ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি হচ্ছে সমাজকর্মের এমন একটি মৌলিক পদ্ধতি যাঁর মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিকে সমস্যা সমাধানে সক্ষম করে তোলা হয়।
স্যার উইলিয়াম বিভারিজ ইংল্যান্ডের দারিদ্র্য সমস্যা মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর মত দেন। তাই তার প্রদত্ত রিপোর্টটিকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ভিত্তি বলা হয়।
ইংল্যান্ডের দারিদ্র্য ও ভবঘুরে সমস্যা মোকাবিলায় ১৯৪২ সালে বিভারিজ রিপোর্ট প্রদান করা হয়। এ রিপোর্টে সুপারিশকৃত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিই ইংল্যান্ডে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ভিত তৈরি করে। বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতেই ইংল্যান্ড সরকার আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে কল্যাণমূলক আইন প্রণয়নের প্রয়াস পেয়েছিল, যা কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি তৈরি করে।
আমিনের সুস্থতার ক্ষেত্রে উদ্দীপকে ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এ পদ্ধতি আবিষ্কারের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের COS বা দান সংগঠন সমিতিটি জড়িত।
১৮৭৭ সালে গঠিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দান সংগঠন সমিতি সর্বপ্রথম ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতির উদ্ভাবন করে। ব্যক্তিকেন্দ্রিক ধারণা, হাসপাতাল সেবা, শিশুকল্যাণ, মনোচিকিৎসা ও বিদ্যালয়কেন্দ্রিক সেবা এবং অপরাধ সংশোধনে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হতো। ম্যারি রিচমন্ড ব্যক্তি সমাজকর্ম ধারণার ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। তিনি ছিলেন বাল্টিমোর COS এর জেনারেল সেক্রেটারি। Social Diagnosis এবং What is Case Work গ্রন্থ দুটির মাধ্যমে ম্যারি রিচমন্ড ব্যক্তি সমাজকর্মের ধারণার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন। এছাড়া গর্ডন হ্যামিল্টন, হেলেন পার্লম্যান প্রমুখ মনীষীগণ ব্যক্তি-সমাজকর্ম ধারণা বিকাশে সহায়তা করেছিলেন। আর এরা সবাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের COS-এর সদস্য ছিলেন। তাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ বর্তমান সময়ের সমাজকর্মীরা খুব সহজেই ব্যক্তিকেন্দ্রিক সমস্যা চিহ্নিত করে তা কার্যকরভাবে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন, যেমনটি উদ্দীপকে লক্ষ করা যাচ্ছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মাদকাসক্ত হয়ে অপরাধের সাথে আমিনের জড়িয়ে পড়ার পর একজন সমাজকর্মী তাকে সুস্থ করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে একজন সমাজকর্মী সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, তার পরিবার ও বন্ধুদের সাথে মিশে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। আর COS এর উদ্ভাবনের মাধ্যমে ব্যক্তি সমাজকর্মের বিকাশ ত্বরান্বিত হয়।
উদ্দীপকের আমিনের সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মী তার পেশাগত আদর্শ, বিশ্বাস ও নীতিমালা অনুসরণ করেছেন যার গুরুত্ব অপরিসীম।
পেশাদার সমাজকর্ম সাধারণত সমাজ সংশ্লিষ্ট মূল্যবোধ, সমাজকর্মীর ব্যক্তিগত মূল্যবোধ, সাহায্যার্থী সম্পর্কিত মূল্যবোধ এবং প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে থাকে। ব্যক্তির সহজাত মূল্য ও মর্যাদা, আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার, সমান সুযোগের অধিকার, সামাজিক দায়িত্ববোধ, গণতান্ত্রিক অধিকার, ধর্মীয় বিশ্বাস প্রভৃতি সামাজিক মূল্যবোধগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সমাজকর্মী তার অনুশীলন পদ্ধতি পরিচালনা করেন। যেমনটি উদ্দীপকের সমাজকর্মীও তা অনুসরণ করেছেন।
সমাজকর্মীর ব্যক্তিগত মূল্যবোধ, যেমন- যোগ্যতা ও দক্ষতার উন্নয়ন, সেবা প্রদান মানসিকতা, চারিত্রিক সততা, সাহায্যার্থীর প্রতি নৈতিক দায়িত্ব, গোপনীয়তা রক্ষা এগুলোর পূর্ণ অনুসরণের মাধ্যমে সমাজকর্ম পেশার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। ফলে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল ও সমষ্টি সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়াকে নিজেদের কল্যাণ উপযোগী ভাবতে শেখে। সাহায্যার্থীর মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সমাজকর্ম অনুশীলন প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। কারণ সাহায্যার্থীকে গুরুত্ব না দিলে তারা সমাজকর্মীদের ভালোভাবে গ্রহণ করবে না; তাদের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে এবং সেবা গ্রহণে আগ্রহী হবে না। তাই সমাজকর্মীরা সাহায্যার্থীর মূল্যবোধের প্রতি গুরুত্ব দেয়। এছাড়া সমাজকর্ম প্রতিষ্ঠান এবং পেশার মূল্যবোধের প্রতি সহনশীল ও শ্রদ্ধাশীল থেকে পেশা অনুশীলন করে থাকে। প্রতিষ্ঠানের নীতি, আদর্শ, নৈতিক মানদণ্ডের আলোকে সেবা প্রদান করা হয়। কেননা, সংগঠনের বাইরে কাজ করলে কাজের সামাজিক স্বীকৃতি আসবে না এবং পেশার উন্নয়ন ঘটবে না। এ কারণে সমাজকর্ম পেশা এবং প্রতিষ্ঠানের মূল্যবোধের প্রতি গুরুত্ব দেয়।'
পরিশেষে বলা যায়, সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সমাজকর্মের মূল্যবোধগুলো অনুসরণের মাধ্যমে সমাজকর্ম সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা চালায়। এজন্য আমিনের সমস্যা সমাধানে সমাজকর্মীর পেশাগত আদর্শ ও নীতিমালা অনুসরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Related Question
View Allমূল্যবোধ হলো একটি মানদণ্ড, যা মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
আর্থ-সামাজিক জীবনে শিল্পবিপ্লবের প্রভাব অপরিসীম এবং এ প্রভাবের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটি দিকই আছে।
শিল্পবিপ্লবের প্রভাব বিবেচনায় ইতিবাচক দিকই আর্থ-সামাজিক জীবনে আধুনিক সভ্যতার দ্বার উন্মোচন করেছে। উৎপাদন প্রক্রিয়ার পরিবর্তন, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিত্য নতুন ভোগ্যপণ্যের আবিষ্কার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অকল্পনীয় সুযোগ সৃষ্টি করেছে। আবার শিল্পবিপ্লব সৃষ্ট শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে, আর্থ-সামাজিক জটিলতাসহ অনেক সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে
উক্ত সংস্থাটি অর্থাৎ উদ্দীপকে বর্ণিত 'সেভ দ্য চিলড্রেন' নামক সংস্থাটির কার্যক্রম সমাজকর্মের পরিধির আওতাভুক্ত।
সমাজকর্মের পরিধি বলতে মূলত এর ব্যবহারিক দিকের প্রয়োগক্ষেত্র বা প্রয়োগ উপযোগিতাকে বোঝানো হয়। সমাজকর্মের পরিধির মধ্যে সমাজকল্যাণ কর্মসূচি বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক নীতিকে জনগণের সেবা উপযোগী করে তোলার জন্য বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। যেমন- শিশুদের কল্যাণে শারীরিক প্রতিবন্ধী কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ শিশুকল্যাণমূলক অনেক কর্মসূচি সমাজকর্মের পরিধির মধ্যে রয়েছে। এ সব কর্মসূচির সুষ্ঠু ও কার্যকরী বাস্তবায়নে অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। উদ্দীপকে দেখা যাচ্ছে, 'সেভ দ্য চিলড্রেন' নামক সংস্থাটি শিশুনীতি বাস্তবায়নে কাজ করে এবং শিশুর বিকাশ, অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষার বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত 'সেভ দ্য চিলড্রেন' নামক সংস্থাটির কার্যক্রম সমাজকর্মের পরিধির অন্তর্ভুক্ত।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উদ্দীপকের সোহান তার কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজকর্মের মূল্যবোধকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
মূল্যবোধ হলো একটি আদর্শ বা মানদণ্ড যার ভিত্তিতে মানুষের আচরণের ভালো মন্দ বিচার করা হয়। যেসব নীতিমালা, বিশ্বাস, দর্শন, ধ্যান-ধারণা সংকল্প প্রভৃতি বিভিন্ন পেশাগত আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে সেগুলোর সমষ্টিকে পেশাগত মূল্যবোধ বলে। এ মূল্যবোধের প্রেক্ষিতেই পেশাদার কর্মীদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও আচার-আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শিশুকল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত সমাজকর্মীরা সমাজের অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া শিশুদের সেবায় নিয়োজিত থাকে। শিশুদের বিকাশ ও সুরক্ষার বিষয়ে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, 'সেভ দ্য চিলড্রেন' নামক আন্তর্জাতিক সেবামূলক, একটি সংস্থায় কাজ করেন সোহান।। আন্তর্জাতিক সেবামূলক এ সংস্থাটি শিশুকল্যাণমূলক কাজ করে। শিশুনীতি বাস্তবায়ন এবং শিশুর বিকাশ, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সুরক্ষার বিষয়ে এটি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এক্ষেত্রে সোহান আন্তরিকতা ও দক্ষতার সাথে কাজ করছেন। অর্থাৎ তিনি শিশুর চাহিদা, সম্পদ, সুযোগ-সুবিধা প্রভৃতি বিষয়কে মাথায় রেখে শিশুর সর্বাধিক কল্যাণ সাধনের চেষ্টা করছেন। এগুলো সমাজকর্মের মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত। আলোচনার পরিশেষে বলা যায় যে, উল্লিখিত কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকার মধ্য দিয়ে সোহান সমাজকর্মের মূল্যবোধকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি হচ্ছে সমাজকর্মের এমন একটি মৌলিক পদ্ধতি যাঁর মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিকে সমস্যা সমাধানে সক্ষম করে তোলা হয়।
স্যার উইলিয়াম বিভারিজ ইংল্যান্ডের দারিদ্র্য সমস্যা মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর মত দেন। তাই তার প্রদত্ত রিপোর্টটিকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ভিত্তি বলা হয়।
ইংল্যান্ডের দারিদ্র্য ও ভবঘুরে সমস্যা মোকাবিলায় ১৯৪২ সালে বিভারিজ রিপোর্ট প্রদান করা হয়। এ রিপোর্টে সুপারিশকৃত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিই ইংল্যান্ডে কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ভিত তৈরি করে। বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতেই ইংল্যান্ড সরকার আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে কল্যাণমূলক আইন প্রণয়নের প্রয়াস পেয়েছিল, যা কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি তৈরি করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!