ভেটকি মাছের নাতনি দেশের, বাইরে গেছে।
দেশের দারুণ বাদলা মোকাবিলায় ব্যাঙ এমন প্রস্তুতি নিয়েছে যাতে সে বৃষ্টির মাঝেও চলাচল করতে পারে।
'চিঠি বিলি' ছড়ায় ব্যাঙ চিঠি বিলি করতে বাড়ি থেকে বের হয় ছাতা মাথায় দিয়ে। কারণ বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। তার কাছে নানা রকম চিঠি আছে। বিলের খলসে মাছ লিখেছে চিংড়ি মাছের বাচ্চাকে। চিঠিতে সে সাঁঝের রোদে চোখ ঝলসে যাওয়ার কথা লিখেছে। ভেটকি মাছের নাতনিকে চিঠি লিখেছে বিলের কাতলা। সে জানিয়েছে এ বছর দেশে দারুণ বাদলা হবে। এই বাদলা বা বৃষ্টি থেকে বাঁচতে ব্যাঙ প্রস্তুতিস্বরূপ একটি ছাতা কিনে নিয়েছে।.
উদ্দীপকের ছড়াংশের সঙ্গে 'চিঠি বিলি' ছড়ার মিল ও অমিল দুটোই লক্ষ করা যায়।
আমাদের চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে আমরা মানিয়ে চলি। বাস্তব জীবনে এগুলো আমাদের নানাভাবে প্রভাবিত করে। আমাদের মনে আনন্দ অনুভূতি জাগায় পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান। কবিরা এসব নিয়ে কবিতা ও ছড়া লেখেন।
উদ্দীপকের ছড়াংশে কাজলা দিঘির কাজল জলে হাঁসগুলোর ভেসে বেড়ানোর সঙ্গে 'চিঠি বিলি' ছড়ার নদীতে নৌকা, মাছ, ব্যাঙ প্রভৃতির ভেসে বেড়ানোর মিল রয়েছে। আবার উদ্দীপকে কবির বাড়ির ডালিম গাছে ডালিম ফুল ফুটে থাকা, মৌরি ফুলের গন্ধে শুঁকে রথ থামিয়ে দেওয়া ইত্যাদির সঙ্গে 'চিঠি বিলি' ছড়ার অমিল দেখা যায়। কারণ 'চিঠি বিলি' ছড়ায় কবি জলজ প্রাণীদের কথাই বলেছেন। বাড়ি থেকে ব্যাঙের বের হওয়ার যে কথা বলা হয়েছে সেই বাড়ি স্থলে নয়, বাস্তবে তা জলের মধ্যেই অবস্থিত। কবি মূলত জলজ প্রাণীদের মধ্যকার যোগাযোগকেই নির্দেশ করেছেন।
"মিল-অমিল বিবেচনার পরও উদ্দীপকের ছড়াংশ এবং 'চিঠি বিলি' ছড়াটি একসূত্রে গাঁথা নয়।"- কথাটি যথার্থ।
কবিদের কল্পনা এবং বাস্তবের মধ্যে অনেক ব্যবধান থাকলেও তাতে তাঁদের আনন্দ প্রকাশ, আনন্দদান এবং তাঁদের রচিত ছড়া-কবিতা পড়ে আমাদের আনন্দলাভের ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য বা ব্যবধান নেই।
উদ্দীপকে জলে হাঁসের ভেসে বেড়ানোর সঙ্গে মিল এবং স্থলভাগে গাছে ফুল ফোটা, ফুলের গন্ধ ছড়ানোর সঙ্গে অমিল রয়েছে 'চিঠি বিলি' ছড়ার। এই মিল-অমিলের বাইরে উদ্দীপকে আমাদের চারপাশের গ্রামীণ প্রকৃতির বাস্তব ঘটনা প্রতিফলিত হয়েছে। আর 'চিঠি বিলি' ছড়ায় জলের প্রাণীদের নিয়ে সম্পূর্ণ কাল্পনিক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দীপকের কবি তাঁর বাড়ির পরিবেশ সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছেন।
কবি বাড়িতে মৌরি ফুলের গন্ধের কথা বলেছেন। সেই গন্ধ শুঁকে রথ থামাতে বলেছেন। এই বাস্তব চিত্র 'চিঠি বিলি' ছড়ায় নেই এখানে জলের প্রাণীদের আমাদের কল্পনায় নিয়ে এসেছেন। সেখানে আমরা অদ্ভুত ও অসম্ভব ঘটনার মুখোমুখি হই। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত কথাটি সঠিক।
Related Question
View Allসাঁঝের বেলার রোদে খলসে মাছের চোখ ঝলসে গেছে।
'জবর মাঝি সাচ্চা' হলো চিংড়ি মাছের বাচ্চা।
ছড়াটতে চিংড়ি মাছের বাচ্চাকে নৌকার মাঝি হিসেবে দেখা যায়। সে যখন নদীর জলে নৌকা ভাসায়, তখন দু'চোখ বুজে, হাল ধরে। তাকে দেখলে একজন দক্ষ মাঝি হিসেবেই মনে হয়। দক্ষ মাঝিরা তার মতো করেই হাল ধরে। এভাবেই তারা নৌকা চালনা করে। তাই চিংড়ি মাছের বাচ্চাকে উদ্দেশ্য করে তাকে 'জবর মাঝি সাচ্চা' বলা হয়েছে।
উদ্দীপকের সামির চরিত্রের সঙ্গে 'চিঠি বিলি' ছড়ায় ব্যাঙের চরিত্রটি সংগতিপূর্ণ।
পৃথিবীতে প্রত্যেকেই কোনো না কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত। তবে নির্দিষ্ট কাজের বাইরেও কখনো কখনো কিছু কাজ করতে হয়। আবার কেউ কেউ দ্বেচ্ছায় কিছু কাজ সানন্দে করে থাকে। এতে তারা আনন্দ পায় ।
উদ্দীপকের সামির গরুর দুধ বাজারে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করে। এই উপার্জিত আয়েই তার সংসার চলে। এলাকার বিভিন্ন গৃহস্থ বাড়ি থেকে দুধ সংগ্রহ করে বাজারে যাওয়ার সময় সে গ্রামের ভালো-মন্দ নানান খবর অন্যদের জানিয়ে যায়। সামির চরিত্রের এই বৈশিষ্ট্য 'চিঠি 'বিলি' কবিতার ব্যাঙের মাঝে খুঁজে পাওয়া যায়। ব্যাঙ চিঠি বিলি করে। চিঠি বিলি করাই তার কাজ। চিঠি বিলি করতে বের হয়ে সে অনেকের খোঁজখবর জানতে পারে। সেসব 'খবর সংগ্রহ করে সে অন্যদের সেগুলো জানায়। ছড়াটিতে চিংড়ি, খলসে, ভেটকি, কাতলা, বর্ষা প্রভৃতির নানান খবর ব্যাঙের মাধ্যমে জানা যায়। সুতরাং এসব দিক বিবেচনায় ব্যাঙের সঙ্গেই উদ্দীপকের সামির চরিত্রটিকে সংগতিপূর্ণ বলে মনে হয়।
"নির্ধারিত কাজের বাইরেও ছোটো ছোটো কাজের মাধ্যমে মানুষ অন্যরকম আনন্দ পেতে ও দিতে পারে"- উদ্দীপক ও 'চিঠি বিলি' ছড়া অবলম্বনে এ উক্তিটি যৌক্তিক।
পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষকেই কিছু না কিছু দায়িত্বে নিয়োজিত হতে হয়। প্রত্যেকেই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থাকে। তবে নির্ধারিত কাজের বাইরেও মানুষ কখনো কখনো এমন কিছু কাজ করে থাকে, যা তাকে আনন্দ পেতে ও অন্যকে আনন্দদানে সহায়তা করে।
উদ্দীপকের সামির এলাকার গৃহস্থ বাড়ি থেকে গরুর দুধ সংগ্রহ করে তা বাজারে বিক্রি করে। দুধ বিক্রির টাকা দিয়েই সে জীবিকা নির্বাহ করে। এলাকায় সে বেশ পরিচিত। গ্রামের ভালো-মন্দ নানান খরব তার কাছ থেকে অন্যরা জানতে পারে। দুধ নিয়ে বাজারে যাওয়ার সময় সে এই কাজটি করে থাকে। এ ধরনের কাজ করার মধ্য দিয়ে সামির অন্যরকম আনন্দ বোধ করে। এমনই এক বিষয় 'চিঠি বিলি' ছড়াতেও পরিলক্ষিত হয়।
'চিঠি বিলি' ছড়াটিতে ব্যাঙ চিঠি বিলি করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। তার নির্ধারিত কাজ করতে গিয়ে সে বিভিন্ন খবর জানতে পারে এবং সেগুলো অন্যদের জানায়। ভেটকি মাছের নাতনির দেশের বাইরে যাওয়ার কথা, দেশজুড়ে একটানা বৃষ্টি হওয়ার খবরও তার মাধ্যমে জানা যায়। চিঠি বিলি করতে বের হয়ে বিভিন্ন খবর সংগ্রহ করে তা অন্যদের কাছে পৌছে দেওয়ার কাজটি সে স্বেচ্ছায় করে থাকে। এ ধরনের কাজ করলে আনন্দ যেমন পাওয়া যায় তেমনই অন্যদেরও আনন্দ দেওয়া যায়। তাই উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যৌক্তিক ও যথার্থ।
দেশের বাইরে গেছে ভেটকি মাছের নাতনি।
ব্যাঙ খেয়া নৌকা ধরার জন্য ছুটছে।
ব্যাঙ চিঠি বিলি করতে যাবে। তাকে খেয়া নৌকায় নদী পাড়ি দিতে হবে। নদীমাতৃক বাংলাদেশে যাতায়াতের একটি অন্যতম মাধ্যম হলো এই নৌকা। এদেশের নদীগুলোতে ছোটো-বড়ো অসংখ্য নৌকা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে সাধারণেরা যাতায়াতের জন্য খেয়া নৌকাগুলোই বেশি ব্যবহার করে থাকে। ব্যাঙও খেয়া নৌকাতেই নদীর ওপারে যাবে। তাই সে খেয়া নৌকা ধরার জন্য ছুটছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!