যে জনসংখ্যায় একটি দেশের উৎপাদন ও আয় সর্বোচ্চ হয় তা-ই কাম্য জনসংখ্যা।
একটি দেশের জনসংখ্যার মধ্যে মৃত্যুর শতকরা অংশকে 'মৃত্যুহার বলে। মৃত্যুহার জনসংখ্যাকে হ্রাস করে বলে জন্মহার অপেক্ষা মৃত্যুহার বেশি হলে জনসংখ্যা হ্রাস পায়। আবার জন্মহার অপেক্ষা মৃত্যুহার কম হলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন কারণে মৃত্যুহার হ্রাস পাওয়ায় বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
উদ্দীপকে আমিনুর সাহেব কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ যেভাবে গ্রামের জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
উদ্দীপকে আমিনুরের গ্রামে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, প্রশিক্ষণ প্রভৃতি ব্যবস্থা জনসম্পদ উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট নয়। তার গ্রামে যুবক ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করে না, মেয়েদের কম বয়সে বিয়ে দেয় এবং শিক্ষিত যুবকরা বেকার বসে থাকে। এগুলো অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্তরায়। যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তির কোনো বিকল্প নেই। মৌলিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা যায়। আর এ জন্য প্রথমেই প্রয়োজন উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। উদ্দীপকের আমিনুর তার গ্রামের যুবকদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। তিনি গ্রামের অশিক্ষিত ও অদক্ষ জনগণকে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন, যা পরবর্তীতে তাদের কর্মসংস্থানের পথ সুগম করে দেয়। আবার শিক্ষিত বেকার যুবকদের উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্য সুবিধা দিয়ে জনসম্পদে পরিণত করেন; ফলে বেকারত্ব দূর হয়। কর্মব্যস্ততার কারণে এই ছেলেমেয়েরা বেশি বয়সে বিয়ে করে এবং কম সন্তান গ্রহণ করে। ফলে আমিনুরের গ্রামে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যায়।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, আমিনুর সাহেব কর্তৃক চালু করা বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রামের জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আমিনুরের গ্রামে অধিক জনসংখ্যা বর্তমানে আশীর্বাদ বলে আমি মনে করি। নিচে এ সম্পর্কে আমার মন্তব্য দেওয়া হলো-
অর্থনীতিতে জনসংখ্যাকে একই সাথে আশীর্বাদ এবং অভিশাপ হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ জনসংখ্যা একদিকে যেমন অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে অন্যদিকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বাধারও সৃষ্টি করে। যেসব দেশ বা অঞ্চলে প্রাকৃতিক সম্পদের তুলনায় জনসংখ্যা কম, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও স্বল্প সেসব স্থানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি অবশ্যই আশীর্বাদ হিসেবে গণ্য। আবার যেসব দেশ বা অঞ্চলে প্রাকৃতিক সম্পদের তুলনায় জনসংখ্যা অধিক, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও বেশি, সেসব স্থানে জনসংখ্যা অভিশাপ হিসেবে গণ্য। উদ্দীপকের আমিনুরের গ্রামে অধিক জনসংখ্যাকে বর্তমানে আমি আশীর্বাদ মনে করি, কারণ যেকোনো দেশের অর্থনীতিতে জনসংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেকোনো দেশের প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদকে ব্যবহার করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করতে হলে জনশক্তির প্রয়োজন। আবার অধিক জনসংখ্যার ফলে উৎপাদিত পণ্য সামগ্রীর চাহিদা সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হয়। এছাড়া উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে সৃষ্টি করে এসব জনশক্তি বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়; এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হয়। এছাড়াও জনসংখ্যা অধিক হলে শ্রমের যোগান বৃদ্ধি পায়। ফলে কল-কারখানায় শ্রম বিভাগ প্রবর্তন ও বৃহদায়তন উৎপাদন সম্ভম্ব হয়।
Related Question
View Allজীবিকা অর্জনের জন্য স্ব-উদ্যোগে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত থাকাই হলো আত্মকর্মসংস্থান।
একটি দেশের জনসংখ্যার মধ্যে মৃত্যুর শতকরা অংশকে 'মৃত্যুহার বলে। মৃত্যুহার জনসংখ্যাকে হ্রাস করে বলে জন্মহার অপেক্ষা মৃত্যুহার বেশি হলে জনসংখ্যা হ্রাস পায়। আবার জন্মহার অপেক্ষা মৃত্যুহার কম হলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। বিভিন্ন কারণে মৃত্যুহার হ্রাস পাওয়ায় বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
উদ্দীপকে অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি পাস করে গ্রামে এসে মৎস্য খামারের কাজ শুরু করে। বর্তমানে একজন উচ্চশিক্ষিত ছেলে গ্রামে এসে মৎস্য চাষ করবে, এটা কেউ ভাবতেই পারে না। কারণ, এত কষ্ট করে পড়াশোনা করে কেউ গ্রামে গিয়ে মৎস্য চাষ করতে চায় না। তেমনি অধ্যক্ষ সাহেবও চাননি। কিন্তু অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে চায় নিজের উদ্যোগে নিজেকে স্বাবলম্বী করতে। যেকোনো চাকরি করতে গেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অধীনে কাজ করতে হয়। তাদের কথামতো সব কাজকর্ম করতে হয়। নিজের কোনো স্বাধীনতা থাকে না। কিন্তু যখন নিজের উদ্যোগে কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়, তখন আর কারও অধীন থাকতে হয় না। নিজের স্বাধীনতা বজায় রেখেই কাজ করা যায়।
অতএব বলা যায়, উল্লিখিত কারণেই অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে এমএসসি পাস করেও গ্রামে এসে নিজ উদ্যোগে মৎস্য খামারে কাজ শুরু করেছে।
উদ্দীপকে অধ্যক্ষ সাহেবের ছেলে যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি হচ্ছে আত্মকর্মসংস্থান। নিচে আত্মকর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করা হলো-
জীবিকা অর্জনের জন্য স্ব-উদ্যোগে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত থাকাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে। একজন কর্মক্ষম ও কর্মে ইচ্ছুক ব্যক্তি বেকারত্ব লাঘবে স্বাধীনভাবে কোনো উৎপাদনকর্মে নিয়োজিত হলেই তাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে অভিহিত করা হয়। বাংলাদেশের মতো জনাধিক্যের দেশের সব শ্রমশক্তিকে প্রচলিত ধারায় কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া সম্ভম্ব নয়।
বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। বেকারত্বের কারণে বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় কম। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য আত্মকর্মসংস্থান প্রয়োজন। বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান তৈরি করার মতো মূলধন সরকারের না থাকায় আত্মকর্মসংস্থান সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপ কমায়। বেকারত্ব ও দরিদ্রতা সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দেয়, তাই আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূর করতে
পারলে সামাজিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকার জনগোষ্ঠী উন্নয়নকাজে অংশগ্রহণ করলে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়।
উপর্যুক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের মতো জনবহুল উন্নয়নশীল দেশে আত্মকর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ণয়ের সূত্রটি হলো, DP = যেখানে, DP = জনসংখ্যার ঘনত্ব, TP = মোট জনসংখ্যা, TA = মোট আয়তন।
যে জনসংখ্যায় একটি দেশের উৎপাদন ও আয় সর্বোচ্চ হয়, তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে। একটি দেশে প্রাকৃতিক সম্পদ, মূলধন ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে জনসংখ্যা যে আয়তন/পরিমাণ দ্বারা সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয় অর্জিত হয়, সেই জনসংখ্যার আয়তন/পরিমাণকে কাম্য জনসংখ্যা বলা হয়। কাম্য জনসংখ্যায় মোট জনসংখ্যা ও কর্মজীবী জনসংখ্যার অনুপাত স্থির থাকে। তাই উক্ত জনসংখ্যায় পূর্ণ নিয়োগ অবস্থা বর্তমান থাকে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!