পরিবার হলো সমাজকাঠামোর মৌল সংগঠন।
বর্ধিত পরিবার বলতে পিতামাতা এবং তাদের সন্তানসন্ততি ও সন্ততির স্ত্রী পরিজন নিয়ে গঠিত পরিবারকে বোঝায়। অর্থাৎ তিন পুরুষের পারিবারিক বন্ধনের পরিবারকেই বর্ধিত পরিবার বলে। আমাদের দেশের গ্রামীণ কৃষি সমাজে এ ধরনের পরিবার এখনও দেখা যায়।
উদ্দীপকে আরিফের সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে প্রতিবেশীর ভূমিকা থাকলেও সহপাঠীর ভূমিকা বেশি প্রতিফলিত হয়েছে।
সামাজিকীকরণ একটি চলমান ও অব্যাহত প্রক্রিয়া। শিশুর জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এ ধারা ও প্রক্রিয়া চলতে থাকে। সামাজিকীকরণের এ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন মাধ্যম ও উপায় কাজ করে থাকে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী মাধ্যম হলো সমবয়সী বন্ধু ও ক্লাসমেট। সমবয়সি সাথিদের কাছ থেকে শিশুরা সামাজিক আদর্শগুলো গ্রহণ করে। আরিফের পরিবার যেহেতু সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে আরিফকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেয়নি, তাই তার এ ঘাটতি পূরণের ক্ষেত্রে সমবয়সি সাথি ও বিদ্যালয়ের ভূমিকা প্রয়োজন হয়। এর মাধ্যমে শিশুরা শৃঙ্খলাবোধ, নিয়মানুবর্তিতা, শ্রদ্ধাবোধ, সহযোগিতা, পারস্পরিক ভালোবাসা প্রভৃতি গুণাবলির দক্ষতা অর্জন করে। যা শিশুর আচরণকে প্রভাবিত করে। ফলে নেতৃত্ব, অন্যের মতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রভৃতি গুণাবলির বিকাশ ঘটে। তাছাড়া আরিফের জীবনের সুষ্ঠু বিকাশে জ্ঞাতিগোষ্ঠী ও প্রতিবেশীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি বাড়িগুলোতে সমবয়সি শিশুদের মধ্যে প্রতিবেশী দল গড়ে ওঠে। প্রতিবেশী দল থেকে শিশু সহযোগিতা, সহমর্মিতা, ঐক্য, নেতৃত্ব প্রভৃতি গুণাবলি অর্জন করে যা আরিফের ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের আরিফ ও শরিফের সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে বৈসাদৃশ্য রয়েছে। কেননা আরিফের সামাজিকীকরণ ঘটেছে শহর সমাজে আর শরিফের গ্রামীণ সমাজে।
বাংলাদেশের গ্রাম ও শহর উভয় সমাজে ব্যক্তির সামাজিকীকরণে কতকগুলো বৈসাদৃশ্যপূণ উপাদানের প্রভাব বিস্তার করে। বিদ্যালয়ের পরিবেশ, পাঠ্যবই এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের সাথে শিক্ষার্থীর সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। এ পরিবেশে বিকশিত হয় শিক্ষার্থীর নিজস্ব গুণাগুণ, যোগ্যতা ও ক্ষমতা। শিক্ষার্থীর ওপর বিদ্যালয় পরিবেশ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উপাদানের প্রভাব শহর ও গ্রামভেদে পার্থক্য সূচিত হয়। বাংলাদেশের শহরে কিন্ডারগার্টেন, আন্তর্জাতিক স্কুল, প্রি-ক্যাডেটসহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের স্কুল রয়েছে, যা গ্রামের শিশুর সামাজিকীকরণের তুলনায় ব্যতিক্রম। নেই খেলার মাঠ, বাগান, পুকুরসহ অন্যান্য অনেক উপাদান। উদযাপিত হয় না বিদ্যালয় বিতর্ক এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস। এসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে না পারায় শিক্ষার্থীর আচরণিক পরিবর্তন ব্যাহত হয়। উদ্দীপকের শরিফের মাঝে 'হয়তো এমনই ঘটেছে। আবার বাংলাদেশের গ্রাম ও শহর উভয় পরিবেশেই প্রতিবেশী ও প্রতিবেশী দল রয়েছে। গ্রামের শিশু-কিশোর, বয়োজ্যেষ্ঠ প্রতিবেশীদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বন্ধনে আবদ্ধ থাকে, যা সামাজিকীকরণে বিশেষ প্রভাব ফেলে। শহর পরিবেশে প্রতিবেশীর সাথে এরূপ সম্পর্ক দেখা যায় না। আত্মীয়-স্বজনের সম্পর্ক শহরের তুলনার গ্রামে বেশি। সহপাঠী এবং অন্তরঙ্গ বন্ধুদের সম্পর্ক শহরের তুলনায় গ্রামে স্বতঃস্ফূর্ত ও আন্তরিক। তাছাড়া গ্রাম ও শহর সমাজে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক আদর্শ, সংস্কার, বিশ্বাস, মূল্যবোধ, খাদ্যাভ্যাস, প্রথা-প্রতিষ্ঠান, সমাজকাঠামো, যা ব্যক্তির সামাজিকীকরণে প্রভাব ফেলে।
তাই আমি মনে করি, আরিফ ও শরিফের সামাজিকীকরণে বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
Related Question
View Allকর্তৃত্বের ভিত্তিতে পরিবার দু ধরনের।
পরিবার হলো অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মূল কেন্দ্রস্থল। একসময় পরিবারের যাবতীয় প্রয়োজনীয় বস্তুগুলো গৃহে উৎপাদিত হলেও সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে পরিবারের অর্থনৈতিক কাজগুলো মিল, কারখানা, দোকান, বাজার, ব্যাংক ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পাদিত হচ্ছে। এখন পরিবারের সদস্যরা অর্থ উপার্জনের জন্য ঘরের বাইরে কাজ করে। আর তাই পরিবারকে আয়ের একক বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিদিতার আচরণে সামাজিকীকরণের জ্ঞাতিগোষ্ঠী ও প্রতিবেশীর প্রভাব লক্ষ করা যায়।
নিজ পরিবার ব্যতীত যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক রয়েছে তারাই আমাদের জ্ঞাতিগোষ্ঠী। আর যারা বাড়ির আশপাশে বসবাস করেন তারা হলো আমাদের প্রতিবেশী। শৈশব থেকেই মানুষ প্রতিবেশীদের সংস্পর্শে বড় হতে থাকে। পরিবার ও জাতিগোষ্ঠীর পরেই প্রতিবেশীর অবস্থান। শিশুর জীবনের সুষ্ঠু বিকাশে প্রতিবেশীর ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বাসা বা বাড়িগুলোতে সমবয়সী শিশুদের মধ্যে প্রতিবেশী দল গড়ে ওঠে। আর এ দল থেকে তারা সহযোগিতা, সহমর্মিতা, ঐক্য ও নেতৃত্ব ইত্যাদি গুণাবলি অর্জন করে। প্রতিবেশীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান; যেমন- বিয়ে, জন্মদিন, ঈদ, পূজা ইত্যাদিতে অংশ নিয়ে শিশুরা আনন্দ-ফুর্তিতে মেতে ওঠে। যার মধ্য দিয়ে তারা সহিষ্ণুতা, সহনশীলতা, সম্প্রীতি প্রভৃতি গুণাবলি অর্জন করে। আবার কেউ অসুস্থ হলে নিকট আত্মীয়ের চেয়ে প্রতিবেশীরাই বেশি ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের রিপা বিদিতার প্রতিবেশী হলেও রিপা যখন তার আত্মীয়স্বজনসহ তাদের বাসায় আসে তখন বিদিতা সবাইকেই যত্নসহকারে আপ্যায়ন করে। অর্থাৎ রিপাদের আত্মীয়স্বজনকেও বিদিতা নিজের আত্মীয়স্বজনই মনে করে।
তাই বলা যায়, প্রতিবেশীরাই সুখ-দুঃখের প্রথম অংশীদার যা উদ্দীপকের বিদিতার আচরণে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
'শহুরে জীবনে প্রতিবেশীরাই ঘনিষ্ঠজন'- আমি এ বক্তব্যের সাথে পুরোপুরি একমত নই।
আমরা বাস্তবে দেখি গ্রাম ও শহরভেদে প্রতিবেশীর সম্পর্ক ভিন্ন হয়। গ্রামীণ সমাজে প্রতিবেশীর সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে থাকে। অর্থাৎ গ্রামীণ সমাজে প্রতিবেশীদের সাথে পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তেমন কোনো কৃত্রিমতা থাকে না। অপরদিকে শহরে প্রতিবেশীদের পারস্পরিক সম্পর্ক এত ঘনিষ্ঠ হয় না। এ সম্পর্কের ভিতর কেমন জানি একটা কৃত্রিমতা লুকিয়ে থাকে লোকচক্ষুর অন্তরালে। তবে আনন্দ-উৎসবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শহর জীবনের প্রতিবেশীরা একে অন্যে অনেকটা আপন হয়ে যায়। অথচ সামাজিকীকরণে প্রতিবেশীর ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। শৈশব থেকেই আমরা প্রতিবেশীদের সংস্পর্শে বড় হই। আমাদের পাশাপাশি বাড়িগুলোতে সমবয়সী শিশুদের মধ্যে প্রতিবেশী দল গড়ে ওঠে। এ দল থেকে শিশু সহযোগিতা, সহমর্মিতা, ঐক্য, নেতৃত্ব প্রভৃতি গুণাবলি অর্জন করে। প্রতিবেশীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান; যেমন- বিয়ে, জন্মদিন, ঈদ, পূজা, বড়দিন প্রভৃতিতে অংশগ্রহণ করে শিশুরা আনন্দ-ফুর্তিতে মেতে ওঠে এবং সহিষ্ণুতা, সহনশীলতা, সম্প্রীতি ইত্যাদি গুণাবলি অর্জন করে। আবার কেউ অসুস্থ হলে নিকট আত্মীয়ের চেয়ে প্রতিবেশীই বেশি ভূমিকা পালন করে। বস্তুত প্রতিবেশীরাই সুখ-দুঃখের প্রথম অংশীদার। কিন্তু শহুরে জীবনে এ অংশীদারিত্বে আন্তরিকতা ও স্বতঃস্ফূর্ততা গ্রামের চেয়ে অনেক কম।
তাই বলা যায়, শহরে জীবনে প্রতিবেশীর সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ নয়।
বৃহৎ জনগোষ্ঠীর নিকট সংবাদ, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির বিষয়বস্তু, বিশেষ ধ্যানধারণা, বিনোদন প্রভৃতি পরিবেশন করার মাধ্যমই হচ্ছে গণমাধ্যম ।
শিশুর জন্মের পর হতে মৃত্যু পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন ও খাপখাওয়ানোর প্রক্রিয়াই সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যক্তি যখন এক পর্যায় হতে আরেক পর্যায়ে প্রবেশ করে তখন তাকে নতুন পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হয়। এ খাপ-খাওয়ানো প্রক্রিয়ার ফলে তার আচরণে পরিবর্তন আসে। নতুন নিয়মকানুন, রীতিনীতি এবং নতুন পরিবেশ পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে চলার প্রক্রিয়ার নাম সামাজিকীকরণ।
তাই বলা যায়, সামাজিকীকরণ একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!