাজের সর্বস্তরে অযোগ্য দুশ্চরিত্র লোকেরাই সর্বেসর্বা। পক্ষান্তরে জ্ঞানী-গুণীরা অবহেলিত। পৃথিবীর বৈষম্যময় সমাজব্যবস্থাই মূলত এর জন্য দায়ী। 'সুচেতনা' কবিতার বিষয়বস্তুতেও আমরা পৃথিবীতে এমন অশুভ শক্তির বিস্তার লক্ষ করি। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকটিতে আলোচ্য কবিতায় বর্ণিত পৃথিবীতে বিদ্যমান অশুভ চেতনার দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে
উদ্দীপকে কেবল পৃথিবীব্যাপী অশুভ শক্তির বিস্তারের বিষয়টি উঠে এলেও 'সুচেতনা' কবিতার আশাবাদের দিকটি উন্মোচিত হয়নি।
'সুচেতনা' কবিতাটিতে কবি তাঁর প্রার্থিত, আরাধ্য এক চেতনানিহিত বিশ্বাসকে শিল্পিত করেছেন। যে চেতনা পৃথিবীতে বিরাজিত সকল অন্যায়, অনিয়ম, যুদ্ধ, মৃত্যুসহ যাবতীয় গভীরতর ব্যাধিকে অতিক্রম করে সুস্থ ইহলৌকিক পৃথিবীর মানুষকে জীবন্ময় করে রাখবে। কবির মতে, জীবন্মুক্তির এই চেতনাগত সত্যই পৃথিবীতে ক্রমমুক্তির আলোকে প্রজ্বালিত রাখবে, মানবসমাজের অগ্রযাত্রাকে নিশ্চিত করবে। ইতিবাচক এ আলো প্রজ্বালনের মাধ্যমেই সকল অশুভ শক্তি থেকে পৃথিবী ও মানুষের মুক্তি ঘটবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
উদ্দীপকে, পৃথিবীতে এক অদ্ভুত আঁধারের বিস্তার দেখানো হয়েছে। যে আঁধারে অযোগ্যরাই যোগ্যতর হিসেবে মর্যাদা লাভ করে আর যোগ্য ব্যক্তিরা হয় অবমূল্যায়িত। পৃথিবী যেন আজ অযোগ্য মানুষদের পরামর্শ ও নেতৃত্বেই চলছে। যোগ্য, জ্ঞানী, মহৎ মানুষদের মর্যাদা আজ নেই। উদ্দীপকের মতো সামাজিক সংকটের প্রতিচ্ছবি 'সুচেতনা' কবিতায়ও বিদ্যমান। তবে কবিতায় এ সংকট উত্তরণে মুক্তির পথের দিশারও অনুসন্ধান করা হয়েছে।
উদ্দীপক ও 'সুচেতনা' কবিতার বিষয়বস্তু পর্যালোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকে কেবল পৃথিবীতে বিরাজমান অশুভ শক্তির প্রভাবের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে, যা 'সুচেতনা' কবিতার একটি মাত্র দিক। 'সুচেতনা' কবিতায় এ বিষয়টি ছাড়া আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়ের সমাবেশ ঘটেছে। অশুভ শক্তির স্থলে শুভশক্তির বা শুভ চেতনার বিজয় কবিতাটিতে তাৎপর্যপূর্ণ রূপ লাভ করেছে। ইতিবাচক এ চেতনার মাধ্যমেই সকল বিপর্যয় থেকে পৃথিবী ও মানুষের মুক্তি ঘটবে- এমন আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকটিতে 'সুচেতনা' কবিতার সমগ্র দিক উন্মোচিত হয়নি।" উক্তিটি যথার্থ।
কবি জীবনানন্দ দাশের মায়ের নাম কুসুমকুমারী দাশ
কবির সুচেতনা মূলত শুভচেতনা বা শুভবোধের স্মারক।
সুচেতনা মূলত কবির এক ধরনের চেতনাজাত বিশ্বাস, যা সমস্ত নেতিবাচকতা ধ্বংস করে এবং ইতিবাচক চিন্তার বিকাশ ঘটায়। কবির দৃষ্টিতে এটি তাঁর চেতনাগত সত্য। সংগত কারণেই পৃথিবীর নানা অভিঘাতে বা রক্তপাতের ঘটনায় এর কোনো পরিবর্তন হয় না। এ সত্যই শেষ পর্যন্ত আমাদের এক আলোয় ভরা, সুখী ও শান্তিপূর্ণ পৃথিবীর স্বপ্ন দেখায়। তবে এই চেতনা দূরবর্তী এক দ্বীপের মতোই অধরা। এর বিস্তার সর্বত্র হলেও সব জায়গায় এটি উপস্থিত নয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!