'পানকৌড়ির রক্ত' আল মাহমুদের লেখা।
কবি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এবং তার সঙ্গে ভাব বিনিময় করার জন্য ছিটকিনিটা ধীরে ধীরে খুললেন।
কবি আল মাহমুদের 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতাটিতে বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিষয়' অনুষঙ্গ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে কবি বিমোহিত। তাই প্রকৃতির বিভিন্ন ফুল, পাখি, চাঁদ, পুকুরের জলের সঙ্গে কবি ভাব জমাতে চান। মূলত কবি প্রাকৃতিক বা নৈসর্গিক সৌন্দর্য অবলোকন এবং উপভোগ করার জন্য ছিটকিনিটা ধীরে ধীরে খুললেন।
উদ্দীপকে 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতার নিসর্গ সৌন্দর্যের দিকটি ফুটে উঠেছে।
কৃত্রিম সৌন্দর্যের ভালো লাগা সাময়িক কিন্তু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভালো লাগা চিরন্তন। এ সৌন্দর্য মনে প্রশান্তি এনে দেয়। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নতুনভাবে প্রেমের সম্পর্ক হতে থাকে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে একটি কিশোরের মনের কথা বর্ণিত হয়েছে। সে তার গ্রামের নদীর বালুচর, কাশবন, নদীতটসহ প্রাকৃতিক সব অনুষঙ্গ ভালোবাসে। 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় চাঁদের স্নিগ্ধ আলো, মিনার, পুকুর, জল, রক্তজবা ইত্যাদি কবি আনন্দচিত্তে দেখেছেন; প্রাকৃতিক নানা সৌন্দর্য নিয়ে কবি তাঁর কাব্য নির্মাণে মেতে উঠেছেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে।
"উদ্দীপক ও 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতার প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উভয় ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই প্রাধান্য পেয়েছে।"-মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষ প্রকৃতির সন্তান। প্রকৃতির সঙ্গে তার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। প্রাকৃতিক পরিবেশকে সুন্দর ও সতেজ রাখতে জীব ও জড়ের মাঝে অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা দরকার।
উদ্দীপকে কবি প্রকৃতির চিরন্তন সৌন্দর্যকে উপস্থাপন করেছেন। এখানে দেখা যায়, গ্রামের নদীতে বালুচর, যেখানে চকাচকিরা শরৎকালে ঘর বাঁধে। শীতের দিনে বিদেশি হাঁসেরা দলবেঁধে ভাসে এবং নদীতটের চারদিকে কাশফুল ফুটে হাসতে থাকে। 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় নিসর্গপ্রেমের স্বরূপ চিত্রিত হয়েছে। কবি রাতের আকাশে হঠাৎ স্নিগ্ধ চাঁদের আলো দেখে ঘর থেকে বের হয়ে ঝিমধরা শহর, মিনার, পাহাড় ইত্যাদি দেখে মুগ্ধ হন। ফুল-পাখিসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক অনুষঙ্গকে তাঁর কাব্যের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেন।
উদ্দীপকের প্রকৃতির রূপসৌন্দর্যের বর্ণনায় দেখা যায়, গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত নদী, কাশফুল, চকাচকি, হাঁস ইত্যাদি। 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় প্রাকৃতিক নানা মনমাতানো সৌন্দর্যকে কবি তাঁর কাব্যের অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। সুতরাং উদ্দীপক ও 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতার প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উভয় ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই প্রাধান্য পেয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allআমার পঠিত 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় রক্তজবার ঝোপের কাছে আজ কাব্য হবে।
করি আল মাহমুদের দৃষ্টিতে প্রকৃতির সাথে মানুষের পরম আত্মীয়তার সম্পর্ক বিদ্যমান।
'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় কবির নিসর্গপ্রেম গভীর মমত্বের সঙ্গে ফুটে উঠেছে। কবি প্রকৃতির বিচিত্র সৌন্দর্যের কাছে যেতে চান, তাদের সঙ্গে মিশে যেতে চান। কবির দৃষ্টিতে প্রকৃতি যেন মানুষের পরম আত্মীয়।
কবিতাংশ দুটিতে পল্লি-প্রকৃতির বিচিত্র রূপ ফুটে উঠেছে।
প্রকৃতির বিচিত্র রূপ পরিলক্ষিত হয় এই পৃথিবীতে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষ আত্মীয়তার সম্পর্ক অনুভব করে। প্রকৃতি নানাভাবে মানুষের মনকে প্রভাবিত করে।
উদ্দীপকের প্রথম অংশে কবি পরম মমতায় পল্লি-প্রকৃতির রূপ বর্ণনা করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে লালদিঘির পাড় ঘেঁষেই পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে। তার একটু সামনে এগুলেই থোকায় থোকায় জোনাক পোকা দেখা যায়। আর দিঘির কালো জল যেন কলকলিয়ে কবির সঙ্গে কথা বলে। উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশের কবিতাংশেও পল্লি-প্রকৃতির রূপ ফুটে উঠেছে। সেখানে দেখা যায় বাঁশবাগান, তার মাঝখান দিয়ে আধখানা চাঁদ ঝুলে রয়েছে। ঝোপঝাড়ে জোনাকিরা আলো জ্বেলে ঘুরে বেড়ায়।
'কবিতাংশ দুটিতে কবিদ্বয়ের নিসর্গ-প্রেম ফুটে উঠেছে'-উক্তিটি যথার্থ।
প্রকৃতির আশ্রয়ে মানুষ বেড়ে ওঠে। প্রকৃতি নানাভাবে মানুষকে সাহায্য করে। কখনো আনন্দের কখনো দুঃখের সাথি হয় প্রকৃতি। আবার নতুন কোনো কাজের উৎসাহও মানুষ প্রকৃতির কাছ থেকে পেয়ে থাকে।
উদ্দীপকের প্রথম কবিতাংশে কবি পল্লি-প্রকৃতির বিচিত্র রূপ সযত্নে বর্ণনা করেছেন। প্রকৃতির প্রতি গভীর মমত্ববোধ থেকেই কবি প্রকৃতির - রূপ উপস্থাপন করেছেন। লালদিঘির পাড়ে পাহাড়, জোনাক পোকার দল, দিঘির কালো জলের শব্দ- সবকিছু প্রকাশেই কবির নিসর্গপ্রেম ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় কবিতাংশেও কবি' নিসর্গের বর্ণনা দিয়েছেন। বাঁশবাগান, চাঁদ, জোনাক পোকার আলো জ্বেলে ঘুরে বেড়ানো এগুলো কবির নিসর্গপ্রেমকেই প্রকাশ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কবিতাংশ দুটিতে কবিদ্বয়ের নিসর্গপ্রেম ফুটে উঠেছে। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।
কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
কবি 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় নিসর্গপ্রেম বলতে প্রকৃতির প্রতি তাঁর মমত্ব ও প্রেমের কথা বুঝিয়েছেন।
বাংলাদেশের লোকজ জীবন ও পল্লিপ্রকৃতি আল মাহমুদের কবিতার প্রাণ। পল্লির স্নিগ্ধ-শ্যামল রূপ তাঁর কবিতায় সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। কবি প্রকৃতির বিচিত্র সৌন্দর্যের কাছে যেতে চান, তাদের সঙ্গে মিশে যেতে চান। 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতায় কবির এই নিসর্গপ্রেমের প্রগাঢ় পরিচয় পাওয়া যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!