গ্রামের কোনো নির্দিষ্ট স্থানে, নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট সময়ে নিজেদের উদ্বৃত্ত পণ্যদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করার জন্য ক্রেতা ও বিক্রেতাদের স্বীকৃত জনজমায়েতকে গ্রামীণ হাটবাজার বলে।
হাট হচ্ছে এমন একটি নির্দিষ্ট স্থান যেখানে কিছুসংখ্যক ক্রেতা ও বিক্রেতা একটি নির্দিষ্ট দিনে এবং নির্দিষ্ট সময়ে মিলিত হয়।
পণ্য বিনিময়ের প্রাথমিক মাধ্যম হলো হাট। একজন মানুষের বেঁচে থাকার সব উপকরণ তার নিজের পক্ষে উৎপাদন করা সম্ভব নয়। ফলে তাকে অন্যের সাহায্য নিতে হয়। এভাবে মানুষ নিজের উদ্বৃত্ব পণ্য অন্যের সাথে বিনিময় করে। আর এই বিনিময় প্রথার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে গ্রামীণ হাট। এই হাটই পণ্য বিনিময়ের প্রাথমিক মাধ্যম।
মঠবাড়িয়ার হাটটি গড়ে ওঠার পেছনে ভৌগোলিক উপাদানের মধ্যে ভূপ্রকৃতি ও নদনদীর যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে।
কোনো স্থানের ভূপ্রকৃতি সেখানকার অধিবাসীদের অর্থনৈতিক জীবনের ওপর ব্যাপকভাবে প্রভাববিস্তার করে। মঠবাড়িয়ার হাটটি বন্যামুক্ত সমতল ভূমিতে গড়ে উঠেছে। কারণ সমভূমিতে কৃষিকাজ, শিল্প ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত এবং জনবসতির ঘনত্ব অধিক। এছাড়া উক্ত হাটটি গড়ে ওঠার পেছনে নদনদীর প্রভাব অত্যধিক। নদীপথে সুলভে যাতায়াত ও মালপত্র একস্থান থেকে অন্যস্থানে পাঠানো যায়। ব্যবসায়ীরা নদীপথে দূরবর্তী স্থানের হাটবাজারে বিভিন্ন পণ্য বেচাকেনা করতে পারে।
উপরিউক্ত ভৌগোলিক কারণগুলোই মঠবাড়িয়ার হাটটি গড়ে ওঠার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাববিস্তার করেছে।
উদ্দীপকের পণ্য বিনিময় কেন্দ্রটি হলো গ্রামীণ হাটবাজার।
বাংলাদেশের গ্রামীণ হাটবাজার স্থানীয় অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে গ্রামীণ হাটবাজারের বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো-
পণ্যসামগ্রী নেওয়া এবং ক্রেতা বিক্রেতাদের যাতায়াতের সুবিধাকে মাথায় রেখে অপেক্ষাকৃত সমতল বন্যামুক্ত জমিতে সাধারণত সপ্তাহের নির্দিষ্ট এক বা দুই দিন গ্রামীণ হাটবাজার বসে।
হাটের বিক্রেতারা দূরদূরান্ত থেকে এলেও ক্রেতারা নিকটবর্তী অঞ্চল থেকে আসে। পরস্পর নিকটবর্তী হাটসমূহে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা এড়ানোর জন্য এক ধরনের সমঝোতার মাধ্যমে হাট বসার দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়। হাটে সাধারণত বিক্রেতার জন্য অস্থায়ী ছাউনি থাকে। তবে বর্তমান সময়ে অনেক বড় হাটে স্থায়ী দোকান ও গদামঘর দেখতে পাওয়া যায়। গ্রামীণ হাট গ্রামীণ জীবনের মিলনমেলা হিসেবেও কাজ করে থাকে।
গ্রামীণ পটভূমিতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হাটের যোগসূত্র থাকায় স্থানীয় প্রশাসনিক অবকাঠামোর আশপাশে হাট গড়ে ওঠে।
সুতরাং বলা যায়, যেকোনো স্থানে গ্রামীণ হাটবাজার বসে না। সুনির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে গ্রামীণ হাটবাজার প্রতিষ্ঠা হয়।
Related Question
View All৫০ লাখেরও বেশি জনসংখ্যাবিশিষ্ট নগরকে মেগাসিটি বলে।
গ্রামের কোনো নির্দিষ্ট স্থানে, নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট সময়ে নিজেদের উদ্বৃত্ত পণ্যদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করার জন্য ক্রেতা ও বিক্রেতাদের স্বীকৃত জনজমায়েতকে গ্রামীণ হাট বলে।
গ্রামীণ জীবনযাত্রায় হাটের ভূমিকা অসামান্য। বৃহত্তর অর্থে গ্রামীণ পরিসরে হাট হচ্ছে আর্থসামাজিক স্নায়ুকেন্দ্র। এ হাটের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ভোগ্যসামগ্রী সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। স্থানীয় মানুষের উদ্বৃত্ত পণ্য বিক্রয় এবং চাহিদাসম্পন্ন পণ্য ক্রয় ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে গ্রামীণ হাটের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত স্থানটি হলো ঢাকা, যা বাংলাদেশের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু।
ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। সব ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ঢাকাকে কেন্দ্র করে সম্পন্ন হয়। ঢাকায় বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান, স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল প্রভৃতি গড়ে উঠেছে। সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সদরদপ্তরও ঢাকায় অবস্থিত। শুধু তাই নয় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টও ঢাকায় অবস্থিত।
এক কথায় বাংলাদেশের যাবতীয় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক ও বিচার বিভাগীয় কর্মকাণ্ড ঢাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তাই ঢাকাকে বাংলাদেশের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু বলে।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো ঢাকা অঞ্চল এবং 'খ' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো রাজশাহী অঞ্চল। এ উভয় অঞ্চলের মধ্যে জনসংখ্যা ঘনত্বের তারতম্য পরিলক্ষিত হয়।
ঢাকা হলো সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা অধ্যুষিত অঞ্চল। বাংলাদেশের মূল প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু হলো ঢাকায়। এর আয়তন ৩১,১২০ বর্গ কি.মি. এবং জনসংখ্যা ৪,৯৩,২১,৬৮৮ জন। জনসংখ্যার ঘনত্ব। ১,৫১২ জন। মোট নগর সংখ্যা ৪০টি। ঢাকায় প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা ব্যাপক আকারে থাকায় এ অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি। উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, যাতায়াত সুবিধা সরকারি বেসরকারি অফিসের অবস্থান; বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সদর দপ্তরের অবস্থান, বড় বড় হাসপাতাল, স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রভৃতি ব্যাপক আকারে থাকায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান। তাই ঢাকার জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি।
অন্যদিকে রাজশাহী হলো বাংলাদেশের তৃতীয় জনসংখ্যা অধ্যুষিত অঞ্চল। এ অঞ্চলের আয়তন ১৮,১৯০ বর্গ কি.মি.। মোট জনসংখ্যা ১,৯২,২৫,৯০৯ জন এবং ঘনত্ব ১,০১৮ জন। এ অঞ্চলে ৮টি নগর রয়েছে। রাজশাহী অঞ্চল প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক বিবেচনায় বসবাসের অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করলেও ঢাকার মতো এত ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা নেই। তাই প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক কিছু নিয়ামকের তারতম্যের জন্য ঢাকা ও রাজশাহীতে জনসংখ্যার ঘনত্বের তারতম্য হয়।
যে বসতিতে একটি পরিবার অন্যান্য পরিবার থেকে বহু দূরে বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করে তাকে বিক্ষিপ্ত বসতি বলে।
বাংলাদেশের গ্রামীণ হাটগুলো গড়ে ওঠার পেছনে কারণগুলো হলো স্থানীয় চাহিদার উদ্বৃত্ত চালান, দূরবর্তী পরিব্রাজক সেবা প্রদান, অনুকূল যোগাযোগ ব্যবস্থা, নদনদীর অবস্থান, চাহিদার তারতম্য প্রভৃতি l
যে অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি উর্বর, রাস্তাঘাট কাঁচাপাকা বা আধাপাকা এবং কয়েকটি অঞ্চলের সাথে সড়ক ও নদীপথে ভালো যোগাযোগব্যবস্থা থাকে সেসব অঞ্চলে হাটগুলো গড়ে উঠেছে। বেশিরভাগ হাট গড়ে উঠে বাজারসংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর মধ্যে উদ্বৃত্ত পণ্যসামগ্রী ও সেবাকর্মের মধ্যে তারতম্য হলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!