তপু মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী রেণু তার মালপত্র নিতে এসেছিল।
রেপুর মনে একটা অজানা ভয় কাজ করছিল বিধায় সে তপুকে মিছিলে যেতে বাধা দিয়েছিল।
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভোর থেকেই সবাই একসঙ্গে জড়ো হচ্ছিল মিছিলে যাবে বলে। তাদের কারও হাতে প্ল্যাকার্ড; স্লোগান দেওয়ার চুঙ্গো এবং কারও হাতের লাঠির ডগায় রক্তমাখা জামা। সবাই যখন মিছিলে পা বাড়াল তখন রেণু পেছন থেকে দৌড়ে এসে তপুর হাত ধরে তাকে থামানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। মায়ের কথা এবং মিছিলে গেলে তপুর ক্ষতি পারে এই ভয়ে রেণু তপুকে মিছিলে যেতে বারণ করেছিল।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পের বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে রাজপথে মানুষের মিছিল ও আত্মত্যাগের দিকটির মিল রয়েছে।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে বাঙালি ভাষার মর্যাদা রক্ষায় বুকের তাজা রক্ত রাজপথে রাজপথ রঞ্জিত করেছে। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের দেয়।
উদ্দীপকে ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সাহসী মানুষদের সম্মিলিত প্রতিবাদের দিকটি ফুটে উঠেছে। তাঁদের দৃষ্টি ছিল বুদ্ধ আর মোহাম্মদ (স.)-এর দৃষ্টির মতো দীপ্ত। আকাশের সাতটি তারার মতো অনন্য। শত্রুরা প্রতিবাদীদের হত্যা করে মৃত দেহ ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় এ আত্মত্যাগের দিকটি 'একুশের গল্প' ছোটগল্পেও ফুটে উঠেছে। এ গল্পে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে তপু মিছিলে গিয়ে এরা কপালে গুলি লেগে শহিদ হয়েছে। দুজন মিলিটারি তার মৃতদেহটাও ছিনিয়ে নিয়ে যায়। সামনের মানুষগুলো চিৎকার করে পালাতে থাকে। উদ্দীপকের সঙ্গে গল্পের এ দিকগুলোরই মিল রয়েছে।
"জাতীয় ইতিহাসে বীরদের কোনো মৃত্যু নেই; বারবার তাঁরা ফিরে আসে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
দেশের দুর্যোগ ও ক্রান্তিকালে যাঁরা বুকে সাহস নিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে এগিয়ে আসে তাঁরাই প্রকৃত বীর। দেশের জন্য তাঁদের আত্মত্যাগ ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকে। তাঁদের আত্মত্যাগের বীরগাথা পরবর্তী প্রজন্মকে নানাভাবে প্রেরণা জোগায়।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সম্মিলিতি প্রতিরোধের কথা বলেছেন। এখানে ভাষার দাবীতে মিছিলকারীদের হত্যা করে মৃতদেহ তুলে নিয়ে যায়। শহিদের আত্মাকে হৃদয়ে ধারণ করেন। 'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে অসংখ্য মানুষ রাজপথে মিছিল করে। সেই মিছিলে কপালে গুলি লেগে তপু রাজপথে লুটিয়ে পড়ে।
'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পে তপু শহিদ হওয়ার চার বছর পর কলেজের হোস্টেলে আবিষ্কৃত হয় একটি কঙ্কাল। মাথার খুলির ফুটো আর বাম টিবিয়া ফেবুলার আকার দেখে বন্ধুরা বুঝতে পারে এটিই তপুর কঙ্কাল। তপুর কঙ্কাল হিসেবে ফিরে আসা যেন প্রতীকী অর্থ বহন করে। অর্থাৎ তপুর মতো বীরদের মৃত্যু নেই। তাঁরা বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে মুক্তিকামী জনতাকে শক্তি জোগায়; মুক্তির মন্ত্রে উজ্জীবিত হতে প্রেরণা দেয়। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allগল্পকথকের সঙ্গে তপুর দেখা হয়েছিল হাইকোর্টের মোড়ে।
তপু ফিরে আসায় সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল, কারণ তারা ভাষা আন্দোলনে শহিদ তপুর মৃতদেহ দুজন মিলিটারি নিয়ে যাওয়ার পর এই প্রথম তপুর কঙ্কাল দেখছে।
'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পের কথক তপুর বন্ধু। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তপু, রাহাত ও গল্পকথক অংশ নিয়েছিল। তারা চার বছর আগে ভাষার মিছিলে যোগ দিয়ে হাইকোর্টের মোড়ে যাওয়ার পর তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী মিছিলে গুলি চালায়। লাল কালিতে লেখা 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' প্ল্যাকার্ড-নিয়ে তপু মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুজন মিলিটারি এসে তপুর মৃতদেহ নিয়ে চলে যায়। সেই ঘটনার চার বছর পর হোস্টেলে তপুর সিটে আসা নতুন রুমমেটের কাছে থাকা কঙ্কালটি কাকতালীয়ভাবে ভাষা আন্দোলনে শহিদ তপুর। অন্যরূপে হলেও প্রিয় বন্ধু ফিরে আসায় সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল।
উদ্দীপকের আজাদের সঙ্গে 'একুশের গল্প' রচনার তপু চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
বাঙালি হলো বীরের জাতি। তারা অধিকার আদায়ে ছিল তৎপর। তাদের উপর যখনই কোনো অন্যায়-অবিচার হয়েছে তখনই তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে। আদায় করেছে নিজেদের অধিকার।
উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এক তরুণের আত্মদানের কথা বলা হয়েছে। এই তরুণের নাম মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ। তিনি আগস্ট মাসে ধরা পড়ে শত্রুর হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন তবুও সহযোদ্ধাদের কোনো তথ্য তিনি শত্রুদের দেননি। তার এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও চেতনা 'একুশের গল্প' ছোটগল্পের তপুর সাহসী চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তপু 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' প্ল্যাকার্ড নিয়ে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যোগ দিয়েছে। স্ত্রী রেণুর বাধা, অনুরোধ উপেক্ষা করেছে। এভাবে উদ্দীপকের আজাদের সঙ্গে 'একুশের গল্প' শীর্ষক গল্পটির তপু চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ
যুগে যুগে আজাদ, তপু, রাহাত, গল্প কথক- এঁরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায় মানুষের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে।
একজন দেশপ্রেমিক সব সময় দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেন। অধিকার আদায়ের জন্য মানুষকে দিনের পর দিন আন্দোলন করতে হয়। মানুষ ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকে।
'একুশের গল্প' গল্পে গল্পকথক, রাহাত ও তপু- তারা তিন বন্ধু ভাষা আন্দোলনে যোগ দেয় এবং 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' বলে স্লোগান দেয়। মিছিলে শত্রুরা গুলি চালালে তপু পুলিবিদ্ধ হয়ে প্লাকার্ডসহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। বাংলা ভাষার জন্য তার এ আত্মদানের সঙ্গে উদ্দীপকের আজাদের মিল রয়েছে। তিনিও প্রিয় মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করতে শত্রুর নির্মমতা সহ্য করেছেন, তবুও সহযোদ্ধাদের বিষয়ে কোনো প্রকার তথ্য দেননি।
'একুশের গল্প' গল্পে তপু ও তার বন্ধুরা অসীম সাহস নিয়ে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় রাজপথে নেমে পড়ে। তাদের মতো উদ্দীপকের আজাদও দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য একই কাতারে দাঁড়িয়েছে। আসলে তরুণের ধর্মই এই। দেশে যখনই কোনো ক্রান্তিকালে পড়ে তখনই তরুণরা দেশ উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাই বলা যায়, দেশমাতৃকার প্রশ্নে যুগে যুগে আজাদ, তপু, রাহাত, গল্পকথক এঁরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায়।
গল্পকথককে তপু হাত ধরে টান দিল মিছিলে যাওয়ার জন্য।
"তুমিও চলো না আমাদের সাথে।"- কথাটি তপু বলেছে তার স্ত্রী রেণুকে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যেতে।
'একুশের গল্প' শীর্ষক ছোটগল্পে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের অংশগ্রহণ ও জীবনদানের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তপু তার বন্ধু গল্পকথক ও রাহাতকে নিয়ে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যোগ দেয়। একটু পরে তপুর স্ত্রী রেণু এসে তপুর হাত ধরে, তাকে মিছিলে থেকে সরিয়ে বাড়ি নিয়ে যেতে চায়। তপু তখন স্ত্রীর হাত ছাড়িয়ে নিয়ে তাকেও মিছিলে যোগ দিতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!