আমার দেখা নদী
ভূমিকা: বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এদেশ জুড়ে জালের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য নদ-নদী। বাংলাদেশে এমন কোনো মানুষ পাওয়া যাবে না যে নদী দেখেনি। আমিও নদী দেখেছি। শুধু দেখিইনি, নদীতে সাঁতার কেটেছি, নৌকায় করে ঘুরে বেড়িয়েছি, মাছ ধরেছি। আমার দেখা প্রিয় নদীটি হলো শীতলক্ষ্যা।
শীতলক্ষ্যা নদীর পরিচয়: শীতলক্ষ্যা নদীটি নারায়ণগঞ্জের মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে। এ নদীর পাড়েই গড়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ শহর। আমাদের গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানায়। আমরা প্রতি বছরই দুই-তিনবার গ্রামের বাড়ি যাই। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত- একেক সময় নদীর রূপ একেক রকম।
গ্রীষ্মকালে শীতলক্ষ্যা নদী: গ্রীষ্মকালে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি অনেক কমে যায়। কিন্তু এ নদী কখনো শুকায় না। নদীর দুই পাশে অনেকটা জুড়ে চর পড়ে। আমরা চর পেরিয়ে দুপুর বেলায় নদীতে গোসল করতে যাই। সারা দুপুর আমরা নদীতে সাঁতার কাটি, দাপাদাপি করি। ভেজা শরীর নিয়ে চরের তপ্ত বালিতে শুয়ে থাকি। কিছুক্ষণ পর আবার নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ি। মায়ের কাছে শুনেছি এ নদীতে নাকি আগে কুমির ছিল। কিন্তু এখন আর কুমির দেখা যায় না, শুধু মাঝে মাঝে শুশুক ভেসে উঠতে দেখা যায়। প্রায়ই গ্রামের সাহসী তরুণরা বাজি ধরে সাঁতরে নদী পার হয়। আমরা উৎসুক হয়ে তাদের সে প্রতিযোগিতা দেখি।
বর্ষাকালে শীতলক্ষ্যা নদী: বর্ষাকালে শীতলক্ষ্যা প্রমত্ত হয়ে ওঠে। উজান থেকে ভেসে আসা পানিতে নদী টইটম্বুর হয়ে যায়। তখন গ্রামের সীমা পর্যন্ত পানি উঠে যায়। এসময় নদীটাকে সাগরের মতো মনে হয়। নদীতে প্রচণ্ড ঢেউও থাকে। আমরা নদীতে নামতে সাহস পাই না। যখন আকাশ অন্ধকার করে ঝড় ওঠে তখন নদী উত্তাল হয়ে ওঠে। নদীর প্রচন্ড ঢেউ তীর ভেঙে রাস্তাঘাট বিনষ্ট করে দেয়। এর মধ্যেই দেখা যায় গ্রামের লোকেরা ডিঙি নৌকায় চড়ে নদী পার হচ্ছে। তাদের মনে যেন কোনো ভয়ডর নেই।
শরৎকালে শীতলক্ষ্যা নদী: শরৎকালে নদীর রূপ যেন ফুটে ওঠে। এসময় নদীর বুকে নীলাকাশের ছায়া পড়ে। তখন নদীটাকে নীল মনে হয়। নদীর দুই পাড়ের চরে কাশফুল ফোটে। কাশবনে বাসা বাঁধে ঘুঘু, ডাহুক, বালিহাঁস প্রভৃতি নানা জাতের পাখি। আমরা শরতের বিকেলে ছোট ছোট নৌকা নিয়ে নদীতে নেমে পড়ি। তখন নীল আকাশের নিচে নদীতে নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়াতে খুবই ভালো লাগে। সন্ধ্যা নামলে নদীর ওপর দিয়ে উড়ে যায় ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি। সে সময়কার অনুভূতি বর্ণনাতীত।
শীতকালে শীতলক্ষ্যা: শীতকালে নদীর দুই পাড়ের চরগুলোতে মিষ্টি আলু, কাঁচামরিচ, ডাল, সরিষা প্রভৃতি চাষ হয়। নদী এসময় একেবারে শান্ত হয়ে যায়। সকাল বেলা নদীটাকে কুয়াশার চাদর ঢেকে রাখে। দুপুর বেলা নদীর শীতল পানিতে গোসল করে আমরা চরে বসে রোদ পোহাই। এসময় নদী থেকে প্রচুর মাছ ধরা পড়ে।
উপসংহার: নদী একেক ঋতুতে একেক রূপ ধারণ করে। শীতলক্ষ্যা বাংলাদেশের অসংখ্য নদীর একটি। এ নদীও অন্যান্য নদীর মতো বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছে। আমি শীতলক্ষ্যা নদীকে খুবই ভালোবাসি। এ নদী আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে নীরবে মানুষের সেবা করে যেতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!