রাবণের মধ্যম সহোদর কুম্ভকর্ণ।
বিভীষণ নিজেকে রাঘবদাস পরিচয় দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন মেঘনাদ প্রশ্নোক্ত উক্তিটির অবতারণা করে।
রাম-রাবণের যুদ্ধে আদর্শিক দিক বিবেচনায় বীর মেঘনাদ স্বদেশ ও স্বজাতির পক্ষাবলম্বন করলেও তারই চাচা বিভীষণ ধর্ম ও ন্যায়ের দোহাই দিয়ে শত্রু রামের পক্ষ নেন। এ নিয়ে চাচা-ভাতিজার সংলাপের একপর্যায়ে বিভীষণ নিজেকে রামের দাস বলে পরিচয় দেন। পিতৃতুল্য চাচার মুখে এমন কথা শুনে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মেঘনাদের লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে করে। প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে এ বিষয়টিই প্রকাশিত হয়েছে।
আপনজনদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার সূত্রে উদ্দীপকের সোহেলের সঙ্গে 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার বিভীষণ চরিত্রের মিল পাওয়া যায়।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় মেঘনাদ ষড়যন্ত্রের শিকার এক বীর যোদ্ধা। এই ষড়যন্ত্র বাইরের কোনো শত্রুর নয়, বরং স্বজনের চক্রান্তই মেঘনাদকে বিপদাপন্ন করেছে। কেননা, তার চাচা বিভীষণই শত্রু লক্ষ্মণের সাথে আঁতাত করে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বোনেন। ফলে কাপুরুষ লক্ষ্মণের আকস্মিক আঘাতে পরাজয় ঘটে বীর মেঘনাদের।
উদ্দীপকে আরিফ ও সোহেল নামের দুটি চরিত্রের উল্লেখ রয়েছে। মাহমুদপুর গ্রামের সাথে কাশিমপুর গ্রামের দ্বন্দ্ব তৈরি হলে আরিফ নিজ গ্রামের হয়ে লড়ার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু সোহেল প্রেমের টানে নিজ গ্রাম এবং পরিজনদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে বিপক্ষে অবস্থান নেয়। নিজের গ্রাম মাহমুদপুরের সকল যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে জানিয়ে দেয় শত্রুপক্ষকে। তার এই স্বার্থান্বেষী মনোভাবের দিকটি 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায়ও পরিলক্ষিত হয়। সেখানে বিভীষণ চরিত্রটি ধর্ম ও নৈতিকতার দোহাই দিয়ে শত্রু রামের পক্ষ নেয়। শুধু তা-ই নয়, শত্রুদের সহযোগিতা করে নিজ ভ্রাতুষ্পুত্র মেঘনাদের জীবনকেও সংকটাপন্ন করে তোলে। অর্থাৎ আলোচ্য কবিতার বিভীষণ এবং উদ্দীপকের সোহেল উভয়েই স্বার্থান্বেষী এবং বিশ্বাসঘাতক। এদিক থেকে তাদের চরিত্রের মিল পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকের আরিফের মধ্যে এলাকার জন্য যে মমত্ববোধ প্রকাশ পেয়েছে, 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় মেঘনাদ চরিত্রের মধ্য দিয়ে তা ব্যাপকতা লাভ করেছে বলে আমি মনে করি।.
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় মেঘনাদ স্বদেশপ্রেম ও স্বাজাত্যবোধে উদ্বুদ্ধ এক বীরযোদ্ধা। দেশাত্মবোধে উজ্জীবিত হয়ে রাম-রাবণের যুদ্ধে সে পিতা রাবণের পক্ষ নেয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে চাচা বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতায় বিপদে পড়তে হয় তাকে। মৃত্যুমুখে পতিত হলেও সে দেশপ্রেম ও স্বাজাত্যবোধ থেকে বিচ্যুত হয়নি।
উদ্দীপকের সোহেল নিজ গ্রামবাসীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলেও আদর্শের প্রশ্নে আরিফ গ্রামবাসীর পক্ষেই অবস্থান নেয়। গ্রামের মর্যাদা রক্ষাই তার কাছে বড়ো বিষয়। এজন্য মৃত্যুভয়কেও তোয়াক্কা করে না সে। তার এই আদর্শ ও নৈতিক অবস্থান 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় মেঘনাদ চরিত্রের কথাই মনে করিয়ে দেয়। মাতৃভূমির প্রতি দায়বদ্ধতা তাদেরকে এক কাতারে দাঁড় করিয়েছে।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় আদর্শ নৈতিকতার প্রশ্নে বীর মেঘনাদ স্বদেশ ও স্বজাতির পক্ষাবলম্বন করে। শুধু তা-ই নয়, চাচা বিভীষণকেও সে দেশাত্মবোধে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করে। নিরস্ত্র অবস্থায় তাকে সশস্ত্র লক্ষণের মুখোমুখি হতে হলেও সে নিজের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি। প্রগাঢ় দেশপ্রেম দ্বারা উজ্জীবিত হয়েছিল বলেই তার পক্ষে এমনটি করা সম্ভব হয়েছে। উদ্দীপকের আরিফও পাশ্ববর্তী গ্রামের সঙ্গে দ্বন্দ্বের সময় সর্বশক্তি দিয়ে নিজ গ্রামের মর্যাদাকে সমুন্নত রাখতে চেষ্টা করেছে। সে বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allসৌমিত্রি হলেন রাম ও লক্ষ্মণের ভ্রাতা। তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত যোদ্ধা ও দক্ষ শাসক। তিনি রামচন্দ্রের রাজত্বকালে লঙ্কা বিজয়ের সময় রামের প্রধান সহযোগী ছিলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!