আমায় নহে গো ভালোবাস শুধু

ভালোবাস মোর গান

বনের পাখিরে কে চিনে রাখে গান

হলে অবসান।

চাঁদেরে কে চায় জোছনা সবাই যাচে

গীত শেষে বীণা পড়ে থাকে ধূলি মাঝে।

Updated: 8 months ago
উত্তরঃ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর Gitanjali: Song offerings সংকলনের জন্য নোবেল পুরস্কার পান।

উত্তরঃ

'প্রাণ' কবিতায় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাজা ফুলের সুগন্ধের ন্যায় মানুষের হৃদয়ে আদৃত হতে চেয়েছেন।

কবি চান মানুষ তার সৃষ্টি উপভোগ করুক, তার রচনা ভালোবাসুক। তিনি চান সকালের শুভ্রতা ও বিকেলের কোমলতার মতো মানুষ যেন তার কবিতা ও সংগীত গ্রহণ করে। তবে তিনি এটাও জানেন যে, একসময় সবকিছু মলিন হয়ে যায়, মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাই তিনি বিনম্রভাবে বলেন, যখন তার সৃষ্টি মূল্যহীন হয়ে যাবে, তখন তা ফেলে দিতে পারে, যেমন শুকিয়ে যাওয়া ফুলকে ফেলে দেওয়া হয়। তাই কবি সৃষ্টিশীল মহৎকর্মের মধ্য দিয়ে তাজা ফুলের ন্যায় সর্বদা মানুষের হৃদয়ে আদৃত হতে চেয়েছেন।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি কাজী নজরুল ইসলামের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে 'প্রাণ' কবিতার কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আকাঙ্ক্ষার যে সাদৃশ্য রয়েছে তা হলো তাঁদের সৃষ্টির অমরত্বের আকাঙ্ক্ষা।

মানুষ তার মহৎ সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে জগতে অনন্তকাল বেঁচে থাকতে পারে। মহৎ সৃষ্টিকর্মের কারণেই মানুষ তাকে স্মরণ করে।

তাই নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে মানুষের মহৎকর্মে নিজেকে নিবেদিত করা উচিত।উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি কাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সুখের পরিবর্তে তার সৃষ্টিশীলতার জন্য ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি চান মানুষ তাকে নয়, তার গীতকে ভালোবাসুক। কারণ গানের রচয়িতা নশ্বর, গান চিরকাল বেঁচে থাকে মানুষের হৃদয়ে। অন্যদিকে 'প্রাণ' কবিতাতেও কবি মৃত্যুকে প্রত্যাখ্যান করে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। কবি চান তার সৃষ্টিশীলতা মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী হোক, তার সংগীত অমর হয়ে থাকুক। উভয় কবির আকাঙ্ক্ষা নিজ অস্তিত্বের চেয়ে তার শিল্প ও সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকার।

উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি চান তার গান বেঁচে থাকুক মানুষের মনে। অপরদিকে 'প্রাণ' কবিতায় কবি মৃত্যুর পর হারিয়ে যেতে চান না; বরং মানুষের হৃদয়ে, সুখ-দুঃখে, তার সংগীতের মাধ্যমে তিনি চিরজীবী থাকতে চান। এভাবে 'প্রাণ' কবিতায় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন উদ্দীপকের কবিতাংশের মধ্যেও সেই আকাঙ্ক্ষা প্রস্ফুটিত হয়ে উঠেছে।

উত্তরঃ

"উদ্দীপকটি 'প্রাণ' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করতে পারেনি।"- মন্তব্যটি যথার্থ।

পৃথিবীতে মানুষ তাদের সৃষ্টিশীল মহৎকর্মের মধ্য দিয়ে জগতের মধ্যে চিরজীবী হতে চায়। ব্যক্তি মূলত তার সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়েই জগতের মধ্যে অমর হয়ে থাকেন। কারণ মানুষ একসময় হারিয়ে গেলেও তার সৃষ্টিকর্ম থেকে যায় অনন্তকাল।

উদ্দীপকের কবিতাটি মূলত শিল্পীর গান ও তার অস্তিত্বের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলে। এখানে শিল্পী চান, মানুষ তাকে নয়, বরং তার গানকে ভালোবাসুক। গানের অস্তিত্ব পাখির গানের মতো- যা মানুষের মনে অনন্তকাল থেকে যায়, তবে শিল্পী নিজে একসময় মানুষের মন থেকে বিস্মৃত হতে পারেন। উদ্দীপকের মতো 'প্রাণ' কবিতার মধ্যেও কবি তার কর্মের মধ্য দিয়ে জগতের মধ্যে চিরজীবী হতে চেয়েছেন।

'প্রাণ' কবিতায় কবি মানবসমাজের অংশ হয়ে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। তিনি চান তার গান মানুষের সুখ-দুঃখ, বিরহ-মিলনের সঙ্গে মিশে থাকুক। যার ফলে তার সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি অমর হতে পারেন। মানবের হৃদয়ে স্থান পাওয়ার ইচ্ছা তার অস্তিত্বের সার্থকতা নির্ধারণ করে। তাই তিনি মৃত্যুকে প্রত্যাখ্যান করে জীবনের মাঝে থেকে যেতে চান। তাই সার্বিক পর্যালোচনায় বলা যায়, উদ্দীপটি 'প্রাণ' কবিতার সমগ্র ভাবকে ধারণ করতে পারেনি।

53

মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,

মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই ।

এই সূর্যকরে এই পুষ্পিত কাননে

জীবন্ত হৃদয়-মাঝে যদি স্থান পাই !

ধরায় প্রাণের খেলা চিরতরঙ্গিত,

বিরহ মিলন কত হাসি-অশ্রু-ময়-

মানবের সুখে দুঃখে গাঁথিয়া সংগীত

যদি গো রচিতে পারি অমর-আলয় !

তা যদি না পারি, তবে বাঁচি যত কাল

তোমাদেরি মাঝখানে লভি যেন ঠাঁই,

তোমরা তুলিবে বলে সকাল বিকাল

নব নব সংগীতের কুসুম ফুটাই ।

হাসি মুখে নিয়ো ফুল, তার পরে হায়

ফেলে দিয়ো ফুল, যদি সে ফুল শুকায় ॥

Related Question

View All
উত্তরঃ

কবি এ পৃথিবীতে অমর-আলয় রচনা করতে চান মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে তাদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়ার জন্য।

'প্রাণ' কবিতায় জনকল্যাণকর কাজের মাধ্যমে জগৎসংসারে দীর্ঘ জীবন লাভের সংকল্প ব্যক্ত হয়েছে। মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, আবেগ-ভালোবাসা ছেড়ে কবি অন্য কিছুর লোভ না করে আনন্দের সংগীত নিয়ে মানুষের কাছে আদৃত হতে চান। আলোচ্য চরণটিতে কবি মূলত মানবতার স্বার্থে তাঁর আত্মনিবেদনের দিকটি প্রকাশ করেছেন।

190
উত্তরঃ

উদ্দীপকে প্রত্যাশিত বিষয়টি 'প্রাণ' কবিতার ভাবের সাথে পৃথিবীর বিচিত্র প্রকৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ নিয়ে এক হয়ে মিশে আছে।

ফুলে-ফলে-ফসলে সুশোভিত আমাদের এই পৃথিবী। মানুষ এখানে গড়ে তুলেছে মায়াময় এক আশ্চর্য জগৎ। প্রেম-প্রীতি, স্নেহ-ভালোবাসা, আদর-সোহাগ দিয়ে মানুষ বেঁধে রাখে একে অপরকে। এ বন্ধন ছেড়ে মানুষ সহজে চলে যেতে চায় না।

উদ্দীপকে কবি তার সমগ্র সত্তা দিয়ে জন্মভূমি বাংলাদেশকে ভালোবেসেছেন। এই ভালোবাসা এমনই পরিপূর্ণ যে পৃথিবীর অন্য কোথাও বাংলাদেশের প্রকৃতি ও পরিবেশ, ঐতিহ্য ও ঐশ্বর্যের কোনো বিকল্প আছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। তাঁর কাছে বাংলার সত্যিকারের এই পরিচয়টির সাথে 'প্রাণ' কবিতার ভাবের ঐক্য লক্ষ করা যায়। এই কবিতায় পৃথিবীর প্রতি কবির গভীর মমত্ব ফুটে উঠেছে। তিনি পৃথিবীকে, পৃথিবীর মানুষকে ভালোবেসেছেন অকৃত্রিমভাবে। মৃত্যু যে অমোঘ বিধান তা জেনেও তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে চান। কারণ মৃত্যুকে জয় করা বা মৃত্যুর পর আপন কর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা মানুষের চিরন্তন।

222
উত্তরঃ

"উদ্দীপকটি 'প্রাণ' কবিতার আংশিক ডারমাত্র, পূর্ণরূপ নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।

মানুষ মরণশীল। একথা জানা সত্ত্বেও মানুষ এ জগৎসংসার ছেড়ে হারিয়ে যেতে চায় না। জগতের মোহে মানুষ নশ্বর পৃথিবীতে অমরত্ব লাভ করতে চায়।

উদ্দীপকটিতে বাংলার অপরূপ সৌন্দর্যের সঙ্গে মানুষের গভীর বন্ধনের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। জন্মভূমিকে উদ্দীপকের কবি তাঁর সমগ্র সত্তা দিয়ে ভালোবেসেছেন, অনুভব করেছেন। কবির অনুভবের এই বিষয়টি 'প্রাণ' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও কবিতার মূলভাব আরও, বিস্তৃতপূর্ণ। সেখানে কেবল পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রতি মুগ্ধতা নয়, তা মানুষের জন্য মনোমুগ্ধকর করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও যত্নবান হওয়ার ইঙ্গিত আছে। 'প্রাণ' কবিতায় কবি জনকল্যাণকর কাজের মাধ্যমে জগৎসংসারে দীর্ঘজীবন লাভের সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। তিনি তাঁর সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে নব নব সংগীতের কুসুম ফোটাতে চেয়েছেন। তিনি মানবতার স্বার্থে আত্মনিবেদন করতে চেয়েছেন।

'প্রাণ' কবিতায় কবি সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, মিলন-বিরহ, আবেগ-ভালোবাসায় পরিপূর্ণ পৃথিবী রেখে মরতে চান না। আর উদ্দীপকে বাংলার রূপমুগ্ধ কবি পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের রূপ দেখতে চান না। এই না চাওয়া এক রকম হলেও বিষয় বিন্যাস এক রকম য়। উদ্দীপকে মানবকল্যাণে আত্মনিবেদনের কোনো বিষয় নেই। কিন্তু 'প্রাণ' কবিতায় কবি সর্বমানবের সুখ-দুঃখের সংগীত গেঁথে মানব হৃদয়ে অমর-আলয় রচনা করতে চেয়েছেন। এসব কারণে উদ্দীপকটি 'প্রাণ' কবিতার আংশিক ভাব মাত্র, পূর্ণরূপ নয়- মন্তব্য যথার্থ।

211
উত্তরঃ

'প্রাণ' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।

334
উত্তরঃ

কবি মৃত্যুর পরও মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে আগ্রহী। তাই তিনি সৃষ্টির মাধ্যমে অমর আলয় রচনা করতে চান।

'প্রাণ' কবিতায় কবি জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে এই পৃথিবীতে অমর আলয় রচনা করতে চেয়েছেন। মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার সংগীত রচনা করতে চান। বস্তুত মানবের হাসি-কান্না, আবেগ-ভালোবাসায় পরিপূর্ণ এই পৃথিবীই কবির কাছে আকাঙ্ক্ষিত। তাই তিনি অমর আলয় সৃজনের কথা বলেছেন যেন মৃত্যুর পরেও তিনি মানবের মাঝে বেঁচে থাকতে পারেন।

350
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews