আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রুগড়া এ ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করা হয় ১৯৯৯ সালে।

উত্তরঃ

তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষার দাবিতে গড়ে ওঠা প্রথম সংগঠন।
১৯৪৭ সালে অধ্যাপক আবুল কাশেম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি ইসলামিক সাংস্কৃতিক সংগঠন। ভাষা আন্দোলনে তমদ্দুন মজলিশের ভূমিকা অপরিসীম। পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাশেম-এর নেতৃত্বে 'তমদ্দুন মজলিশ' গঠিত হয়েছিল। এ সংগঠনের উদ্যোগেই ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' প্রকাশিত হয়েছিল। এ সংগঠনের উদ্যোগেই ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়েছিল।

উত্তরঃ

উদ্দীপকটিতে গানের সুরে যে বিয়োগাত্মক ঘটনার স্মৃতি স্মরণ করে দেয় তা পাঠ্যবইয়ের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এ আন্দোলনে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য মিছিল করতে গিয়ে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কয়েকজন বাঙালি পুলিশের গুলিতে প্রাণ দেন। তাদের স্মরণেই রচিত হয় "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি" এই অমর গানটি এবং নির্মিত হয় শহিদ মিনার। তখন থেকে প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শহিদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়। উদ্দীপকে সে গানটির কয়েকটি লাইন বর্ণিত হয়েছে।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকে এ আন্দোলনের পটভূমি রচিত হয়। প্রথম থেকেই পূর্ব বাংলার প্রতি পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী ভাষা-সংস্কৃতিসহ নানারকম বৈষম্য শুরু করে। পূরো পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬ শতাংশ মানুষের মুখের ভাষা ছিল বাংলা। তবুও মাত্র ৩.২৭% জনগোষ্ঠীর ভাষা উর্দুকে তারা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। ১৯৪৮ সালে বেশির ভাগ মানুষের মতামত উপেক্ষা করে পাকিস্তানি শাসকরা উর্দু ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করে। ফলে বাঙালি ছাত্র, সাধারণ জনগণ ও বুদ্ধিজীবীরা প্রতিবাদমুখর হয়ে এ বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায়। এভাবেই ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।

উত্তরঃ

বাঙালি সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষায় "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি" এ গানটি ছিল প্রেরণার উৎস।
ভাষা আন্দোলনে মিছিল করতে গিয়ে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কয়েকজন বাঙালি পুলিশের গুলিতে প্রাণ দেন। তাদের স্মরণেই রচিত হয় "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি" এ গানটি। গানটি একটি খবরের কাগজের শেষের পাতায় গীতিকারের নামবিহীনভাবে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে অবশ্য গীতিকার আব্দুল গাফফার চৌধুরীর নাম ছাপা হয়। ১৯৫৪ সালে মরহুম হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় প্রকাশিত 'একুশের সংকলনে' গানটি স্থান পায়। তৎকালীন সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে। এটি প্রথমে কবিতা হিসেবে লেখা হয়েছিল। তৎকালীন যুবলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক কবিতাটি আব্দুল লতিফকে দিলে তিনি এতে সুরারোপ করেন। পরবর্তীতে লতিফ আতিকুল ইসলাম এতে প্রথম কণ্ঠ দেন। ঢাকা কলেজের কিছু ছাত্র যখন শহিদ মিনার স্থাপন করছিল তখন এই গানটি গাওয়ার চেষ্টা করে। এ অপরাধে তাদেরকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
পরবর্তীকালে মুক্তিযোদ্ধা শিল্পী আলতাফ মাহমুদ এ গানটিতে নতুন করে সুরারোপ করেন। প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারির প্রত্যুষে বাংলার আনাচে-কানাচে সর্বত্র এই গান গেয়েই প্রভাত ফেরিতে বের হয় অগণিত মানুষ। নগ্ন পায়ে প্রাণের টানে ছুটে যায় শহিদ মিনারে। ফুলে ফুলে ভরে দেয় শহিদের বেদী, পরম শ্রদ্ধায়-পরম মমতায়।

218

Related Question

View All
উত্তরঃ

বাংলা ভাষা যখন জাতীয় সীমানার গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে তখন তাকে বাংলাভাষার আন্তর্জাতিকীকরণ বলে।
ভাষার দাবিতে জীবন বিসর্জন বিশ্ব ইতিহাসে নজিরবিহীন কিন্তু বাঙালি ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার সমুন্নত রাখার দাবিতে জীবন দিয়েছিল। তাই বাঙালির এই বৃহৎ ত্যাগকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার জন্য জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা UNESCO ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

707
উত্তরঃ

উদ্দীপকে মিলন চৌধুরীর নেতৃত্বে জোট গঠন আমাদেরকে ১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দেয়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচন ও যুক্তফ্রন্ট গঠন ছিল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মূলত পূর্ব বাংলায় ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের শাসনের চরম ব্যর্থতার ফলে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি, নেজাম-ই-ইসলাম মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বরে। তারা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য ২১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ৩০৯টি আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভকরে। আর ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সফিপুরের জাতীয় নির্বাচনে মিলন চৌধুরীর নেতৃত্বে ছোট ছোট বিভিন্ন উপদল জোট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচনে ঐ জোট ব্যালট বিপ্লব ঘটিয়ে জয়লাভ করে। উদ্দীপকের এই নির্বাচন এবং উপরে আলোচিত নির্বাচনের প্রতি দৃষ্টি নিবন্ধ করলে একবাক্যে বলা যাবে উদ্দীপকের নির্বাচনটি ১৯৫৪ সালের নির্বাচন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের নির্বাচনের সাথে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের মিল রয়েছে।

343
উত্তরঃ

উক্ত নির্বাচনে অর্থাৎ ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের জোটের নেতৃত্বদানকারী দলের সৃষ্টি ছিল এক ঐতিহাসিক ঘটনা। কেননা এই নির্বাচনে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে বাঙালি সম্মিলিতভাবে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসনের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেছিল এবং জাতীয়তাবাদী চেতনায় উজ্জীবিত হয়েছিল।
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগ প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন দল হওয়া সত্ত্বেও জয়ী হতে পারেনি। মূলত ১৯৫৪ সালের নির্বাচন ছিল মুসলিম লীগের অন্যায় বৈষম্যমূলক, ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ। বাঙালি জাতি এ নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম লীগকে বুঝিয়ে দেয় যে, তারা পূর্ব বাংলার মুসলিম লীগকে আর চায় না। তারা যুক্তফ্রন্টের তরুণ নেতৃত্বের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। তারা ক্ষমতাসীন অত্যাচারীদের প্রতি ধিক্কার জানিয়েছিল তাদের ভোটের মাধ্যমে। বাঙালি ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী মুসলিম লীগের ন্যাক্কারজনক শাসনের বিরুদ্ধে তাদের বিপ্লব ঘটিয়েছিল এই নির্বাচনের মাধ্যমে। ফলে এ নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম লীগ ও অবাঙালি নেতৃত্বের প্রতি বাঙালিদের মনে ব্যাপক অনাস্থা জন্মায়। তারা বুঝতে পারে পশ্চিম পাকিস্তানি ও তাদের এ দেশীয় দোসরদের দ্বারা বাঙালির প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয়। ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আদর্শের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলার জনগণ স্বায়ত্তশাসনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে।

250
উত্তরঃ

ভাষা আন্দোলনের সময় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।

315
উত্তরঃ

২২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ও ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে খুলনায় হরতাল ও প্রতিবাদ সভা ছিল খুলনা অঞ্চলের বৃহত্তর কর্মসূচি।
খুলনা অঞ্চলে ১১ সদস্য বিশিষ্ট ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ২৭ফেব্রুয়ারি দৌলতপুর বাজারে জনসভা ও অপর এক জনসভা মিউনিসিপ্যাল পার্কে অনুষ্ঠিত হয়। যাতে যোগদান করে প্রায় দশ হাজার লোক। ৫ মার্চ কেন্দ্রীয় নির্দেশ অনুসারে খুলনা শহর ও গ্রামাঞ্চলে ভাষা দিবস পালনের কর্মসূচি নেওয়া হয়।

227
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews