জমিতে সেচ প্রদানের পর পানি অন্য ক্ষেতে চলে যাওয়াই পানি চুয়ানো।
যে পদ্ধতিতে খাল-বিল বা পুকুর হতে আসা পানি প্রধান নালার সাহায্যে সমতল জমিতে প্রয়োগ করা হয় তাকে প্লাবন সেচ পদ্ধতি বলে। সমতল জমির জন্য প্লাবন সেচ বেশ কার্যকর।
মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, "মাছ চাষের জন্যে পুকুরের পানির অম্লত্ব ও ক্ষারত্ব সহনীয় মাত্রায় থাকা জরুরি"।
পুকুরের পানিতে অম্লত্ব বা ক্ষারত্বের গ্রহণযোগ্য মাত্রা হলো ৬.৫-৮.৫। মাত্রা ৭ এর কম হলে অম্লত্ব বাড়ে এবং এর বেশি হলে ক্ষারত্ব বাড়ে। পুকুরের পানিতে অম্লত্ব বা ক্ষারত্বের মাত্রা কম-বেশি হলে মাছ চাষে সমস্যার সৃষ্টি হয়। যেমন- কম হলে মাছের ফুলকায় পচন ধরে। বেশি হলে মাছের খাদ্য গ্রহণের চাহিদা কমে যায় এবং মাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে মাছ সহজেই রোগাক্রান্ত হয়। পুকুরের পানির অম্লত্ব বেড়ে গেলে শতক প্রতি ১-২ কেজি চুন প্রয়োগ করতে হবে। আর ক্ষারত্বের মাত্রা বেড়ে গেলে পুকুরের পানিতে তেঁতুল বা সাজনা গাছের ডাল ৩-৪ দিন ভিজিয়ে রাখতে হবে।
উপরিউক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে অম্লত্ব ও ক্ষারত্বের মাত্রা সহনশীল পর্যায়ে রাখা যায়।
মৎস্য কর্মকর্তা আমীর হোসেনকে পুকুরে চুন প্রয়োগ করতে বলেন।
বৃষ্টি হওয়ার কারণে আমীর হোসেনের পুকুরের পানি ঘোলা হয়েছে। ফলে পুকুরের পানিতে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারেনি এবং অক্সিজেনের অভাব ঘটেছে। পুকুরের পানিতে অক্সিজেনের অভাবে মাছ পানির ওপরের স্তরে খাবি খায় এবং অনেক মাছ মারাও যায়। পুকুরের পানিতে শতক প্রতি ১-২ কেজি চুন প্রয়োগ করলে পুকুরের পানির ঘোলাভাব দূর হয়। এছাড়া পুকুরের পানিতে কোন রোগজীবাণু বা অপকারী পোকা-মাকড় থাকলে চুন সেগুলোকেও ধ্বংস করে। তাই মৎস্য কর্মকর্তা আমীর হোসেনকে পুকুরে চুন প্রয়োগের যে পরামর্শ দিয়েছেন তা যথার্থ।
Related Question
View Allবীজ ছাড়া উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গ (যেমন- মূল, পাতা, কান্ড ইত্যাদি) দিয়ে চারা উৎপাদনকে উদ্ভিদের অঙ্গজ বংশবিস্তার বলে।
অঙ্গজ বংশবিস্তারের একটি সুবিধা হলো তাড়াতাড়ি ফল পাওয়া যায়। বীজ রোপণ করে চারা উৎপন্ন করলে ফল পেতে অনেক সময় লাগে, যা অঙ্গজ প্রজননের ক্ষেত্রে লাগে না। এতে দ্রুত অর্থ আয় হয় ও খাদ্যের চাহিদা পূরণ করা যায়।
গোলাপের বংশবিস্তারের ক্ষেত্রে 'ক' চিত্রের পদ্ধতিটি হলো দাবা কলম এবং 'খ' পদ্ধতিটি হলো কর্তন বা ছেদ কলম।
দাবা কলম পদ্ধতিতে মাতৃগাছের মাটির নিকটে অবস্থিত শাখা নিচে নামিয়ে দুই গিটের মাঝখানের বাকল কেটে নিতে হয়। বাকলের নিচের সবুজ অংশ ছুরির ভোতা 'পাশ দিয়ে চেছে ফেলতে হয়। এরপর কাটা অংশ মাটিতে চাপা দিতে হয়। কিছুদিন পর কাটা অংশ থেকে শিকড় ও নতুন চারা গজায়। গজানো অংশ কেটে ২-৩ সপ্তাহ পর সাবধানে মাটিসহ অন্যত্র রোপণ করতে হয়। অপরদিকে কর্তন, বা ছেদ কলম পদ্ধতিতে শাখা, মূল, পাতা ইত্যাদি মাতৃগাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ছায়াযুক্ত স্থানে টবে বা নার্সারি বেডে রোপণ করতে হয়। ১৫ দিনের মধ্যে তা থেকে নতুন চারা উৎপন্ন হয়। অতঃপর চারাটি অন্যত্র মূল জমিতে রোপণ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় খুব সহজে ও কম সময়ে গোলাপের বংশবিস্তার করা যায়। তাছাড়া কাণ্ড বাঁকানোর ফলে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
অর্থাৎ, কর্তন বা ছেদ কলম পদ্ধতি গোলাপের বংশবিস্তারের ক্ষেত্রে অমিত কার্যকরী।
চিত্রের পদ্ধতিগুলো হলো দাবা কলম ও কর্তন বা ছেদ কলম যা কৃত্রিম অঙ্গজ বংশবিস্তারের প্রকারভেদ।
অঙ্গজ পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করলে নতুন বৃক্ষ তার মাতৃবৃক্ষের সকল গুণাগুণ বিশুদ্ধভাবে বহন করে। অর্থাৎ, যদি কোনো গাছের আম খুব বড় এবং মিষ্টি হয় তবে তার অঙ্গ দিয়ে উৎপাদিত গাছের আমের স্বাদ ও - আকার হুবহু এক হবে। আবার কোনো গাছের যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকে, তবে সে গাছ থেকে উৎপাদিত চারা গাছও একই গুণ পাবে। এ পদ্ধতি ব্যবহার করে উদ্ভিদে বিভিন্ন গুণগত পরিবর্তন আনা যায়। মাতৃগাছের গুণাগুণের সুবিধা ছাড়াও অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমে চারা থেকে খুব তাড়াতাড়ি ফল পাওয়া যায়। ফলে ফসল উৎপাদন যেমন দ্রুত হয়, তেমনি দ্রুত আয় এবং খাদ্য ঘাটতিও হ্রাস করা যায়।
অতএব বলা যায়, উপরের চিত্রের পদ্ধতিগুলো কম সময়ে অধিক ফসল উৎপাদনে ভূমিকা রাখতে পারে।
ফসলের পানির চাহিদা পূরণ ও ফলন বৃদ্ধির জন্য কৃত্রিমভাবে পানি সেচ দেওয়া হয়।
সেচের পানির কার্যকারিতা বৃদ্ধির একটি প্রযুক্তি হচ্ছে উপযুক্ত পদ্ধতিতে সেচ প্রদান। যেমন- বৃত্তাকার সেচ পদ্ধতিতে বহুবর্ষজীরী ফলগাছের সমস্ত জমিতে সেচ না দিয়ে যে স্থানে গাছ রয়েছে শুধু সেখানেই পানি সরবরাহ করা হয়। এতে পানি নিয়ন্ত্রণ সহজ ও পানির অপচয় কম হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
