আমার জীবনের লক্ষ্য
সূচনা: প্রত্যেক মানুষের জীবনের একটি লক্ষ্য থাকে। কেউ ভাস্তার হতে চায়, কেউ বা ইঞ্জিনিয়ার। ছোটোবেলায় পাড়ার আইসক্রিমওয়ালাকে দেখে আমার আইসক্রিমওয়ালা হতে ইচ্ছা করত। ভাবতাম, সারা দিন পাড়ায় পাড়ায় ঘুরব আর সব আইসক্রিম একাই খেয়ে ফেলব। প্রকৌশলী বাবার বদলির চাকরির কারণে আমি অনেক জায়গায় ঘুরেছি, তাই প্রকৌশলী হওয়ার সাধও কম ছিল না।
জীবনের লক্ষ্য: তবে আমার এমন সব ইচ্ছাকে ছাপিয়ে সত্যিকার জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে সবচেয়ে বড়ো ভূমিকা রেখেছেন আমার দাদা। তিনি আমাকে শুধু নিজের কথা না ভেবে সবার কথা, সমাজের সকল মানুষের কথা ভাবতে শিখিয়েছেন। উদ্বুদ্ধ করেছেন দেশব্রতী একটা পেশাকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিতে। তাই ঠিক করেছি, ভবিষ্যৎ জীবনে আমি একজন কৃষিবিদ ও কৃষি সংগঠক হব।
লক্ষ্য নির্ধারণের কারণ: ফরিদপুরের মধুখালীতে আমার দাদাবাড়ি। সেখানে আমার দাদা গড়ে তুলেছেন একটি বহুমুখী কৃষি খামার। তিনি আমাকে সেই খামার ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন; শিখিয়েছেন কীভাবে নিজের চেষ্টা ও পরিশ্রমে একজন মানুষ তার অবস্থার পরিবর্তন করতে পারে। তাঁর মতে, আমাদের দেশ কৃষিনির্ভর। এ দেশের উন্নতি তাই নির্ভর করছে কৃষির উপর। অথচ আমাদের চিন্তাভাবনা শুধু শহরমুখী। আমরা মনে করি, শহরের উন্নতি হলেই দেশের উন্নতি হবে। অথচ কথাটি পুরোপুরি ঠিক নয়। দাদা দুঃখ করে আরও বলেছেন, দেশের সাধারণ কৃষকরা উন্নত ও যান্ত্রিক কৃষিপদ্ধতির চাষাবাদ জানে না। কীভাবে বহুমুখী খামার প্রকল্প গড়ে তুলতে হয়, উন্নত বীজ ও কৃষি উপকরণ ব্যবহার করে কীভাবে উৎপাদন বাড়াতে হয়- সেসব বিষয়ে তাদের জ্ঞান খুব কম। ফলে তাদের ফসলের উৎপাদনশীলতাও কম। মজুতদার, মধ্যস্বত্বভোগী ও অসৎ ব্যবসায়ীরা এসব কৃষকের নিরক্ষরতা ও দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে তাদের ভীষণভাবে ঠকায়। আর অসাধু ব্যবসায়ীরা সীমাহীন মুনাফা করে। দাদা বলেছেন, অনেক কৃষকের ছেলেমেয়ে শহরে বড়ো বড়ো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে কিন্তু তারা যখন নিজেদের গ্রামে ফিরে যায় তখন তারা তাদের অর্জিত বিদ্যাকে নিজেদের গ্রামের উন্নয়নে ব্যবহার করে না, তারা কেবল নিজেদের ব্যক্তিগত আয়-উন্নতি নিয়েই ব্যস্ত থাকে। দাদার এই কথাগুলো সত্যিই আমাকে খুব ভাবায়। দাদার বহুমুখী খামার প্রকল্প দেখে আমি শিখেছি একটু চেষ্টা করলেই আমাদের গ্রামগুলোর উন্নতি করা যায়, পরিবর্তন করা যায় গ্রামের গরিব মানুষের অবস্থ্য।
লক্ষ্য পূরণে পদক্ষেপ: দাদা আমাকে বলেছেন, পড়ালেখা করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার সবাই হতে পারে। তবে অর্জিত বিদ্যা ও জ্ঞানকে ব্যবহার করে নিজের চেষ্টায় কিছু করা, সমাজের পরিবর্তন করা অনেক কঠিন কাজ। দাদার অনুপ্রেরণায় আমি সেই কঠিন কাজটিকেই ভবিষ্যতের করণীয় হিসেবে গ্রহণ করেছি।
আমি ঠিক করেছি ভবিষ্যতে আমি একজন কৃষিবিদ ও কৃষি সংগঠক হব। গ্রামে গিয়ে আমি একটি বহুমুখী যৌথ খামার প্রকল্প গড়ে তুলব। সেখানে মাঠে ফসলের চায় হবে, পুকুরে-জলাশয়ে মাছের চাষ হবে। একইসঙ্গে হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু পালনের কাজ চলবে। সবকিছুই হবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে। আমি গ্রামের অন্য কৃষকদের এসব পদ্ধতি শেখাব। তাদের উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব। সেইসঙ্গে আমি কৃষি সংগঠন গড়ে তুলতে সচেষ্ট হব। যেখানে কৃষকরা সবাই একত্র হয়ে তাদের ফসল উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণের কাজে অংশ নেবে। মধ্যস্বত্বভোগী ও অসৎ ব্যবসায়ীরা যাতে কৃষকদের ঠকাতে না পারে, গ্রামের নারীরা যাতে প্রশিক্ষণ পায়, গ্রামের ছেলেমেয়েরা যেন স্কুলে লেখাপড়া করতে পারে সেজন্য আমি উদ্যোগ নেব। চেষ্টা করব যাতে তারা পড়ালেখার পাশাপাশি কৃষিকাজ বিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষ কৃষক হয়ে উঠতে পারে।
উপসংহার: আমি কেবল নিজেকে নিয়ে ভাবব না- আমি আমার গ্রামের জন্য, আমার দেশের জন্য কিছু করতে চাই। আমি চাই, কৃষির উন্নয়ন ও বিস্তার ঘটিয়ে দেশের উন্নয়নকে সবার সামনে তুলে ধরতে। যত দিন পর্যন্ত আমাদের গ্রামের কৃষকরা আধুনিক কৃষিপদ্ধতি এবং কৃষক সংগঠন গড়ে তুলে নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করতে না পারবে, তত দিন পর্যন্ত কৃষি উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই এ কাজে আমাদের সবার এগিয়ে যাওয়া উচিত। এজন্যই আমি ভবিষ্যতে একজন কৃষিবিদ ও কৃষি সংগঠক হয়ে আমাদের কৃষির উন্নয়নের অংশীদার হতে চাই।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!