১৯৭৯ সাল থেকে বাংলাদেশের শিশুদের জন্য টিকাদান কর্মসূচি চালু হয়।
চিত্তবিনোদনের মাধ্যমে সৃজনশীল কাজ ও গঠনমূলক চিন্তার খোরাক তৈরি হয় বলে এটি শিল্প সমাজের গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক চাহিদা।
চিত্তবিনোদন হচ্ছে অবসরকালীন সময়কে অর্থবহ করে তোলার উপায়, যা মানুষের কর্মস্পৃহাকে পুনরায় জাগিয়ে তোলে। এর ফলে সময় অর্থবহ হয়ে ওঠে; মানুষের ক্লান্তি দূর হয় এবং কাজে নতুন উদ্যম ফিরে আসে। তাই ব্যস্ততাপূর্ণ আধুনিক শিল্প সমাজে চিত্তবিনোদন গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক চাহিদা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
আরিফদের পরিবারের অতিরিক্ত সদস্যসংখ্যা প্রকারান্তরে বাংলাদেশে মৌলিক মানবিক চাহিদার অভাবজনিত পরিস্থিতিকে তুলে ধরেছে।
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ। দুর্বল আর্থ-সামাজিক কাঠামো, অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট সংকট বাংলাদেশের মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। এছাড়া অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার (যেমন- দারিদ্র্য, মাদকাসক্তি, অনৈতিক কর্মকাণ্ড, হত্যা, রাহাজানি ইত্যাদি) উদ্ভব হয়। যার জন্য সাধারণ মানুষ মৌলিক মানবিক চাহিদা পরিপূর্ণভাবে পূরণ করতে পারে না।উদ্দীপকের আরিফদের পরিবারেও এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায়। পরিবারের সদস্যসংখ্যা দশ জন কিন্তু উপার্জনক্ষম ব্যক্তি একজন হওয়ায় মৌল মানবিক চাহিদার ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিবারে খাদ্য, চিকিৎসা, চিত্তবিনোদনসহ মৌল মানবিক চাহিদার অপ্রতুলতা লক্ষণীয়। সীমিত উপার্জন দিয়ে পুষ্টিকর খাবারের সংস্থান যেমন হচ্ছে না, তেমনি আরিফের বাবা স্ত্রীর চিকিৎসাও করাতে পারছেন না। তাই বলা যায়, আরিফদের পরিবারের মাধ্যমে বাংলাদেশে মৌল মানবিক চাহিদার অভাবজনিত পরিস্থিতি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আরিফদের মতো পরিবারগুলোর মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ করতে না পারার একাধিক কারণ বিদ্যমান।
বাংলাদেশে যেকোনো ধরনের আর্থ-সামাজিক সমস্যার মূলে রয়েছে অধিক জনসংখ্যা। বাড়তি জনসংখ্যার কারণে মৌল মানবিক চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। লক্ষণীয় যে, বাংলাদেশে এখনও প্রায় ২৩.২% মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। স্বাভাবিকভাবেই আর্থিক কারণে তারা ন্যূনতম মৌল চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারে না।
ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে দুর্যোগপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত। বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, ঘূর্ণিঝড় প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ এদেশে প্রায়ই আঘাত হানে। সেই সাথে বেকার সমস্যা ও নির্ভরশীল জনসংখ্যার হার দেশে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে অধিকাংশ মানুষের মৌল মানবিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া বাংলাদেশের ৭০-৮০ ভাগ লোক এখনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল, অথচ এদেশের চাষাবাদ পদ্ধতি অনুন্নত। এর ফলে প্রত্যাশিত ফলন না পাওয়ায় মৌল চাহিদা পূরণে সমস্যার সৃষ্টি হয়। তাছাড়া ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যের হার অনেক বেশি। ফলে দরিদ্র লোকজন ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারে না। এছাড়াও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে নিম্ন আয়ের লোকজনের জীবনযাপন অনেক কষ্টকর হয়ে পড়ে। কেননা দ্রব্যমূল্য বাড়লেও মানুষের আয় আশানুরূপ হারে বাড়ে না।
সর্বোপরি, সামাজিক নিরাপত্তার অভাব এবং শহরে লোকসংখ্যার চাপ বেশি হওয়ার ফলে আরিফদের মতো পরিবারগুলোতে মৌল চাহিদা পূরণ করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
Related Question
View Allকোন কিছুর প্রয়োজন পূরণের বিশেষ তাগিদ অনুভব করা হলো চাহিদা।
চাহিদা হলো অবশ্য পূরণীয় প্রয়োজন। নিজের জীবন রক্ষার জন্য মানুষকে যেসব প্রয়োজন অবশ্যই পূরণ করতে হয় সেসবই চাহিদা।
মানুষের দৈহিক, মানসিক, আর্থিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রয়োজন চাহিদার মধ্যে পড়ে। প্রকৃতপক্ষে, মানুষের চাহিদার কোন অন্ত নেই।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত মৌল মানবিক চাহিদা হিসেবে বস্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম।
বস্ত্র মানবজীবনের জন্য অপরিহার্য মৌল মানবিক চাহিদা। এটি মানুষের লজ্জা নিবারণ করে। মানুষের ব্যক্তিত্ব এবং চরিত্রের বিকাশে বস্ত্রের গুরুত্ব অত্যধিক। মানবসভ্যতার প্রথম নির্দেশক হিসেবে বস্ত্রই মানুষকে অন্যান্য প্রাণী থেকে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দান করেছে। এটি সভ্যতা ও সংস্কৃতির পরিচায়ক। তাছাড়া এটিই মানুষকে শীত, তাপ, ধুলোবালি, রোগ-জীবাণু প্রভৃতি থেকে রক্ষা করে।
উদ্দীপকের হাসনা ও তার ছোট দুই ভাই-বোনের প্রয়োজনীয় শীতের পোশাক নেই। ফলে তারা শীতকালে ঠান্ডায় কষ্ট পায় এবং বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়। এ থেকে বোঝা যায়, উদ্দীপকে মৌল মানবিক চাহিদা বস্ত্রের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক কারণে বাংলাদেশের সব শ্রেণির মানুষের পক্ষে বস্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক মানবিক চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে বক্তব্যটির যথার্থতা রয়েছে।
মৌল মানবিক চাহিদাগুলোর মধ্যে খাদ্যের পরেই বস্ত্রের স্থান। বস্তু সভ্যতার সর্বপ্রথম নির্দেশক। কিন্তু এ খাতে আমাদের দেশের বার্ষিক গড় কাপড়ের চাহিদা অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ বজ্রনীতি, বস্ত্রখাতের অনিয়ম, প্রতিকূল পরিবেশ, দুর্ঘটনা, উৎপাদন হ্রাস ইত্যাদিকে চিহ্নিত করা হয়। অনুমান করা হয়, মাথাপিছু বার্ষিক গড়ে ১০ মিটার কাপড়ের ব্যবহার জরুরি হলে ১৫ কোটি ৮৯ লাখ জনসংখ্যার জন্য ১৫৮.৯ কোটি মিটার কাপড়ের প্রয়োজন হবে। অথচ মে ২০১২ তে প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান পকেট বুক এর তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে মাথাপিছু বার্ষিক পুরাতন কাপড় প্রাপ্তি ০.০৩ মিটার এবং নতুন কাপড় ১৫.৭ মিটার। অর্থাৎ বাংলাদেশে বস্ত্রের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণ পুরনো কাপড় বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের দরিদ্র জনগণ প্রয়োজনীয় বস্ত্রের চাহিদা পূরণ করতে পারেনা। এখনও গ্রামের গরিব কৃষক একটি লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরে এবং গ্রামের দরিদ্র নারী একটি মোটা কাপড় পড়ে বছর পার করে দেয়। বস্ত্রের অভাবে গ্রাম ও শহরের অসংখ্য দরিদ্র ও দুস্থ মানুষ শীত ও গ্রীষ্মকালে প্রতিকূল পরিবেশে মানবেতর জীবনযাপন করছে। যার চিত্র হাসনা ও তার পরিবারের মাধ্যমে উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।
সামগ্রিক আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের সব শ্রেণির মানুষের পক্ষে বস্ত্রের চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না- বক্তব্যটি সঠিক।
ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদকাল ২০১১-২০১৫ সাল পর্যন্ত।
পৃথিবীতে বেঁচে থাকা এবং শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ ঘটাতে হলে খাদ্যের প্রয়োজন। তাই মানবজীবনের সবচেয়ে প্রথম ও প্রয়োজনীয় চাহিদা হলো খাদ্য।
খাদ্য বলতে ঐসব বস্তু বা দ্রব্যকে বোঝায় যা শরীরে হজম হয় এবং শরীরের বৃদ্ধি ও কর্মশক্তি যোগানে সাহায্য করে। খাদ্য না খেলে মানুষের স্বাভাবিক জ্ঞান ও বুদ্ধি লোপ পায়। খাদ্য ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!