পরিবেশ সংরক্ষণ বলতে প্রাকৃতিক ও নৈসর্গিক বিষয়গুলো প্রকৃত অবস্থায় রক্ষা করা বোঝায়।
একই উৎস থেকে সৃষ্ট বলে পৃথিবীর সব মানুষ এক উম্মাহর অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত কোনো একটি বিশেষ নীতি বা আদর্শে বিশ্বাসী সম্প্রদায়কে উম্মাহ বলে। পৃথিবীর সব মানুষ একই স্রষ্টার সৃষ্টি এবং একই পিতামাতার সন্তান। আদি পিতা হযরত আদম (আ) ও আদি মাতা হযরত হাওয়া (আ) থেকেই আল্লাহ তায়ালা সব মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তাই গোটা মানবজাতি একই উম্মাহ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, “হে মানবজাতি, নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি। তারপর তোমাদেরকে বিভিন্ন গোত্র ও জাতিতে বিভক্ত করেছি যেন তোমরা পরস্পরকে চিনতে পারো" (সুরা আল হুজুরাত: ১৩)।
উদ্দীপকে সাবিতের ভূমিকায় ইসলামের দাওয়াহ্- এর বিধানটি ফুটে উঠেছে। 'দাওয়াহ্' আরবি শব্দ এর অর্থ আহ্বান করা বা ডাকা। মানুষকে ইসলাম গ্রহণ ও পলনের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতিতে ডাকাকে ইসলামি দাওয়াহ বলা হয়। ইসলামি দাওয়াত সম্পর্কে আল্লাহ বলেন- তুমি তোমার রবের পথে মানুষকে আহ্বান করো হিকমত (উত্তম কৌশল) ও উত্তম উপদেশের সাথে (সুরা নাহল- ১২৫)। সাবিতের ভূমিকাটি ইসলামি আহ্বানকে প্রতিফলিত করেছে।
উদ্দীপকে সাবিত মি. গোমেজের সামনে সময়, পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝে হিকমতের সাথে ইসলামের পথে আহ্বান করেছিলেন। নিজেও বিরত থেকেছেন ইসলাম বিরোধী কাজকর্ম থেকে আর ইসলামের আকর্ষণীয় জীবন ধারার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে মি. গোমেজও এক সময় ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেন। যিনি দাঈ হবেন তিনি যেমন অপরকে ইসলামের প্রতি আহ্বান করবেন তেমনি নিজেও ইসলামের পূর্ণ অনুশীলন করবেন। আর তাহলেই ইসলামের সৌন্দর্য নিজের মধ্যেই ফুটে উঠবে যা অন্যকে এমনিতেই আকর্ষিত করবে। প্রকৃত দাঈগণ প্রথমে নিজের মধ্যেই ইসলামকে পূর্ণরূপে ধারণ করেন। উদ্দীপকে সাবিতের মধ্যমে আমরা সফল দাঈ-এর গুণাবলি সম্পর্কে সুন্দর ধারণা পাই।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আমিনের ভূমিকাটি আমার পাঠ্যবইয়ের 'দাওয়াহ্' এর পাঠের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। ইসলামি দাওয়াহ্ শুরু করতে হয় নিজের আপনজন, নিকটাত্মীয় ও সবচেয়ে কাছের বন্ধু বান্ধবের থেকেই। তারপর ক্রমশ দূরবর্তী লোকদেরকে দাওয়াত দিলে তা বেশি ফলপ্রসু হয়। আর দাওয়াত দেওয়ার আগে নিজেকেই সংশোধন করে নিতে হয়। ইসলামি দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমত অবলম্বন, সুক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণ ও পরিবেশ-পরিস্থিতির উপযুক্ততা যাচাই করে দাওয়াত দিলে তুলনামূলক ভালো ফলাফল লাভ করা যায়।
উদ্দীপকের আমিন ইসলামি দাওয়াতের কৌশল সফলভাবে প্রয়োগ করেছেন। ফলে মি. গোমেজ ধীরে ধীরে ইসলামের বাণীর কোমলতা ও মহত্বের দিকে, ইসলামি সৌন্দর্যের দিকে ঝুঁকে পড়েন। সর্বোপরি বলা যায়, আমিনের মতো প্রতিটি দাঈরই উচিত স্ব-স্ব অবস্থান থেকে আল্লাহর শেখানো কৌশলের প্রয়োগ করে ইসলামের প্রচার ও প্রসারে আত্মনিয়োগ করা ইসলামের সৌন্দর্য আমরা নিজেরা ধারণ করে দাঈ এর ভূমিকা নিলে তা হয়ে উঠবে প্রাণবন্ত। বিশ্বে বিরাজ করবে শান্তি।
Related Question
View Allউখওয়াত অর্থ ভ্রাতৃত্ব, হৃদ্যতা, সৌহার্দ্য ইত্যাদি।
'আমার বিল মারুফ' অর্থ সৎকাজের আদেশ অর্থাৎ কোনো মানুষকে আল্লাহর নির্দেশিত পথে জীবন পরিচালনার জন্য যে আহ্বান করা হয় তাকে সৎকাজের আদেশ বলে। 'নাহি আনিল মুনকার' অর্থ অসৎকাজে নিষেধ অর্থাৎ মানুষকে আল্লাহ যা করতে অথবা যে পথে চলতে নিষেধ করেছেন, সেই দিক নিদের্শনা দেওয়াকে অসৎকাজে নিষেধ বলে। প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য হলো সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজে বাধা দেওয়া।
সাকিবের কাজটির জন্য তাকে দাঈ বা ধর্ম প্রচারক বলা হবে। সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজে বাধা দেওয়া নামাজ-রোজার মতোই একটি ফরজ ইবাদত। আর যারা এ ধরনের কাজ করে থাকেন তাদেরকে দাঈ বলা হয়। অর্থাৎ ইসলামি আদর্শের প্রতি মানুষকে আহ্বানকারীকে দাঈ বলা হয়। সমাজে সৎকাজের আদেশদান ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করার জন্য সবসময়ই কিছু সংখ্যক লোক বিদ্যমান থাকতে হয়। অন্যথায় সমাজ অন্যায়- অত্যাচার, সন্ত্রাস প্রভৃতি খারাপ কাজে ছেয়ে যায়। তাই মানুষকে অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকা এবং সৎকাজে অনুপ্রাণিত করা মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিগণিত এবং এ ধরনের মুমিনকে দাঈ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
উদ্দীপকের সাকিব শিক্ষকের কাছ থেকে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধের গুরুত্ব বুঝতে পেরে ঠিক করল যে, সে প্রতিদিন তার সময় ও সুযোগ বুঝে মানুষকে আল্লাহ ও রাসুলের পথে কাজ করার আহ্বান করবে এবং নিজেও সেই মোতাবেক চলবে। আর এক্ষেত্রে সে সর্বপ্রথম টার্গেট বা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তার বন্ধু-বান্ধব ও নিকট আত্মীয়দের মধ্যেই সে প্রথম দাওয়াতি কাজ করবে। এক্ষেত্রে সে দাওয়াতি কাজটি একাই করবে না বরং তার বন্ধু-বান্ধবদেরকেও করতে উৎসাহিত করবে যাতে এটি প্রসারতা লাভ করে। সাকিবের এই কাজটি মানুষকে ইসলামের পথে আহ্বান জানানোর সাথে সম্পর্কিত হওয়ায় তাকে দাঈ হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়।
উদ্দীপকে শিক্ষকের বক্তব্যের আলোকে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজে নিষেধ একটি ফরজ কাজ। যার নির্দেশনা আল্লাহ তায়ালা অসংখ্য আয়াতের মাধ্যমে দিয়েছেন। আর এটাই আল্লাহর রাসুল হযরত মুহাম্মদ (স)-এর মিশন ছিল। তার দাওয়াতি কাজই ছিল মানুষকে সৎপথে তথা কল্যাণের পথে আহ্বান করা আর অসৎপথে বাধা দেওয়া। শিক্ষকের বক্তব্য অনুযায়ী- যে ব্যক্তি মানুষকে সৎকাজের আদেশ দিবে না এবং অসৎকাজে নিষেধ করবে না সে একজন পূর্ণাঙ্গ মুমিন হতে পারবে না।
শিক্ষকের বক্তব্য অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ মুমিন হওয়ার জন্য আল্লাহর প্রতিটি আদেশ ও নিষেধ মানা আবশ্যক। আর এর মধ্যে সৎকাজের আদেশ প্রদান ও অসৎকাজে বাধা প্রদান অন্যতম। এর গুরুত্ব সম্বন্ধে আল্লাহ তায়ালা বলেন- 'তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি। মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদের আবির্ভাব। তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর প্রতি ইমান তথা বিশ্বাস রাখবে (সুরা আলে ইমরান-১১০)'।
উল্লিখিত আয়াতের দিকে লক্ষ করলে এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, আমর বিল মারুফ অর্থাৎ সৎকাজের আদেশ আর নাহি আনিল মুনকার তথা অসৎকাজে নিষেধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ইসলামি সমাজ ব্যবস্থা, পারিবারিক ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা এটির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
পরিশেষে বলা যায়, শিক্ষকের বক্তব্য অনুযায়ী প্রত্যেকে তার সাধ্যমতো মানুষকে সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎকাজ থেকে বিরত রাখবে। আর এটি একজন মুমিন ব্যক্তির জন্য অবশ্য কর্তব্য।
শতকরা ২.৫০ টাকা হারে জাকাত দিতে হয়।
ইসলামি আদর্শ, বিশ্বাস ও ইসলামের অনুশীলনের ফলে মুসলিমদের মধ্যে যে ভ্রাতৃত্ব গড়ে ওঠে তাকে ইসলামি ভ্রাতৃত্ব বলে। ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসীগণ পরস্পর ভাই ভাই। মহান আল্লাহর তাওহিদ এবং মহানবি (স) এর রিসালাত মুসলমানদের মধ্যকার ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের যোগসূত্র। অর্থাৎ ইসলামের সুমহান আদর্শের ভিত্তিতে বিশ্বের মুসলমানদের মধ্যে যে ভ্রাতৃত্ব গড়ে ওঠে, তা-ই ইসলামি ভ্রাতৃত্ব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!