১৯৪৭ সালে ভারত উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে।
১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে মুসলিম লীগকে পরাজিত করতে যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়েছিল।
পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় দল ছিল মুসলিম লীগ। দলটি পূর্ব বাংলায় প্রাদেশিক সরকার পরিচালনা করত। কিন্তু মুসলিম লীগের অগণতান্ত্রিক আচরণ ও দমননীতির কারণে এদেশের মানুষ অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। তাই ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ যেন জয়ী হতে না পারে এবং পূর্ব বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা পায় সেজন্য যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়েছিল।
উদ্দীপকে বর্ণিত নেতার দাবির সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা দাবির সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
১৯৪৭ সালে সৃষ্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি শাসকগোষ্ঠী অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক প্রভৃতি ক্ষেত্রে সীমাহীন বৈষম্য প্রদর্শন করে। এসব বৈষম্যের প্রতিকার ও পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকারের লক্ষ্যে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলের সম্মেলনে ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'ক' অঞ্চলের নেতা জনসাধারণকে সরকারের বঞ্চনা ও শোষণের হাত থেকে রক্ষার জন্য সরকারের কাছে দাবি তুলে ধরে। ঠিক একইভাবে বঙ্গবন্ধুও বাংলার জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মুক্তির লক্ষ্যে ছয় দফা দাবি পেশ করেছিলেন। এটি ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রকাঠামোর ভেতর সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব বাংলার মানুষের মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টা। ছয় দফা দাবিতে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়। এছাড়া প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় কেন্দ্রের হাতে রেখে অন্যান্য ক্ষমতা প্রদেশের হাতে রাখার দাবি তোলা হয়। দুই প্রদেশে দুটি রিজার্ভ ব্যাংকসহ একই ধরনের মুদ্রা চালু করার কথাও বলা হয়। এছাড়া রাজস্ব ও শুল্ক এবং বৈদেশিক বাণিজ্য প্রদেশের হাতে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ ছয় দফা দাবিতে আরো বলা হয়, নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য অঙ্গরাজ্যগুলো আঞ্চলিক সেনাবাহিনী তথা মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করতে পারবে। উদ্দীপকের নেতার দাবিনামায় এ ছয় দফা দাবিরই প্রতিফলন ঘটেছে।
হ্যাঁ, উদ্দীপকে বর্ণিত দাবি অর্থাৎ ছয় দফা দাবির সাথে লাহোর প্রস্তাবের সম্পর্ক পরিলক্ষিত হয়।
১৯৪০ সালে মুসলিম লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতের মুসলমানদের জন্য পৃথক আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। তার তত্ত্বের আলোকে ১৯৪০ সালে ২৩ মার্চ লাহোরে মুসলিম লীগের সম্মেলন বাংলার নেতা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব পেশ করেন। এতে বলা হয়, ভারতের উত্তর পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠিত হবে। এই স্বাধীন রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত প্রদেশগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত এবং সার্বভৌম। একইভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ঘোষিত ছয় দফা দাবিতে পূর্ব পাকিস্তানে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
পাকিস্তান আমলে পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার ও শোষণ থেকে রক্ষার জন্য এই অঞ্চলের রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা দাবি ঘোষণা করেন। এতে তিনি ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানের সংবিধান রচনার দাবি জানান। পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রীয় পদ্ধতির সরকার গঠন করে প্রদেশগুলোকে প্রতিরক্ষা এবং বৈদেশিক সম্পর্ক ছাড়া অন্য সব ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বলেন। অর্থাৎ তিনি পাকিস্তানের প্রদেশগুলোতে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। লাহোর প্রস্তাবেও স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ ছিল।
উপরের আলোচনায় প্রমাণিত হয়, লাহোর প্রস্তাব এবং বঙ্গবন্ধুর হয় দফা দাবিতে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। উভয়টির লক্ষ্য ছিল মানুষকে শাসকশ্রেণির শোষণ থেকে মুক্ত করা এবং মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
Related Question
View All১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে ফাতেমা জিন্নাহকে COP-এর পক্ষে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী করা হয়।
জেনারেল আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন।
মৌলিক গণতন্ত্র ইউনিয়ন পরিষদ, থানা পরিষদ, তহসিল পরিষদ (পশ্চিম পাকিস্তানে), জেলা পরিষদ, বিভাগীয় পরিষদ এ চারটি স্তরে বিভক্ত ছিল। মৌলিক গণতন্ত্রের আওতায় পাকিস্তানের উভয় অংশে ৪০০০০ করে মোট ৮০০০০ নির্বাচনি ইউনিট নিয়ে দেশের নির্বাচকমণ্ডলী গঠিত হয়। বিডি মেম্বারগণ বা মৌলিক গণতন্ত্রীদের আস্থা ভোটে আইয়ুব খানকে ১৯৬০ সালে পরবর্তী ৫ বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হয়।
উল্লিখিত ছকে পাকিস্তানি আমলে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের প্রশাসনিক বৈষম্য প্রদর্শন করা হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি ছিল সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাগণ। ১৯৬২ সালে পাকিস্তানের মন্ত্রণালয়গুলোতে শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার ৯৫৪ জনের মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ১১৯ জন। আর ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ৪২০০০ কর্মকর্তার মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ২৯০০ জন।
আর ১৯৪৭ সালে করাচিতে রাজধানী হওয়ায় সকল সরকারি অফিস আদালতে পশ্চিম পাকিস্তানিরা ব্যাপকহারে চাকরি লাভ করে। তাছাড়া ১৯৬৬ সালে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে গেজেটেড কর্মকর্তা ছিল যথাক্রমে ১৩৩৮ ও ৩৭০৮ জন এবং নন-গেজেটেড কর্মকর্তা ছিল যথাক্রমে ২৬৩১০ ও ৮২৯৪৪ জন।
এ বিষয়গুলোতে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের প্রশাসনিক বৈষম্য ফুটে উঠেছে।
ছকে বর্ণিত বৈষম্য তথা প্রশাসনিক বৈষম্য বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের একমাত্র কারণ নয় বলে আমি মনে করি।
প্রশাসনিক বৈষম্য ছাড়াও পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের আরো অনেকগুলো বৈষম্য বিদ্যমান ছিল। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের জন্মের পর থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব পাকিস্তানকে রাজনৈতিকভাবে পঙ্গু করে পশ্চিম পাকিস্তানের মুখাপেক্ষী করে রাখা হয়। লাহোর প্রস্তাবে পূর্ণ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হলেও পাকিস্তানি শাসকেরা প্রথম থেকেই এ বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করে। তারা ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচিত সরকারকে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করে এবং ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারি করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়। এছাড়া সামরিক বাহিনীতে বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব ছিল অতি নগণ্য। ১৯৫৫ সালের এক হিসাবে দেখা যায়, সামরিক বাহিনীর মোট ২২১১ জন কর্মকর্তার মধ্যে বাঙালি ছিল মাত্র ৮২ জন।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কেন্দ্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে পূর্ব পাকিস্তানের সকল আয় পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যায়। তাছাড়াও শিক্ষা, সামজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাঙালিদের ওপর বৈষম্যের স্টিম রোলার চালিয়েছিল।
এসব বৈষম্যের শিকার হয়েই বাঙালি স্বাধিকার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
সোভিয়েত প্রধানমন্ত্রী কোসিগিনের মধ্যস্থতায় তাসখন্দ শহরে ভারত ও পাকিস্তানের মাঝে যুদ্ধ-বিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
১৯৬৯ সালের আসাদ হত্যার প্রতিবাদ মিছিলে মতিউর নিহত হয়।
আসাদ হত্যার প্রতিবাদে ১৯৬৯ সালের ২২, ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি তারিখে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। ২৪ জানুয়ারি তারিখে সারা দেশে হরতাল চলাকালে সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক ঢল নামে। আবারও পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র কিশোর মতিউর নিহত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!