আমি কোন শহিদের স্মরণে লিখব?

বায়ান্ন, বাষট্টি, ঊনসত্তর, একাত্তর;

বাংলার লক্ষ লক্ষ আসাদ মতিউর আজ বুকের শোণিতে উর্বর করেছে এই প্রগাঢ় শ্যামল।

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

তপুকে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখে রাহাত আর্তনাদ করে ওঠে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

"তপু না মরে আমি মরলেই ভালো হতো।"- এ কথা রাহাত তপুর শহিদ হওয়া প্রসঙ্গে বলে।

রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে মিছিল করতে গিয়ে কপালে গুলি লেগে শহিদ হয় তপু। মিছিলে যাওয়ার সময় তপুর স্ত্রী রেণু তাকে বারবার নিষেধ করেছিল। তপু, গল্পকথক, রাহাত কেউই রেণুর কথা শোনেনি। পরে তপু শহিদ হলে তার মৃতদেহটাও পাওয়া যায়নি। সেই রাতে তপুর মা ও রেণু যখন আসে তখন তারা কান্নায় ভেঙে পড়ে। রেণু রাগে-অভিমানে তাদের সঙ্গে একটা কথাও বলে না।
এমন অবস্থায় রাহাত গল্পকথকের কানে ফিসফিস করে বলে যে, তপু না মরে সে নিজে মরলেই ভালো হতো।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে 'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পের রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে মানুষের সাহসী চেতনার দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে।

দেশের যেকোনো দুর্যোগে সাহসী সন্তানেরা প্রবল সাহস নিয়ে মোকাবিলা করে থাকে। অপশক্তির কোনো বাধা, কোনো ষড়যন্ত্রই এসব বীর সন্তানকে রুখতে পারে না। দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে তারা নিজেদের বুকের তাজা রক্ত দিতেও বিন্দুমাত্র কুণ্ঠিত হয় না।

উদ্দীপকে বাংলার লাখো শহিদের আত্মত্যাগের কথা বলা হয়েছে। বাংলার লাখো মানুষ যেন আসাদ আর মতিউরের মতো সাহসী হয়ে উঠেছে। বায়ান্ন, বাষট্টি, উনসত্তর, একাত্তর প্রভৃতি ইতিহাসের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁরা অসীম সাহসের পরিচয় দিয়েছে। বুকের তাজা রক্তে তাঁরা উর্বর করেছে এই বাংলার প্রগাঢ় শ্যামল। 'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পেও রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে অসংখ্য মানুষ রাজপথে নামে। তারা ক্রুদ্ধ হয়ে হাতে প্লাকার্ড, স্লোগান দেওয়ার চুঙ্গো, লম্বা লাঠিতে ঝোলানো রক্তাক্ত জামা নিয়ে রাস্তায় মিছিলে নামে। মিলিটারির গুলিতে তপু শহিদ হয়। তার সঙ্গে গল্পকথক, রাহাত অল্পের জন্য বেঁচে ফেরে। তপুর মৃহদেহটা তারা নিয়ে আসতে পারেনি। মানুষগুলোর এমন কর্মকাণ্ড তাদের সাহসী চেতনাকেই নির্দেশ করে যা উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
উত্তরঃ

হ্যাঁ, উদ্দীপকের সংগ্রামী চেতনা এবং 'একুশের গল্প' গল্পের সংগ্রামী চেতনা একসূত্রে গাঁথা।

বাঙালি জাতি যখনই কোনো অপশক্তির মাধ্যমে শোষিত হয়েছে তখনই তারা সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছে। বায়ান্ন থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ- প্রতিটি ক্ষেত্রেই এ জাতি অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে।

উদ্দীপকে বায়ান্ন, বাষট্টি, উনসত্তর, একাত্তর প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলার সাহসী সন্তানদের অসীম সাহসের সঙ্গে লড়াই করার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। বাংলার সংগ্রামী ইতিহাসে আসাদ, মতিউর যেভাবে সংগ্রামী চেতনা ধারণ করে দেশের জন্য শহিদ হয়েছিলেন, তেমনই লাখো মানুষ তাঁদের এই সংগ্রামী চেতনা ধারণ করেই বুকের রক্ত দিয়ে প্রগাঢ় শ্যামল এই দেশকে উর্বর করেছেন। 'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে অসংখ্য মানুষ রাজপথে নামে। তাঁরা শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মিলিটারির গুলির মুখে বুক পেতে দিয়েছে। শেষে তপুর মতো অসংখ্য মানুষ গুলিতে শহিদ হয়। তাঁদের কারও কারও মৃতদেহটাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এগুলো নিঃসন্দেহে তাঁদের সংগ্রামী চেতনাকেই নির্দেশ করে।

'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পে স্বপ্নবান ও প্রাণোচ্ছল তরুণ অপুর আত্মত্যাগের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। স্ত্রী রেণুর বারবার নিষেধ সত্ত্বেও গল্পকথক ও রাহাতকে নিয়ে তপু ছুটে যায় গণমানুষের মিছিলে। তপুর মতো অসংখ্য মানুষ পারিবারিক সব পিছুটান উপেক্ষা করে ছুটে যায় রাজপথের মিছিলে। মিলিটারির গুলিতে তপু শহিদ হয়। দুজন মিলিটারি তার মৃতদেহটাও নিয়ে যায়। এ গল্পে তপু, গল্পকথক, রাহাতদের কর্মকান্ড মূলত তাদের সংগ্রামী চেতনাকেই নির্দেশ করে। এটিই এ গল্পের মূলকথা। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সংগ্রামী চেতনা এবং গল্পের সংগ্রামী চেতনা একসূত্রে গাঁথা।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
172

Related Question

View All
1k
উত্তরঃ

তপু ফিরে আসায় সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল, কারণ তারা ভাষা আন্দোলনে শহিদ তপুর মৃতদেহ দুজন মিলিটারি নিয়ে যাওয়ার পর এই প্রথম তপুর কঙ্কাল দেখছে।

'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পের কথক তপুর বন্ধু। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তপু, রাহাত ও গল্পকথক অংশ নিয়েছিল। তারা চার বছর আগে ভাষার মিছিলে যোগ দিয়ে হাইকোর্টের মোড়ে যাওয়ার পর তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী মিছিলে গুলি চালায়। লাল কালিতে লেখা 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' প্ল্যাকার্ড-নিয়ে তপু মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুজন মিলিটারি এসে তপুর মৃতদেহ নিয়ে চলে যায়। সেই ঘটনার চার বছর পর হোস্টেলে তপুর সিটে আসা নতুন রুমমেটের কাছে থাকা কঙ্কালটি কাকতালীয়ভাবে ভাষা আন্দোলনে শহিদ তপুর। অন্যরূপে হলেও প্রিয় বন্ধু ফিরে আসায় সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
950
উত্তরঃ

উদ্দীপকের আজাদের সঙ্গে 'একুশের গল্প' রচনার তপু চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

বাঙালি হলো বীরের জাতি। তারা অধিকার আদায়ে ছিল তৎপর। তাদের উপর যখনই কোনো অন্যায়-অবিচার হয়েছে তখনই তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে। আদায় করেছে নিজেদের অধিকার।
উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এক তরুণের আত্মদানের কথা বলা হয়েছে। এই তরুণের নাম মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ। তিনি আগস্ট মাসে ধরা পড়ে শত্রুর হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন তবুও সহযোদ্ধাদের কোনো তথ্য তিনি শত্রুদের দেননি। তার এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও চেতনা 'একুশের গল্প' ছোটগল্পের তপুর সাহসী চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তপু 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' প্ল্যাকার্ড নিয়ে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যোগ দিয়েছে। স্ত্রী রেণুর বাধা, অনুরোধ উপেক্ষা করেছে। এভাবে উদ্দীপকের আজাদের সঙ্গে 'একুশের গল্প' শীর্ষক গল্পটির তপু চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
498
উত্তরঃ

যুগে যুগে আজাদ, তপু, রাহাত, গল্প কথক- এঁরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায় মানুষের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে।

একজন দেশপ্রেমিক সব সময় দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেন। অধিকার আদায়ের জন্য মানুষকে দিনের পর দিন আন্দোলন করতে হয়। মানুষ ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকে।

'একুশের গল্প' গল্পে গল্পকথক, রাহাত ও তপু- তারা তিন বন্ধু ভাষা আন্দোলনে যোগ দেয় এবং 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' বলে স্লোগান দেয়। মিছিলে শত্রুরা গুলি চালালে তপু পুলিবিদ্ধ হয়ে প্লাকার্ডসহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। বাংলা ভাষার জন্য তার এ আত্মদানের সঙ্গে উদ্দীপকের আজাদের মিল রয়েছে। তিনিও প্রিয় মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করতে শত্রুর নির্মমতা সহ্য করেছেন, তবুও সহযোদ্ধাদের বিষয়ে কোনো প্রকার তথ্য দেননি।

'একুশের গল্প' গল্পে তপু ও তার বন্ধুরা অসীম সাহস নিয়ে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় রাজপথে নেমে পড়ে। তাদের মতো উদ্দীপকের আজাদও দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য একই কাতারে দাঁড়িয়েছে। আসলে তরুণের ধর্মই এই। দেশে যখনই কোনো ক্রান্তিকালে পড়ে তখনই তরুণরা দেশ উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাই বলা যায়, দেশমাতৃকার প্রশ্নে যুগে যুগে আজাদ, তপু, রাহাত, গল্পকথক এঁরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায়।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
396
উত্তরঃ

"তুমিও চলো না আমাদের সাথে।"- কথাটি তপু বলেছে তার স্ত্রী রেণুকে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যেতে।

'একুশের গল্প' শীর্ষক ছোটগল্পে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের অংশগ্রহণ ও জীবনদানের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তপু তার বন্ধু গল্পকথক ও রাহাতকে নিয়ে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যোগ দেয়। একটু পরে তপুর স্ত্রী রেণু এসে তপুর হাত ধরে, তাকে মিছিলে থেকে সরিয়ে বাড়ি নিয়ে যেতে চায়। তপু তখন স্ত্রীর হাত ছাড়িয়ে নিয়ে তাকেও মিছিলে যোগ দিতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
11 months ago
271
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews