'বিদ্রোহী' কবিতার কবিকে রুষে উঠতে দেখে সপ্ত নরক হাবিয়া দোজখ ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে নিভে যায়।
অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার মানসিক দৃঢ়তার দিকটি তুলে ধরতেই কবি নিজেকে বেদুইন বলে আখ্যায়িত করেছেন।
বেদুইন হলো আরবের যাযাবর জাতি। এদের স্থায়ী কোনো আবাস নেই। কঠিন মরুভূমির বুকে এরা প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে টিকে থাকে। মরুভূমির বিরূপ পরিবেশ বা শত প্রতিকূলতা তাদের দমন করতে পারে না। আলোচ্য অংশে কবি হতোদ্যম না হয়ে বেদুইনদের জীবনযুদ্ধের সাথে নিজের তুলনা করে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে নিজের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
মূল উদ্দেশ্য-অভিন্ন হলেও উদ্দীপকের কবিতাংশ ও আলোচ্য কবিতার বৈসাদৃশ্যপূর্ণ দিক হলো দুজন কবি সমস্যা সমাধানে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছেন।
'বিদ্রোহী' কবিতায় সমাজে জেঁকে বসা অপশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে। এখানে কবি অত্যাচারীর অত্যাচারের অবসান চান। - এজন্য তিনি বিদ্রোহীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এক্ষেত্রে-উৎপীড়িত জনতার ক্রন্দনরোল যতদিন পর্যন্ত থাকবে, ততদিন তাঁর বিদ্রোহী সভাও শান্ত হবে না।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি পরার্থপরতার মধ্যেই যে ব্যক্তির প্রকৃত সুখ ও জীবনের সার্থকতা নিহিত, সে বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। সমাজ-সংসারে বিদ্যমান বিভেদ-হিংসা-হানাহানি দ্বারা আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও কবির কণ্ঠে প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার বিপরীতে ব্যক্ত হয়েছে প্রীতিময় পরিবেশ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা। সেজন্য তিনি তাঁর পরম শত্রুকে শুধু ক্ষমা করেই ক্ষান্ত হননি; বরং তার উপকারে আত্মনিয়োগ করেছেন। অর্থাৎ, একজন সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান শত্রুর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে, আর অন্যজন অত্যাচারীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। এখানেই উদ্দীপকের কবিতাংশের সঙ্গে 'বিদ্রোহী' কবিতার বৈসাদৃশ্য।
উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রতিফলিত চেতনার মূলে রয়েছে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা, যা 'বিদ্রোহী' কবিতার কবির চেতনার প্রতিরূপ।
'বিদ্রোহী' কবিতায় সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে আত্মজাগরণে উন্মুখ কবির সদম্ভ আত্মপ্রকাশ লক্ষ করা যায়। তাঁর বিদ্রোহ মূলত সামাজিক বৈষম্য ও উৎপীড়নকারীর বিরুদ্ধে। তিনি সমাজের উৎপীড়িত জনতার ক্রন্দনরোল না থামা পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতেই তিনি সকল অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন।
উদ্দীপকের কবিতাংশে সমাজের হিংসা-বিদ্বেষের বিপরীতে ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। এখানে কবি তাঁর পরম শত্রুকে কেবল ক্ষমা করেই নয়, বরং প্রতিদান হিসেবে অনিষ্টকারীর উপকার করার মাধ্যমে পৃথিবীকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করতে চেয়েছেন। যে কবিকে বিষেভরা বাণ দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করেছে, কবি তাকে বুকভরা গান দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন। আবার যে তাঁকে কাঁটা দিয়ে গেছে, তাকে তিনি ফুল দিয়েছেন। কিন্তু 'বিদ্রোহী' কবিতায় এর বিপরীত চিত্র লক্ষ করা যায়।
বিদ্রোহী' কবিতায় শত্রুর প্রতি কবির ক্রোধের বিপরীতে, আলোচ্য কবিতাংশের কবি ভালোবাসা দিয়ে শত্রুকে জয় করতে চেয়েছেন। অর্থাৎ, একজন অত্যাচারীর প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করেছেন এবং অন্যজন অত্যাচারীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে তাঁদের মধ্যে পার্থক্য দেখা গেলেও তাঁরা মূলত একই উদ্দেশ্যকে ধারণ করেন; আর তা হলো সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা। সমাজকে বৈষম্যমুক্ত করতে একজন বিদ্রোহী ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেও অন্যজন প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন। সুতরাং উদ্দেশ্যগত দিক বিচারে উদ্দীপকের - কবিতাংশে প্রতিফলিত চেতনা 'বিদ্রোহী' কবিতার কবির চেতনার প্রতিরূপ হয়ে উঠেছে।
Related Question
View Allঅর্ফিয়াসের ভালোবাসার পাত্রীর নাম ইউরিডিস
উত্তর
বিদ্রোহী
অর্ফিয়াসের ভালোবাসার পাত্রীর নাম ইউরিডিস
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!