জাতিসংঘ ঘোষিত শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সের মানবসন্তানকে শিশু বলা হয়।
মুসলিম ছেলে-মেয়েদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাদানে মক্তবের ভূমিকা অপরিসীম। মক্তব বলতে সাধারণত সে প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়, যেখানে মুসলিম শিশুদের কুরআন তেলাওয়াত, হাদিস ও ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হয়। ওজু, গোসল, নামাজ, রোজা প্রভৃতির নিয়মকানুন ও বিভিন্ন দোয়া শেখানো হয়। শিশুদের আদব-কায়দা ও শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়া হয়। পবিত্রতা- অপবিত্রতা, হালাল-হারাম প্রভৃতি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক জ্ঞান শিশুরা মক্তবেই পেয়ে থাকে।
আরমান সাহেব ও আকলিমা দম্পতি ইসলামি সংস্কৃতির অনুসরণ করেন। ইসলাম অনুমোদিত ও কুরআন-হাদিসে নির্দেশিত মুসলমানদের জীবন পদ্ধতিই হলো ইসলামি সংস্কৃতি। এটি ইসলামের নীতি- আদর্শ ও মূল্যবোধের আলোকে গড়ে ওঠেছে। যেকোনো ভালো কাজের শুরুতে মহান আল্লাহর নাম নেওয়া, পারস্পরিক সাক্ষাতে সালাম বিনিময় করা, শিশুর জন্মের পর আজান দেওয়া, তার সুন্দর নাম রাখা ও আকিকা করা প্রভৃতি ইসলামি সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যাবহারিক দিক। আরমান সাহেব ও আকলিমা দম্পতির কর্মকাণ্ডে এটিই ফুটে ওঠেছে।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি পুত্রসন্তান জন্মলাভ করার পর আরমান সাহেব তার ডান কানে আজান এবং বাম কানে ইকামত দেন। তার নাম রাখেন আবদুল্লাহ। জন্মের ৭ম দিনে তারা সন্তানের আকিকা করেন। তাদের এসব কাজের মাধ্যমে ইসলামি সংস্কৃতির ব্যবহারিক দিকের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ইসলামের চেতনা, বিশ্বাস ও মূল্যবোধ অনুসারে জীবনযাপন করার জন্য এ সংস্কৃতির গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামি সংস্কৃতির মাধ্যমে মুসলিম জাতির স্বতন্ত্র অস্তিত্ব প্রকাশিত হয়। এ ব্যাপারে রাসুল (স) বলেন- 'যে ব্যক্তি যে জাতির অনুকরণ করে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে' (মুসনাদে আহমদ)। সুতরাং বলা যায়, খাঁটি মুসলিম হিসেবে জীবন পরিচালনা করার জন্য ইসলামি সংস্কৃতির অনুসরণ করতে হবে।
শিশু হিসেবে আবদুল্লাহর বেঁচে থাকা, মায়ের দুধপান, স্নেহ- মমতা পাওয়া, আদব-কায়দা শেখা ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠা প্রভৃতি অধিকার রয়েছে।
ইসলামে বড়দের যেমন অধিকার দেওয়া হয়েছে তেমনি শিশুদেরও বিভিন্ন অধিকার দেওয়া হয়েছে। শিশুর এসব অধিকার পূরণ করা পিতামাতার কর্তব্য। শিশু হিসেবে আবদুল্লাহর প্রথম অধিকার হলো বৈধ উপায়ে জন্মলাভ করা। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী পিতামাতা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবেন এবং আল্লাহর কাছে নেক সন্তান প্রার্থনা করবেন। জন্মের পর সন্তানের ডান কানে আজান ও বাম কানে ইকামত দেওয়া ইসলামের বিধান। সন্তানের সুন্দর নাম রাখা ও আকিকা করা পিতামাতার কর্তব্য। ইসলামে শিশুর জন্মের পর থেকে দুই বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত মায়ের দুধপান করার অধিকার রয়েছে। পিতামাতা ও বড়দের স্নেহ-ভালোবাসা পাওয়া এবং আদব-কায়দা ও সুশিক্ষা লাভ করা শিশুর অন্যতম অধিকার। শিশুকে আল্লাহর পরিচয় জানানো এবং ইবাদতের প্রশিক্ষণ দেওয়া পিতামাতার কর্তব্য। প্রয়োজনীয় ভরণপোষণ পাওয়া এবং নিরাপদে ও সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠা শিশুর অন্যতম অধিকার। পুত্র ও কন্যা সন্তানের মধ্যে বৈষম্য না করে তাদের প্রতি সমান আচরণ করতে হবে।
উপরের আলোচনায় শিশুর যেসব অধিকারের কথা বলা হয়েছে, শিশু হিসেবে আবদুল্লাহরও এসব অধিকার প্রাপ্য। তার স্বাভাবিক বিকাশ ও সুন্দর জীবনের জন্য এসব অধিকার যথাযথভাবে পূরণ করা তার পিতামাতার কর্তব্য।
Related Question
View Allইসলামি শরিয়ত নির্দেশিত বৈধ উপায়ে উপার্জন করাকে হালাল উপার্জন বলে।
পারস্পরিক সাক্ষাতে সালাম বিনিময় করা ইসলামি সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। সালাম অর্থ শান্তি। ইসলামি সংস্কৃতির রীতি অনুযায়ী এক মুসলমানের সঙ্গে অন্য মুসলমানের দেখা হলে প্রথমে সালাম বিনিময় করে। এর মাধ্যমে অন্যের শান্তি তথা কল্যাণ কামনা করা হয়। সালাম দেওয়া সুন্নত এবং সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। কেউ সালামের উত্তর না দিলে ইসলামের বিধান অনুযায়ী সে গুনাহগার হবে।
আবদুল বাতেন তার ছেলেকে আল্লাহর ইবাদতের নিয়ম- পদ্ধতি ও হালাল-হারামের বিধান শেখার জন্য ইসলাম শিক্ষা অধ্যয়ন করতে বলেছেন। যে শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামকে একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা দেওয়া হয় তাকে ইসলাম শিক্ষা বলে। এটি কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক একটি আদর্শ শিক্ষাব্যবস্থা। আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠা, হালাল উপার্জন ও কর্মমুখী জীবন গঠন, দুনিয়ার কল্যাণ ও আখিরাতে মুক্তিলাভ প্রভৃতি ইসলাম শিক্ষার উদ্দেশ্য। আবদুল বাতেন তার ছেলেকে এ বিষয়টি অধ্যয়ন করতে বলেছেন।
উদ্দীপকের আবদুল বাতেন তার একমাত্র ছেলেকে আল্লাহর ইবাদতের নিয়ম-পদ্ধতি ও হালাল-হারামের বিধান শেখানোর জন্য একটি বিশেষ বিষয় অধ্যয়ন করতে বলেন। তিনি এখানে ইসলাম শিক্ষার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। ইসলামকে সঠিকভাবে জানা এবং তা মানার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই ইসলাম শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। ইসলামের বিধিবিধান এবং আল্লাহর ইবাদতের পদ্ধতি শেখানো, জীবনের সবক্ষেত্রে ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা করা এবং ব্যক্তির চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধন ইসলাম শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। ইসলাম শিক্ষা মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথ প্রদর্শন করে এবং অন্যায় ও অসত্য থেকে দূরে রাখে। আল্লাহর সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন এবং মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব সংরক্ষণ করাও ইসলাম শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য।
দৈনন্দিন জীবনে আবদুল বাতেন হালাল-হারামের বিধান মেনে চলেন। ইসলামি শরিয়তে যেসব বিষয়ের অনুমতি রয়েছে এবং যা সম্পর্কে কোনো নিষেধ বাণী নেই তাকে হালাল বা বৈধ বলে। আর শরিয়তে যেসব বিষয় নিষেধ করা হয়েছে তা হারাম বা অবৈধ। জীবনের সবক্ষেত্রে হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করা ইসলামের বিধান। আবদুল বাতেন দৈনন্দিন জীবনে এ বিধানটি মেনে চলার চেষ্টা করেন।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, জনাব আবদুল বাতেন জীবনযাপনের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের বিধান মেনে চলার চেষ্টা করেন। তিনি হালাল পথে উপার্জন করেন। হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করেন। ইসলামি জীবনব্যবস্থায় এ বিধানটি মেনে চলার গুরুত্ব অপরিসীম। হালাল উপার্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। এটি ইবাদত কবুলের প্রধান পূর্বশর্ত। মানুষ যদি হালাল উপার্জন করে এবং হালাল জীবিকা গ্রহণ করে, তাহলে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে। আর যদি হারাম উপায়ে উপার্জন ও হারাম জীবিকা গ্রহণ করে, তাহলে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করা একজন মুমিনের জন্য অত্যাবশ্যক। হালাল- হারামের বিধান মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ পালন করা হয়। হালাল উপার্জনকারীর ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হন আর হারাম উপার্জনকারীর প্রতি অসন্তুষ্ট হন। হারাম বা অবৈধ জিনিস প্রহণের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। এর জন্য পরকালে কঠোর শাস্তি পেতে হবে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন ও ইবাদত কবুলের জন্য ইসলামি শরিয়তের আলোকে হালাল-হারামের বিধান মেনে চলা মুসলিমদের জন্য অত্যাবশ্যক।
ইসলাম পাঁচটি বুনিয়াদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
হাক্কুল্লাহ বলতে আল্লাহর প্রতি মানুষের কর্তব্যকে বোঝায়। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদতের জন্য। আল্লাহর প্রতি মানুষের কর্তব্য পালনের মানে হচ্ছে যথাযথভাবে তার ইবাদত করা। জীবনের সবক্ষেত্রে তার আদেশ-নিষেধ মেনে চলা। যেকোনো অবস্থায় আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করা এবং তার অনুগ্রহ প্রার্থনা করা। তার নেয়ামতের শোকর করা এবং সুখে-দুঃখে তার ওপর ভরসা করা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!