উদ্ধৃত উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের 'আমার পথ' প্রবন্ধের অন্তর্গত। এই প্রবন্ধে নজরুল ইসলামের স্বকীয়তা, আত্মবিশ্বাস, অকুতোভয়তা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সুর ধ্বনিত হয়েছে। তিনি পরাধীন জাতি, নিপীড়িত মানুষ এবং অধিকারহীনদের কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করেছেন এবং আশাহীনদের মনে আশার আলো জ্বালানোর সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত আত্মশক্তিই মুক্তির একমাত্র পথ। এই প্রবন্ধে তিনি প্রচলিত অন্ধ বিশ্বাস ও ভণ্ডামিকে আঘাত করে সত্য ও যুক্তির উপর প্রতিষ্ঠিত একটি নতুন পথের সন্ধান দিয়েছেন, যা মানুষের আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রতীক।
সমাজ ও সমকাল সচেতন প্রাবন্ধিক আবুল ফজল কথাশিল্পী হিসেবে প্রসিদ্ধ। স্বদেশপ্রীতি, অসাম্প্রদায়িক জীবনচেতনা, সত্যনিষ্ঠা, মানবতা ও কল্যাণবোধ ইত্যাদি তাঁর সাহিত্যকর্মের প্রতিপাদ্য বিষয়। রবীন্দ্রনাথের গান পাকিস্তানের আদর্শের পরিপন্থী এই বক্তব্য উপস্থাপন করে পাকিস্তান সরকার ২২ জুন, ১৯৬৭ সালে রেডিও ও টেলিভিশন থেকে রবীন্দ্রসংগীত প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলে সরকারের সে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ জ্ঞাপন করেন।
আবুল ফজল ১ জুলাই, ১৯০৩ সালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি 'ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ' (১৯২৬) এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং ১৯৩০ সালে এর সম্পাদক নিযুক্ত হন।
'ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর মুখপত্র 'শিখা'। এটি ১৯২৭ সালে আবুল হোসেনের সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকার স্লোগান ছিল- 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'। ১৯৩১ সালে তিনি 'শিখা'র ৫ম সংখ্যা সম্পাদনা করেন। তিনি ছিলেন 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলনের অন্যতম কর্ণধার।
তিনি 'মুক্তবুদ্ধির চিরসজাগ প্রহরী' নামে খ্যাত।
তিনি 'জাতির বিবেক' বলে স্বীকৃতি লাভ করেন।
তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (১৯৭৩) এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা ছিলেন (১৯৭৫)।
তিনি উপন্যাসে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) ও 'রেখাচিত্র' গ্রন্থের জন্য আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬) পান।
১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট উপাধি লাভ করেন।
তিনি ৪ মে, ১৯৮৩ সালে চট্টগ্রামে মারা যান।
আবুল ফজলের উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহঃ
উপন্যাস: ‘রাঙ্গা প্রভাত' (১৯৫৭): এটি প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সের পাঠ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। ‘চৌচির’ (১৯৩৪), ‘প্রদীপ ও পতঙ্গ' (১৯৪০)।