স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে সমাজকর্মের পদ্ধতি ও দর্শনের যে বাস্তব প্রয়োগ করা হয় তাকেই চিকিৎসা সমাজকর্ম বলে।
বিদ্যালয় সমাজকর্ম বলতে সমাজকর্ম অনুশীলনের একটি বিশেষ শাখাকে বোঝায়, যা বিদ্যালয় পরিবেশে শিক্ষার্থীর পূর্ণ বিকাশে সহায়তা করে।
যেসব শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে অমনোযোগী, অনিয়মিত এবং বিদ্যালয় পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে না পেরে অবাধ্য আচরণ করে, তাদের কল্যাণে সমাজকর্মের এ শাখা কাজ করে। এক্ষেত্রে বিদ্যালয় সমাজকর্মী পরিবার, স্কুল ও সমষ্টির মাঝে সংযোগকারী হিসেবে কাজ করেন।
উদ্দীপকে সমাজকর্মের শিল্প সমাজকর্ম শাখার অনুশীলনের মাধ্যমে বাড়ির মালিকের আর্থিক ক্ষতি রোধ করা হয়েছে।
শিল্প সমাজকর্ম শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট নানা সমস্যা নিয়ে কাজ করে। বিশেষ করে শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক ও শ্রমিকদের সম্পর্কের উন্নয়ন, শিল্প কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধি, শ্রমিকদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণে শিল্প সমাজকর্ম কাজ করে। মূলত সমজকর্মের এ শাখা উভয়পক্ষের মাঝে সেতুবন্ধন সৃষ্টিতে কাজ করে; যার মাধ্যমে মালিক-শ্রমিক স্বার্থ রক্ষা ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের অধিক মুনাফা অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হয়। উদ্দীপকের বর্ণনা অনুসারে আমেরিকার একটি রিয়েল এস্টেট ফ্ল্যাট বাড়িতে ভাড়াটিয়া এলেও পরের মাসে চলে যায়। এছাড়া কোম্পানির আর্থিক ক্ষতির কারণে কর্মচারিদের মধ্যে ব্যাপক হতাশার সৃষ্টি হয়। এসকল সমস্যা প্রতিরোধের জন্য একজন সমাজকর্মীকে নিয়োগ করা হয়। সে তার পেশাগত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে উক্ত সমস্যার সমাধান দিতে সক্ষম হন। উদ্দীপকের এসব তথ্য সমাজকর্মের বিশেষায়িত শাখা শিল্প সমাজকর্মকে নির্দেশ করে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে সমাজকর্মের অন্যতম শাখা শিল্প সমাজকর্ম অনুশীলনের মাধ্যমে বাড়ির মালিকের আর্থিক ক্ষতি রোধ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে শিল্প শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে শিল্প সমাজকর্মের গুরুত্ব অপরিহার্য।
সাধারণত শিল্প কারখানার মালিক ও শ্রমিক পক্ষ একে অন্যের বিপরীত মেরুতে অবস্থান করে। মালিক পক্ষ মনে করে শ্রমিকদের অতিরিক্ত সুবিধা দিলে ব্যবসায় লোকসান হবে। অন্যদিকে, শ্রমিক পক্ষ মনে করে তারা প্রতিনিয়ত মালিকদের শোষণের শিকার হচ্ছে। এ ধরনের টানাপোড়োন সামগ্রিক উৎপাদনে প্রভাব ফেলে। একজন শিল্প সমাজকর্মী এক্ষেত্রে উভয়ের মাঝে সেতুবন্ধন সৃষ্টিতে কাজ করে। শিল্পকারখানায় শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধি ও কর্মীর অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে এ শাখার গুরুত্ব অপরিসীম। একজন শিল্প সমাজকর্মী সমাজকর্মের বিভিন্ন পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগ করে সমস্যার সমাধান দেন। শিল্প প্রতিষ্ঠানে মালিক-শ্রমিকদের সম্পর্ক উন্নয়নে একজন সমাজকর্মী বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ করে সমস্যা সমাধান দেন। এর মাঝে আছে- মালিক, শ্রমিকের পেশাগত এ দ্বন্দ্বের কারণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, সমাধান, শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ, সামঞ্জস্য বিধান, সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিকল্পনা প্রণয়ন ইত্যাদি। এ ধাপগুলো সমস্যা সমাধানকে ফলপ্রসূ করে। সেই সাথে শ্রমিকদের দক্ষতা অনুযায়ী কাজের ক্ষেত্র নির্বাচন, শ্রমিক শোষণ যাতে না হয় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ, অবসরকালীন ভাতা প্রদান, শিল্প ক্ষেত্রে শ্রমিকেদের যথাযথ চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে শিল্প সমাজকর্মের গুরুত্ব অত্যধিক।
তাই বলা যায়, বাংলাদেশে শিল্প শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে শিল্প সমাজকর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allমার্কিন সমাজবিজ্ঞানী শার্লট টোলে মৌল মানবিক চাহিদাকে ৬ ভাগে ভাগ করেছেন।
মৌল মানবিক চাহিদা হিসেবে বর্তমানে বাংলাদেশে বাসস্থান পরিস্থিতি খুব একটা সন্তোষজনক নয়।
নিরাপদে বসবাসের জন্য বাস্থানের বিকল্প নেই। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাসস্থান সংকট বাড়ছে। পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরের প্রায় ২৫% মানুষ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করে। ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, পরিবার প্রতি গড় সদস্য সংখ্যা ৪.৯ জন, শহরে ৪.৮ এবং গ্রামে ৪.৯ জন। তবে বাংলাদেশ সরকার শহর এলাকার বাসস্থান সংকট কমিয়ে আনতে পূর্বাঞ্চল এলাকায় বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করেছে।
উদ্দীপকে মৌল মানবিক চাহিদা শিক্ষাকে নির্দেশ করা হয়েছে, যা পূরণ না হলে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এ দেশে বিরাজমান বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার মধ্যে রয়েছে অধিক জনসংখ্যা, দরিদ্রতা, বেকারত্ব প্রভৃতি। বর্তমানে জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৮ লাখ (অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৮) এবং এদেশের শতকরা ২৪.৩ ভাগ লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। অধিক জনসংখ্যা, দরিদ্রতা, বেকারত্ব, অসচেতনতা, শিক্ষা উপকরণের অভাব প্রভৃতি কারণে মৌলিক চাহিদা হিসেবে শিক্ষার উদ্দীপকে দেখা যায়, কানাইপুর একটি অনগ্রসর এলাকা। এর বাসিন্দারা পড়াশোনার ব্যাপারে উদাসীন, এলাকার অবকাঠামোগত অবস্থাও অনুন্নত। শিক্ষার অভাবের কারণে বাসিন্দাদের মধ্যে কুসংস্কার, ভুল চিকিৎসা, অলৌকিকতায় বিশ্বাস প্রভৃতি সমস্যা রয়েছে। অথচ শিক্ষা মানুষকে আধুনিক করে তোলে এবং আদর্শ সমাজ গঠনে সহায়তা করে। কিন্তু অধিক জনসংখ্যা ও দারিদ্র্যের কারণে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের পক্ষে এই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার অভাবে তারা নিরক্ষর ও অজজ্ঞ থেকে যাচ্ছে। যার প্রভাবে স্বাস্থ্যহীনতা, পুষ্টিহীনতা, বাল্যবিবাহ নারী নির্যাতন, অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির মতো বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তেমনি উদ্দীপকের কানাইপুর গ্রামে শিক্ষার অভাবে এ ধরনের পরিস্থিতি বিদ্যমান।
উদ্দীপকে নির্দেশিত শিক্ষার চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে একজন বিদ্যালয় সমাজকর্মীর ভূমিকা অপরিসীম- উক্তিটির যথার্থতা রয়েছে।
বিদ্যালয় সমাজকর্ম বলতে সমাজকর্ম অনুশীলনের একটি বিশেষ শাখাকে বোঝায়, যা বিদ্যালয় পরিবেশে শিক্ষার্থীর পূর্ণ বিকাশে সহায়তা করে। এক্ষেত্রে বিদ্যালয় সমাজকর্মী পরিবার, স্কুল ও সমষ্টির মাঝে সংযোগকারী হিসেবে কাজ করেন। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে অধিক জনসংখ্যা, বেকারত্ব, কুসংস্কারে বিশ্বাস, অসচেতনতা প্রভৃতির মতো সামাজিক সমস্যা শিক্ষা অর্জনের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে। একজন বিদ্যালয় সমাজকর্মী তার দক্ষতা ও পেশাদারিত্বকে কাজে লাগিয়ে এসব সমস্যা দূরীকরণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারেন।
উদ্দীপকের কানাইপুর গ্রামে শিক্ষার অভাবে কুসংস্কারে বিশ্বাস, ভুল চিকিৎসার প্রচলনসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান। এর পেছনে নিরক্ষরতা ও অজ্ঞানতাসহ সামগ্রিক অবস্থা দায়ী। এক্ষেত্রে একজন বিদ্যালয় সমাজকর্মী অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। পারিবারিক ও আর্থিক সংকট, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, স্কুলে যাওয়ার ব্যাপারে অনাগ্রহ, মানসিক চাপসহ বিভিন্ন কারণে এখনো অসংখ্য শিক্ষার্থী মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। এ সংখ্যা কমিয়ে এনে শতভাগ শিক্ষার্থীর হার নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় সমাজকর্মের জ্ঞানের উপযোগিতা আছে একজন বিদ্যালয় সমাজকর্মী অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানের পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের স্কুলের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে ভূমিকা রাখেন। সেই সাথে তিনি পড়াশোনায় অমনোযোগী শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে মানসিক সমর্থন দিয়ে থাকেন।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, কানাইপুর এলাকার মানুষের শিক্ষার চাহিদা পূরণে একজন বিদ্যালয় সমাজকর্মী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
১৯০৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাইকিয়াট্রিক কোর্স প্রথম চালু হয়।
শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে বিদ্যালয় সমাজকর্মী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
বিদ্যালয় সমাজকর্মী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাক্ষেত্রে বাধা দূর করার জন্য বিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রী, পরিবার এবং সমষ্টির বিভিন্ন সংস্থার সাথে কাজ করতে পারেন। তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি ও দল সমাজকর্ম পদ্ধতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে পারেন। তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে তাদের উন্নয়ন ঘটাতে পারেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!